০২:১৫ পি.এম
ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাকে পরিবেশবান্ধব এবং যাত্রীবান্ধব করতে সরকার ২০০টি বৈদ্যুতিক বাস (ইভি বাস) কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে ১০০টি বাস নারীদের জন্য বিভিন্ন রুটে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এ বিষয়টি জানিয়েছেন।
মন্ত্রী মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে বিআরটিসি আয়োজিত ‘মহিলা বাস সার্ভিস (পিংক বাস)’ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। সরকারের পরিকল্পনা অনুসারে এসব বাস সরাসরি ক্রয়সূত্রের মাধ্যমে কেনা হবে। প্রকল্পের মাধ্যমে বাস কেনার ক্ষেত্রে অনুমোদন, টেন্ডারসহ আন্তর্জাতিক ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অন্তত দেড় বছর সময় লাগতে পারে। পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন চালুর লক্ষ্যেই সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় যাওয়ার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে ফসিল ফুয়েলের ওপর নির্ভরতা কমানো জরুরি। ঢাকায় মাল্টিমোডাল যোগাযোগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও এসব বাসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ২০০টি ইভি বাসের মধ্যে ১০০টি বিভিন্ন রুটে নারীদের জন্য রাখা হবে। এর ফলে নারী যাত্রীদের জন্য বাসসেবার পরিধি বাড়বে। বর্তমানে কয়েকটি জেলায় নারীবান্ধব বাসসেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও ভবিষ্যতে অন্যান্য বিভাগেও এ সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: রুমিন ফারহানার সমালোচকদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা, ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধার গুরুত্ব তুলে ধরলেন
মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, নারীদের জন্য ১৪টি বাস ১৩টি রুটে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ১০টি রুটে ১০টি বাস চলবে। একটি বাস একতলা এবং বাকি নয়টি দ্বিতল। চট্টগ্রামে একটি রুটে দুটি দ্বিতল বাস এবং বগুড়ায় দুটি রুটে দুটি দ্বিতল বাস চালাতে পরিকল্পনা রয়েছে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা অবশ্যই প্রয়োজন। বাসে ওঠা-নামার সময় যদি নারীদের জন্য হয়রানি, অস্বস্তি কিংবা সংকট সৃষ্টি হয়, তখন তারা গণপরিবহন ব্যবহার করতে আগ্রহী হন না। তাই নারীদের জন্য নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব মনে করেন তিনি।
মন্ত্রী বিআরটিসির বর্তমান ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি জানান, সংস্থাটি বর্তমানে ৫০০টির বেশি বাস পরিচালনা করছে, এবং মোট বাস সংখ্যা ১ হাজার ২০০-এর কাছাকাছি বা তারও বেশি। বর্তমানে বিআরটিসি লোকসানে নেই, বরং ব্রেক-ইভেন অবস্থায় রয়েছে। তবে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা, অপারেশন ও সেবার মান উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে।
নারীদের জন্য চালু হওয়ার পর বাসসেবা যাতে অতীতের বিভিন্ন উদ্যোগের মতো কিছু মাস পর বন্ধ হয়ে না যায়, সেই বিষয়েও সতর্ক থাকার কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেছেন যে, আজ যে সেবা চালু হচ্ছে, দুই মাস পর এর মান আরও বাড়াতে হবে। প্রতিদিন ব্যবস্থাপনার উন্নতি করতে হবে। এই উদ্যোগকে উদ্বোধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। সেবাটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা, উন্নয়ন, সমৃদ্ধ ও ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করার চ্যালেঞ্জ নিয়েও মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রস্তুত রয়েছেন।
আরও পড়ুন: জামায়াতে ইসলামী মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক: এটিএম মা’ছুম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন