প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি বাণিজ্য চুক্তির একটি বিশেষ ধারা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।
এই ধারা কার্যকর হলে মার্কিন তুলা এবং কৃত্রিম তন্তু বা Man-Made Fibre (MMF) দিয়ে তৈরি বাংলাদেশের পোশাকগুলি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।
বুধবার রাজধানীর গুলশানে বিটিএমএ কার্যালয়ে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বস্ত্রকল মালিকদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এই বাণিজ্যিক সুবিধাটি দ্রুত চালুর জন্য আহ্বান জানান।
এসময় বিটিএমএ’র পরিচালক চৌধুরী মো. হানিফ সোয়েব, প্রকৌশলী সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, মির্জা আহমেদ ইস্পাহানী এবং রুবায়েত হায়দার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিটিএমএ’র সাবেক পরিচালক মো. মাসুদ রানা এবং প্রকৌশলী রাজীব হায়দারও বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
মার্কিন প্রতিনিধিদলের সদস্যদের মধ্যে মার্কিন দূতাবাসের পলিটিকাল-ইকোনমিক কাউন্সেলর এরিক গিলান, অ্যাগ্রিকালাচাল অ্যাটাচে এরিন কভার্ট এবং পলিটিকাল-ইকোনমিক কর্মকর্তা চার্লস বেসনার্ড উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বিটিএমএ সভাপতি বাংলাদেশের প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পের টেকসই উন্নয়ন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি, এবং স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে রপ্তানি সক্ষমতা জোরদারে বিটিএমএ’র অবদান তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাতের প্রধান ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প হিসেবে বিটিএমএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
সভায় বিটিএমএ সভাপতি বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান বাণিজ্য সহযোগিতাটি আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির ধারা ৫.৩-এর দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ ধারার আওতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও ম্যান-মেড ফাইবার ব্যবহার করে বাংলাদেশে উৎপাদিত তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদানের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
বিটিএমএ’র মতে, এই সুবিধা কার্যকর হলে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজারে অধিক প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান অর্জন করবে, এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও ম্যান-মেড ফাইবার রপ্তানিও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এটি উভয় দেশের জন্য পারস্পরিকভাবে লাভজনক হবে। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পরও এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিটিএমএ সভাপতি ধারা ৫.৩-এর দ্রুত বাস্তবায়নে মার্কিন পক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণ, টেক্সটাইল ও সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতে অংশীদারত্ব জোরদার, মার্কিন তুলার ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন। এছাড়া সেন্ট্রাল ওয়্যার হাউজের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং মার্কিন তুলা ও ম্যান-মেড ফাইবার ব্যবহার করে উৎপাদিত বাংলাদেশি টেক্সটাইল ও পোশাকপণ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অধিকতর বাজারসুবিধা নিশ্চিতকরণের বিষয়েও উন্মুক্ত ও গঠনমূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন