ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এশিয়া কাপের সূচি ঘোষণা, বাংলাদেশের ম্যাচ কবে ও কোথায়


এশিয়া কাপের সূচি ঘোষণা, বাংলাদেশের ম্যাচ কবে ও কোথায়

এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্স আগামী ১৯ নভেম্বর কাতারে শুরু হতে যাচ্ছে। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের সূচি প্রকাশ করেছে।

এবারও ভারত ও পাকিস্তান একই গ্রুপে রয়েছে। ‘এ’ গ্রুপে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান এবং হংকং। ‘বি’ গ্রুপে ভারত ও পাকিস্তানের পাশাপাশি নেপাল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত রয়েছে। এই টুর্নামেন্টের ফরম্যাট ৫০ ওভারের।

যদিও সবাই ‘এ’ দল নিয়ে অংশ নিচ্ছে, তবে জাতীয় দল নিয়ে মাঠে নামবে নেপাল ও আরব আমিরাত।

আরও পড়ুন: শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চে ব্র্যাককে হারিয়ে সোনারগাঁওয়ের টানা দ্বিতীয় জয়

কাতারের ওয়েস্ট এন্ড ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং ইউনিভার্সিটি অব দোহা ফর সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ক্রিকেট মাঠে এবারের এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্স অনুষ্ঠিত হবে।

১৯ নভেম্বর প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হবে হংকং। দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কা আফগানিস্তানের বিপক্ষে লড়াই করবে। ২০ নভেম্বর পাকিস্তান-ইউএই এবং ভারত-নেপাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন শ্রীলঙ্কা-হংকং ও বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ২২ তারিখ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের পাশাপাশি ইউএই-নেপাল ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে।

২৩ নভেম্বর আফগানিস্তান-হংকং এবং শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ ম্যাচ হবে। ২৪ নভেম্বর ভারত-ইউএই ও পাকিস্তান-নেপাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ২৬ নভেম্বর ও ২৭ নভেম্বর দুটি সেমিফাইনাল এবং ২৯ নভেম্বর ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন: কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার দাপট, ৩৩০ রান করে ১ রানের লিড

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্রান্সে বিক্ষোভ: প্যারিসে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ১৩৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৫ পি.এম


ফ্রান্সে বিক্ষোভ: প্যারিসে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ১৩৫

ফ্রান্সে উত্তাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যেখানে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর নীতির বিরুদ্ধে, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন এবং জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। রাজধানী প্যারিসসহ দেশের বিভিন্ন বড় শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছেন। ফরাসি পুলিশ এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, এই বিক্ষোভের সময় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এই আন্দোলন মূলত গত চার সপ্তাহ ধরে স্কুলশিক্ষার্থীদের উদ্যোগে শুরু হয়েছে এবং এখন এটি দেশজুড়ে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেহাল দশা, শিক্ষকদের স্বল্প বেতন, অতিরিক্ত ভিড়যুক্ত শ্রেণিকক্ষ এবং বিতর্কিত বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পদ্ধতি 'পার্কোরসুপ' (Parcoursup) বাতিলের দাবি জানাচ্ছে। সাধারণ শ্রমিক এবং বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যরাও রাষ্ট্রীয় ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের দাবিতে এই বিক্ষোভে সংহতি প্রকাশ করেছেন।

প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কড়া পুলিশি পাহারা বসানো হয়েছে। কোথাও কোথাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিক্ষোভ দমনে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। এর আগে, গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ এলিসি প্রাসাদে ছাত্র প্রতিনিধিদের সাথে আড়াই ঘণ্টার বৈঠক করলেও আন্দোলন থামেনি। ছাত্র নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের সাথে আলোচনা চললেও তাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

ফ্রান্সের বাইরে ইতালি, স্পেন এবং আলবেনিয়াসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশে বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের খবর পাওয়া গেছে। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে চলমান এসব বিক্ষোভে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লখনউয়ের মসজিদ ও মাদরাসায় নোটিশ জারি করেছে আদালত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৬ পি.এম


লখনউয়ের মসজিদ ও মাদরাসায় নোটিশ জারি করেছে আদালত

উত্তর প্রদেশের লখনউয়ের উপকণ্ঠে খুঝৌলি গ্রামের একটি মসজিদ ও মাদ্রাসা পরিচালনাকারী চারজনকে নোটিশ জারি করেছে মোহনলালগঞ্জের একটি রাজস্ব আদালত। আদালতটি দাবি করেছে যে, সরকারি তদন্তে একটি পুকুর হিসেবে নথিভুক্ত জমিতে ভবন দুটির কিছু অংশ নির্মাণের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

মোহনলালগঞ্জের আদালত ওই চারজনকে নির্দেশ দিয়েছে আগামী ২৯ অক্টোবর আদালতে হাজির হওয়ার জন্য। সেখানে তারা প্রাসঙ্গিক নথিপত্র উপস্থাপন করতে পারবেন এবং সরকারের তদন্ত প্রতিবেদনকে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ পাবেন। ২০০৬ সালের উত্তরপ্রদেশ রাজস্ব আইনের ৬৭ নম্বর ধারায় এই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির সরকারি জমি থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদের ক্ষমতা দেয়।

স্থানীয় রাজস্ব কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের গণঅভিযোগ পোর্টালে গ্রামবাসীদের একটি অভিযোগের মাধ্যমে এই মামলার সূত্রপাত ঘটে। অভিযোগে বলা হয়েছে, মসজিদ ও মাদ্রাসার কিছু অংশ পুকুরের জন্য নির্ধারিত জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে।

অভিযোগ পাওয়ার পর একজন রাজস্ব পরিদর্শক এবং একজন স্থানীয় ভূমি রেকর্ড কর্মকর্তা স্থানটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শকদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিতর্কিত জমির প্রায় ০.০৩ হেক্টর (আনুমানিক ৩০০ বর্গমিটার) অংশে স্থায়ী কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।

তবে, এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত উচ্ছেদ বা ভাঙার কোনো নির্দেশ জারি করা হয়নি। এই আইনি প্রক্রিয়াটি কেবল একটি নির্দিষ্ট অংশের জমি সম্পর্কিত এবং এটি প্রমাণ করে না যে পুরো মসজিদ বা মাদ্রাসাটি সরকারি জমিতে অবস্থিত। ভবন দুটি কতদিন ধরে সেখানে রয়েছে, কাগজে-কলমে এই প্লটের মালিক কে, কিংবা নোটিশপ্রাপ্ত চার পরিচালক জবাবে কী বলেছেন—প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করা হয়নি।

এই নোটিশ জারির ফলে স্থানীয় মুসলিমদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, জমির একটি ক্ষুদ্র অংশ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক শেষ পর্যন্ত দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের দিকে গড়াতে পারে। খুঝৌলির এই ঘটনা এখন একটি পরীক্ষা যে, পরিচালনা পর্ষদ ভূমির বিষয়ে সরকারের শ্রেণিবিন্যাসকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পরবর্তী কোনো ব্যবস্থা ঠেকাতে পারে কি না।

উত্তরপ্রদেশে মুসলিম ধর্মীয় সম্পত্তিগুলোর ওপর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের কারণে তৈরি হওয়া ব্যাপক উদ্বেগের মধ্যে এই ঘটনাটি সামনে এসেছে। এর আগে সাহারানপুরের সরকারি প্রশাসনিক কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকা একটি মসজিদ ভেঙে দেয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। একটি স্থানীয় আদালত ওই মসজিদটিকে সরকারি জমিতে অবৈধ দখল বলে রায় বহাল রাখার পর তা ভেঙে ফেলা হয়। তবে ওই ভাঙচুরের ঘটনা মুসলিম সংস্থাসমূহ ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, আদালতের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার জন্য মসজিদ পরিচালনা পর্ষদকে পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না।

অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এই মসজিদ ভাঙার কঠোর নিন্দা জানান এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মুসলিম সম্প্রদায়ের আইনি অধিকার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জামিয়াত উলামা-ই-হিন্দ জানিয়েছে, পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিতে তারা ঐতিহাসিক জমির রেকর্ড এবং আইনি নথি পর্যালোচনা করছে। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতীও তাড়াহুড়ো করে মসজিদ ভেঙে ফেলার সমালোচনা করেছেন এবং কর্তৃপক্ষকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আগামী ২৯ অক্টোবরের পরবর্তী শুনানিতে স্পষ্ট হবে যে, লখনউয়ের এই মসজিদ মামলার পরিচালকরা কী নথি উপস্থাপন করতে পারেন এবং আদালত কীভাবে মামলাটি এগিয়ে নেয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কপ৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের শক্তিশালী অবস্থানের আহ্বান জানালেন শামা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৬ পি.এম


কপ৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের শক্তিশালী অবস্থানের আহ্বান জানালেন শামা

ঢাকা, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ : আসন্ন জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন ‘কপ৩১’-এ বাংলাদেশের অবস্থানকে যৌথ ও দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করার জন্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সুশীল সমাজ ও জলবায়ু বিষয়ক এনজিওগুলোকে সরকারের সঙ্গে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে ‘কপ৩১’-এ বাংলাদেশের সুশীল সমাজের অবস্থানপত্র প্রকাশের উদ্দেশ্যে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

অ্যাকশনএইডসহ বিভিন্ন সুশীল সমাজের সংস্থা ও এনজিও এই সভার আয়োজন করেছে। শামা সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান, যারা নিজেদের অভিজ্ঞতা, গবেষণা ও সুপারিশ যুক্ত করে এই অবস্থানপত্র তৈরি করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় বাংলাদেশের ন্যায্য দাবি আদায়ে সমন্বিত প্রচেষ্টার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বৈশ্বিক কার্বন নির্গমনে আধা শতাংশেরও কম অবদান রাখে; তথাপি দেশটি প্রতিদিন জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক পরিণতির সম্মুখীন হচ্ছে, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

শামা বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে ভূমি তলিয়ে যাচ্ছে এবং মানুষ তাদের বসতভিটা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট অভিবাসনের সমস্যাটি মোকাবিলা করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি সুশীল সমাজের সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, যাতে আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের দরকষাকষির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও গবেষণার মাধ্যমে সংগৃহীত নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হয়।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তিনি একটি জলবায়ু অর্থায়ন রোডম্যাপ তৈরি, ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ও জনগণের জন্য সহজে তহবিল প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর সহজীকরণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির তাগিদ দেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও সরকার জলবায়ু অভিযোজন সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে শিল্পখাতে সম্পদের পুনর্ব্যবহার, চক্রাকার অর্থনীতি (সার্কুলার ইকোনমি), উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বন সৃষ্টি ও পুনরুদ্ধার এবং নদী-খাল খনন ও পুনঃখনন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২০৩০ সালের মধ্যে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, একটি কার্বন মার্কেট গড়ে তোলা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ২০ শতাংশ ও ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

শামা ওবায়েদ জানান, বাংলাদেশে উৎপাদিত 'সোনার আঁশ'কে পচনশীল ও শূন্য-বর্জ্য প্রাকৃতিক তন্তু হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে এবং এর বহুমুখী ব্যবহার প্রচারের লক্ষ্যে কপ৩১ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ ‘পাট প্যাভিলিয়ন’ স্থাপন করবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই উদ্যোগ শৈল্পিক পাটপণ্যের প্রসারে এবং এদের বাণিজ্যিক পরিধি বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে।

সভায় সুশীল সমাজের সদস্য, বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন খাতের অংশীদারগণ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংবাদ প্রকাশের জেরে সম্পাদককে হত্যাচেষ্টা ও ব্ল্যাকমেইল: শনিরআখড়ার পপুলার হাসপাতালের আড়ালে অপরাধের সাম্রাজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫২ পি.এম


সংবাদ প্রকাশের জেরে সম্পাদককে হত্যাচেষ্টা ও ব্ল্যাকমেইল: শনিরআখড়ার পপুলার হাসপাতালের আড়ালে অপরাধের সাম্রাজ্য

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন শনির আখড়ার আল আমিন টাওয়ারে অবস্থিত বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান ‘পপুলার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড হাসপাতাল’ এখন আর কোনো সাধারণ চিকিৎসাকেন্দ্র নয়; বরং এটি পরিণত হয়েছে একচ্ছত্র অপরাধের অভয়ারণ্যে। মুমূর্ষু রোগীর রক্তের ব্যবস্থা করায় সাধারণ যুবকের ওপর হামলা থেকে শুরু করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের চেম্বারে অবরুদ্ধ করে হত্যাচেষ্টা, জিম্মি করে চাঁদাবাজির ভিডিও ধারণ, শেয়ার জালিয়াতি, কোটি টাকা আত্মসাৎ, নারী কর্মীদের যৌন নির্যাতন এবং মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট দিয়ে ভুয়া রিপোর্টের মাধ্যমে নিরীহ রোগীদের জীবন বিপন্ন করার মতো একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং আদালতে জমা পড়া ভুক্তভোগীদের একাধিক এজাহার ও দালিলিক প্রমাণ বিশ্লেষণ করে প্রতিষ্ঠানটির মালিক নাজমুল হুদা শামীম এবং তাঁর আশ্রিত সাইবার মাফিয়া চক্রের এক ভয়ঙ্কর অপরাধের সাম্রাজ্য উন্মোচিত হয়েছে।

১. মানবিক কাজের চরম প্রতিদান: রক্ত জোগাড় করায় মারধর ও ফোন ভাঙচুর: ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে। রাস্তায় অত্যন্ত সংকটাপন্ন ও অভিভাবকহীন অবস্থায় পড়ে থাকা এক প্রসূতি নারীর মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসেন স্থানীয় ‘সারা এক্সপ্রেস’ বাস কাউন্টারের ম্যানেজার আহম্মেদ তুষার। তিনি জরুরি ভিত্তিতে প্রসূতিকে শনির আখড়ার পপুলার হাসপাতালে নিয়ে যান এবং নিজের পরিচিতজনদের মাধ্যমে রক্তদাতার ব্যবস্থা করেন।

পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৩৫,০০০ টাকা বিল দাবি করলে ভুক্তভোগী তুষার স্থানীয় একটি মসজিদ থেকে অনুদান সংগ্রহ এবং নিজের বেতনের টাকা মিলিয়ে মোট ১৭,০০০ টাকা পরিশোধ করেন। রোগীর চরম অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে বাকি টাকা মওকুফের অনুরোধ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন হাসপাতালের মালিক নাজমুল হুদা শামীম। তিনি তুষারকে নিজের ব্যক্তিগত চেম্বারে ডেকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেন। এ সময় তুষারের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন আছড়ে ভেঙে ফেলা হয় এবং মানিব্যাগ থেকে নগদ ৮,৭০০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাঁকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তুষার বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় আনুষ্ঠানিক এজাহার দায়ের করেছেন।

২. সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে অবরুদ্ধ ও সাংবাদিকদের হত্যাচেষ্টা: তুষারের দায়েরকৃত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালের বক্তব্য জানতে যান ‘ইরশাদ নিউজ মাল্টিমিডিয়া’র রিপোর্টার মো. খালিদ কাওসারসহ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী।

বক্তব্য জানতে চাইলেই হাসপাতালের মালিক নাজমুল হুদা শামীম সাংবাদিকদের ওপর হিংস্রভাবে চড়াও হন। তিনি টেবিলের ওপর থাকা কাচের গ্লাস ছুঁড়ে মারেন এবং হাসপাতালের স্টাফদের দিয়ে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। সাংবাদিক খালিদ কাওসারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাঁর বুকে লাথি মারা হয় এবং একটি গোপন কক্ষে টেনে নিয়ে গিয়ে চাইনিজ চাপাতি ও অস্ত্র উঁচিয়ে হত্যাচেষ্টা চালানো হয়। দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা অবরুদ্ধ রেখে অস্ত্র ঠেকিয়ে খালিদকে জিম্মি করে মোবাইলে জোরপূর্বক একটি স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও ধারণ করা হয়।

৩. অপরাধ ঢাকতে ‘হানিট্র্যাপ’ ও সাইবার মাফিয়া চক্রের অপপ্রচার: সাংবাদিকদের ওপর এহেন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা আড়াল করতে অভিযুক্ত নাজমুল হুদা শামীম তাঁর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি নামসর্বস্ব সাইবার সিন্ডিকেটকে মাঠে নামান। এই চক্রের সামনের সারিতে রয়েছেন ‘টাইম২৪ ইন্টারন্যাশনাল’-এর কথিত সম্পাদক আয়েশা সিদ্দিকা জেসিকা এবং ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জাহিদ হাসান পিন্টু। চেনা ছক অনুযায়ী, জিম্মি অবস্থায় ধারণকৃত খণ্ডিত ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়ে এবং ভুয়া ফেসবুক পেজ ও আইডি (Jessica Asa Asa) থেকে সাংবাদিক খালিদ কাওসারের ছবি বিকৃত করে "চাঁদা নিতে গিয়ে ভুয়া সাংবাদিক আটক" শিরোনামে মনগড়া সংবাদ ছড়ানো হয়। শুধু তাই নয়, এই চক্রের কর্মী মাকসুদুর রহমান সহকর্মীদের হোয়াটসঅ্যাপে বিকৃত ভিডিও পাঠিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য অনবরত ব্ল্যাকমেইল করতে থাকেন।

সূত্রে, এআই প্রযুক্তি ও ছবি-ভিডিও এডিটের মাধ্যমে সাইবার সন্ত্রাস: হুমকির মুখে গণমাধ্যম ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা:
অনুসন্ধানে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে যে, এই সাইবার মাফিয়া চক্রটি অপরাধ ঢাকতে ও ব্ল্যাকমেইল করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করছে। সাংবাদিকদের পেশাগত অবস্থান ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে তাঁরা ভুক্তভোগী সম্পাদক ও সাংবাদিকদের ছবি এবং ভিডিও এডিট করে কৃত্রিমভাবে ভুয়া ও আপত্তিকর কন্টেন্ট তৈরি করছে। পরবর্তীতে এসব এআই-জেনারেটেড ও এডিটেড ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ২ লাখ টাকা দাবি এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য অনবরত ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে। কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই ভুয়া ফেসবুক পেজ থেকে এ ধরনের সাইবার হামলা চালানোয় তথ্যপ্রযুক্তির নিরাপত্তা ব্যবস্থা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে।

অপরাধ ঢাকতে তথ্যপ্রযুক্তি ও এআই-এর এমন অপব্যবহার কেবল ব্যক্তি সাংবাদিকেরই নয়, বরং পুরো গণমাধ্যমের স্বাধীন ভূমিকার ওপর এক মারাত্মক আঘাত। ডিজিটাল প্লাটফর্মে প্রতিনিয়ত এ ধরনের সাইবার বুলিং, হানিট্র্যাপ ও ব্ল্যাকমেইলিং বন্ধে সাইবার সিকিউরিটি অ্যাটর্নি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে (Cyber Crime Unit) দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একই সাথে, এআই ও প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভুয়া কনটেন্ট বানিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা চক্রটিকে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন’-এর আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

পরবর্তীতে ‘দৈনিক স্বাধীন সংবাদ’ পত্রিকায় পপুলার হাসপাতালের এসব অপকর্ম নিয়ে অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশিত হলে এই সাইবার চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। মুখ ঢাকা এক নারীকে ক্যামেরার সামনে বসিয়ে বানোয়াট ভিডিও তৈরি করে ‘বিপুল সংবাদ’ নামের একটি ভুয়া ফেসবুক পেজে স্বাধীন সংবাদের সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আকাশের বিরুদ্ধে চাকরি ও আইডি কার্ডের প্রলোভনে অনৈতিক কুপ্রস্তাবের কাল্পনিক অভিযোগ তোলা হয়। ভিডিও সরিয়ে নেওয়ার শর্তে তাদের নিজস্ব বিজ্ঞাপনী নম্বর (০১৩২০৩৫৯০১২) থেকে সম্পাদকের কাছে ২,০০,০০০ (দুই লাখ) টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ বিষয়ে দৈনিক স্বাধীন সংবাদের পক্ষ থেকে ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) বরাবর আনুষ্ঠানিক আইনি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। এর আগে গত ১৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে এই চক্রের মূল হোতা আয়েশা সিদ্দিকা জেসিকার বিরুদ্ধে কদমতলী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং ১৩৮২) করেছিলেন সাংবাদিক কাউসার আহমেদ পনির।

৪. পূর্বেও চিকিৎসককে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর ব্ল্যাকমেইল ও ভিডিও বাণিজ্য: অনুসন্ধানে প্রাপ্ত একাধিক নথি ও গোপন ভিডিও ফুটেজ প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষকে চেম্বারে ডেকে নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা এই চক্রের দীর্ঘদিনের পরিচিত কৌশল। হাসপাতালের সাবেক অংশীদার আব্দুর রহিমের যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, নাজমুল হুদা শামীম হাসপাতালের একজন চিকিৎসককে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ব্যক্তিগত কক্ষে জিম্মি করেন এবং বলপূর্বক স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও ধারণ করে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা আদায় করেছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, অসহায় এক ব্যক্তিকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করে বলপূর্বক ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হচ্ছে। ঠিক একই ব্লু-প্রিন্ট সাংবাদিক খালিদ কাওসারের ওপরও প্রয়োগ করা হয়েছিল।

৫. কোটি টাকার শেয়ার আত্মসাৎ ও অংশীদারকে কুপিয়ে জখম
২০২৪ সালের ২৯ মে ‘শনিরআখড়া পপুলার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড হাসপাতাল’-এর নিজস্ব ডেবিট ভাউচারে দেখা যায়, মো. আমিনুল ইসলাম সুমনের কাছ থেকে ২ আনা শেয়ার বাবদ নগদ ৫ লাখ টাকা গ্রহণ করা হয়। একইভাবে অংশীদার আব্দুর রহিম হাসপাতালটিতে শেয়ার ও মালামাল বাবদ সর্বমোট ৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন।

কিন্তু শামীমের একক স্বেচ্ছাচারিতা, মাদকাসক্তি এবং চিকিৎসা প্রতারণা দেখে আব্দুর রহিম তাঁর বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শামীম তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি মোস্তফাকে সঙ্গে নিয়ে রায়েরবাগে আব্দুর রহিমের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালান। তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়, যার দীর্ঘ চিকিৎসা চলে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে।

৬. নারী নার্স ও কর্মীদের ওপর যৌন নিপীড়ন ও মধ্যরাতে কুপ্রস্তাব
যাত্রাবাড়ী থানায় হাসপাতালের ওটি নার্স ফারজানা আক্তারের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের মালিক শামীম ডিউটিরত অবস্থায় তাঁকে ব্যক্তিগত কক্ষে ডেকে নিয়ে অনৈতিক কুপ্রস্তাব দিতেন এবং সময় কাটানোর জন্য অনবরত চাপ সৃষ্টি করতেন। এতে রাজি না হওয়ায় ফারজানাকে চাকরিচ্যুত করার হুমকি এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

একইভাবে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. গোলাম রাব্বানী রিংকুর থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ থেকে জানা যায়, হাসপাতালের নারী টেকনোলজিস্ট মনিরা খাতুন মুন্নির বকেয়া ৬৪,৫০০ টাকা বেতন চাইতে গেলে শামীম অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ভুক্তভোগী নারীকে মধ্যরাতে তাঁর কাছে আসার অবর্ণনীয় কুপ্রস্তাব দেন, যার অডিও রেকর্ড আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

৭. মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট, চিকিৎসকের জাল স্বাক্ষর ও জীবনবিনাশী ভুয়া রিপোর্ট
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (DGHS) বরাবর খোদ হাসপাতালের পার্টনার ডা. মো. আরিফ হোসেনের লিখিত অভিযোগে (ডকেট নং: ৫৭-৬৪৫/২৩.১০.২০২৫) প্রতিষ্ঠানটির ভয়াবহ চিকিৎসা জালিয়াতির চিত্র উঠে এসেছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়—

হাসপাতালটির স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই।

কোনো অনুমোদিত এমবিবিএস চিকিৎসক ছাড়াই মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট ব্যবহার করে নামমাত্র রক্ত টেনে নার্স মুন্নিকে দিয়েই প্যাথলজি রিপোর্ট তৈরি করানো হয়।

সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মাজহারুল ইসলামের জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে রোগীদের হাতে ডেলিভারি দেওয়া হতো।

ভুক্তভোগী রোগী নাদিয়া আক্তার ও ডা. মিরাজুল আমিন শিপন জানান, শনির আখড়া পপুলার হাসপাতালের ভুল ও কাল্পনিক রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে ওষুধ সেবন করায় রোগীরা তীব্র ড্রাগ রিঅ্যাকশনের শিকার হয়ে মৃত্যুর মুখে পতিত হন। অথচ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মাজহারুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যে তিনি কখনো শনির আখড়ার এই পপুলার হাসপাতালে যাননি এবং তাঁর স্বাক্ষরটি সম্পূর্ণ জাল। এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরেও (DNCRP) মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়াও হাসপাতালটিতে সরকারি হাসপাতাল থেকে দালালদের মাধ্যমে রোগী ভাগিয়ে আনা এবং অবৈধ গর্ভপাত করানোর মতো বহুবিধ গুরুতর অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো।

৮. আইনি পদক্ষেপ ও প্রশাসনের কাছে সাংবাদিক সমাজের কঠোর হুশিয়ারি:
সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা, পেশাদার সাংবাদিকদের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন এবং সাইবার সন্ত্রাসের মাধ্যমে সম্মানহানির এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে সচেতন নাগরিক সমাজ ও সাংবাদিকরা। অপরাধী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে যেসব আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে-
১. থানায় মামলা ও জিডি: যাত্রাবাড়ী ও কদমতলী থানায় একাধিক ফৌজদারি এজাহার ও সাধারণ ডায়েরি দায়ের করা হয়েছে।
২. র‍্যাবের কাছে অভিযোগ: র‍্যাব-১০ (RAB-10) এর অধিনায়ক বরাবর আহমদ তুষার ও সাংবাদিক খালিদ কাওসারের পক্ষ থেকে দুটি পৃথক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
৩. প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ঢাকা সিভিল সার্জন বরাবর প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করার আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়েছে।
৪. আইনি নোটিশ: সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে টাইম২৪-এর ৫ জনের বিরুদ্ধে ১ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ ও নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
৫. বিক্ষোভ ও মানববন্ধন: কদমতলী ও যাত্রাবাড়ীর সাংবাদিক সমাজ ‘শ্যামপুর-কদমতলী এ্যান্ড যাত্রাবাড়ী থানা প্রেসক্লাব’-এর ব্যানারে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে।

সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ব্যবসা করা, সাংবাদিকদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো এবং সাইবার মাফিয়াতন্ত্র কায়েমকারী এই চক্রের মূল হোতা নাজমুল হুদা শামীম, আয়েশা সিদ্দিকা জেসিকা এবং জাহিদ হাসান পিন্টুকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল ও সাংবাদিক নেতারা। চলবে..........

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%