ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সেতুমন্ত্রী: ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব


সেতুমন্ত্রী: ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র এবং সরকারের দায়িত্ব। তিনি উল্লেখ করেন, ধর্মীয় অধিকার কারও করুণা বা অনুগ্রহের বিষয় নয়; এটি প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার। একটি সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আবশ্যক।

মন্ত্রী শুক্রবার রাজধানীর কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে ধানমন্ডি সর্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির আয়োজনে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয়া শুভেচ্ছা জানিয়ে সড়ক ও সেতু মন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশের মানুষের পরিচয় সবার আগে বাংলাদেশি।" তিনি আরও বলেন, ধর্ম, বর্ণ কিংবা গোত্রের ভিত্তিতে বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই। সকল ধর্মের মানুষের অধিকার শুধু স্বীকার করাই যথেষ্ট নয়, বরং তা বাস্তবে নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যেক নাগরিক যেন স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন, রাষ্ট্রকে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন: দেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: রাষ্ট্রপতি

ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, "ধর্ম মানুষের আধ্যাত্মিক চর্চা ও স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভের মাধ্যম।" তিনি সতর্ক করেন যে, ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দল নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করবে, তা কাম্য নয়। ধর্মীয় চর্চার পরিবেশ স্বাধীন, নিরাপদ ও সকলের জন্য উন্মুক্ত হওয়া উচিত।

শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপনের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, আন্তঃমন্ত্রণালয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি বলেন, উৎসবকালীন মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখা, সড়কনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং বিদ্যুৎ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, দুর্গাপূজার সময় মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রা এবং ঢাকায় প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উৎসবের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু আয়োজন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী আরও বলেন, দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনে সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রত্যেক ধর্মের মানুষ যেন স্বাধীনভাবে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, সে বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

নিজ নির্বাচনি এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকার সকল নাগরিকের ন্যায্য অধিকার রক্ষা করা তার দায়িত্ব। জনগণের ভোট ও আস্থা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ আমানত। কোনো নাগরিকের যৌক্তিক সমস্যা বা অধিকারসংক্রান্ত বিষয় তার নজরে এলে তা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ সময় এলাকায় একটি স্থায়ী পূজামণ্ডপ নির্মাণের জন্য সরকারি জমি বরাদ্দের দাবির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলে উপযুক্ত সরকারি জমি রয়েছে কি না, তা চিহ্নিত করে প্রস্তাবটির সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। সংশ্লিষ্ট স্থানে সরকারের অন্য কোনো পরিকল্পনা না থাকলে ছোট পরিসরে হলেও স্থায়ী পূজামণ্ডপ নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দের বিষয়টি বিবেচনা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। মন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর অস্থায়ীভাবে পূজামণ্ডপ স্থাপন করতে গিয়ে আয়োজকদের যে ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়, তার একটি স্থায়ী সমাধান হওয়া প্রয়োজন। ধর্মীয় চর্চার সুবিধার্থে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে তিনি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সবশেষে মন্ত্রী ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহাবস্থান ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "একটি শান্তিপূর্ণ, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিময় বাংলাদেশ গড়তে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।"

আরও পড়ুন: ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড দারিদ্র্য নিরসন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শূন্যে ভাসবে টেসলার রোডস্টার, মাস্কের নতুন উদ্ভাবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫২ এম


শূন্যে ভাসবে টেসলার রোডস্টার, মাস্কের নতুন উদ্ভাবন

টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক উড়ন্ত গাড়ির ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সম্ভাবনা তুলে ধরেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে স্পেসএক্সের রকেট উন্নয়নকেন্দ্রে নতুন টেসলা রোডস্টারের বিশেষ সংস্করণ প্রদর্শিত হয়েছে। প্রদর্শনীতে গাড়িটিকে মাটি থেকে উপরে উঠে শূন্যে ভাসতে, ডিগবাজি দিতে এবং একাধিক গাড়ি টপকে অবতরণ করতে দেখা যায়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) স্থানীয় সময় টেক্সাসের ম্যাকগ্রেগরে স্পেসএক্সের পরীক্ষাকেন্দ্রে এই প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ৯ বছর পর নতুন রোডস্টার সামনে এনে গাড়িটির গতি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মাস্ক।

টেসলার তথ্য অনুযায়ী, নতুন রোডস্টার ঘণ্টায় ৩৭০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে চলতে সক্ষম হবে। থ্রাস্টার প্রযুক্তির সাহায্যে স্থির অবস্থান থেকে ঘণ্টায় ৯৬ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে এক সেকেন্ডেরও কম সময় লাগবে। পাশাপাশি বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে শূন্যে ভেসে ডিগবাজি দেওয়ার সক্ষমতাও প্রদর্শনীতে দেখানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে গাড়িটির একটি ভিডিও প্রকাশ করেন মাস্ক। সেখানে সাদা রঙের বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কারটিকে মাটি থেকে ওপরে উঠে ভাসতে, উল্টে যেতে এবং বিভিন্ন কৌশলে চলাচল করতে দেখা যায়। প্রদর্শনীতে দ্রুতগতির নানা কসরতের সঙ্গে স্পটলাইট ও ঘন ধোঁয়াও ব্যবহার করা হয়।

টেসলা জানিয়েছে, রোডস্টারটির প্রদর্শনীতে ঠান্ডা গ্যাসের থ্রাস্টার এবং ফ্যানভিত্তিক সাকশন প্রযুক্তি কাজে লাগানো হয়েছে। স্পেসএক্সের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি থ্রাস্টারগুলো গাড়িটিকে মাটি থেকে ওপরে তোলা এবং এর গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বিশেষ ফ্যানভিত্তিক সাকশন ব্যবস্থা সর্বোচ্চ দুই জি পর্যন্ত আকর্ষণ বল তৈরি করতে সক্ষম।

অনুষ্ঠানে মাস্ক নিজের বন্ধু পিটার থিয়েলের একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে আমাদের উড়ন্ত গাড়ির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা পেয়েছি ১৪০ অক্ষর।’ ২০২২ সালে টুইটার কেনার আগে প্ল্যাটফর্মটিতে একটি পোস্টের সর্বোচ্চ অক্ষরসীমা ছিল ১৪০। সেই সীমার কথা উল্লেখ করে রসিকতা করার পর মাস্ক বলেন, ‘এখন আর তা নয়।’

টেসলার ওয়েবসাইটে নতুন রোডস্টারকে ‘পদার্থবিজ্ঞানের সীমার বাইরে’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে প্রদর্শনীতে উড়ন্ত কৌশল দেখানো হলেও গাড়িটি শেষ পর্যন্ত সড়কে চলাচলের উপযোগী যান হিসেবেই বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মাস্ক।

২০১৭ সালে দ্বিতীয় প্রজন্মের রোডস্টার উন্মোচনের পর থেকেই প্রকল্পটি টেসলার আলোচিত উদ্যোগগুলোর একটি। নতুন মডেলটি সামনে আনা হলেও এর উৎপাদন শুরু হতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁদপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:১০ এম


চাঁদপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে চাঁদপুরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে চাঁদপুর শহরের কালীবাড়ি ও হাজীগঞ্জ বাজার মন্দিরের পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন তিনি।

এ সময় ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী বলেন, "এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন, "তার জন্য পুলিশ ছাড়াও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি পূজা মণ্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে।" তিনি আরও জানান, এতে কোনো ধরনের হুমকি নেই। কারণ, বাংলাদেশ হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, "কেউ বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।"

তাছাড়া কিশোর গ্যাং ও মাদক নির্মূলে চাঁদপুরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ভূয়সী প্রশংসা করেন ডিআইজি।

এর আগে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নাদিরা নূর এবং জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজিকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝালকাঠিতে মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে স্পিডবোট দুর্ঘটনায় ইউএনওসহ ৯ জন আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:১০ এম


ঝালকাঠিতে মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে স্পিডবোট দুর্ঘটনায় ইউএনওসহ ৯ জন আহত

ঝালকাঠির নলছিটিতে মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে অংশগ্রহণের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্পিডবোট দুর্ঘটনায় নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রতীক কুমার কুণ্ডুসহ ৯ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার সুগন্ধা নদীর তীরে এমএম ব্রিকস সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন স্বেচ্ছাসেবক জিসান আহমেদ।

স্পিডবোট চালক মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, বিকেলে সুগন্ধা নদীর দপদপিয়াসহ বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান পরিচালনা করে নলছিটি স্টিমারঘাটের দিকে যাচ্ছিলেন অভিযানে থাকা দলটি। এ সময় পাখায় ময়লা জমে গেলে স্পিডবোট থামিয়ে সেগুলো পরিষ্কার করার পর বোট চালু করতেই প্রচণ্ড গতিতে নদীর তীরে ফেলে রাখা ইটের স্তুপের উপর বোট উঠে যায়। এরপর আর কিছু মনে নেই বলে জানিয়েছেন চালক।

এই দুর্ঘটনায় ইউএনও প্রতীক কুমার কুণ্ডু, চালক আশরাফুল ইসলাম, আনসার সদস্য জসিম উদ্দিন, রেজাউল আলম, স্বেচ্ছাসেবক শাহাদাত আলম, খান মোহাম্মদ মিল্লাত, জিসান আহমেদ, সিফাত ইসলাম, রায়হান ইসলাম এবং খোরশেদ আলম আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয় এবং গুরুতর আহত চালক আশরাফুল ইসলাম ও আনসার সদস্য রেজাউল আলমকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুজ্জামান জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ সদস্যরা সেখানে উপস্থিত আছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পূজা উৎসবে অংশগ্রহণ মুসলমানদের জন্য হারাম: খতিবদের সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:১১ এম


পূজা উৎসবে অংশগ্রহণ মুসলমানদের জন্য হারাম: খতিবদের সতর্কতা

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক গতকাল জুমার খুতব্বা পূর্ব বয়ানে উল্লেখ করেন, নবী (সা.) বলেছেন, আল্লাহ আমাকে হেদায়েতের বার্তা দিয়ে পাঠিয়েছেন। যারা এই বার্তা গ্রহণ করবে তারা জান্নাত লাভ করবে। অপরদিকে, যারা হেদায়েতের বার্তা গ্রহণ করবে না, তারা দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষতির সম্মুখীন হবে। খতিব আরও বলেন, রাসূল (সা.) হেদায়েতের দাওয়াত দিতে তায়েফ গিয়েছিলেন। সেখানে তায়েফবাসীরা রাসূল (সা.) কে অসহনীয় কষ্ট দিয়েছিল। রাসূল (সা.) এর দেহ রক্তাক্ত হয়েছিল। তায়েফের মাটিতে জ্ঞান ফিরলে জিবরিল (আ.) এসে বলেছিলেন, আপনি যদি অনুমতি দেন, তবে তায়েফের দু’টি পাহাড় দিয়ে তাদের ধ্বংস করে দিই। কিন্তু রাসূল (সা.) এতে রাজি হননি।

তিনি বলেছিলেন, এরা এখন বুঝে না, তবে তাদের ভবিষ্যত বংশধররা একদিন দ্বীনের দাওয়াত গ্রহণ করতে পারে। খতিব বলেন, যারা শরীয়া গ্রহণ করবে, তারাই সফল হবে। নবী (সা.) শরীয়া অনুসরণের মাধ্যমেই একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তোলার কথা বলেছেন। খতিব আরও বলেন, এবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্য। যদি কেউ তাওহিদের বিশ্বাসী হয়, তাহলে আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করে দেবেন। আল্লাহ ইরশাদ করেন, তোমরা শিরিক ছেড়ে তাওহিদের দাওয়াত গ্রহণ করো। খতিব বলেন, সরকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজায় সর্বাত্মক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছে। পূজা চলছে পূর্ণ নিরাপত্তার মাধ্যমে। তবে পূজা একটি শিরিক কাজ। এই শিরিক পরিহার করার জন্য যুগে যুগে আল্লাহ নবী পাঠিয়েছেন। যদি কোনো মুসলমান উদারতার নামে পূজায় গিয়ে সহমর্মিতা প্রকাশ করে, তাহলে তার ঈমান থাকবে না। খতিব বলেন, আল্লাহ রাসূল (সা.) সিরাতকে উত্তম আদর্শ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। রাসূল (সা.) সিরাতকে অনুসরণের মাধ্যমে মু’মিনরা দুনিয়া ও আখেরাতে সফলকাম হতে পারবেন। আল্লাহ সবাইকে কবুল করুন। আমিন।

মহাখালীস্থ মসজিদে গাউছুল আজমের খতিব মুফতী মাওলানা মাহবুবুর রহমান গতকাল জুমার খুতবা পূর্ব বয়ানে বলেন, মুসলমানদের জন্য বিধর্মীদের (পূজা) উৎসবে শামিল হওয়া হারাম। তাঁদের উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তবে অংশ নেয়াও যাবে না। বিধর্মীদের উৎসবে শিরকসহ নানাবিধ কবিরাহ গুনাহ হয়, যা মুসলিমদের ঈমান ধ্বংস করে দেয়। আল্লাহ বলেছেন, শিরক সব থেকে বড় গুনাহ। এই বিষয়টি মাথায় রেখে চলমান সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজায় যাওয়া যাবে না। অনেক মুসলিম আছেন যারা পূজা দেখার নাম করে সেখানে যান, অথচ উপলব্ধি করেন না সেখানে আল্লাহর সাথে চরমভাবে শিরক করা হচ্ছে। যা দেখে মুসলমানের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হওয়ার কথা, কিন্তু মুসলমানগণ আনন্দ পাচ্ছে। নিঃসন্দেহে এটিও কবিরা গুনাহের কাজ। আমাদের ঈমানী দায়িত্ব হচ্ছে এর থেকে দূরে থাকা।

খতিব বলেন, ইসলাম একটি শান্তিময়, ন্যায়পরায়ণ ও মানবিক জীবনব্যবস্থা। ইসলামি সমাজে বসবাসকারী ভিন্ন ধর্মাবলম্বী নাগরিকগণের (অমুসলিমদের) জীবন, সম্পত্তি, সম্মান এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মুসলমানদের ঈমানি ও নৈতিক দায়িত্ব। রাসূলুল্লাহ (সা.) অমুসলিম নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় অত্যন্ত কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছেন: যে ব্যক্তি কোনো চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমকে (মুআহিদ) কষ্ট দিল কিংবা তার অধিকার খর্ব করল, কিয়ামতের দিন আমি নিজেই তার বিরুদ্ধে বাদী হব (সুনান আবু দাউদ)। অতএব, আমাদের সমাজে বসবাসকারী সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সকল অমুসলিম ভাইদের উৎসব পালনে কোনো প্রকার বাধা সৃষ্টি করা যাবে না, তাদের জান-মাল ও উপাসনালয়ের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের প্রতি কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি, জুলুম বা অন্যায় আচরণ ইসলাম কখনো সমর্থন করে না।

নিরাপত্তা প্রদান এবং অন্যের ধর্মীয় উৎসবে আনন্দ বা আচারে শামিল হওয়া—এ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। ইসলাম আমাদের একটি স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান দিয়েছে। আমাদের ইবাদত, সংস্কৃতি, বিশ্বাস এবং উৎসব সবকিছুই তাওহীদ বা একত্ববাদের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। একজন মুসলমান কখনোই তার ঈমান ও আকিদার সাথে আপস করতে পারে না। অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ করা কিংবা তাতে সরাসরি শামিল হওয়া ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ বা হারাম। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন “যে ব্যক্তি কোনো জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদেরই দলভুক্ত।” (সুনান আবু দাউদ, হাদিস নং ৪০৩১)। এই হাদিসের আলোকে ভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, প্রতীক বা উৎসবে অংশ নেওয়া মুসলিম উম্মাহর জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। খতিব আরো বলেন, দুর্গাপূজাসহ অন্যান্য পৌত্তলিক উৎসবগুলোতে মূলত কী সংঘটিত হয়? সেখানে আল্লাহ তাআলার সাথে অংশীদার স্থাপন করা হয়, প্রতিমা পূজা করা হয়—যা সরাসরি ‘শিরক’। পবিত্র কুরআনে শিরককে সবচেয়ে বড় জুলুম ও অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা সূরা লুকমানের ১৩ নম্বর আয়াতে লোকমান হাকিমের উপদেশের মাধ্যমে ইরশাদ করেছেন: আর স্মরণ করো, যখন লুকমান তার পুত্রকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছিল, ‘হে আমার প্রিয় বৎস! আল্লাহর সাথে শরিক কোরো না। নিশ্চয়ই শিরক হলো সবচেয়ে বড় জুলুম (অত্যাচার) (সুরা লুকমান, আয়াত: ১৩)। আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন যে, শিরক এমন এক মারাত্মক অপরাধ যা মানুষের সমস্ত নেক আমল ও বিশ্বাসকে বরবাদ করে দেয়। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে: আর যদি তারা শিরক করত, তবে তাদের বিগত আমলসমূহ নিষ্ফল হয়ে যেত (সুরা আল-আনআম, আয়াত: ৮৮)। যেখানে আল্লাহ তাআলা শিরককে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করেছেন (যদি তওবা ছাড়া মারা যায়), সেখানে একজন মুমিন কীভাবে সচেতনভাবে বা কৌতূহলের বশে এমন স্থানে উপস্থিত হতে পারে, যেখানে প্রকাশ্যে শিরক সংঘটিত হচ্ছে? উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে খতিব আরো বলেন, আজকাল অত্যন্ত দুঃখের সাথে লক্ষ করা যায়, অনেক মুসলিম ভাই ও বোন ‘শুধু দেখতে যাচ্ছি’ কিংবা ‘কৌতূহল মেটাতে যাচ্ছি’—এই অজুহাতে পূজা মণ্ডপগুলোতে ভিড় করেন। তারা উপলব্ধি করতে পারেন না যে, যে স্থানে আল্লাহর সাথে কুফরি ও শিরক করা হচ্ছে, সেখানে উপাসনা বা উদযাপনের অংশ হিসেবে যাওয়া এবং তা উপভোগ করা কবিরা গুনাহ। একজন প্রকৃত মুমিনের হৃদয়ে আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আত্মমর্যাদা থাকে। যখন সে দেখে যে তার রবের সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করা হচ্ছে, তখন তার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হওয়ার কথা, তার ঈমানি চেতনায় আঘাত লাগার কথা। অথচ এর বিপরীতে, অনেককে দেখা যায় সেখানে গিয়ে আনন্দ প্রকাশ করতে বা উৎসবের আবহে মেতে উঠতে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং ঈমান বিধ্বংসী। পবিত্র কুরআনে মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলা হয়েছে যে, তারা যখন অনৈতিক বা বাতিল কর্মকাণ্ডের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে, তখন অত্যন্ত সংবেদনশীলতা ও মর্যাদার সাথে তা পরিহার করে চলে। সবশেষে খতিব বলেন, ঈমান ও আকিদা রক্ষা করা আমাদের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ দায়িত্ব। অমুসলিম নাগরিকদের নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষা করা আমাদের মানবিক ও সামাজিক কর্তব্য, কিন্ত তাদের ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ বা শামিল হওয়া আমাদের ঈমানের পরিপন্থী। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সকল প্রকার শিরক, কুফরি ও কবিরা গুনাহ থেকে দূরে থাকার তৌফিক দান করুন। আমাদের ঈমানকে হেফাজত করুন এবং সিরাতে মুস্তাকিমে অটল রাখুন। আমীন।

ঢাকার মুগদা উত্তর মান্ডা বাইতুন নূর জামে মসজিদের খতিব শাইখুল হাদিস মুফতি ফয়জুল্লাহ জীবনপুরী গতকাল খুতবার পূর্ব বয়ান করেন, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদের মৃত্যুর বাস্তবতার মুখোমুখি হতে এবং আখেরাতের পাথেয় সঞ্চয় করতে বারবার সতর্ক করেছেন। খতিব বলেন, দুনিয়ার শুরু আছে শেষ আছে কিন্ত পরকালের শুরু আছে শেষ নাই, এই পৃথিবী একদিন মরে যাবে, তাতে সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে। মানুষ যখন মারা যায় তখন তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি জিনিস জারি থাকে এক সদকায়ে জারিয়া, নেক সন্তান এবং উপকারী এলেম। দুনিয়াতে একটি বিছানা পুরাতন হয়ে গেলে নতুন আরেকটি বিছানা বিছানো হয়, কিন্ত কবর দেশে মাটির বিছানা থাকবে। আর দুনিয়াতে একটি বাতি ফিউজ হয়ে গেলে আরেকটি বাতি জ্বালানো হয়, কিন্ত কবরে তো কোন বাতি থাকবে না,

খতিব একটি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর সালাতের স্থানে প্রবেশ করে কিছু মানুষকে হাসাহাসি করতে দেখলেন। তিনি বললেন: “জেনে রেখো! তোমরা যদি স্বাদ বিনষ্টকারী বস্তুকে (মৃত্যুকে) বেশি স্মরণ করতে, তবে তা তোমাদেরকে এই হাসাহাসি থেকে বিরত রাখত। অতএব তোমরা স্বাদ বিনষ্টকারী মৃত্যুকে বেশি স্মরণ করো। কেননা কবরের ওপর এমন কোনো দিন অতিক্রম হয় না, যেদিন সে কথা বলে না। কবর বলে ‘আমি প্রবাসের ঘর, আমি একাকীত্বের ঘর, আমি মাটির ঘর, আমি পোকামাকড়ের ঘর।’ “আর যখন কোনো কাফের (বা পাপাচারী) বান্দা দুনিয়ার জীবন শেষ করে আখিরাতের অভিমুখে যাত্রা করে, তখন আকাশ থেকে কালো চেহারার ফেরেশতারা নেমে আসে। তাদের কাছে থাকে খসখসে বা চটের তৈরি আগুনের পোশাক। তারা তার দৃষ্টির সীমানা পর্যন্ত বসে যায়। তারপর আজরাইল (আ.) (মৃত্যুর ফেরেশতা) এসে তার মাথার কাছে বসেন এবং বলেন: ‘হে অপবিত্র আত্মা! আল্লাহর অসন্তোষ ও গযবের দিকে বের হয়ে আয়।’ নবীজি (সা.) আরও বলেন, কবর কারো জন্য জান্নাতের বালাখানা হবে, কারো জন্য জাহান্নামের গর্তে পরিণত হবে। খুতবার শেষ পর্যায়ে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বলেন, আসুন আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের কবরসমূহকে জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান বানিয়ে দেন এবং আমাদের ক্ষমা করেন ও তাঁর রহমতে আমাদের প্রতি দয়া করেন। আমিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%