বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৬:১২ পি.এম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার নতুন প্রত্যয়ের নাম।
তিনি এই কথা বলেন বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে।
উপাচার্য বলেন, ‘২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের দুঃশাসন, ফ্যাসিবাদী শাসন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধবিরোধী শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটেছে। ইতিহাস এই সত্য প্রমাণ করে যে, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে এবং ভিন্নমত দমন করে কোনো শাসনব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।’
তিনি উল্লেখ করেন যে, শিক্ষার্থীদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ জাতিকে নতুন আশা দেখিয়েছে। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসম্পন্ন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। উপাচার্য সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদ যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, তার জন্য সকলকেই সতর্ক থাকতে হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের এমবিএ ভবনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: গণতন্ত্রায়ণের অভিযাত্রা’ শীর্ষক আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মাহমুদ ওসমান ইমামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান উপস্থাপক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সভায় জুলাই অভ্যুত্থানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের শিক্ষার্থী আহসান কবিরের বাবা মাস্টার হুমায়ুন কবির বক্তব্য দেন। এ ছাড়া আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীরা তাঁদের স্মৃতিচারণা করেন।
দুপুরের পর, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অডিটরিয়ামে ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের উদ্যোগে ‘রক্তাক্ত জুলাই ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক আরেকটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. উপমা কবিরের সভাপতিত্বে এতে বিচারক ছিলেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এস. এম. মোস্তফা আল মামুন।
উভয় অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলেও নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এর আগে ৫ আগস্ট হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে ‘রক্তস্নাত জুলাই, চেতনায় অনির্বাণ’ শীর্ষক একটি সেমিনার এবং ৪ আগস্ট শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।
শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিয়ায় বিশেষ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং জগন্নাথ হলের উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামে সাংবাদিকের প্রতি হামলার বিরুদ্ধে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্টার নিউজ টেলিভিশনের কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি মুহাম্মদ জুবাইরের ওপর হামলার প্রতিবাদে জেলার সাংবাদিকরা আজ মানববন্ধন করেন। তারা হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা জোরদার করার আহ্বান জানান।
এ মানববন্ধন বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ খন্দকার টিউটর, কুড়িগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্যসচিব এবং এটিএন নিউজের প্রতিনিধি মনোয়ার হোসেন লিটন, চ্যানেল ওয়ানের প্রতিনিধি রাশিদুল ইসলাম রাশেদ, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি তামজিদ হাসান, সমকালের প্রতিনিধি সুজন মোহন্ত এবং মানবাধিকারকর্মী রুকাইয়া আক্তার রুপা।
বক্তারা জানান, সাংবাদিকদের ওপর হামলা স্বাধীন গণমাধ্যম ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য বড় একটি হুমকি। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করার জন্য বক্তারা হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আওতায় আনার দাবি জানান। একই সাথে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করা আবশ্যক।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মুহাম্মদ জুবাইর অভিযোগ করেন যে, তিনি বুধবার উলিপুর উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠান কাভার করতে গিয়েছিলেন। এ সময়ে কয়েকজন তাকে জোর করে বাইরে নিয়ে মোটরসাইকেলে উঠতে বলেন। যখন তিনি এতে অস্বীকার করেন, তখন তার ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার ফলে আহত জুবাইর বর্তমানে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের অংশ হিসেবে আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথগুলোর সুরক্ষার নিশ্চিত করতে সৌদি রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরিকে কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এক্সে দেওয়া পোস্টে দেশটির সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে যে, জোটের কমান্ডার যৌথ নৌ-প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের তদারকি করবেন, সদস্য রাষ্ট্র ও অন্যান্য সামুদ্রিক জোটের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করবেন। এছাড়া জোটের সনদের আওতায় বিভিন্ন অভিযান পরিচালনার দায়িত্বও তার উপর থাকবে। মন্ত্রণালয় আরো জানায় যে, আরো অনেক দেশ এই জোটে যোগদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য কাজ করছে; এর মধ্যে কিছু দেশ ইতোমধ্যে যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছে এবং অন্যরা প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের পূর্বে ঘোষণাপত্র ও সনদে স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জোটটি নিশ্চিত করেছে যে, এটি একটি উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক জোট, যা এর লক্ষ্য ও নীতিমালার সঙ্গে একমত পোষণকারী সব দেশের জন্য সদস্যপদ গ্রহণে স্বাগত জানায়। একই সঙ্গে তারা সদস্যপদ লাভের আবেদন গ্রহণ অব্যাহত রেখেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব দেশ স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে, তাদের নাম জানিয়ে পরবর্তীতে আরেকটি বিবৃতি প্রকাশ করা হবে।
জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো চূড়ান্ত করার এবং আরও দেশের যোগদানের পথ সুগম করার উদ্দেশ্যে চলতি মাসের ১২-১৩ আগস্ট পরিকল্পনাকারীদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে মন্ত্রণালয় জানায়। উল্লেখ্য, গত ৩০ জুলাই সৌদি আরব এবং আরও ১৩টি দেশ ‘বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট’ গঠনের ঘোষণা দেয়।
এই জোটের মূল লক্ষ্য হলো বাব আল-মান্দেব প্রণালী, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। রিয়াদে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক বৈঠকের শেষে যৌথ বিবৃতিতে এই ঘোষণা আসে। সেই বৈঠকে ৪৩টি দেশের চিফ অফ স্টাফ ও প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পথের নিরাপত্তা জোরদার ও বৈশ্বিক নৌ-চলাচল ও বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট হুমকি মোকাবেলার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রগুলো জানায়, জোটের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের অধিকার থাকবে। তারা উল্লেখ করেছে, এই জোটটি প্রকৃতিগতভাবে সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক। এটি কোন নির্দিষ্ট রাষ্ট্র, জোট বা আন্তর্জাতিক সংস্থাকে লক্ষ্য করে গঠিত হয়নি এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আন্তর্জাতিক আইন মেনে কার্যক্রম পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বিবৃতিতে সৌদি আরবকে জোটের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান রাষ্ট্র এবং এর স্থায়ী সদর দপ্তর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। যৌথ অভিযান সমন্বয় কেন্দ্র, যৌথ সামুদ্রিক অভিযান কেন্দ্র ও সাধারণ সচিবালয় সৌদি আরবে অবস্থিত হবে।
আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘের কনভেনশন ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রীতিনীতি মেনে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ রুট সুরক্ষিত করা এবং সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে এই জোটটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত বৈঠকে সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্রমবর্ধমান হুমকির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যার অন্তর্ভুক্ত ছিল বাণিজ্যিক জাহাজ, তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও সামুদ্রিক অবকাঠামোর নিরাপত্তা। অংশগ্রহণকারীরা জোটের খসড়া সনদ, সাংগঠনিক কাঠামো ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
মন্ত্রণালয় বলেছে, জোটের লক্ষ্য হলো বাব আল-মান্দাব প্রণালী, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরের মতো বিভিন্ন এলাকায় যৌথ সামুদ্রিক হুমকির মোকাবেলায় সহযোগিতা এবং একটি কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা। ১৪টি দেশ এই জোট গঠনের সমর্থনে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেঃ সৌদি আরব, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিশর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, ইয়েমেন ও কোমোরোস।
মন্ত্রণালয় জানায়, অন্যান্য দেশের জন্য এই জোটের সনদে যোগ দেওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত রয়েছে; তবে সেক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব জাতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর ক্রমবর্ধমান হুমকির প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ‘সামুদ্রিক অবরোধ’ ঘোষণা করে এবং পরবর্তীতে সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর ওপর হামলার দাবি করে। রিয়াদ সামুদ্রিক চলাচল রক্ষা ও আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির উপযুক্ত জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠি, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : ঝালকাঠি জেলার এন এস মাদরাসায় ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠন শীর্ষক একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঝালকাঠি এন এস মাদরাসা কতৃপক্ষের উদ্যোগে এ মতবিনিময় সভাটি আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ২টায় মাদরাসা চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তৃতায় বলেন, ছাত্রসমাজকে মাদকমুক্ত থেকে থাকতে হলে পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও জানান, সরকারের পক্ষ থেকে স্কুল, কলেজ এবং মাদরাসার মাঠ সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মাদরাসা গভর্ণিং বডির সভাপতি আলহাজ্ব মো. খলিলুর রহমান নেছারাবাদী। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম বায়জিদ ইবনে আকবর এবং জেলা শিক্ষা অফিসার আবু সাঈদ।
সভায় আরও বক্তব্য প্রদান করেন আযিযুর রহমান হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোসাদ্দেক হোসেন ও এন এস কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ গাজী শহিদুল ইসলাম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কানাডাতে এই বছর দাবানলের মতো চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দ্বিগুণ বেড়ে গিয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক গবেষণায় এই তথ্য প্রদান করা হয়েছে।
গবেষণায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে, মৌসুমের শুরুতে দাবানলের কার্যক্রম স্বাভাবিকের তুলনায় কিছু কম ছিল। কিন্তু জুলাই মাস থেকে দীর্ঘস্থায়ী গরম এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষত, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্টারিও এবং নর্থওয়েস্ট টেরিটোরিজ।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ ব্যাপারে খবর জানিয়েছে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৩৮ লাখ হেক্টরেরও বেশি এলাকায় আগুন লেগে গেছে। এর ফলে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং কোটি কোটি মানুষ বিপজ্জনক মাত্রার ধোঁয়ার সংস্পর্শে এসেছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মূল্যায়নের জন্য ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন (ডব্লিউডব্লিউএ) গ্রুপের গবেষকরা পর্যবেক্ষণ তথ্য ও জলবায়ু মডেল ব্যবহার করেছেন।
তারা বর্তমান পরিস্থিতির সাথে একটি তুলনা করেছেন, যেখানে প্রাক-শিল্প যুগের জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবী ১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণ না হলে কী দেখা যেত।
গবেষণায় অন্টারিও এবং নর্থওয়েস্ট টেরিটোরিজে সবচেয়ে ভয়াবহ সাত দিন এবং ৩০ দিনের ‘ফায়ার ওয়েদার’ বা দাবানল-অনুকূল আবহাওয়ার সময়কাল বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
এতে দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
নর্থওয়েস্ট টেরিটোরিজে এটি প্রতি ২ থেকে ৬ বছরে এবং অন্টারিওতে প্রতি ৬ থেকে ১৫ বছরে একবার ঘটতে পারে।
ডব্লিউডব্লুইএ জানাচ্ছে, যদি জলবায়ু পরিবর্তন না হতো, তখন এ ধরনের পরিস্থিতি প্রতি ৪০ বছরে একবার দেখা যেত।
শুধুমাত্র পর্যবেক্ষণ তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, বর্তমান জলবায়ুতে চলতি বছরের মতো দাবানল-অনুকূল আবহাওয়া বিরল নয়।
গবেষণার প্রধান লেখক থিওডোর কিপিং বলছেন, ২০২৩ সালের পর কানাডায় যে দাবানল দেখা গেছে, তার ব্যাপ্তি ও তীব্রতার দিকে মৌলিকভাবে ভিন্ন।
তিনি আরও যোগ করেন, দাবানল যেভাবে ভৌগোলিকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, তা উদ্বেগজনক। এটি প্রমাণ করছে, দাবানল মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি থাকলেও শুধুমাত্র অভিযোজন যথেষ্ট নয়।
তিনি আরো বলেন, ‘এ ধরণের ঘটনার আরও ভয়াবহ পরিণতি ঠেকাতে আমাদের দ্রুত জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার থেকে সরে আসতে হবে।’
গবেষণায় বলা হচ্ছে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা শোষণের ক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায় জৈব পদার্থ দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে।
ফলে, ঘন ঘন এবং আরও তীব্র দাবানলের অনুকূল পরিবেশন তৈরি হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ