০২:১৯ পি.এম
ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে গত রাতে একটি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরাকি সরকার তদন্ত শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান মন্তব্য করেছে যে, এই হামলাটি দুই দেশের সম্পর্ক নষ্ট করার উদ্দেশ্যে চালানো হয়েছে বলে তারা ধারণা করেন।
বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবরে জানা গেছে, কুর্দিস্তান অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ হামলার জন্য আগে থেকেই ইরানকে দায়ী করেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের গোয়েন্দাপ্রধানের বাড়িতেও হামলা পরিচালিত হয়েছে, এবং দুটি ড্রোন ইরানের ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: নাগরিক সমাজের আহ্বান, সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনে পরামর্শ ও সংস্কার প্রয়োজন
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কুর্দিস্তান অঞ্চলটি ১ হাজারেরও বেশি হামলার শিকার হয়েছে। এইসব হামলা মধ্যে মার্কিন সেনা, বিভিন্ন দেশের তেল কোম্পানি এবং ইরান থেকে নির্বাসিত কুর্দি বিদ্রোহীদের উপস্থিতি রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে এসব হামলা ইরান ও ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছে।
কুর্দিস্তানের ক্ষমতা কেন্দ্র এরবিলের আকাশে এর আগে বেশ কয়েকবার ড্রোন আটক করা হয়েছে। কিছু ড্রোন কুর্দি বিদ্রোহীদের ঘাঁটিতে এবং মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালিয়ে থাকে।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদের কার্যালয় থেকে জানা গেছে, তিনি কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রধানমন্ত্রী মাসরুর বারজানির দপ্তরে হামলার উৎস এবং ড্রোনগুলো উড়ানোর স্থান শনাক্ত করার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রাণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই হামলাটির নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত সন্দেহজনক এবং সকলকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে দুই রাষ্ট্রদূতের বৈঠকে শান্তিরক্ষা ও মানবাধিকার আলোচনা
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সোমবার ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আরাকচি বলেন, বারজানির দপ্তরে এমন বিস্ফোরণ হামলার কোনো যৌক্তিকতা নেই। প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার লক্ষ্য নিয়ে সাজানো কিংবা 'ফলস-ফ্ল্যাগ' হামলাটি সম্পর্কে কুর্দি বন্ধুদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ইরাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত টম ব্যারাক হামলাটির নিন্দা করে বলেন, বারজানি একজন বন্ধু এবং গুরুত্বপূর্ণ কুর্দি অংশীদার। হামলাটি 'অগ্রহণযোগ্য' এবং এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি হুমকি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, ইরাকের পূর্ব কুর্দিস্তানের একটি পেট্রোলিয়াম পণ্য সংরক্ষণাগারে বিস্ফোরণে ১৮ জন আহত হয়েছেন। তবে বিস্ফোরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। সুলাইমানিয়াহ প্রদেশের স্বাস্থ্য বিভাগের উপপরিচালক হিরশ সালিম রুদাওকে জানিয়েছেন যে, এ ঘটনায় কেউ নিহত হননি।
আরও পড়ুন: ইরানে হামলার প্রস্তুতির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটি থেকে সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে, ইরাক সরকার ইরানের সমর্থনে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অস্ত্র সমর্পণের সময়সীমা ঘোষণা করেছে। একই সময় মার্কিন নেতৃত্বাধীন জঙ্গিবিরোধী জোটের ইরাকের অভিযান শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
ইরাকে ইরান-সমর্থিত বেশ কয়েকটি শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে এবং এসব গোষ্ঠীর রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রভাব বহু বছর ধরে বেড়ে উঠেছে। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাকে হামলার পর এসব গোষ্ঠীর অনেকগুলোর উত্থান ঘটে এবং ২০১৪ সালের পরে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময়ে তারা আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
দীর্ঘদিন ধরে এসব গোষ্ঠী মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে এবং প্রায়ই মার্কিন সেনাদের অবস্থান করা ঘাঁটিতে হামলাও চালিয়ে থাকে। কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী রাষ্ট্রের কাছে অস্ত্র হস্তান্তরে সহযোগিতা করার ঘোষণা দিলেও অন্যরা যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা করতে রাজি নয়।
কুর্দিস্তান কর্তৃপক্ষ এর আগে সোমবার জানিয়েছিল যে, দুটি ইরানি ড্রোন বারজানির দপ্তর এবং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের গোয়েন্দাপ্রধানের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রথমবারের মতো শুরু হচ্ছে এক্সপ্যাট ওয়ার্ল্ড কাপ
বারজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, কুর্দিস্তান কাউন্টার-টেররিজম ইউনিটের তদন্তে জানা গেছে, দিনের শুরুতে তাঁর ব্যক্তিগত দপ্তর এবং নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের বাড়িতে ইরানি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এটি ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা’ এবং কুর্দিস্তান অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি একটি হুমকি।
আঞ্চলিক কাউন্টার-টেররিজম অধিদপ্তর জানিয়েছে যে, হামলায় কেউ হতাহত হননি। অধিদপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরক বহনকারী হাদিদ-১১০ মডেলের দুটি ড্রোন ইরান সীমান্তের ওপার থেকে কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত দপ্তর এবং পারাস্তিন গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালকের বাসভবনের দিকে পাঠানো হয়েছিল।
ইরানের অভিযোগ মতে, নির্বাসিত কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীগুলো পশ্চিমা দেশ ও ইসরাইলের স্বার্থে কাজ করছে। এপ্রিল মাসে আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইরান এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে ওই যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে।
আরও পড়ুন: মিরপুরে কিশোর গ্যাংয়ের হোতা তিন ভাই গ্রেফতার
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কুর্দিস্থানে থাকা এসব গোষ্ঠী তাদের বেশিরভাগ ঘাঁটি ও শিবির সরিয়ে নিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন