প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গত সপ্তাহে ঢামেকের আইসিইউর সামনে ছেলের শেষ অবস্থা দেখে মা মাতোয়ারা বেগম কাঁদছিলেন। সংগৃহীত ছবিতে দেখা যাচ্ছে তার দুঃখ।
পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মিজানুর রহমান মনির, যিনি মনির খান নামেও পরিচিত, মারা গেছেন। তার বয়স ছিল ৪৮ বছর। তিনি প্রায় দুই মাস ধরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুরাতন বার্ন ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এর আগে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার হাতে হাতকড়া পরা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
মিজানুর রহমান পটুয়াখালী সদর উপজেলার বহালগাছিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল খালেক খানের ছেলে ছিলেন। তিনি সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সদর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অতিরিক্তভাবে, তিনি বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় ফেডারেশনের সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্বরত ছিলেন।
গত বছরের জুন মাসে গ্রেপ্তার হওয়ার পর মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মোট ৮টি মামলা করা হয়েছিল। তার মৃত্যুর ৭ দিন আগে, ৩০ জুলাই তার জামিন মঞ্জুর হয় বলে পরিবারের সূত্র জানায়।
মিজানুর রহমানের ভাগনে সিরাজ মুন্সী বলেন, "২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে মিজানুর রহমান আত্মগোপনে ছিল।" গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর মিন্টু রোড থেকে তাকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।
তার বিরুদ্ধে ঢাকায় ছয়টি এবং পটুয়াখালী সদর উপজেলায় দুটিসহ মোট আটটি মামলা করা হয়। জামিন পেলেও পরে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। প্রায় ১১ মাস তিনি কারাগারে ছিলেন। যদিও বিভিন্ন মামলায় জামিন পেলেও অন্য মামলায় তাকে কারাগারে থাকতে হয়েছিল।
সিরাজ মুন্সী জানান, এরপর থেকে তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। গত ৯ জুন কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত রোগে (স্ট্রোক) আক্রান্ত হন। এ কারণে কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে কারারক্ষীরা তাকে ঢামেক হাসপাতালের পুরাতন বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে ভর্তি করেন। ৩০ জুলাই আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরও তার শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবস্থা হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছিল।
স্বজনরা জানান, আইসিইউতে থাকা অবস্থায় মিজানুর রহমানের হাতে হাতকড়া থাকার একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হলে তা নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। শরীরের প্রতিটি স্পন্দন যন্ত্রগুলোর মাধ্যমে পরিমাপ হচ্ছে, তখন শুধুমাত্র একটি হাতকড়া যেন চিকিৎসার ভাষাকেও অতিক্রম করেছিল, যা তার ডান হাতে ঝুলছিল। ছবিটি ভাইরাল হওয়ার পরে তার সব মামলায় জামিন হয়। তবে অতি শীঘ্র মুক্তি মেলেনি তার। মৃত্যুর পর, তার লাশ গ্রামে নিয়ে আসা হচ্ছে।
মিজানুর রহমানের স্ত্রী, সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সালমা জাহান জানিয়েছেন, স্বামী হাসপাতাল ভর্তি হওয়ার পরও প্রায় এক মাস হাতকড়া পরে ছিলেন। তিনি বলেছেন, "হাসপাতালে ভর্তির দুদিন পর আর কিছুই মনে করতে পারছিল না। আমাকেও চিনতে পারছিল না। তার পুরো শরীর প্যারালাইজড হয়ে গিয়েছিল। চিকিৎসকরা যখন জানিয়ে দেন, রোগীকে ফিরিয়ে আনা কঠিন, তখন দায়িত্বে থাকা পুলিশ হাতকড়াটি খুলে দেয়। কিন্তু তখন পর্যন্ত সে প্রায় মৃত। শেষ পর্যন্ত হাতের শিকল খুললেও তাকে ফিরিয়ে আনতে পারিনি।"
ছেলের সর্বশেষ অবস্থা দেখে গত সপ্তাহে ঢামেক হাসপাতালে ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিভাগের আইসিইউর সামনে মা মাতোয়ারা বেগম কাঁদছিলেন। তিনি তখন বলেছিলেন, “আমার ছেলে আমাকে চিনে না।”
মিজানুর রহমানের চাচা আবদুল কালাম আজাদ বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাকে নিজ বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন