প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কানাডাতে এই বছর দাবানলের মতো চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দ্বিগুণ বেড়ে গিয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক গবেষণায় এই তথ্য প্রদান করা হয়েছে।
গবেষণায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে, মৌসুমের শুরুতে দাবানলের কার্যক্রম স্বাভাবিকের তুলনায় কিছু কম ছিল। কিন্তু জুলাই মাস থেকে দীর্ঘস্থায়ী গরম এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষত, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্টারিও এবং নর্থওয়েস্ট টেরিটোরিজ।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ ব্যাপারে খবর জানিয়েছে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৩৮ লাখ হেক্টরেরও বেশি এলাকায় আগুন লেগে গেছে। এর ফলে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং কোটি কোটি মানুষ বিপজ্জনক মাত্রার ধোঁয়ার সংস্পর্শে এসেছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মূল্যায়নের জন্য ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন (ডব্লিউডব্লিউএ) গ্রুপের গবেষকরা পর্যবেক্ষণ তথ্য ও জলবায়ু মডেল ব্যবহার করেছেন।
তারা বর্তমান পরিস্থিতির সাথে একটি তুলনা করেছেন, যেখানে প্রাক-শিল্প যুগের জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবী ১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণ না হলে কী দেখা যেত।
গবেষণায় অন্টারিও এবং নর্থওয়েস্ট টেরিটোরিজে সবচেয়ে ভয়াবহ সাত দিন এবং ৩০ দিনের ‘ফায়ার ওয়েদার’ বা দাবানল-অনুকূল আবহাওয়ার সময়কাল বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
এতে দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
নর্থওয়েস্ট টেরিটোরিজে এটি প্রতি ২ থেকে ৬ বছরে এবং অন্টারিওতে প্রতি ৬ থেকে ১৫ বছরে একবার ঘটতে পারে।
ডব্লিউডব্লুইএ জানাচ্ছে, যদি জলবায়ু পরিবর্তন না হতো, তখন এ ধরনের পরিস্থিতি প্রতি ৪০ বছরে একবার দেখা যেত।
শুধুমাত্র পর্যবেক্ষণ তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, বর্তমান জলবায়ুতে চলতি বছরের মতো দাবানল-অনুকূল আবহাওয়া বিরল নয়।
গবেষণার প্রধান লেখক থিওডোর কিপিং বলছেন, ২০২৩ সালের পর কানাডায় যে দাবানল দেখা গেছে, তার ব্যাপ্তি ও তীব্রতার দিকে মৌলিকভাবে ভিন্ন।
তিনি আরও যোগ করেন, দাবানল যেভাবে ভৌগোলিকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, তা উদ্বেগজনক। এটি প্রমাণ করছে, দাবানল মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি থাকলেও শুধুমাত্র অভিযোজন যথেষ্ট নয়।
তিনি আরো বলেন, ‘এ ধরণের ঘটনার আরও ভয়াবহ পরিণতি ঠেকাতে আমাদের দ্রুত জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার থেকে সরে আসতে হবে।’
গবেষণায় বলা হচ্ছে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা শোষণের ক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায় জৈব পদার্থ দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে।
ফলে, ঘন ঘন এবং আরও তীব্র দাবানলের অনুকূল পরিবেশন তৈরি হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন