ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ইসলামে ধর্ষণ প্রমাণে চার সাক্ষী বাধ্যতামূলক নয়: ডা. জাকির নায়েক


ইসলামে ধর্ষণ প্রমাণে চার সাক্ষী বাধ্যতামূলক নয়: ডা. জাকির নায়েক

ইসলামে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণের জন্য চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী প্রয়োজন যে ধারণা, সেটি অনেক ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া একটি ভুল ব্যাখ্যা বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামি বক্তা ও গবেষক ডা. জাকির নায়েক।

তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামি স্যাটেলাইট ও ইন্টারনেট টেলিভিশন হুদা টিভিতে প্রচারিত এক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে বলেন, অনেক মুসলিম এবং অমুসলিম ধর্ষণের বিষয়কে জিনা বা ব্যভিচারের বিধানের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। অথচ ইসলামী শরিয়তে জিনা এবং ধর্ষণ সম্পূর্ণ ভিন্ন অপরাধ।

ডা. নায়েক ব্যাখ্যা করেন, যখন কোন ব্যক্তি অপর কারোর বিরুদ্ধে জিনা বা ব্যভিচারের অভিযোগ তুলবেন, তখন তাকে চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হাজির করতে হবে। অন্যথায়, সে অভিযোগকারী নিজে শাস্তিযোগ্য হবেন। তবে, এই বিধান কেবল জিনার অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, ধর্ষণের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়।

আরও পড়ুন: মাদক নিয়ন্ত্রণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে: বিদ্যুৎমন্ত্রী

তার মতে, ধর্ষণ একটি জোরপূর্বক সংঘটিত অপরাধ। ইসলামী আইনবিদদের ব্যাখ্যায় এটি ‘হিরাবাহ’ বা সমাজে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত। এ প্রসঙ্গে আল্লাহর পবিত্র কোরআনের সূরা মায়েদার ৩৩ নম্বর আয়াতের উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেখানে সমাজে ভয়ভীতি ও নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের জন্য কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে।

ডা. নায়েক বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণে চারজন সাক্ষীর প্রয়োজন নেই। এই ধরনের মামলায় দুইজন সাক্ষী, পারিপার্শ্বিক তথ্য-প্রমাণ, ফরেনসিক আলামত এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ গ্রহণযোগ্য হতে পারে। বিচারক যদি সমস্ত প্রমাণ পর্যালোচনা করে অপরাধীর বিরুদ্ধে নিশ্চিত হন, তাহলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, যদি অপরাধ শতভাগ প্রমাণিত না হয়, তবে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী কারাদণ্ড, বেত্রাঘাত বা অন্য উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হতে পারে। কিন্তু ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে ইসলামি আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

আলোচনায় ডা. জাকির নায়েক রাসুলুল্লাহ (সা.) এর যুগে সংঘটিত একটি ধর্ষণের ঘটনাতে উল্লেখ করেন, যা সুনানে আবু দাউদ ও সুনানে ইবনে মাজায় বর্ণিত হয়েছে। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর কাছে চারজন সাক্ষী চাওয়া হয়নি। বরং পরিস্থিতিগত প্রমাণ এবং ঘটনার বর্ণনার ভিত্তিতে তদন্ত পরিচালিত হয়েছিল। পরবর্তীকালে প্রকৃত অপরাধী নিজেই অপরাধ স্বীকার করলে তাকে শাস্তি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও ঐক্যবদ্ধ কাজের আহ্বান রিজভীর

ডা. নায়েকের মতে, এই ঘটনা থেকে অস্পষ্ট হয় যে ইসলামে ধর্ষণ প্রমাণের জন্য চারজন সাক্ষী স্থাপন করা বাধ্যতামূলক নয়। বরং অপরাধের সত্যতা নির্ধারণের জন্য পারিপার্শ্বিক, সাক্ষ্যভিত্তিক এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ধর্ষণের ক্ষেত্রে চার সাক্ষীর শর্ত রয়েছে এ ধারণা ইসলামের সঠিক শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ইসলাম ধর্ষকের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান দিয়েছে যদি অপরাধ প্রমাণিত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণে নিন্দা সংযুক্ত আরব আমিরাতের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:২৬ পি.এম


পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণে নিন্দা সংযুক্ত আরব আমিরাতের

দখলকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্থায়ী মিশন। তারা এ বিষয়টি নিয়ে নিন্দাও জানিয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের নিজ এলাকা থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর সুরক্ষায় বসতি স্থাপনকারীদের বারবার আল-আকসা মসজিদে প্রবেশের ঘটনা নিয়ে তারা কঠোরভাবে সমালোচনা করেছে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আরব গ্রুপ এবং ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-এর সঙ্গে যৌথভাবে দেওয়া এক বক্তব্যে আমিরাতের মিশন তাদের অবস্থান তুলে ধরে। বক্তব্যে তারা বলেন, "পূর্ব জেরুজালেমসহ দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তার উদ্দেশ্য ওই অঞ্চলের ঐতিহাসিক, আইনি ও জনসংখ্যাগত চরিত্র পরিবর্তন করা।" এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আমিরাতের মিশন আরো জানায়, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসতি সম্প্রসারণ, জমি দখল এবং স্থানীয় জনগণকে উচ্ছেদের মতো কর্মকাণ্ড পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে। এতে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা ও অস্থিতিশীলতা বাড়ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জাতিসংঘের আমিরাত মিশন বলেছে, "এসব কার্যক্রম শুধু বর্তমান সংকটকে গভীর করছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকেও বাধাগ্রস্ত করছে।" তাদের মতে, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার যে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা চলছে, বসতি সম্প্রসারণ ও উচ্ছেদের মতো পদক্ষেপ সেই সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রস্তাব মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অবস্থান পরিবর্তনের যেকোনো উদ্যোগ বন্ধ করতে হবে এবং অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কারাগারে আইভীকে গান শোনাতেন মমতাজ, নিষেধ ছিল একটি গান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:২৭ পি.এম


কারাগারে আইভীকে গান শোনাতেন মমতাজ, নিষেধ ছিল একটি গান

সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পাওয়া নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী তার নিজ বাসভবনে জেলজীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, কারাগারে থাকার সময় নিয়মিত গানের আসর বসতো। সেই আসরের প্রধান শিল্পী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগীতশিল্পী এবং সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম।

এছাড়া, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে স্কুলজীবনের কিছু পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে আলাপকালে আইভী জানান, কারাগারে অনেক সময় সাংস্কৃতিক পরিবেশে বসতেন তারা। সেখানে মমতাজ বেগম বিভিন্ন গান পরিবেশন করতেন এবং বন্দিদের মন ভালো রাখার চেষ্টা করতেন।

আইভী জানিয়েছেন, ‘আমার ভাইয়েরে কইও নাইওর আনতো গিয়া’ এই গানটি গাইতে মমতাজকে নিষেধ করেছিলেন। কারণ, গানটি শুনলেই তার মনে পড়ে যেত সদ্যপ্রয়াত ছোট ভাই আহমদ আলী রেজা রিপনের কথা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রিপনের মৃত্যু ঘটে। এর পর এক মাস পর আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আইভী বলেছেন, ভাইয়ের মৃত্যুর স্মৃতি এতটা তীব্র ছিল যে, ওই গান শুনলেই তিনি আবেগে ভাসতেন। সে কারণে তিনি মমতাজকে বলেছিলেন, "কারামুক্তির দিন চাইলে গানটি গাইতে পারবেন।" কাকতালীয়ভাবে, তার মুক্তির দিন বিকেলে কারাগারের গানের আসরে মমতাজ সেই গানটি পরিবেশন করেন, যদিও তখন আইভী জানতেন না যে, কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি মুক্তি পেতে যাচ্ছেন।

জেলজীবনে তিনি একটি কবিতাও লিখেছেন, এবং সেই কবিতায় সুর দিয়েছেন মমতাজ বেগম।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, উপযুক্ত সময়ে গানটি জনসমক্ষে পরিবেশন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে আইভী হাস্যরসাত্মকভাবে বলেন, "আমি আবার কী কবিতা লিখি! খুব সাধারণ কিছু লেখা। মমতাজ আপা গুণী শিল্পী বলেই সেটাকে গান বানানোর চেষ্টা করেছেন।"

এ দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আইভীর বাসভবনে দেখা করতে আসেন সাবেক নারী কাউন্সিলর মিনুয়ারা বেগমসহ কয়েকজন নেতাকর্মী। তাদের সঙ্গে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে ছোট ভাইয়ের স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি আইভী। একসময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে যান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ লেবাননে বাস্তুচ্যুত মানুষের ঢল, সংকটে ইউএনআরডব্লিউএ আশ্রয়কেন্দ্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:২৮ পি.এম


দক্ষিণ লেবাননে বাস্তুচ্যুত মানুষের ঢল, সংকটে ইউএনআরডব্লিউএ আশ্রয়কেন্দ্র

লেবাননে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সহায়তা সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে থাকা বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা গত কয়েক সপ্তাহে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ইউএনআরডব্লিউএর তথ্য অনুযায়ী, দুই জুন পর্যন্ত লেবাননের সাইদন এলাকার সিবলিন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং নাহর আল-বারেদের বাত্তির স্কুলে থাকা দুটি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ৬৬১টি পরিবারের ২১৪৮ জন নিবন্ধিত রয়েছে। এর আগের প্রতিবেদনে এই সংখ্যা ছিল ১২৬৪ জন। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে আশ্রয় নেওয়া মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

সংস্থাটি বলছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দেওয়া এলাকা ছাড়ার নির্দেশ এবং লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চলে হামলা বেড়ে যাওয়ার কারণে মানুষের বাস্তুচ্যুতি দ্রুত বাড়ছে।

এদিকে ২৫ মে দক্ষিণ টাইরের রাশিদিয়েহ ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরের কাছে একটি বিমান হামলায় পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ভারী যন্ত্রপাতি প্রবেশে সীমাবদ্ধতার কারণে এখনো পুরো মেরামতের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।

এই হামলার পর রাশিদিয়েহ এবং পাশের আল-বুস শিবির থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুই শিবিরের প্রায় ২৮ হাজার বাসিন্দার মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ইতোমধ্যে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।

অন্যদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে ইউএনআরডব্লিউএর ২৬টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে ১৪টি বন্ধ করে দিতে হয়েছে। বর্তমানে পুরো লেবাননে মাত্র ১২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু রয়েছে, যা বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর চিকিৎসা চাহিদা পূরণে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

শিক্ষা কার্যক্রমেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। ইউএনআরডব্লিউএর ৬০টি স্কুলের মধ্যে এখন মাত্র ৩৪টিতে সরাসরি ক্লাস চলছে। বাকি স্কুলগুলোতে দূরশিক্ষণ বা মিশ্র পদ্ধতিতে পাঠদান অব্যাহত রয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, জরুরি পরিস্থিতি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত তারা ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি চিকিৎসা সেবা দিয়েছে। পাশাপাশি অন্তত ৬ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষকে মানসিক ও সামাজিক সহায়তাও প্রদান করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ১২ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:২৮ পি.এম


জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ১২ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেবে

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দক্ষতাভিত্তিক এবং কর্মমুখী শিক্ষায় যুক্ত করানোর লক্ষ্যে সারা দেশের ১২ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। রোববার (৭ জুন) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডির জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘কারিকুলামে দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা অন্তর্ভুক্তিকরণ বিষয়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

উপাচার্য জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত প্রায় আড়াই হাজার কলেজে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী শ্রমবাজারের প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবের কারণে কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার, আইসিটি বিভাগ, এটুআই এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় দক্ষতাভিত্তিক পাঠ্যক্রম চালু করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নতুন পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ফ্রিল্যান্সিং, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ডিজিটাল মার্কেটিং, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং এবং ডাটা সায়েন্স বিষয়ে প্রশিক্ষণ লাভ করবেন। এসব বিষয়ে পাঠদান নিশ্চিত করার জন্য ইতিমধ্যে ৯০০ মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করা হয়েছে। তাদের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ১২ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

ড. আমানুল্লাহ বলেন, উচ্চশিক্ষাকে শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ উপযোগী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা, উদ্যোক্তা তৈরি করা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের জন্য বাংলাদেশের মানবসম্পদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এই উদ্যোগের মুখ্য উদ্দেশ্য।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংস্কার পরিকল্পনার বিভিন্ন দিকের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু, শিল্প-একাডেমি সংযোগ বৃদ্ধি, নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।

উপাচার্য জানালেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি ভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এর আওতায় কলেজগুলোতে ভাষা ক্লাব গড়ে তোলা হচ্ছে যাতে শিক্ষার্থীরা চীনা, জাপানি, কোরীয়, স্প্যানিশ, ইতালীয় ও আরবি ভাষা শেখার সুযোগ পায়। তিনি ৪০ লাখ শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান। আশা করা হচ্ছে, এ কর্মসূচির মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে দুই কোটিরও বেশি গাছ রোপণ সম্ভব হবে।

তিনি আরো বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিল্প-একাডেমি সংযোগের হার বর্তমানে ১০ শতাংশেরও কম। এই হার ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, খেলাধুলা, বিতর্ক এবং নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করে শিক্ষার্থীদের মানবিক এবং মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এ সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. নূরুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%