০৮:৫৩ পি.এম
ট্রাফিক আইন ও গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকা বাস্তবায়নের পাশাপাশি সড়কের বাম পাশের লেন সচল রাখা, উল্টো পথে যানবাহন চলাচল বন্ধ করা এবং নির্ধারিত স্থান ব্যতীত গাড়ি থামানো বন্ধে ট্রাফিক পুলিশকে আরও সক্রিয় ভুমিকা পালনের জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান।
বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকায় গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকার কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব বলেন। সড়ক নিরাপত্তায় বৈশ্বিক উদ্যোগ হিসেবে ‘ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটি (বিআইজিআরএস)’ এর আওতায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এবং গ্লোবাল রোড সেফটি পার্টনারশিপ (জিআরএসপি) যৌথভাবে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে।
আনিছুর রহমান বলেন, ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে শিগগিরই প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ২০ বছরের অধিক পুরোনো, ফিটনেসবিহীন ও অকেজো যানবাহন চলাচল বন্ধ করার লক্ষ্যে এবং যত্রতত্র গাড়ি থামানোর ব্যবস্থা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এতে সড়কে যানজট কমার পাশাপাশি দুর্ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া যানবাহনে জিপিএস সিস্টেম চালুর পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।
আরও পড়ুন: কপ৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের শক্তিশালী অবস্থানের আহ্বান জানালেন শামা
ট্রাফিক আইন ও নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলার পাশাপাশি বাম লেন সচল রাখা এবং যত্রতত্র গাড়ি থামানো বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চালক, মালিক ও সকল সড়ক ব্যবহারকারীর সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমেই নগরীর সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে ডিএমপি’র যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-ঢাকা উত্তর) আ স ম শামসুর রহমান ভূঁঞা বলেন, বিআইজিআরএস-এর আওতায় গ্লোবাল রোড সেফটি পার্টনারশিপের সহায়তায় ডিএমপি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকার বিমানবন্দর সড়ক, ৩০০ ফিট সড়ক এবং লেক রোড, এই তিনটি সড়কে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তার কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। এসব সড়কে গতিসীমা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তার অন্যান্য বিষয়ও নিয়মিত তদারকি করা হবে।
বিআইজিআরএস কোঅর্ডিনেটর ও অতিরিক্ত সচিব (অব.) আবদুল ওয়াদুদ বলেন, দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও হতাহতের সংখ্যা কমিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহনভেদে সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করেছে। সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এক্সপ্রেসওয়ে, জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে যানবাহনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার এবং অন্যান্য সড়কে ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। শহর এলাকায় মোটরসাইকেলের জন্য সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার। এসময় সড়ক দূর্ঘটনাসংশ্লিষ্ট অডিওভিজ্যুয়াল চিত্র উপস্থাপন, গ্রাফ এবং বিভিন্ন দেশের গবেষণালব্ধ তথ্যের মাধ্যমে অতিরিক্ত গতির কারণে সৃষ্ট ঝুঁকিগুলো তুলে ধরা হয়।
আবদুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির যুগ্ন-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-ঢাকা উত্তর) আ স ম শামসুর রহমান ভূঁঞা ও উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-অ্যাডমিন, প্ল্যানিং অ্যান্ড রিসার্চ) মিনা মাহমুদা। অনুষ্ঠানটিতে আরও উপস্থিত ছিলেন জিআরএসপির সিনিয়র রোড পুলিশিং উপদেষ্টা পিটার জোনস এবং ডিএনসিসি, ভাইটাল স্ট্রাটেজিস, ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউট, বিআইজিআরএস এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা। এছাড়া ডিএমপির বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তারাও এসময় উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: আ.লীগ সন্ত্রাসী সংগঠন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দাবি আবু হানিফের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন