০১:৪৯ এম
অর্থনীতিবিদ ও লেখক প্রফেসর আনু মুহাম্মদ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তিকে ট্রাম্পের ‘আদেশনামা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিটি প্রকৃতপক্ষে কোনো চুক্তি নয়, বরং এটি ট্রাম্পের আদেশনামা। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার বিরুদ্ধে এবং মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। এই সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি।
প্রফেসর আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, গণতন্ত্র কেবল ভোট দেওয়ার বিষয় নয়। সরকারের কার্যক্রমের ওপর জনগণের কতটা কর্তৃত্ব রয়েছে—এটাই মূল বিষয়। কিন্তু দেশের মানুষ এখনও সেই কর্তৃত্ব পায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, ব্রিটিশরা নিজেদের শাসন ও শোষণ বজায় রাখতে সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টি করেছিল। বর্তমান সরকারও দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে জনগণের নজর ঘোরাতে কৃত্রিম বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে জনগণ সরকারকে ক্ষমতায় আনেনি, বরং ট্রাম্প তাদের সরকারে বসিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা সকলের লক্ষ্য করা উচিত। নীরব দর্শক হয়ে থাকা চলবে না। সরকারকে গণবিরোধী চুক্তি থেকে সরে আসতে বাধ্য করতে হবে।
মার্কিন চুক্তির ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে গবেষক মাহতাব উদ্দীন আহমেদ বলেন, এই চুক্তি কার্যকর থাকলে দেশের বাণিজ্যিক সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হবে। এতে পণ্যের দাম বাড়বে এবং কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে বন্দরের ইজারা দেওয়ার পূর্ণাঙ্গ শর্ত ও চুক্তি এখনও প্রকাশ করা হয়নি, যা সরকারের অস্বচ্ছতার পথে হাঁটার প্রমাণ।
আরও পড়ুন: দেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: রাষ্ট্রপতি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অ্যাসিসট্যান্ট প্রফেসর মোশাহিদা সুলতানা বলেন, দেশের মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ না হওয়ার পরেও সরকার অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা ও চুক্তি করে জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে।
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের সমন্বয়ক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন মেটানোর চেয়ে বিদেশি প্রভুদের তুষ্ট করাই সরকারের প্রধান নীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সমাবেশে চিকিৎসক হারুন অর রশিদ, বাহাদুর শাহ পার্কের ঐতিহ্য সংরক্ষণ সংগ্রাম পরিষদের সদস্যসচিব আখতারুজ্জামান খান এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মানস নন্দী আরও বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতা ইভান তাহসীব। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা বাহাদুর শাহ পার্ক ও আশপাশের সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
আরও পড়ুন: ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড দারিদ্র্য নিরসন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন