বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০২:১৯ এম
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, জুলাই কারও একার নয়, জুলাই বাংলাদেশের সব মানুষের। যদি বিনা কারণে, বিনা অজুহাতে, বিনা ইস্যুতে দেশের অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে স্বৈরাচারের দোসর ও ফ্যাসিবাদের অনুসারীরা এর সুবিধা নিতে পারে।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, তারা আমাদের মধ্যে বিভক্তি দেখতে চায়। তাই আমাদের সকলের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং সতর্ক থাকতে হবে।
আজও স্বৈরাচারের দোসররা এই দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। যারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চান, তারা প্রকৃতপক্ষে ফ্যাসিবাদেরই সুবিধা করে দিচ্ছেন।
তাহলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সমস্ত গণতন্ত্রকামী এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
গত বুধবার (৫ আগস্ট) বিকালে টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে জুলাই শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক (সানু), ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) টাঙ্গাইল জেলা শাখার আহ্বায়ক ডা. এমএ মতিনসহ অনেক সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
বিএনপির প্রচার সম্পাদক টুকু বলেন, বিএনপি কখনো গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে যায়নি। তিনি বলেন, ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে BNP নেতৃত্ব দিয়েছে। বিএনপি জনগণের দল, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পথ চলে।
এখন তিনি জানান, এই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের দীর্ঘ ১৭ বছরে ইলিয়াস আলী থেকে শুরু করে অসংখ্য মানুষ গুম হয়েছেন। আর ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ছিল একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। আমাদের সকলের প্রত্যাশা হল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়া। সেই প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সরকারের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাত্র সাড়ে পাঁচ মাস আগে একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। বাজেট পাস হয়েছে, কাজ শুরু হয়েছে। জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে বিএনপিকে নির্বাচিত করেছে, ইনশাআল্লাহ প্রধানমন্ত্রী সেই প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবেন।
জুলাই যোদ্ধাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা কর্মসংস্থানের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। আমি আমার অবস্থান থেকে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। আরও আমি টাঙ্গাইলের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে বলতে চাই, সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কার্ডধারী প্রত্যেক জুলাই যোদ্ধার বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেব।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই চেতনাকে বুকে ধারণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব যাতে কোনোভাবে অন্যের হাতে ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
এর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আহত জুলাই যোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং উপস্থিত অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে জেলার ১২টি উপজেলায় ৩০ জন জুলাই যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। পরে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
এর আগে সকালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে টাঙ্গাইলে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গত সপ্তাহে ঢামেকের আইসিইউর সামনে ছেলের শেষ অবস্থা দেখে মা মাতোয়ারা বেগম কাঁদছিলেন। সংগৃহীত ছবিতে দেখা যাচ্ছে তার দুঃখ।
পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মিজানুর রহমান মনির, যিনি মনির খান নামেও পরিচিত, মারা গেছেন। তার বয়স ছিল ৪৮ বছর। তিনি প্রায় দুই মাস ধরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুরাতন বার্ন ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এর আগে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার হাতে হাতকড়া পরা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
মিজানুর রহমান পটুয়াখালী সদর উপজেলার বহালগাছিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল খালেক খানের ছেলে ছিলেন। তিনি সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সদর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অতিরিক্তভাবে, তিনি বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় ফেডারেশনের সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্বরত ছিলেন।
গত বছরের জুন মাসে গ্রেপ্তার হওয়ার পর মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মোট ৮টি মামলা করা হয়েছিল। তার মৃত্যুর ৭ দিন আগে, ৩০ জুলাই তার জামিন মঞ্জুর হয় বলে পরিবারের সূত্র জানায়।
মিজানুর রহমানের ভাগনে সিরাজ মুন্সী বলেন, "২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে মিজানুর রহমান আত্মগোপনে ছিল।" গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর মিন্টু রোড থেকে তাকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।
তার বিরুদ্ধে ঢাকায় ছয়টি এবং পটুয়াখালী সদর উপজেলায় দুটিসহ মোট আটটি মামলা করা হয়। জামিন পেলেও পরে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। প্রায় ১১ মাস তিনি কারাগারে ছিলেন। যদিও বিভিন্ন মামলায় জামিন পেলেও অন্য মামলায় তাকে কারাগারে থাকতে হয়েছিল।
সিরাজ মুন্সী জানান, এরপর থেকে তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। গত ৯ জুন কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত রোগে (স্ট্রোক) আক্রান্ত হন। এ কারণে কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে কারারক্ষীরা তাকে ঢামেক হাসপাতালের পুরাতন বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে ভর্তি করেন। ৩০ জুলাই আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরও তার শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবস্থা হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছিল।
স্বজনরা জানান, আইসিইউতে থাকা অবস্থায় মিজানুর রহমানের হাতে হাতকড়া থাকার একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হলে তা নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। শরীরের প্রতিটি স্পন্দন যন্ত্রগুলোর মাধ্যমে পরিমাপ হচ্ছে, তখন শুধুমাত্র একটি হাতকড়া যেন চিকিৎসার ভাষাকেও অতিক্রম করেছিল, যা তার ডান হাতে ঝুলছিল। ছবিটি ভাইরাল হওয়ার পরে তার সব মামলায় জামিন হয়। তবে অতি শীঘ্র মুক্তি মেলেনি তার। মৃত্যুর পর, তার লাশ গ্রামে নিয়ে আসা হচ্ছে।
মিজানুর রহমানের স্ত্রী, সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সালমা জাহান জানিয়েছেন, স্বামী হাসপাতাল ভর্তি হওয়ার পরও প্রায় এক মাস হাতকড়া পরে ছিলেন। তিনি বলেছেন, "হাসপাতালে ভর্তির দুদিন পর আর কিছুই মনে করতে পারছিল না। আমাকেও চিনতে পারছিল না। তার পুরো শরীর প্যারালাইজড হয়ে গিয়েছিল। চিকিৎসকরা যখন জানিয়ে দেন, রোগীকে ফিরিয়ে আনা কঠিন, তখন দায়িত্বে থাকা পুলিশ হাতকড়াটি খুলে দেয়। কিন্তু তখন পর্যন্ত সে প্রায় মৃত। শেষ পর্যন্ত হাতের শিকল খুললেও তাকে ফিরিয়ে আনতে পারিনি।"
ছেলের সর্বশেষ অবস্থা দেখে গত সপ্তাহে ঢামেক হাসপাতালে ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিভাগের আইসিইউর সামনে মা মাতোয়ারা বেগম কাঁদছিলেন। তিনি তখন বলেছিলেন, “আমার ছেলে আমাকে চিনে না।”
মিজানুর রহমানের চাচা আবদুল কালাম আজাদ বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাকে নিজ বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ বৃহস্পতিবার রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের ৪২তম শাহাদাতবার্ষিকী। এবারও বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাঁর স্মরণে দোয়া ও মিলাদ, কোরআন খতম, এতিম ও দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার পরিবার এবং রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান স্মৃতি কমিটির তরফে সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু, শাহিনা খান জামান ও জুবাইদা রহমানের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব বিষয় জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের অবদান স্মরণে প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মসজিদে কোরআন খতম, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন এতিমখানা, মাদরাসা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া এবং দুস্থ মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হবে।
এছাড়া ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এবং যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরেও তাঁর স্মরণে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়, সাবেক নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান ১৯৩৪ সালের ৩ নভেম্বর সিলেটের বিরাহিমপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি ঢাকা কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষে ১৯৫২ সালে পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং যুক্তরাজ্যের রয়াল নেভাল কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। তাঁর বাবা আহমেদ আলী খান ছিলেন ভারত বর্ষের প্রথম মুসলিম ব্যারিস্টার।
কর্মজীবনে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদ অলংকৃত করেন। ১৯৭৯ সালের ৪ নভেম্বর তিনি বাংলাদেশের তৃতীয় নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৮০ সালে রিয়ার অ্যাডমিরাল পদে উন্নীত হন।
রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব পান। নৌবাহিনীর পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ সরকারের যোগাযোগমন্ত্রী (রেলপথ, সড়ক ও নৌপরিবহন) হিসেবেও অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ ছাড়া তিনি সশস্ত্র বাহিনীর বেতন ও পেনশন কমিটির চেয়ারম্যান এবং প্রশাসনিক পুনর্গঠন জাতীয় বাস্তবায়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন।
১৯৮৪ সালের ৬ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর অসাধারণ কর্মজীবনকে তুলে ধরতে রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান মেমোরিয়াল মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
এ ছাড়া তাঁর জন্মভূমি সিলেটে হৃদরোগ প্রতিরোধ ও সচেতনতায় ইনস্টিটিউট অব প্রিভেন্টিভ কার্ডিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ এবং মাহবুব আলী খান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট স্থাপনের কাজ চলছে, যার মাধ্যমে দুস্থ ও অসহায় রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বৃষ্টির কারণে ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়ায় এ কারণে বেকায়দায় পড়লো আয়ারল্যান্ড। ওয়ানডে বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করার জন্য দলটিকে বাছাইপর্ব খেলতে হবে। আইসিসি পুরুষ ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে ১২তম স্থানে থাকা আইরিশদের জন্য সরাসরি বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের পথটি বেশ কঠিন বলা চলে।
র্যাঙ্কিংয়ে জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশকে টপকাতে হলে তাদের আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৫-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের প্রয়োজন ছিল। এছাড়া ৩০ সেপ্টেম্বরের সময়সীমার আগে ভারতের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম দুটি ম্যাচ হারাতে হবে।
কিন্তু আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়ায়, তাদের সরাসরি যোগ্যতা অর্জনের আশা শেষ হয়ে গেল। এর ফলে ইউরোপীয় দলটিকে এখন ১০ দলের বাছাইপর্বে খেলতে হবে। উল্লেখ্য, এই বাছাইপর্বের বিজয়ী দল সরাসরি বিশ্বকাপ ২০২৭-এর মূল পর্বে জায়গা করে নেবে।
অন্যদিকে, বাছাইপর্বে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান অর্জনকারী দলগুলো বিশ্বকাপের প্রাথমিক পর্ব বা ‘সুপার সিরিজ’-এ অংশ নেবে। সেখান থেকে সেরা দলটি ১২ দলের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। এই ১০ দলের বাছাইপর্বে অংশ নেবে ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের ওয়ানডে র্যাঙ্কিং অনুযায়ী যৌথ আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে ছাড়া সর্বনিম্ন র্যাঙ্কিংধারী দুটি ‘পূর্ণ সদস্য' দেশ। ‘সিডব্লিউসি লিগ ২’ ও ‘বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ার প্লে-অফ’ থেকে উঠে আসা সেরা চারটি করে দলও এ বাছাইপর্বে অংশগ্রহণ করবে।
প্লে-অফ পর্বে ‘সিডব্লিউসি লিগ ২’-এর তলানির চারটি দল এবং ‘চ্যালেঞ্জ লিগ’ থেকে সমসংখ্যক দল অংশ নেবে। প্লে-অফের ফরম্যাট বা কাঠামো এখনো চূড়ান্ত না হলেও, ধারণা করা হচ্ছে এটি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের আগেই অনুষ্ঠিত হবে।
তবে ‘চ্যালেঞ্জ লিগ’-এ ১২টি দল দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে খেলবে; প্রতিটি গ্রুপে ছয়টি করে দল থাকবে। এই চক্রে প্রতিটি দল তিনটি করে ‘রাউন্ড-রবিন’ টুর্নামেন্ট খেলবে। এরপর প্রতিটি গ্রুপের সেরা দুটি দল ‘বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ার প্লে-অফ’-এ খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে।
আয়ারল্যান্ড ২০২৩ বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছিল। কারণ, গত আসরের বাছাইপর্বের ‘সুপার সিক্স’ পর্যায় থেকেই তারা ছিটকে পড়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চুক্তি নবায়নের বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের আলোচনা চলছে। স্প্যানিশ ক্লাবটি ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার ভিনিসিয়াসকে বার্নাব্যুতে ধরে রাখার লক্ষ্যে উন্নত শর্তাবলীসহ একটি নতুন চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে। ২৬ বছর বয়সী এই ফুটবলারের বর্তমান চুক্তির সময়সীমা শেষ হতে এখন মাত্র ১২ মাস বাকি রয়েছে। এ সময়ে আর্সেনাল তার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
রিয়ালের সঙ্গে নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা প্রথম দিকে স্থবির হয়ে পড়েছিল, তবে স্প্যানিশ ক্লাবটি এখন ভিনিসিয়াসকে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে। জানা গেছে, ভিনিসিয়াস এই নতুন শর্তাবলীকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
রিয়াল বর্তমানে ভিনিসিয়াসের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। ক্লাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, যার মধ্যে ফিরে আসা প্রধান কোচ হোসে মরিনহোও রয়েছেন, আশাবাদী যে তিনি চুক্তি নবায়ন করবেন। ধারণা করা হচ্ছে, রিয়াল কয়েক দিনের পরিবর্তে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার কাছ থেকে সাড়া পাওয়ার প্রত্যাশা করছে।
যদি ভিনিসিয়াস এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন, তবে আর্সেনাল এই ব্রাজিলিয়ানের প্রতি তাদের আগ্রহের প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে প্রস্তুত। ভিনিসিয়াস তিন বছর আগে রিয়ালের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছিলেন যা ২০২৭ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। গত ১৮ মাস ধরে ক্লাব এবং ভিনিসিয়াসের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।
বিশ্বকাপ অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করার পর সোমবার তিনি ক্লাবে ফিরে এসেছেন এবং প্রাক-মৌসুম অনুশীলন সেশন ও মেডিকেল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। রিয়ালের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৭৫টি ম্যাচ খেলা এবং ১২৮টি গোল করা ভিনিসিয়াস আর্থিকভাবে ‘লস ব্লাঙ্কোস’-এর শীর্ষ তারকা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে চাচ্ছেন।
তবে সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের অধীনে রিয়াল তাদের বেতন কাঠামো বজায় রাখার ক্ষেত্রে সবসময় কঠোর প্রতিবন্ধকতা পালন করে। ভিনিসিয়াস প্রকাশ্যে রিয়ালকে ‘আমার স্বপ্নের ক্লাব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং তিনি সেখানে ‘বহু বছর’ থাকতে চান।
যদি পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়, তবে আর্সেনাল এই ব্রাজিলিয়ানকে তাদের বাম-প্রান্তের আক্রমণের জন্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ