০৪:৫২ পি.এম
মাদক বিক্রি ও সেবনকারীদের পক্ষে তদবীর করলে কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে তিনি বলেন, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব। তিন বলেন, ‘যারা মাদক বিক্রি, সেবন ও চাঁদাবাজির মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।
জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে টাঙ্গুয়ার হাওরে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত
রবিবার (৫ জুলাই) দুপুর ১ টায় পাবনার সুজানগর বাজারে ‘মাদক বিক্রেতা, মাদকসেবী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দখলবাজ প্রতিরোধে’ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সংসদ সদস্য সেলিম রেজা বলেন, ‘রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান সরকার মাদক নির্মূলে কাজ শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাসিত জীবন থেকে পরিপক্ব ও পরিকল্পনা নিয়েই দেশে এসেছেন।
তিনি এসে দেশের দায়িত্ব নিয়েছেন নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী হয়ে। দেশ পরিবর্তনে কাজ করছেন। নিজেদের নীতি-নৈতিকতার পরিবর্তন না হলে সমাজের অসংগতি দূর করা সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৪ বছরে আমরা মানবিক প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি।
আরও পড়ুন: ফেনীতে যুবদলের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসা নিলেন ১০০-এরও বেশি নারী-পুরুষ
পার্শ্ববর্তী দেশ আমাদের কুক্ষিগত করতে চায়। কিন্তু সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন সাহসী প্রধানমন্ত্রী। পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজ তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। ভালো কাজ করাতে হলে আমাদের মানবিক হতে হবে। মাদক, সন্ত্রাসী নির্মূল করতে হবে। তবেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের চাহিদানুযায়ী দেশ পরিচালনায় সক্ষম হবেন।’
সেলিম রেজা হাবিব বলেন, ‘নির্বাচনী এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ নির্মূলে পৃথক তিনটি কমিটি করে দিয়েছি। মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ অভিযোগে অসম্পৃক্ততা আছে তাদের কমিটিতে স্থান নেই। মাদক, চাঁদাবাজ, দখলবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক বিক্রেতাদের আলাদা আলাদা তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তালিকা ধরে প্রশাসনের মাধ্যমে আইনি প্রয়োগ করা হবে।’
তিনি প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, ‘প্রশাসনের মধ্যে বিরোধপূর্ণ যারা ঘাপটি মেরে আছে তাদের অধিকতর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। রাজনৈতিকভাবে আমাদের প্রতিহিংসা নেই। কেউ প্রতিহিংসার শিকার হবে না। হতে দেওয়া যাবে না। কেউ যদি কাউকে প্রতিহিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে সেই নেতাকর্মীর বিএনপি করার দরকার নেই। তাদের দল থেকে বের করে দেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘উপজেলায় দুটি অভিযোগ বক্স থাকবে। অভিযোগ ধরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হট নাম্বার দেওয়া হবে। যারা মুচলেকা দিয়ে আসবে তাদের বিচার হবে না। আমার সঙ্গে যারা রাজনীতি করেন তারাও যদি এসব অপরাধের সঙ্গে থাকে তাহলে তাদের জায়গা হবে না।’
আরও পড়ুন: রাজশাহী নগরীতে চোরাই ল্যাপটপ ও একডজন মোবাইল ফোন সহ গ্রেফতার ২
নাগরিক সমাবেশের সভাপতি জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি চাকরি করি। আইন আছে। আইন প্রয়োগ করতে গেলে রাজনৈতিক পর্যায়ে ঐকমত্য থাকতে হয়। কিন্তু মাদক নির্মূলে এই সমস্যা প্রকট দেখা দেয়। মানুষের গণজোয়ার থাকলে খুব দ্রুত মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতাদের নির্মূল করা সম্ভব হয়। আমরা ভিকটিম হওয়ার আগেই মাদক সমূলে নির্মূল করতে সব পর্যায় থেকে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।’
সুজানগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ।
বিশেষ অতিথি বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘পাবনায় মাদক জিরো টলারেন্স চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে সহস্রাধিক মাদকসেবী ও বিক্রেতা গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের সংক্ষিপ্ত বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। মাদক ও জুয়ায় সংক্ষিপ্ত বিচারে জেল নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করেই আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে। তিনি প্রতিটা প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্টদের শক্ত হাতে মাদক দমনে প্রতিহত করতে হবে।’
সুধীজনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মাদকসেবী, বিক্রেতাসহ অপরাধী ধরে তাদের নিজেরা বিচার হাতে না নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেন।’
আরও পড়ুন: রাজশাহীতে মাদক কারবারি সহ গ্রেপ্তার ৩৩
শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মানবিক মানুষ হতে রক্ষায় শাসন করুন। তাদের মাদক ও অপরাধ সম্পর্কে অবহিত করেন। পাশাপাশি পরিবারের প্রতি সন্তানের সবদিকে খোঁজখবর রাখতে অনুরোধ জানান। মাদককে নির্বাসনে পাঠাতে সবাইকে একযোগে প্রতিহত করতে কাজ করতে হবে।’
নাগরিক সমাবেশে শুরুতেই স্বাগর বক্তব্য দেন সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ।
সমাবেশে অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে বক্তব্য দেন, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা পাবনার উপপরিচালক তৌফিক ইকবাল, জেলা আনসার ভিডিপি কমান্ড্যান্ট মাহবুবুর রহমান সরকার, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শহিদুল মান্নাফ কবির, বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোনাল্ড চাকমা, জিপি অ্যাডভোকেট আরশেদ আলম, পাবনা প্রেস ক্লাব সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, পাবনা র্যাব ক্যাম্পের কমান্ডার ওয়াহিদুজ্জামান, সুজানগর সার্কেলের এএসপি সাদেক আহমেদ, সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন প্রমুখ।
আরও পড়ুন: কাউখালীতে ইউএনওর আকস্মিক শ্রেণিকক্ষ পরিদর্শন, শিক্ষার্থীদের পাঠদান করালেন রেহেনা আক্তার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন