১০:১৪ এম
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান কর্তৃক সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্নির্মাণের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ সম্পদ উপসাগরীয় দেশগুলোতে স্থানান্তর করার পরিকল্পনা করছে।
সম্প্রতি ইরান কুয়েত ও বাহরাইনে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর ওয়াশিংটন এই নতুন পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে। ব্যুরো রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি (অর্থ) সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইতিমধ্যে একটি দলকে উপসাগরীয় মিত্রদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ইরান যদি কোনো ধ্বংসযজ্ঞ চালায় তবে তা মেরামতের জন্যও মার্কিন প্রশাসন এই সম্পদ ব্যবহার করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
আরও পড়ুন: সুরঞ্জিতের নেতৃত্বে অভিজ্ঞতা নিয়ে আসিফ নজরুল ও সালাহউদ্দিন আহমদের মতভেদ
যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থানটি ঠিক এমনি একটি সময়ে সামনে এসেছে, যখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ী সিএনএন-কে বলেছিলেন, তিন মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধের শান্তি চুক্তিটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আটকে থাকা ২৪ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার ওপর নির্ভর করছে।
তবে ট্রেজারি বিভাগ ঠিক কোন ধরণের সম্পদ স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে তা সুনির্দিষ্ট করা হয়নি, তবে মনে করা হচ্ছে এটি কেবল অবরুদ্ধ ব্যাংক হিসাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এই পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি আরো বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বর্তমানে দুই দেশের শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে।
আরো একটি জিনিস হচ্ছে, পাকিস্তানের একজন মন্ত্রী শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনির জন্য একটি বিশেষ চিঠি নিয়ে তেহরান পৌঁছেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে, শনিবার ভোরে মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালীর গরুক এবং কেশম দ্বীপে ইরানের উপকূলীয় রাডার সাইটগুলোতে হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, সামুদ্রিক চলাচলের জন্য হুমকি সৃষ্টি করা বেশ কিছু ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার পর তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: যুদ্ধের শঙ্কার মধ্যে দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না ইরানের শীর্ষ নেতা
জবাবে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড দাবি করেছে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। কুয়েত সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা আবাসিক এলাকার ওপর দিয়ে যাওয়া ৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে, যার ফলে কোনো হতাহত না হলেও বেশ কিছু বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে, বাহরাইনেও হামলার সাইরেন বাজলে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এখন ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানাচ্ছে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি শনিবার তেহরানে এসে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। নকভি জানান, তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের পক্ষ থেকে আয়াতুল্লাহ খামেনির উদ্দেশ্যে পাঠানো একটি ‘বিশেষ চিঠি’ নিয়ে এসেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির জন্য পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে আসছে, যেখানে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়গুলো পরবর্তী আলোচনার জন্য তুলে রাখার কথা বলা হয়েছে। তেহরান মূলত তাদের বিলিয়ন ডলারের তেলের রাজস্বের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে চায়। যুদ্ধের আগে এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো, যা বর্তমানে কার্যত অবরুদ্ধ রয়েছে।
এদিকে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের অভ্যন্তরে তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখোমুখি হয়েছেন। তবে ট্রাম্প ‘এনবিসি নিউজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন যে, ইরানের অধিকাংশ ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানা ধ্বংস করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে মা ইলিশ নিধনের মহোৎসব
তিনি বলেন, ‘তাদের কাছে এখনো কিছু ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন রয়েছে। শতাংশের হিসেবে হয়তো ২১% থেকে ২২% ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট আছে। সংখ্যায় এটি অনেক হলেও, আমরা প্রথম যখন আক্রমণ করেছিলাম তখনকার তুলনায় এটি কিছুই নয়।’
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের পাশাপাশি লেবাননেও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। দক্ষিণ লেবাননে একটি সামরিক যানের ওপর ইসরায়েলি হামলায় লেবানন সেনাবাহিনীর দুইজন কর্মকর্তা এবং একজন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েল এবং ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি না হলে তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো শান্তি চুক্তি করবে না।
হিজবুল্লাহ নেতা নাঈম কাসেম ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-মধ্যস্থতাকৃত একটি শান্তি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন, কারণ সেখানে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো শর্ত ছিল না। ইসরায়েলও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও তারা লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান বন্ধ বা সেনা প্রত্যাহার করবে না।
আরও পড়ুন: মাথাপিছু আয়ে ভারতকে পেছনে ফেলছে বাংলাদেশ: আইএমএফের প্রতিবেদন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন