০৮:৫৯ পি.এম
৫টি সংকটে পড়া বেসরকারি ব্যাংকের সব দায় ও সম্পদ একীভূত করে গঠিত 'সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক' এখন পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ চূড়ান্ত করার পাশাপাশি গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা এবং মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের পৃথক দুটি প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রী সংসদে জানালেন, তীব্র আর্থিক সংকটে থাকা একটি সহ মোট ৫টি ব্যাংককে 'ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিম, ২০২৫'-এর আওতায় আনা হয়েছে। এই স্কিমের অধীনেই ব্যাংকগুলোর সমস্ত দায় ও সম্পদ নবগঠিত সম্মিলিত ইসলাস ব্যাংকটিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর ফলে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া এখন শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী খুলনায় পৌঁছেছেন, সুন্দরবন ও বানৌজা মোংলা পরিদর্শন করবেন
তিনি জানিয়েছেন, 'আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬'-এর অধীনে উক্ত ৫টি ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা করে পরিশোধ করা হচ্ছে। এ ছাড়া বর্তমানে অন্যান্য ব্যাংকগুলো যা তারল্যসংকটে ভুগছে, সেগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগ নিবিড়ভাবে কাজ করছে। যদি পরিস্থিতির উন্নতি না হয় এবং প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে ওই সব ব্যাংকের বিষয়ে 'ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬' অনুসারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অর্থমন্ত্রী সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসিকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর ও সচল করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নানামুখী পরিকল্পনার সম্পর্কে জানান। তিনি উল্লেখ করেন, রেজল্যুশনের আওতায় আসা ৫টি ব্যাংকের গ্রাহকরা এখন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে তাদের আমানত উদ্ধার করতে সক্ষম হচ্ছেন। ব্যাংকটিকে দ্রুত পুরোপুরি সচল করার জন্য ইতোমধ্যে সরকার একটি নতুন পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মনোনীত করেছে এবং তিনি দায়িত্বভারও গ্রহণ করেছেন। এরপর পরিচালনা পর্ষদে অন্যান্য যোগ্য পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এমডি নিয়োগের সঙ্গে সঙ্গে কোম্পানি সেক্রেটারি, চিফ ফাইন্যান্স অফিসার এবং চিফ টেকনোলজি অফিসার নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
সংসদে জানানো হয়েছে যে, নতুনভাবে গঠিত এই পরিচালনা পর্ষদ ব্যাংকটিকে দ্রুততম সময়ে সম্পূর্ণ কার্যকর ও পূর্ণ লেনদেন চালু করার লক্ষ্যে কাজ করছে। বর্তমান সময়ে ব্যাংকটির নতুন অর্গানাইজেশন কাঠামো এবং চাকরি প্রবিধানমালা প্রস্তুতকরণের কাজ চলছে। পাশাপাশি ৫টি ব্যাংকের আইটি, সিবিএস, জনবল এবং শাখাগুলো একীভূতকরণের জটিল প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এসব প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার মাধ্যমে খুব দ্রুত ব্যাংকটির স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম পুরোদমে চালু করা সম্ভব হবে, জানালেন অর্থমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: যে পাপ করেছি, তার মাসুল এখন দিতে হচ্ছে: রুমিন ফারহানা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন