ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি ট্রাম্পের আদেশনামা, বললেন আনু মুহাম্মদ


মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি ট্রাম্পের আদেশনামা, বললেন আনু মুহাম্মদ

অর্থনীতিবিদ ও লেখক প্রফেসর আনু মুহাম্মদ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তিকে ট্রাম্পের ‘আদেশনামা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিটি প্রকৃতপক্ষে কোনো চুক্তি নয়, বরং এটি ট্রাম্পের আদেশনামা। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার বিরুদ্ধে এবং মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। এই সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি।

প্রফেসর আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, গণতন্ত্র কেবল ভোট দেওয়ার বিষয় নয়। সরকারের কার্যক্রমের ওপর জনগণের কতটা কর্তৃত্ব রয়েছে—এটাই মূল বিষয়। কিন্তু দেশের মানুষ এখনও সেই কর্তৃত্ব পায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, ব্রিটিশরা নিজেদের শাসন ও শোষণ বজায় রাখতে সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টি করেছিল। বর্তমান সরকারও দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে জনগণের নজর ঘোরাতে কৃত্রিম বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে জনগণ সরকারকে ক্ষমতায় আনেনি, বরং ট্রাম্প তাদের সরকারে বসিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা সকলের লক্ষ্য করা উচিত। নীরব দর্শক হয়ে থাকা চলবে না। সরকারকে গণবিরোধী চুক্তি থেকে সরে আসতে বাধ্য করতে হবে।

মার্কিন চুক্তির ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে গবেষক মাহতাব উদ্দীন আহমেদ বলেন, এই চুক্তি কার্যকর থাকলে দেশের বাণিজ্যিক সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হবে। এতে পণ্যের দাম বাড়বে এবং কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে বন্দরের ইজারা দেওয়ার পূর্ণাঙ্গ শর্ত ও চুক্তি এখনও প্রকাশ করা হয়নি, যা সরকারের অস্বচ্ছতার পথে হাঁটার প্রমাণ।

আরও পড়ুন: দেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: রাষ্ট্রপতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অ্যাসিসট্যান্ট প্রফেসর মোশাহিদা সুলতানা বলেন, দেশের মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ না হওয়ার পরেও সরকার অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা ও চুক্তি করে জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে।

গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের সমন্বয়ক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন মেটানোর চেয়ে বিদেশি প্রভুদের তুষ্ট করাই সরকারের প্রধান নীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সমাবেশে চিকিৎসক হারুন অর রশিদ, বাহাদুর শাহ পার্কের ঐতিহ্য সংরক্ষণ সংগ্রাম পরিষদের সদস্যসচিব আখতারুজ্জামান খান এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মানস নন্দী আরও বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতা ইভান তাহসীব। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা বাহাদুর শাহ পার্ক ও আশপাশের সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

আরও পড়ুন: ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড দারিদ্র্য নিরসন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জবি ছাত্রদলের সম্প্রীতি রক্ষায় ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫০ এম


জবি ছাত্রদলের সম্প্রীতি রক্ষায় ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার আহ্বান

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সব পক্ষের প্রতি ধৈর্য, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছে।

শুক্রবার রাতে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক (দপ্তর সম্পাদক) মো. মোজাম্মেল মামুন ডেনি কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদি হাসান হিমেল ও সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন এই আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর প্রথম পরিচয় হলো তারা জবিয়ান। ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখে, সব ধর্মের শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় হলো মুক্তবুদ্ধির চর্চা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সার্বজনীন সহাবস্থানের কেন্দ্র। এখানে বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও মতের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করে আসছেন। কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার কারণে দীর্ঘদিনের এই সম্প্রীতি বিঘ্নিত হওয়া এবং স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, চলমান সংকটের সময় আবেগ বা উসকানির প্রভাবে এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত নয়, যা ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। সব ভেদাভেদ ও মতপার্থক্য ভুলে শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, দেশের স্বার্থ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি রক্ষায় সবাইকে একত্রিতভাবে কাজ করতে হবে। সংগঠনটি মনে করে, পারস্পরিক আলোচনা ও শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে যেকোনো জটিল সমস্যার সমাধান সম্ভব।

এতে ক্যাম্পাসে সব ধর্মের শিক্ষার্থীর ধর্মীয় অনুভূতি ও অধিকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সম্প্রীতি ও সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী ও ছাত্রসংগঠনকে দায়িত্বশীল আচরণের অনুরোধ জানায় জবি ছাত্রদল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের অপপ্রচার চলছে: রিজভী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫০ এম


দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের অপপ্রচার চলছে: রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাড. রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন যে, দেশের গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার অনেকেই গ্রহণ করতে চান না। এই কারণেই দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করা হচ্ছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী আরও জানান, ধর্মীয় পরিচয় যাই হোক, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের রাষ্ট্রে সমান অধিকার রয়েছে। সকল ধর্মের মানুষকে বৈষম্য ছাড়াই সমান অধিকার ভোগ করতে হবে। হাজার বছরের ইতিহাসে এ ভূখণ্ডের মানুষ পরস্পরের ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ করে আসছে। উৎসবগুলো সব ভেদরেখা ও বিভাজন দূর করে মানুষকে একত্রিত করে এবং একই ভিত্তির ওপর দাঁড়ানোর শক্তি প্রদান করে।

তিনি বলেন, বিএনপি গত এক মাস ধরে সারা দেশে দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যাতে নিরাপদে উৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য দলের নেতাকর্মীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এবারের দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় দুই লাখ ১২ হাজারের বেশি আনসার ও ভিডিপি সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে। আগের উৎসবগুলোর তুলনায় এবার এ সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও প্রতিটি পূজামণ্ডপে সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন। দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ উৎসব সফল করার জন্য কাজ করছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্গাপূজার ছুটি একদিন বাড়িয়েছেন। ফলে এবার পাঁচদিন ছুটি ভোগ করতে পারছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। প্রতিটি মন্দিরের জন্য চাল বরাদ্দ ৫০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হয়েছে। এখন থেকে প্রতিটি মন্দির সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি মাসে আট হাজার টাকা বরাদ্দ পাবে। হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের বরাদ্দ চার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া পুরোহিত ও সেবায়তদের উৎসব ভাতার সঙ্গে আরও তিন হাজার টাকা যুক্ত করা হচ্ছে।

রিজভী বলেন, ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হতে পারে, কিন্তু এ দেশের মানুষ হিসেবে সবাই রাষ্ট্রের নাগরিক। মুসলমান, হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ—সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। অন্তর্ভুক্তিমূলক এই চিন্তা নিয়েই সরকার ও বিএনপি কাজ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারত থেকে ১৮ নতুন রেলকোচ এসেছে, আসবে আরো ১৮২টি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫১ এম


ভারত থেকে ১৮ নতুন রেলকোচ এসেছে, আসবে আরো ১৮২টি

বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ভারত থেকে ২০০টি ব্রডগেজ (বিজি) যাত্রীবাহী কোচ আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রথম চালানের ১৮টি ব্রডগেজ কোচ ইতোমধ্যে দেশে এসে পৌঁছেছে। শুক্রবার দুপুরে ভারতের গেদে ও চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তের মাধ্যমে কোচগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

ভারতের রাইটস লিমিটেডের দ্বারা সরবরাহিত এই প্রথম চালানের ১৮টি ব্রডগেজ কোচের কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা বর্তমানে সম্পন্ন হচ্ছে। দর্শনা বন্দর থেকে আগামী ১৮ অক্টোবরের মধ্যে কোচগুলো খালাস করা হতে পারে বলে জানা গেছে। খালাস কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর, কোচগুলো সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় পাঠানো হবে। সেখানে সেগুলোর ডি-প্রসেসিং, কমিশনিং ও ট্রায়াল রান সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ভারত থেকে মোট ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ আসবে। এর অংশ হিসেবে প্রথম চালানের ১৮টি কোচ দেশে পৌঁছেছে। আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে কোচগুলো সৈয়দপুরে যাবে এবং বাকি ১৮২টি কোচ পর্যায়ক্রমে দেশে আনা হবে।

এর আগে, গত ১২ অক্টোবর দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ ফ্যাক্টরি (হুসাইনপুর) থেকে ১৮টি কোচের এই চালানটি দর্শনা সীমান্তের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেতুমন্ত্রী: ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫১ এম


সেতুমন্ত্রী: ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র এবং সরকারের দায়িত্ব। তিনি উল্লেখ করেন, ধর্মীয় অধিকার কারও করুণা বা অনুগ্রহের বিষয় নয়; এটি প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার। একটি সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আবশ্যক।

মন্ত্রী শুক্রবার রাজধানীর কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে ধানমন্ডি সর্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির আয়োজনে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয়া শুভেচ্ছা জানিয়ে সড়ক ও সেতু মন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশের মানুষের পরিচয় সবার আগে বাংলাদেশি।" তিনি আরও বলেন, ধর্ম, বর্ণ কিংবা গোত্রের ভিত্তিতে বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই। সকল ধর্মের মানুষের অধিকার শুধু স্বীকার করাই যথেষ্ট নয়, বরং তা বাস্তবে নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যেক নাগরিক যেন স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন, রাষ্ট্রকে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, "ধর্ম মানুষের আধ্যাত্মিক চর্চা ও স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভের মাধ্যম।" তিনি সতর্ক করেন যে, ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দল নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করবে, তা কাম্য নয়। ধর্মীয় চর্চার পরিবেশ স্বাধীন, নিরাপদ ও সকলের জন্য উন্মুক্ত হওয়া উচিত।

শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপনের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, আন্তঃমন্ত্রণালয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি বলেন, উৎসবকালীন মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখা, সড়কনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং বিদ্যুৎ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, দুর্গাপূজার সময় মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রা এবং ঢাকায় প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উৎসবের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু আয়োজন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী আরও বলেন, দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনে সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রত্যেক ধর্মের মানুষ যেন স্বাধীনভাবে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, সে বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

নিজ নির্বাচনি এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকার সকল নাগরিকের ন্যায্য অধিকার রক্ষা করা তার দায়িত্ব। জনগণের ভোট ও আস্থা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ আমানত। কোনো নাগরিকের যৌক্তিক সমস্যা বা অধিকারসংক্রান্ত বিষয় তার নজরে এলে তা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ সময় এলাকায় একটি স্থায়ী পূজামণ্ডপ নির্মাণের জন্য সরকারি জমি বরাদ্দের দাবির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলে উপযুক্ত সরকারি জমি রয়েছে কি না, তা চিহ্নিত করে প্রস্তাবটির সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। সংশ্লিষ্ট স্থানে সরকারের অন্য কোনো পরিকল্পনা না থাকলে ছোট পরিসরে হলেও স্থায়ী পূজামণ্ডপ নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দের বিষয়টি বিবেচনা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। মন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর অস্থায়ীভাবে পূজামণ্ডপ স্থাপন করতে গিয়ে আয়োজকদের যে ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়, তার একটি স্থায়ী সমাধান হওয়া প্রয়োজন। ধর্মীয় চর্চার সুবিধার্থে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে তিনি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সবশেষে মন্ত্রী ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহাবস্থান ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "একটি শান্তিপূর্ণ, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিময় বাংলাদেশ গড়তে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%