প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি ও স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রলোভন দেখিয়ে এক প্রবাসীর কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পুলিশ অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের নাম হল— নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার মো. রাকিবুল হোসেন (২৬) এবং রংপুরের মো. রনি ইসলাম ওরফে খাজা মোহাম্মদ আলী (১৯)। বুধবার (১৭ জুন) নীলফামারীর সৈয়দপুর থানার কামারপুকুর বাজার এলাকায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাঁদের কাছ থেকে ৬টি মোবাইল ফোন ও ১২টি সিমকার্ড জব্দ করা হয়, যা প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান।
সিআইডি জানিয়েছে, মামলার ভুক্তভোগী একজন ওমানপ্রবাসী। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাঁর পূর্বপরিচিত একজন ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়ায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার কথা বলে যোগাযোগ করেন। পরে ওই ব্যক্তি কথিত অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী খাজা মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে তাঁকে যোগাযোগ করিয়ে দেন। পরবর্তীতে রনি ইসলাম খাজা মোহাম্মদ আলী পরিচয়ে মোবাইল ফোন, ইমু, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর সাথে যোগাযোগ করে অস্ট্রেলিয়ায় নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি প্রসেসিং, অনলাইন আবেদন, ফরম পূরণ ও ভিসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন খরচের কথা বলে অর্থ দাবি করেন। ভুক্তভোগী ধাপে ধাপে বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে মোট ১,৪৬,৪০০ টাকা পাঠান। পরে আরও অর্থ নেওয়ার জন্য একটি ব্যাংক হিসাব নম্বরও সরবরাহ করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা হয়নি। পরে অভিযুক্তদের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায় এবং তাঁদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন ভুক্তভোগী প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাগনে বাদী হয়ে ২ জুন যাত্রাবাড়ী থানায় দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় মামলা করেন।
তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, রনি ইসলাম খাজা মোহাম্মদ আলী নামে নিজেকে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভুয়া ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। ওই পেজে অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি, ওয়ার্ক পারমিট এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত আকর্ষণীয় ভিডিও প্রচার করে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করা হতো।
এছাড়া বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে যোগাযোগের জন্য অস্ট্রেলিয়ান নম্বরভিত্তিক ইমু অ্যাকাউন্ট ব্যবহৃত হতো, যাতে ভুক্তভোগীরা বিষয়টিকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করেন।
সিআইডির ভাষ্য অনুসারে, রাকিবুল হোসেন প্রতারণার মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে গ্রহণ, স্থানান্তর ও লেনদেন ব্যবস্থাপনায় সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করতেন। তাঁরা পরস্পরের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে চাকরি দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
সিআইডি আরও জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। গ্রেপ্তার দুইজনকে আদালতে পাঠানো হবে।
এদিকে, বিদেশে চাকরি বা অভিবাসনের সুযোগের কথা বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে জানানো হয়েছে সিআইডি থেকে। এ ধরনের প্রস্তাব গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, নিয়োগকারী সংস্থা এবং ভিসা-সংক্রান্ত তথ্য যথাযথভাবে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন