বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৬:৫৮ এম
ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রথমবারের মত পাটের দাম নির্ধারণের উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে সরকার। চলতি মৌসুম থেকেই সোনালি আঁশ পাটের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দর নির্ধারণ করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. নূরুল বাসির।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে জানান, মঙ্গলবার আমরা ‘পাট খাত উন্নয়ন কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-৩১)’ বিষয়ক অংশীজনদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছি। সকলের মতামতের ভিত্তিতে পাটের দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এর আলোকে খুব শিগগিরই অধিদপ্তর থেকে একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হবে। মন্ত্রণালয় সেই প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত দাম নির্ধারণ করবে এবং সংবাদ সম্মেলনে তা জানিয়ে দেবে।
নূরুল বাসির জানালেন, গত বছরের সময়ে কৃষকরা দাম ভালো পেয়েছিলেন। এই কারণে এবার তারা একটু বেশি আবাদ করেছেন। মঙ্গলবারের সভায় বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে। সর্বনিম্ন দাম মণপ্রতি ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে থাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। এবং সর্বোচ্চ দাম ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা এই দর থেকে একটি দর ঠিক করে মন্ত্রালয়ে পাঠাব। মন্ত্রণালয় তার পর চূড়ান্ত করবে।
এদিকে দেশের বিভিন্ন জেলার চলতি মৌসুমের নতুন পাট ওঠা শুরু হয়েছে। ফরিদপুরের বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রতি মণ নতুন পাট ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা।
অন্যদিকে, অন্যান্য পাট উৎপাদনকারী জেলা যেমন রাজবাড়ী, পাবনা, মাগুরা, কুষ্টিয়া, মাদারীপুর, যশোর, মেহেরপুর, গোপালগঞ্জ ও ঝিনাইদহে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। এসব জায়গায় দাম প্রায় একই রকম।
পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নূরুল বাসির জানান, এখনও পাটের পুরো মৌসুম শুরু হয়নি। বর্তমানে মাত্র কিছু পাট উঠতে শুরু করেছে এবং অল্প কিছু বেচাকেনা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় পুলিশ চার জন ছিনতাইকারীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানায়, চক্রের সদস্যরা ভয়ংকর দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে ছিনতাইয়ের কার্যক্রম চালাতেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এই তথ্য জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. ও রাজিব (২২), মো. মেহেদী হাসান (২৮) এবং আইনসংগত সংঘাতে জড়িত দুই শিশু।
মিরপুর মডেল থানা সূত্রে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র পথচারীদের গতিরোধ করে। তারা দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনতাইয়ের জন্য সেখানে অবস্থান নিয়েছিল। ঘটনার সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মিরপুর মডেল থানার পুলিশ টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ছিনতাইকারীরা পালানোর চেষ্টা করে, কিন্তু ধাওয়া করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মতপার্থক্য ও রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও শেখ হাসিনার প্রশ্নে আমরা জুলাই হয়েই বাঁচব চিরদিন। প্রয়োজনে আবারও রাজপথে নামব বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।
বুধবার (০৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন অধ্যাপক আসিফ নজরুল।
আসিফ নজরুল লেখেন, আওয়ামী লীগ সম্পর্কে নানা বিতর্ক রয়েছে। তবু একটি বিষয় অস্বীকার করার উপায় নেই- এই দলটি মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করেছিল এবং সেই যুদ্ধে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়েছিল। স্বাধীন বাংলাদেশে জনতার রুদ্ররোষে তাদের সমূলে উৎখাত হতে হয়েছে, একবার নয়, অন্তত দু’বার। কেন এমনটা হয়?
সাবেক আইন উপদেষ্টা লেখেন, এই প্রশ্নের উত্তর আওয়ামী লীগের খুঁজে বের করা দরকার। কিন্তু আমার ধারণা, এটি তারা করবে না। এই দলটির ডিএনএ-র মধ্যে আত্মসমালোচনা বা অনুশোচনার কোনো স্থান নেই। তারা ৩২ নম্বরকে ভাবে বাংলাদেশ, শেখ পরিবারকে ভাবে বাংলাদেশের মালিক, আর মুক্তিযুদ্ধকে মনে করে ভিন্নমতকে নিশ্চিহ্ন করার লাইসেন্স। এই মানসিকতাই তাদের জুলুম ও দমন-পীড়ন চালানোর সীমাহীন দুঃসাহস জুগিয়েছে।
তিনি লেখেন, বাংলাদেশে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও ধোয়া তুলসীপাতা নয়। তাদেরও ভুল আছে, সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের মতো এমন সীমাহীন অনাচার করার আত্মবিশ্বাস, ক্ষমতার মালিকানাবোধ এবং স্পর্ধা অন্য কোনো দলের মধ্যে আমি দেখিনি।
তিনি আরও লেখেন, শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণায় আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী উৎফুল্ল হচ্ছেন। হোন। তাতে তার আপত্তি নেই। কিন্তু মনে রাখবেন, আওয়ামী লীগ ফিরবে না তাতে। বরং হাজারো মানুষকে হত্যার এবং আরও বহুগুণ মানুষকে চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়ার বিচার না হলে, প্রয়োজনে আমরা আবারও রাজপথে নামব। আমিও নামব।
আসিফ নজরুল যোগ করেন, আমাদের ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। আমরা মৃত্যুভয়কে জয় করেই বেঁচে আছি। আল্লাহ যেদিন চাইবেন, সেদিন চলে যাব। কিন্তু যতদিন বেঁচে থাকব, বাংলাদেশের শিশু ও তরুণদের বুকে গুলি চালানো খুনিকে একবিন্দুও ভয় করব না, এক মুহূর্তের জন্যও ক্ষমা করব না। জুলাই আমাদের পুনর্জন্মের নাম। নিজেদের মধ্যে ঝগড়া হবে, বিরোধ হবে। কিন্তু শেখ হাসিনার প্রশ্নে আমরা জুলাই যে হোক, চিরদিন বাঁচব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম একটি হলো নামাজ। এটি পঞ্চস্তম্ভের মধ্য থেকে দ্বিতীয়। এই কারণে নামাজ যে নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা জরুরি।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকা এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ উল্লেখ করা হলো-
জোহর: ১২:০৮ মিনিট
আসর: ০৪:৪১ মিনিট
মাগরিব: ০৬:৪২ মিনিট
এশা: ০৮:০২ মিনিট
উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগের সময় যোগ ও বিয়োগ করতে হবে, সেগুলো নিম্নরূপ বিষয়ক:
যোগ করতে হবে:
খুলনা: ০৩ মিনিট
রাজশাহী: ০৭ মিনিট
রংপুর: ০৮ মিনিট
বরিশাল: ০১ মিনিট
বিয়োগ করতে হবে:
চট্টগ্রাম: ০৫ মিনিট
সিলেট: ০৬ মিনিট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর বৈশ্বিক বাণিজ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য, গতি হারানো রপ্তানি সচল করার এবং বাণিজ্য ঝুড়ি বহুমুখীকরণে বাংলাদেশ বড় কৌশলগত সাফল্য অর্জন করেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত সিইপিএ নেগোসিয়েশন কনক্লুশন সিরিমনিতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী হান-কু ইয়েও যৌথ ঘোষণা দেন।
চুক্তিটি এক বছরের নিবিড় দরকষাকষির পর দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (সিইপিএ) নেগোসিয়েশন আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন করেছে সরকার। এই চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়া, জুতা ও পাটজাত পণ্যসহ ৮ হাজার ৪২৮টি পণ্য তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। বিপরীতে, দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশে ১ হাজার ৫৪টি পণ্যে একই ধরনের সুবিধা ভোগ করবে।
চুক্তিটি এমন সময়ে সম্পাদিত হলো, যখন দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি নিম্নমুখী। ইপিবির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি আগের অর্থবছরের তুলনায় ৯ শতাংশ কমে ৪২ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। সুতরাং, এই সিইপিএ চুক্তিটি শুধুই চলমান প্রবৃদ্ধির ওপর বাড়তি সুবিধা হিসেবে কাজ করবে না, বরং মন্দা কাটিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আবার ইতিবাচক ধারায় ফেরানোর একটি সুচিন্তিত পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তিটি শুধুই একটি বাণিজ্য চুক্তি নয়, বরং এটি এলডিসি-পরবর্তী বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখার একটি কৌশলগত নিরাপত্তা। একই সময়ে, এটি বিদেশি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় (গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন) বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করবে। গতকালের অনুষ্ঠানে দুই দেশের প্রধান নেগোসিয়েটর ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
২০২৯ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন বাজারে স্বয়ংক্রিয় শুল্কমুক্ত সুবিধার বড় একটি অংশ হারাবে। এই বাস্তবতায় পৃথক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সিইপিএ সেই কৌশলের প্রথম বড় সাফল্য। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভোক্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির বাজারে দীর্ঘমেয়াদি শুল্ক সুবিধা নিশ্চিত হওয়ার কারণে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা ভবিষ্যতের জন্য একটি স্থিতিশীল বাজার পেলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, মাত্র ৫ মাসের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির একটি দেশের সঙ্গে উচ্চমানের এই নেগোসিয়েশন সম্পন্ন হয়েছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করতে রপ্তানি বৃদ্ধি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই। সিইপিএ সেই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী হান-কু ইয়েও বলেন, বাংলাদেশ এবং কোরিয়ার ৫৬ বছরের অর্থনৈতিক সম্পর্ক এখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। অতীতে টেক্সটাইল ছিল সম্পর্কের মূল ভিত্তি। ভবিষ্যতে প্রযুক্তি, সরবরাহ ব্যবস্থা, শিল্প সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ হবে দুই দেশের সম্পর্কের প্রধান চালিকাশক্তি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার ও নতুন সরকারের উদ্যোগ কোরিয়ান বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে।
বর্তমানে, দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য হচ্ছে তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জুতা, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য, সিরামিক এবং হিমায়িত খাদ্য। চুক্তি কার্যকর হলে এসব খাত মূল্য প্রতিযোগিতায় বাড়তি সুবিধা পাবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও চামড়া পণ্যের উচ্চ চাহিদা রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে। বাংলাদেশি পণ্যের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনাম ইতোমধ্যেই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সুবিধা ভোগ করছে। ভারত এবং আসিয়ানভুক্ত কয়েকটি দেশও বিভিন্ন বাণিজ্যিক সুবিধা নিয়ে বাজারে রয়েছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশের জন্য শুল্ক সুবিধা নিশ্চিত হওয়া মানে মূল্য প্রতিযোগিতায় বড় ধরনের ভারসাম্য ফিরে পাওয়া।
একই সঙ্গে সেবা বাণিজ্যে বাংলাদেশ ৯৫টি উপখাত উন্মুক্ত করবে। আর দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের জন্য ১১১টি উপখাতে বাজার খুলে দেবে। এতে তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, শিক্ষা ও অন্যান্য পেশাগত খাতে সেবা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমানে, বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ রয়েছে তৈরি পোশাক, ইলেকট্রনিক্স, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো ও উৎপাদন খাতে। সিইপিএ কার্যকর হলে ইলেকট্রনিক্স সংযোজন, অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আধুনিক লজিস্টিকস এবং স্বাস্থ্য প্রযুক্তি খাতে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হবার আশা করছে ব্যবসায়ীরা।
এই চুক্তির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে বিদেশি বিনিয়োগে। দক্ষিণ কোরিয়ার বহুজাতিক কোম্পানিগুলো নতুন উৎপাদন কেন্দ্র খুঁজছে। চুক্তিটি কার্যকর হলে বাংলাদেশে কোরিয়ান বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে। ইলেকট্রনিক্স ও সেমিকন্ডাক্টর উপাদান, অটোমোবাইল ও অটো-পার্টস, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও সফটওয়্যার, জাহাজ নির্মাণ ও মেরিন শিল্প, আধুনিক কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প, স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনে নতুন বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা তৈরি হবে। এতে নতুন কর্মসংস্থান বৃদ্ধি হবে, প্রযুক্তি স্থানান্তর ঘটবে এবং দেশীয় শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে।
বর্তমানে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে, বাংলাদেশ প্রায় ৪৯১ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি করে এবং আমদানি করে প্রায় ৯০২ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। এর ফলে প্রায় ৪১১ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ