ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গ্রাফিতি মুছে ফেলায় ছাত্রশিবিরের প্রতিবাদ


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গ্রাফিতি মুছে ফেলায় ছাত্রশিবিরের প্রতিবাদ

ঢাকা কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কলেজের সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে সীমানাপ্রাচীরে অবস্থিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি সাদা রং দিয়ে মুছে ফেলার ঘটনায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা কলেজ শাখা তীব্র প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

শনিবার, কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোন্তাকিম আহমেদ এবং সেক্রেটারি সাইমুন ইসলাম সানি এক যৌথ বিবৃতিতে এই প্রতিবাদের কথা জানান।

বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় অধ্যায়। দীর্ঘকাল ধরে চলা অন্যায়, স্বৈরাচার এবং দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজসহ সব স্তরের মানুষের সাহসী প্রতিরোধ ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে এই গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসের দেয়ালে অঙ্কিত গ্রাফিতিগুলো নিছক দেয়ালচিত্র নয়; বরং এগুলো জুলাইয়ের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, প্রতিবাদ ও ঐতিহাসিক চেতনার দৃশ্যমান স্মারক। সেই গ্রাফিতি মুছে ফেলার মাধ্যমে একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ের স্মৃতিকে আড়াল করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আরও পড়ুন: এইচএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনের সময়সীমা ৮ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ল

এই যৌথ বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেয়াল শুধুমাত্র ইট-পাথরের অবকাঠামো নয়; বরং তা শিক্ষার্থীদের চিন্তা, প্রতিবাদ, সৃজনশীলতা ও ঐতিহাসিক চেতনা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি মুছে ফেলা শিক্ষার্থীদের আবেগ-অনুভূতি ও ইতিহাসের প্রতি অবজ্ঞার শামিল। রাজনৈতিক মতপার্থক্য কিংবা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কারণে কোনো ঐতিহাসিক স্মারক মুছে ফেলার সংস্কৃতি কখনোই কাম্য নয়।

মুছে ফেলা গ্রাফিতি পুনরায় অঙ্কনের আহ্বান জানিয়ে ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা এ ঘটনার যথাযথ ব্যাখ্যা দাবি করছি এবং মুছে ফেলা গ্রাফিতিগুলো পুনরায় অঙ্কন ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়, এটি এ দেশের ছাত্রসমাজ ও আপামর জনতার সম্মিলিত সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ইতিহাস। দেয়াল থেকে গ্রাফিতি মুছে ফেলা গেলেও ইতিহাসের বাস্তবতা ও মানুষের স্মৃতি মুছে ফেলা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ।

এর আগে, গতকাল শুক্রবার ঢাকা কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কলেজের সৌন্দর্যবর্ধনকে কেন্দ্র করে সীমানাপ্রাচীরে অবস্থিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি মুছে ফেলা হয়। পরে কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা এ বিষয়ে অবগত ছিলেন না। আর এমন কিছু হলে তা পুনরায় লেখা হবে।

আরও পড়ুন: ঢাবিতে ছাত্রদলের আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
বিপ্লব ও সংহতি দিবস

ঢাবিতে ছাত্রদলের আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৩১ এম


ঢাবিতে ছাত্রদলের আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) প্রাঙ্গণে দুই দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। প্রদর্শনীর উদ্বোধন শনিবার দুপুরে করা হয়। আজও এই প্রদর্শনী চলমান থাকবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির, ঢাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, সিনিয়র যুগ্মসাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন শাওন, আয়োজক কমিটির আহবায়ক আনিসুর রহমান খন্দকার অনিকসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

হাবিব উন নবী খান সোহেল অনুষ্ঠানে বলেন, “স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে অন্য একটি দেশের ওপর নির্ভরশীল করে রাখার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু শহীদদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশের নিজস্ব শক্তি ও স্বকীয়তা রয়েছে। কোনো দেশের কাছে বাংলাদেশকে পরাধীন হতে দেওয়া হবে নাÑএমন আকাক্সক্ষা থেকেই ৭ নভেম্বরের ঘটনা ঘটেছিল।”

ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “আজ যা কিছু সুন্দর, যা কিছু সফল, তার সব অবদান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের। ৭ নভেম্বর না ঘটলে বাংলাদেশ নামের দেশটির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব থাকত না।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিছু হটলেন ইনফান্তিনো, ২০৩০ বিশ্বকাপে দল বাড়ানোর স্বপ্নে ধাক্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৩২ এম


পিছু হটলেন ইনফান্তিনো, ২০৩০ বিশ্বকাপে দল বাড়ানোর স্বপ্নে ধাক্কা

বিশ্বকাপের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে টুর্নামেন্টকে আরও সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা ছিল ফিফার। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে ৪৮ দলের পরিবর্তে ৬৪টি দল নিয়ে আয়োজনের প্রস্তাবও উত্থাপিত হয়েছিল।

তবে, শেষ পর্যন্ত ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পুনর্নির্বাচিত হলে বিশ্বকাপে দলসংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেবেন না বলে ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন ইনফান্তিনো।

ফিফার ছয়টি মহাদেশীয় কনফেডারেশনের সভাপতিদের নিয়ে গঠিত ফিফা ব্যুরোর সদস্যদের কাছে এ কথা জানিয়েছেন ইনফান্তিনো। আগামী বছরের মার্চে ফিফা সভাপতি নির্বাচনে আবারও প্রার্থী হওয়ার কথা রয়েছে তার।

২০৩০ বিশ্বকাপে ৬৪ দল রাখার প্রস্তাব দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা (কনমেবল) দিয়েছিল। বিশ্বকাপের ১০০ বছর পূর্তিকে স্মরণীয় করে রাখার উদ্দেশ্যে এমন প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে ইউরোপসহ কয়েকটি মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থা এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে।

বিশ্বকাপের স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে ইনফান্তিনো সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। দ্য টাইমসের ধারণা, সেই চাপ কমাতেই তিনি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন।

এ বিষয়ে দ্য টাইমস ফিফার কাছে জানতে চেয়েছিল। তবে সংস্থাটির কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফিফার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘ফিফা কাউন্সিল ও কাউন্সিল ব্যুরোর অভ্যন্তরীণ আলোচনা আমাদের নীতিমালা অনুযায়ী গোপনীয়।’

২০৩০ বিশ্বকাপের মূল আয়োজক দেশ হচ্ছে স্পেন, পর্তুগাল এবং মরক্কো। শতবর্ষ উপলক্ষে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা এবং প্যারাগুয়েতেও একটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজার সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আশেক উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৩৩ এম


কক্সবাজার সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আশেক উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান

কক্সবাজার সাংবাদিক কল্যাণ সমবায় সমিতি লিমিটেডের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা সাংবাদিকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, পারস্পরিক সহযোগিতা, পেশাগত মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করবে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় সদস্যদের মতামত ও কণ্ঠভোটের মাধ্যমে ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের জন্য ১২ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করা হয়।

নতুন কমিটিতে দৈনিক নয়া দিগন্তের কক্সবাজার অফিসপ্রধান জি এ এম আশেক উল্লাহ সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, এবং দেশ টিভির কক্সবাজার প্রতিনিধি আবদুর রহমান সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন।

কমিটির অন্যান্য পদগুলোতে সহসভাপতি হিসেবে মোহাম্মদ উর রহমান মাসুদ (দৈনিক নিরপেক্ষ ও দি ইভনিং নিউজ) নির্বাচিত হয়েছেন, এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে ইসলাম মাহমুদ (দৈনিক মানবকণ্ঠ) দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

নির্বাহী কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন—মোহাম্মদ হাশিম (দৈনিক ভোরের ডাক), আনছার হোসেন (দৈনিক আমার দেশ), ইব্রাহিম খলিল মামুন (দৈনিক সমকাল ও বাসস), মাওলানা নুরুল হক চকোরী (দ্য মর্নিং নিউজ), আজাদ মনসুর (বাংলাদেশ বেতার), স ম ইকবাল বাহার চৌধুরী (অগ্রযাত্রা), আনোয়ার হোসাইন (দৈনিক আমার দেশ) ও শামশুল আলম শ্রাবণ (প্রতিদিনের বাংলাদেশ)।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জিয়া সেদিন তাহেরের সাথে ক্যান্টনমেন্টের বাইরে গেলে ফিরে আসতেন না: ব্রি. সাখাওয়াত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৩৭ এম


জিয়া সেদিন তাহেরের সাথে ক্যান্টনমেন্টের বাইরে গেলে ফিরে আসতেন না: ব্রি. সাখাওয়াত

সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, জিয়া সেদিন তাহেরের সঙ্গে ক্যান্টনমেন্টের বাইরে গেলে তিনি আর ফিরে আসতেন না। তিনি দাবি করেছেন যে, জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে উদ্ধারের কৃতিত্ব জাসদের নয়। তার মতে, জিয়াউর রহমানকে উদ্ধার করতে টু ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি এবং ফোর বেঙ্গলও চেষ্টা করেছিল।

শনিবার, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতি (রাওয়া) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

ব্রি. সাখাওয়াত বলেন, জাসদের বক্তব্য হচ্ছে, তারা জিয়াউর রহমানকে উদ্ধার করেছে। কিন্তু এই বক্তব্য সঠিক নয়। জিয়াউর রহমানকে উদ্ধার করেছিলেন টু ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি। এ কাজে নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন কর্নেল মহিউদ্দীন। ফোর বেঙ্গলও তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেছিল।

সাবেক উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন অভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘৭ নভেম্বর ভোর ৬টার দিকে তিনি টু ফিল্ডে গিয়ে দেখেন, জিয়াউর রহমান ইউনিটটির অধিনায়কের কার্যালয়ে বসে আছেন। তার পাশে ছিলেন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর অব মিলিটারি অপারেশন্স (ডিএমও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল নুরউদ্দীন খান। আধা ঘণ্টা পর কর্নেল তাহের গণবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে টু ফিল্ডে আসেন। সেখানে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার কথা হয়। তাহের জিয়াকে তাদের সঙ্গে যেতে এবং সৈনিকদের সামনে তাদের ২১ দফা বা ১৭ দফা দাবি মেনে নেওয়ার কথা বলতে বলেন। তবে জিয়াউর রহমান তাতে রাজি হননি। তিনি আগেই রেডিও ও টেলিভিশনে নিজের বক্তব্য পাঠিয়ে দিয়েছেন তুলে ধরে কোথাও যেতে অস্বীকৃতি জানান।

জিয়াউর রহমানকে একবার বাইরে নিয়ে যেতে পারলে তিনি আর ফিরে আসতেন না। এতে কর্নেল তাহের ও জাসদের একাংশ নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে পারত, দাবি করেন সাখাওয়াত হোসেন।

জিয়াউর রহমানকে উদ্ধারে টু ফিল্ড ও ফোর বেঙ্গলের ভূমিকার কথা তুলে ধরে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ওই দুটি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা তাকে অন্য কোথাও যেতে দেননি এবং টু ফিল্ড তাকে আগেই উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সাখাওয়াত হোসেন তৎকালীন কিছু অমীমাংসিত রহস্যের প্রসঙ্গও সামনে আনেন। তিনি বলেন, অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের ওই উত্তাল সময়ে কর্নেল হুদা কেন সম্পূর্ণ একটি ব্যাটালিয়ন (১০ বেঙ্গল) নিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করেছিলেন, তা আজও বড় রহস্য।

মূলত জাসদের গণবাহিনীর পাশাপাশি কর্নেল হুদাদের এমন সামরিক পদক্ষেপের পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, ইতিহাসের সেই অজানা দিকটি তুলে ধরতেই এ প্রসঙ্গ টানার কথা বলেন তিনি।

সাখাওয়াত হোসেন জিয়াউর রহমানের সাহসিকতা ও দূরদর্শিতা প্রসঙ্গে বলেন, জিয়াউর রহমানের সততা ও সাহসিকতা ছিল অনন্য। তিনি হকি মাঠে লোডেড রাইফেল হাতে থাকা উচ্ছৃঙ্খল ট্রুপসদের সামনে নির্ভয়ে দাঁড়িয়ে তাদের শান্ত করেন। তার মনে কোনো প্রতিশোধস্পৃহা ছিল না।

খালেদ মোশাররফ, কর্নেল হুদা এবং হায়দারকে বাঁচানোর জন্য তিনি নওয়াজেশ উদ্দিনকে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন তুলে ধরে সাবেক সেনা কর্মকর্তা সাখাওয়াত বলেন, সেনাবাহিনীতে মুক্তিযোদ্ধা ও অমুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের মধ্যকার বিভেদ দূর করে মেজর জিয়া রিকনসিলিয়েশন বা ঐক্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সেনাবাহিনীর বিস্তৃতি ঘটিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান ভারতকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতি থেকে বের হয়ে এসে স্বাধীন নীতির সূচনা করেন তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথম দেশ হিসেবে তিনি চীন সফর করেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করে আল কুদস কমিটিতে ভূমিকা রাখেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা আমাদের পররাষ্ট্রনীতি আজ পর্যন্ত ঠিক করতে পারিনি। আমরা অনেক বছর ভারতকেন্দ্রিক থেকেছি। আমি কেন পার্শ্ববর্তী ভারতে দায়ী করব, ভারতীয় হলে আমিও তাই করতাম। বাংলাদেশের সেই সাহস নেই দাবি করে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, যদিও ইরানের সাথে আমাদের তুলনা চলে না, কিন্তু আমাদের উচিত তাদের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া।

স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদেরও শর্তযুক্ত বিদেশি ঋণ পরিহার করে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে হবে এবং স্বাধীনভাবে জাতীয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গত ১৫ বছরে সেনাবাহিনীর পেশাদারত্ব ও নৈতিকতা ধ্বংস করা হয়েছে মন্তব্য করে সাখাওয়াত বলেন, একটি দেশকে শক্তিশালী করতে হলে সেনাবাহিনীকে পুনরায় চরম পেশাদারত্বে ফিরে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোদাসসের হোসেন খান বীর প্রতীক অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার ও নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, ড. ইউনূসকে আমি এখনো দাঁড়িয়ে বলবো সবার সামনে, উনি মস্ত বড় একটা অপরাধ করে গেছেন। তড়িঘড়ি করে অল্প সময়ের মধ্যে ইলেকশনটা দিয়ে জাতির ক্ষতি করে দিয়ে গেছেন। এটা তো আপনার ম্যান্ডেট ছিল না।

মোদাসসের হোসেন খান গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর দেশের হাল ধরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্দেশে বলেন, জনতা এবং ছাত্ররা আপনাকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। আপনি কথা দিয়েছেন সংশোধন করবেন, স্বৈরাচারদের বিচার করবেন, হত্যার বিচার করবেন। এই কাজগুলো তো করলেন না। হঠাৎ করে আপনি রাজনৈতিক দলের চাপে নির্বাচন দিলেন।

একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কথায় কান দিয়ে সংস্কার না করেই মুহাম্মদ ইউনুস জাতির ক্ষতি করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, ভূরাজনীতি গবেষক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. আমিনুল করিম, রাওয়া চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম, প্রতিরক্ষা ও সামরিক বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট আবু রুশদ, অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. দেলোয়ার হোসেন খান প্রমুখ।

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%