ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

দক্ষিণ লেবাননে বাস্তুচ্যুত মানুষের ঢল, সংকটে ইউএনআরডব্লিউএ আশ্রয়কেন্দ্র


দক্ষিণ লেবাননে বাস্তুচ্যুত মানুষের ঢল, সংকটে ইউএনআরডব্লিউএ আশ্রয়কেন্দ্র

লেবাননে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সহায়তা সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে থাকা বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা গত কয়েক সপ্তাহে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ইউএনআরডব্লিউএর তথ্য অনুযায়ী, দুই জুন পর্যন্ত লেবাননের সাইদন এলাকার সিবলিন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং নাহর আল-বারেদের বাত্তির স্কুলে থাকা দুটি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ৬৬১টি পরিবারের ২১৪৮ জন নিবন্ধিত রয়েছে। এর আগের প্রতিবেদনে এই সংখ্যা ছিল ১২৬৪ জন। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে আশ্রয় নেওয়া মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

সংস্থাটি বলছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দেওয়া এলাকা ছাড়ার নির্দেশ এবং লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চলে হামলা বেড়ে যাওয়ার কারণে মানুষের বাস্তুচ্যুতি দ্রুত বাড়ছে।

আরও পড়ুন: ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ, মোট ২৯ দিন ছুটি

এদিকে ২৫ মে দক্ষিণ টাইরের রাশিদিয়েহ ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরের কাছে একটি বিমান হামলায় পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ভারী যন্ত্রপাতি প্রবেশে সীমাবদ্ধতার কারণে এখনো পুরো মেরামতের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।

এই হামলার পর রাশিদিয়েহ এবং পাশের আল-বুস শিবির থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুই শিবিরের প্রায় ২৮ হাজার বাসিন্দার মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ইতোমধ্যে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।

অন্যদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে ইউএনআরডব্লিউএর ২৬টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে ১৪টি বন্ধ করে দিতে হয়েছে। বর্তমানে পুরো লেবাননে মাত্র ১২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু রয়েছে, যা বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর চিকিৎসা চাহিদা পূরণে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

শিক্ষা কার্যক্রমেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। ইউএনআরডব্লিউএর ৬০টি স্কুলের মধ্যে এখন মাত্র ৩৪টিতে সরাসরি ক্লাস চলছে। বাকি স্কুলগুলোতে দূরশিক্ষণ বা মিশ্র পদ্ধতিতে পাঠদান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘ফ্যাসিস্ট শক্তি পুলিশের ওপর হামলা চালাচ্ছে’—গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার

সংস্থাটি জানিয়েছে, জরুরি পরিস্থিতি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত তারা ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি চিকিৎসা সেবা দিয়েছে। পাশাপাশি অন্তত ৬ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষকে মানসিক ও সামাজিক সহায়তাও প্রদান করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ১২ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:২৮ পি.এম


জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ১২ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেবে

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দক্ষতাভিত্তিক এবং কর্মমুখী শিক্ষায় যুক্ত করানোর লক্ষ্যে সারা দেশের ১২ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। রোববার (৭ জুন) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডির জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘কারিকুলামে দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা অন্তর্ভুক্তিকরণ বিষয়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

উপাচার্য জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত প্রায় আড়াই হাজার কলেজে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী শ্রমবাজারের প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবের কারণে কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার, আইসিটি বিভাগ, এটুআই এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় দক্ষতাভিত্তিক পাঠ্যক্রম চালু করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নতুন পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ফ্রিল্যান্সিং, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ডিজিটাল মার্কেটিং, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং এবং ডাটা সায়েন্স বিষয়ে প্রশিক্ষণ লাভ করবেন। এসব বিষয়ে পাঠদান নিশ্চিত করার জন্য ইতিমধ্যে ৯০০ মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করা হয়েছে। তাদের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ১২ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

ড. আমানুল্লাহ বলেন, উচ্চশিক্ষাকে শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ উপযোগী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা, উদ্যোক্তা তৈরি করা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের জন্য বাংলাদেশের মানবসম্পদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এই উদ্যোগের মুখ্য উদ্দেশ্য।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংস্কার পরিকল্পনার বিভিন্ন দিকের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু, শিল্প-একাডেমি সংযোগ বৃদ্ধি, নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।

উপাচার্য জানালেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি ভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এর আওতায় কলেজগুলোতে ভাষা ক্লাব গড়ে তোলা হচ্ছে যাতে শিক্ষার্থীরা চীনা, জাপানি, কোরীয়, স্প্যানিশ, ইতালীয় ও আরবি ভাষা শেখার সুযোগ পায়। তিনি ৪০ লাখ শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান। আশা করা হচ্ছে, এ কর্মসূচির মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে দুই কোটিরও বেশি গাছ রোপণ সম্ভব হবে।

তিনি আরো বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিল্প-একাডেমি সংযোগের হার বর্তমানে ১০ শতাংশেরও কম। এই হার ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, খেলাধুলা, বিতর্ক এবং নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করে শিক্ষার্থীদের মানবিক এবং মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এ সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. নূরুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মা‌র্কিন ভিসা প্রার্থী বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:২৯ পি.এম


মা‌র্কিন ভিসা প্রার্থী বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ বার্তা

ঢাকার মার্কিন দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার জন্য আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইলের প্রাইভেসি সেটিংস ‘পাবলিক‘ (উন্মুক্ত) করার নির্দেশনা দিয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) মার্কিন দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে তারা সব অনভিবাসী ভিসা প্রার্থীদের উদ্দেশে এই বার্তা প্রদান করেছে।

নির্দেশনা অনুসারে, ৩০ মার্চ থেকে এ-৩ ও সি-৩ (যখন গৃহকর্মী), জি-৫, এইচ-৩ এবং এইচ-৪ ভিসাধারীদের ওপর নির্ভরশীল এইচ-৪ ভিসা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

এ ছাড়া কে-১, কে-২, কে-৩, কিউ, আর-১ এবং আর-১ ভিসাধারীদের ওপর নির্ভরশীল আর-২ ভিসা আবেদনকারীসহ এস, টি ও ইউ ভিসার জন্য আবেদনকারী সকল অনভিবাসী ভিসা প্রার্থীকেও তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সব প্রোফাইলের প্রাইভেসি সেটিংস উন্মুক্ত রাখতে আইনি নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যোগ্যতা ও পরিচয় যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সহজ করতে এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলেও বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভুবনেশ্বর নদে ভাসছিল কিশোরীর মরদেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:২৯ পি.এম


ভুবনেশ্বর নদে ভাসছিল কিশোরীর মরদেহ

ফরিদপুরের সদরপুরে ভূবনেশ্বর নদ থেকে পানিতে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে উপজেলার চরকৃষ্ণপুর এলাকার ভূবনেশ্বর নদ থেকে অজ্ঞাত ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা নদের পানিতে একটি কিশোরীর মরদেহ ভাসতে দেখতে পান। পরে তারা বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল মিয়াকে অবহিত করেন। তার মাধ্যমে খবর পেয়ে সদরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া কিশোরীর বয়স আনুমানিক ১৪ বছর। তবে তার পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

 

 

সদরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদুজ্জামান রিপন জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে নদ থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়না তদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 

তিনি আরও জানান, কিশোরীর পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মৌসুমি ফলের অভাব নেই বাজারে, দামে চড়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৩১ পি.এম


মৌসুমি ফলের অভাব নেই বাজারে, দামে চড়া

জ্যৈষ্ঠ মাসকে বলা হয় মধুমাস। নানা দেশি ফলের সরবরাহে এই মাসে পরিবেশ মধুময় হয়ে ওঠে। এবারের পরিস্থিতিও তার ব্যতিক্রম নয়। যশোরের বাজারে বর্তমানে দেশি ফলের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। বাজারে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, সফেদা, ডেঁয়ো ও তালের শাঁসের স্তূপ।

চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে পাকা ফলের মিষ্টি সুবাস। কিন্তু মধুমাসের এই আনন্দের মধ্যে দাম নিয়ে ক্রেতাদের রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। যদিও আমের দাম তুলনামূলকভাবে কমে সাধারণ মানুষের নাগালে এসেছে, তবে লিচু, জাম, ডাব, ডেঁয়ো, লটকনসহ অন্যান্য অনেক ফলের দাম এখনও বেশ চড়া বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।

যশোর শহরের মণিহার, চৌরাস্তা, দড়াটানা, রেলগেট, পালবাড়ি, নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকার ফলের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় লেগেই আছে। বিশেষ করে বিকেলের পর ফলের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের চাপ বৃদ্ধি পায়। অনেক ক্রেতা একসঙ্গে একাধিক ধরনের ফল কিনে বাড়িতে ফিরছেন।

বর্তমান সময়ে যশোরের বাজারে হিমসাগর ও ল্যাংড়া আম প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গোপালভোগ আমও ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে এবং আম্রপালি ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লিচু প্রতি শ ৩৬০ থেকে ৭০০ টাকা, কালোজাম ২০০ থেকে ২৪০ টাকা প্রতি কেজি, সবেদা ১২০ টাকা, পেয়ারা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পেঁপে ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং কলা প্রতি ডজন ৫০ থেকে ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ডাবের দাম প্রতিটি ৮০ থেকে ১৫০ টাকা, তরমুজ প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ডেঁয়ো ফল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি এবং লটকন ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁঠাল আকারভেদে ১০০ টাকা থেকে ৫শ' টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া তালের শাঁস প্রতিটি ৫ থেকে ১০ টাকায় পিস বিক্রি হতে দেখা গেছে।

দড়াটানা মোড়ের ফল বিক্রেতা কল্লোল হোসেন বলেন, এখন বাজারে দেশি ফলের সরবরাহ অনেক বেশি। হিমসাগর আম ৬০ টাকা, জাম ২০০ টাকা, ডেঁয়ো ১৬০ টাকা, লটকন ২০০ টাকা এবং বোম্বাই লিচু ৫০০ টাকা শ বিক্রি হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় অনেক ফলের দাম কমেছে।

হাসপাতাল মোড়ের ফল ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন বলেন, এখন দেশি ফলের ভরা মৌসুম চলছে। প্রতিদিন প্রচুর আম, লিচু ও কাঁঠাল বাজারে আসছে। সরবরাহ বাড়ায় আমের দাম অনেকটা কমে গেছে। যদিও কিছু ফলের উৎপাদন কম থাকায় সেগুলোর দাম এখনও বেশি।

চৌরাস্তা মোড়ে ফল বিক্রেতা কাওছার আলী জানান, রাজশাহী ও দিনাজপুর থেকে প্রতিদিন লিচু আসছে। অন্তর্বর্তী হিমসাগর ও ল্যাংড়া আম ৬০ টাকা কেজিতে এবং বোম্বাই জাম ২০০ টাকা কেজিতে, লিচু ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা শত বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতার চাপও খুব বেশি।

মণিহার হলের কাছে ফল ব্যবসায়ী রোস্তম আলী বলেন, ঈদের পর ফলের বিক্রি বেড়েছে। মানুষ এখন ফল কিনছেন বেশি। আগের তুলনায় বিক্রি প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেড়েছে।

মণিহার পাইকারি ফল মোকামের ব্যবসায়ী ও মেসার্স সিয়াম খন্দকার ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মিঠু খন্দকার জানান, বর্তমানে যশোরে প্রতি দিন ৮ থেকে ১০ ট্রাক আম প্রবেশ করছে। প্রতিটি ট্রাকে গড়ে ১০ থেকে ১২ টন আম আসে। সে হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ৮০ থেকে ১২০ টন আম বাজারে আসছে। এছাড়া প্রতিনিয়ত হাজার হাজার কাঁঠাল, কয়েক লাখ লিচু এবং বিপুল পরিমাণ জাম, পেয়ারা, তরমুজ ও অন্যান্য ফল আসছে।

তিনি বলেন, আমের উৎপাদন ভালো হওয়ায় এবারে দাম তুলনামূলক কম। তবে পরিবহন খরচ, শ্রমিক মজুরি, বাজার খাজনা এবং ফল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকির কারণে অন্যান্য ফলের দাম কিছুটা বেশি রয়েছে।

বাজারে ফলের প্রচুর সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও দাম নিয়ে অসন্তুষ্ট অনেক ক্রেতা। শংকরপুর এলাকার বাসিন্দা সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমের দাম কমেছে, এটা ভালো খবর। তবে একশ লিচু, এক কেজি জাম, দুটি ডাব, কিছু কলা আর কয়েক কেজি আম কিনতেই এক হাজার ২০০ টাকা থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা খরচ হয়ে যায়। মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এটি অনেক টাকা।

মুজিব সড়ক এলাকার সেলিনা খাতুন বলেন, যেহেতু এখন মধুমাস চলছে, গরমে তরল খাবারের পাশাপাশি শিশুর জন্য ফল কিনতে হচ্ছে। কিন্তু লিচু, জাম ও ডাবের দাম এখনও অনেক বেশি। বাজারে এত ফল থাকার পরও সব ফল সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নেই।

চৌরাস্তা বাজারে ফল কিনতে আসা জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমের বাজারে স্বস্তি এসেছে। তবে অন্য ফলের দাম কমেনি। আগে ৫০০ টাকায় যে পরিমাণ ফল পাওয়া যেত, এখন একই পরিমাণ কিনতে প্রায় দ্বিগুণ টাকা লাগছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান জানান, মৌসুমি ফলের বাজার নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। যাতে কোনো ব্যবসায়ী অযৌক্তিকভাবে দাম বৃদ্ধি না করতে পারে, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। কেউ অতিরিক্ত দাম আদায়ের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%