আমিনুল ইসলাম রিয়াদ সন্দ্বীপ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
১০:২৭ এম
সন্দ্বীপে মাদ্রাসার গুণগত মান উন্নয়ন, আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে "মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের করণীয়" শীর্ষক একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন ২০২৬) সকাল ৯টায় সন্দ্বীপের ঐতিহ্যবাহী বশিরিয়া আহমদিয়া আলহাজ্ব আবু বকর সিদ্দিক ফাজিল মাদ্রাসা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সভার আয়োজন করেছে সন্দ্বীপ মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর মিঞা মোঃ নূরুল হক, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা। তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বর্তমান যুগের চাহিদা অনুযায়ী মাদ্রাসা শিক্ষাকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা ও আধুনিক জ্ঞানের সমন্বয়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আবদুল্লাহ আল মামুন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, সন্দ্বীপ। তিনি বলেন, একটি শিক্ষিত ও আদর্শ সমাজ গঠনে মাদ্রাসা শিক্ষার অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মাওলানা মহীউদ্দীন, অধ্যক্ষ, বশিরিয়া আহমদিয়া আলহাজ্ব আবু বকর সিদ্দিক ফাজিল মাদ্রাসা, সন্দ্বীপ। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, শিক্ষকদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষার মান আরও উন্নত করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাওলানা আব্দুল হালিম, সভাপতি, সন্দ্বীপ মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি। তাঁর সুশৃঙ্খল উপস্থাপনায় পুরো মতবিনিময় সভা প্রাণবন্ত ও ফলপ্রসূ হয়ে ওঠে।
মতবিনিময় সভায় সন্দ্বীপের বিভিন্ন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, সুপার, শিক্ষক ও শিক্ষাবিদরা অংশগ্রহণ করেন। তারা মাদ্রাসা শিক্ষার বর্তমান অবস্থা, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, পাঠদানের আধুনিক পদ্ধতি, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক বিকাশে শিক্ষকদের করণীয় বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের শেষে মাদ্রাসা শিক্ষার সার্বিক উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ঢাকা ছাড়লেন রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর উদ্দেশে। তিনি রবিবার সকালে তিন দিনের সরকারি সফরে রওনা হন। তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর শেষ হবে এবং আগামী ৯ জুন দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এটি ড. খলিলুর রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। এর ফলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ের পাশাপাশি বহুপক্ষীয় কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুসমূহ এই সফরে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সফরের দ্বিতীয় দিনে মস্কোতে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর। এছাড়াও রুশ সরকারের কয়েকজন শীর্ষ প্রতিনিধির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং মতবিনিময়ের সম্ভাবনার কথাও উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) দ্বারা বাংলাদেশে পুশইনের আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা এবং নজরদারি জোরদারের উদ্দেশ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আনসার-ভিডিপি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৫ জুন) থেকে জেলার স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকাগুলোতে আনসার-ভিডিপি সদস্যরা বিজিবির সহায়তায় দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। সীমান্ত এলাকার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, স্থানীয় পরিবেশ এবং সম্ভাব্য চোরাপথ সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নজরদারি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ৩৩ জন প্রশিক্ষিত আনসার এবং ভিডিপি সদস্যকে বিজিবির বিভিন্ন সীমান্ত চৌকিতে (বিওপি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা ভোলাহাট উপজেলার চানশিকারী, চামুংশা, ভোলাহাট, গিলাবাড়ি, চরধরমপুর, সুরানপুর, পোলাডাঙ্গা ও খড়গপুর বিওপির পাশাপাশি গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি বিওপিতেও বিজিবির সদস্যদের সঙ্গে যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে শিবগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়নগুলোতে ইউনিয়ন আনসার দলনেতা ও কমান্ডারদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিজিবি ক্যাম্পগুলোর সমন্বয় জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সীমান্তে যেকোনো সন্দেহজনক গতিবিধি, অনুপ্রবেশ কিংবা পুশ-ইনের চেষ্টার তথ্য পাওয়া মাত্র দ্রুত ব্যবস্থা নিতে যোগাযোগ ব্যবস্থাও সক্রিয় রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সীমান্তে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির পাশাপাশি আনসার-ভিডিপি সদস্যরাও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি বৃদ্ধি, জনসচেতনতা তৈরি এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিরোধে তারা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কমান্ড্যান্ট মো. আরিফুর রহমান বলেন, শুক্রবার থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট সীমান্ত এলাকায় বিজিবিকে সহযোগিতা করার জন্য আনসার ও ভিডিপির ৩৩ জন সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা প্রয়োজন অনুযায়ী বিজিবির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন এবং সীমান্ত এলাকায় জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ করছেন।
তিনি আরও জানান, শনিবার রাতেও শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় বিজিবির সঙ্গে আনসার-ভিডিপির সদস্যরা কাজ করছেন। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ কার্যক্রম চলবে।
সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত দিয়ে পুশইনের আশঙ্কা এবং অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও আনসার-ভিডিপিও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ৮ বছরের এক শিশু কন্যার উপর ধর্ষণের অভিযোগ বর্তমান হয়েছে আফতাব হোসেন (৫৫) নামে এক পল্লী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি যখন জানাজানি হয়, তখন গ্রামবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে ওই পল্লী চিকিৎসককে তার নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৮ টার সময় থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। রাতের মধ্যেই শিশুটিকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার রাত ৭ টার দিকে উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে এই ঘটনার উদ্ভব ঘটে।
গ্রামবাসীরা এবং শিশুটির বাবা জানিয়েছেন, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার সময়ে শিশুটি তার দাদীর জন্য চিকিৎসক আফতাবের বাড়ি ওষুধ আনতে যায়। ওই সময়ে বৃষ্টি হচ্ছিল এবং বাড়িতে কেউ না থাকায় ওই পল্লী চিকিৎসক শিশুটিকে একটি রুমে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন। তখন শিশুটি চিৎকার করলে পল্লী চিকিৎসক শিশুটিকে ছেড়ে দেন। পরে শিশুটি বাড়িতে এসে তার মাকে এই ঘটনা খুলে বলে। কিছুক্ষণ পর ধর্ষণের ঘটনাটি জানাজানি হলে ক্ষিপ্ত গ্রামবাসীরা তাৎক্ষণিকভাবে ওই পল্লী চিকিৎসকের বাড়িতে গিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে এবং পুলিশকে খবর দেয়। এরপর শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত সাড়ে ৮ টার সময় কালীগঞ্জ থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সার্বিক অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা পল্লী চিকিৎসককে আটক করে থানায় আনেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, শিশুর চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত আছে। প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত লক্ষ্য করা গেছে। সে রাত সাড়ে ৯ টার দিকে শিশুটিকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ জেল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, ধর্ষণের অভিযোগে আফতাব হোসেন নামে এক পল্লী চিকিৎসককে পুলিশ আটক করেছে এবং শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঝিনাইদহে প্রেরণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের গুপ্তচরবৃত্তি বা গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়ে ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন। পরিস্থিতি বিবেচনায় সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির এই শীর্ষ মিত্রের কাছ থেকে আসা কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স বা পাল্টা গোয়েন্দা হুমকির মাত্রাকে সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দুজন বর্তমান ও একজন সাবেক কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই পেন্টাগনের ‘ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি’ (ডিআইএ) এই নতুন ‘পাল্টা গোয়েন্দা সতর্কবার্তা’ জারি করেছে।
কর্মকর্তারা আরও বলেন, ডিআইএ তাদের একটি অভ্যন্তরীণ বার্তা পোস্ট করেছে, যেখানে ইসরায়েলি গোয়েন্দাগিরির হুমকির স্তর বাড়িয়ে ‘ক্রিটিক্যাল’ বা ‘সংকটজনক’ করা হয়েছে। পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের তথ্য হাতিয়ে নিতে ইসরায়েল বিশেষভাবে মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারি চালানোর চেষ্টা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন বর্তমান কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ডিআইএ-এর এই মূল্যায়ন প্রতিবেদনে একটি চার্টসহ সাত পৃষ্ঠার নথি রয়েছে। নথিতে উল্লেখ করা হয়, মানুষের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ ও কারিগরি উপায়ে তথ্য চুরির ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সক্ষমতা এখন ‘সংকটজনক স্তরে’ রয়েছে। তবে ওয়াশিংটনে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাসের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইসরায়েলের গুপ্তচরবৃত্তির এই দাবি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি চালায় না।
এই বিষয়ে পেন্টাগন কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তাও এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, এই পুরো খবরটিই মিথ্যা। তবে বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক তৎপরতা স্বাভাবিক গোয়েন্দাগিরির মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এমিলি হার্ডিং বলেন, ‘ইসরায়েলের একটি অতি-আগ্রাসী গোয়েন্দা সংস্থা রয়েছে। আমরা কী করছি বা কী ভাবছি, তা জানার জন্য তারা অত্যন্ত উদ্গ্রীব থাকে।’
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এমন সতর্কবার্তা ঠিক তখন এল, যখন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েরলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে তাদের মধ্যে ফোনালাপেও এই উত্তেজনা প্রকাশ পেয়েছে। ওই ফোনালাপের পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেন, নেতানিয়াহুকে তিনি ‘পাগল’ বলেছেন।
গত এপ্রিলের শুরুর দিকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি কূটনৈতিক চুক্তির চেষ্টা করছেন, যাতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের অবসান ঘটানো যায়। তবে কোনো দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ইরান মেনে চলবে কি না, তা নিয়ে প্রকাশ্যে সংশয় প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহু ইরানের ওপর আবার হামলা শুরু করার জন্য জোর দিচ্ছেন।
এর আগে ১৯৮০-এর দশকে মার্কিন নৌবাহিনীর গোয়েন্দা বিশ্লেষক জনাথন পোলার্ড অত্যন্ত গোপনীয় নথিপত্র ইসরায়েলের কাছে বিক্রি করেছিলেন। এ অপরাধে ধরা পড়ার পর তাকে ৩০ বছর কারাগারে কাটাতে হয়। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে যখন দুই দেশের সরকার পুরোপুরি একমত হতে পারছে না, এমন একটি সংবেদনশীল মুহূর্তে ইসরায়েলি গুপ্তচরবৃত্তির এই আশঙ্কা দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করার ঝুঁকি তৈরি করছে বলে সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ