জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি
০১:২৪ পি.এম
ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের প্রতি অবমাননা ও গাইবান্ধাসহ সারাদেশে মন্দির গুড়িয়ে দেয়ার হুমকির প্রতিবাদে রাজবাড়ীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার সকালে, সকাল সাড়ে ১১ টায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ রাজবাড়ী জেলা শাখার উদ্যোগে রাজবাড়ী শহরের পান্না চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এই মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও রেল গেইট প্রদক্ষিণ করে শেষে রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
রাজবাড়ী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রদীপ্ত চক্রবর্তী কান্ত’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার দাসের সঞ্চালনায় বক্তৃতা করেন জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আহবায়ক নির্মল চক্রবর্তী, সুশিল দত্ত তাপস, ডা. সমির কুমার দাস, তন্ময় দাস, রনজয় কুমার বসু, সুজিত নন্দী, রাম গোপাল চট্রোপাধ্যায়, নিতিশ কুমার মন্ডল, শিব শংকর চক্রবর্তী, লিটন বিশ্বাস সহ অন্যান্য বক্তারা।
বক্তারা বলেন, 'ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের প্রতি অবমাননা ও গাইবান্ধাসহ সারাদেশে মন্দির গুড়িয়ে দেয়ার হুমকি প্রদান করায় জড়িতদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে হবে।' শনিবার রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার চামটায় মন্দিরের মূর্তি ভাংচুর করা হয়েছে।
বক্তারা এই বিষয়ে সঠিক তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান। বক্তারা উল্লেখ করেছেন, 'আমরা শান্তিতে সকল শ্রেণী পেশার মানুষ একত্রে বসবাস করতে চাই।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা আল্লু অর্জুন একটি নারীর পদদলিত হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় আবারও আদালতে হাজিরার নোটিশ পেয়েছেন। এটি তাঁর অভিনীত সিনেমার স্ক্রিনিংয়ে ঘটে। টানা দুই বছর ধরে এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনি আইনি বিপাকে রয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাবে আলোচিত সিনেমা ‘পুষ্পা টু: দ্য রুল’। এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর হায়দরাবাদের সন্ধ্যা থিয়েটারে সিনেমাটির বিশেষ প্রিমিয়ার শো অনুষ্ঠিত হয়।
সেখানেই ঘটে অঘটন। প্রিয় তারকাকে একনজর দেখতে হাজার হাজার ভক্ত ভিড় করেন। এই অতিরিক্ত ভিড়ে রেবতী নামের এক নারী পদদলিত হয়ে মারা যান। এছাড়া, ওই ঘটনায় রেবতীর ৯ বছর বয়সী ছেলে তেজও গুরুতর আহত অবস্থায় ছিল।
মামলার জটিলতায়, আল্লু অর্জুন, তাঁর ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপক, স্টাফ, আটজন বাউন্সার ও প্রেক্ষাগৃহের মালিকসহ মোট ২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এ অবস্থায়, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর আল্লু অর্জুনকে গ্রেফতার করা হয়। এক রাত পুলিশ হেফাজতে থাকার পর তেলেঙ্গানা হাই কোর্ট তাঁর জামিন মঞ্জুর করে।
সম্প্রতি, হায়দরাবাদের এক আদালতে ওই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর জানা যায়, তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, আল্লু অর্জুন প্রেক্ষাগৃহে আসবেন জেনে সন্ধ্যা থিয়েটার কর্তৃপক্ষ দর্শকদের সামাল দিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
এই চার্জশিটের ভিত্তিতে আদালত আল্লু অর্জুনসহ ২০ অভিযুক্তকে জরুরী ভিত্তিতে আগামী সোমবার (২২ জুন) হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ওই দিন থেকেই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে প্রাই দুই মাস ধরে চলা বিক্ষোভের ফলে বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি স্থানীয় সময় শনিবার (২০ জুন) এই জরুরি অবস্থার ঘোষণা দেন।
সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারবিরোধী বিক্ষোভটিতে শ্রমিক ইউনিয়ন ও কৃষক সংগঠনের সমর্থন নিয়েছে সাবেক বামপন্থি প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট পাজের পদত্যাগের দাবি করেছেন। টানা সড়ক অবরোধের কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্য, জ্বালানি ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট দেখা দিয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত প্রায় ৫০ দিনে এই অবরোধ দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কার্যত স্থবির করে দিয়েছে।
জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট পাজ জানান, দেশের সড়কপথ মুক্ত করার জন্য তিনি জরুরি অবস্থার কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন। বলিভিয়ার জনগণ এভাবে অবরোধের জিম্মি থাকতে পারে না। তিনি বলেন, "এটা তাদের কাজ, পড়াশোনা, চিকিৎসাসেবা গ্রহণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ এবং পরিবারের জন্য জীবিকা নিশ্চিত করতে বাধাগ্রস্ত করছে।"
জরুরি অবস্থার ঘোষণা দেওয়ার ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনা মোতায়েনের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। সরকার আশা করছে যে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে স্বাভাবিক জনজীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ফিরে আসবে।
তবে বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীরা সরকারের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে আসছেন। তাদের বক্তব্য, অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার কারণেই জনগণ রাস্তায় নেমেছে এবং সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপে ফুটবল বলতে লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের দলের কর্তৃত্বের কথা মনে পড়ে। তবে দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয় ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি ও পর্তুগাল নিয়ে। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম কিছু নয়, বিশ্বকাপ আসলে এই চার দেশের পতাকা সর্বাধিক উড়তে দেখা যায়।
ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সবচেয়ে বেশি আলোচিত হলেও ২০২৬ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ইউরোপের দেশ পর্তুগাল। গত আসরের ফাইনালের মঞ্চে তারা না পৌঁছালেও এবার আশা বর্ণনা করছে ভক্তরা।
এদিকে, জার্সি ও পতাকার বাজারেও রোনালদো-ভিতিনহারা সম্প্রতি আলো ছড়াচ্ছেন। হাউসস্টোনে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দুর্বল ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ড্র করলেও বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ব্যস্ততম গুলিস্তান মার্কেটের পর্তুগালের জার্সি ও পতাকার চাহিদা চরমে রয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) ছুটির দিনে গুলিস্তান মার্কেটের দৃশ্য পরিদর্শন করে এ চিত্র দেখা গেছে।
মার্কেটে জার্সির পাশাপাশি পতাকাও বিক্রির জন্য খুবই চাহিদাসম্পন্ন। পর্তুগালের ৫ ফুট দৈর্ঘ্যের চায়না প্রিন্টের পতাকা বিক্রি হচ্ছে ২৫০-২০০ টাকায় এবং দেশীয় পতাকা ১৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। অন্য দেশের পতাকায় ছাড় থাকলেও পর্তুগালের ক্ষেত্রে বিক্রেতারা কিছুতেই দাম কমাতে প্রস্তুত নন।
সাব্বির আহমেদ নামের এক রোনালদো ভক্ত আরটিভি'কে জানান, ‘ছুটির দিনে একটি পতাকা কেনার জন্য গুলিস্তানে এসেছিলাম। তবে দোকানদাররা দাম কমাচ্ছে না। ২০০ টাকার নিচে নামছে না, একদরে বিক্রি করছে।’
পতাকা ব্যবসায়ী গফুর আহমেদ বলেন, আগে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার চাহিদা ছিল বেশি। কিন্তু বর্তমানে পর্তুগালের পতাকা বেশি বিক্রি হচ্ছে। চায়না প্রিন্টের ৫ ফুটের পতাকা ২০০ টাকায় (ফিক্সড) এবং এর চেয়ে বড়টি ৮০০ টাকায় বিক্রি করছি। এর থেকে কম রাখার সুযোগ নেই।
অন্যদিকে ফুটপাতেও জার্সির বাজার দৃশ্যমান। বিভিন্ন দেশের জার্সির বেশ কিছুর এডিশন পাওয়া যাচ্ছে। ক্রেতারা নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী দামের উপর ভিত্তি করে জার্সি কিনছেন নিজের এবং প্রিয়জনের জন্য। কোয়ালিটির ওপর ভিত্তি করে ১৫০-৭০০ টাকায় জার্সি বিক্রি হচ্ছে। উন্নত মানের বা প্লেয়ার এডিশন কিনতে মার্কেটের দোকানে ভিড় করছেন ফুটবল প্রেমীরা।
কয়েকটি দোকানে পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, একদরের দোকানে প্লেয়ার এডিশন জার্সি ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে দামদরের সুবিধা থাকলে ১৬০০-১৮০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। কিন্তু এখানেও চাহিদার শীর্ষে রয়েছে পর্তুগালের জার্সি।
ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, স্পেন, ইংল্যান্ড, মরক্কোসহ অন্যান্য আলোচিত দলগুলোর জার্সি দোকানে থাকলেও পর্তুগালের জার্সি কয়েকটি দোকানে নেই। তরুণ ব্যবসায়ী রবিন জানান, আমাদের এখানে পর্তুগালের জার্সি সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে, তাই স্টক শেষ হয়ে গেছে। প্লেয়ার এডিশন জার্সিগুলো বিদেশ থেকে আসে এবং আমরা আবার নতুন অর্ডার করেছি, কাল-পরশু পাওয়া যাবে।
সুতরাং বোঝা যাচ্ছে, পর্তুগাল নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের আত্মবিশ্বাস এখনও দৃঢ় রয়েছে। প্রথম ম্যাচের হার সত্ত্বেও ভক্তরা আশা করছেন পরবর্তী দুই ম্যাচে রোনালদোরা ঘুরে দাঁড়াবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের বিশ্বকাপে পর্তুগাল যোগ্য দাবিদার। বিশ্বসেরা মিডফিল্ড ও রোনালদোর মতো কিংবদন্তি ফরোয়ার্ডকে নিয়ে স্কোয়াড প্রতিপক্ষকে চাপ দেবে। কিন্তু কঙ্গোর বিপক্ষে বাজে শুরুর পর কিছুটা তা এলোমেলো হয়েছে। বাকি দুই ম্যাচে প্রত্যাশা করা যায় কেমন হবে।
ফুটবল বিশ্বকাপে পর্তুগালের সর্বোচ্চ সাফল্য হলো তৃতীয় স্থান অর্জন করা। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লুইস ফিগো অথবা ইউসেবিওয়ের মতো কিংবদন্তি ফুটবলার উপহার দিয়েও পর্তুগাল কখনো বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছাতে পারেনি।
ইতিহাসে তারা মাত্র দুইবার সেমিফাইনালে যেতে পেরেছে। নিচে পর্তুগালের বিশ্বকাপের সেরা দুটি পারফরম্যান্সের বিবরণ দেওয়া হলো—
পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে তাদের প্রথম বিশ্বকাপ অংশগ্রহণে। কিংবদন্তি স্ট্রাইকার ইউসেবিও সেই সময় সবাইকে চমকে দিয়েছিল।
কোয়ার্টার ফাইনাল: উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৩–০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়া পর্তুগাল ইউসেবিওর অবিশ্বাস্য ৪ গোলের ওপর ভর করে ৫–৩ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে। এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম সেরা কামব্যাক।
সেমিফাইনাল: স্বাগতিক ও সেবারের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের কাছে ২–১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিতে হয়।
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ: সোভিয়েত ইউনিয়নকে ২–১ ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে তৃতীয় স্থান অর্জন
করেছিল। ইউসেবিও ওইবার ৯ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা (গোল্ডেন বুট) হন।
পর্তুগালের সোনালী প্রজন্মের লুইস ফিগো, ডেকো এবং তরুণ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর উপর ভর করে ৪০ বছর পর তারা আবার সেমিফাইনালে উঠেছিল।
নকআউট পর্বে রাউন্ড অব ১৬-এ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বিখ্যাত 'ব্যাটল অব নুরেমবার্গ' (যেখানে রেকর্ড সংখ্যক কার্ড দেখানো হয়েছিল) ম্যাচটি ১–০ গোলে জিতে। পরে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে টাইব্রেকারে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে।
সেমিফাইনালে জিনেদিন জিদানের ফ্রান্সের কাছে ১–০ গোলে হেরে যায়।
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে স্বাগতিক জার্মানির কাছে ৩–১ ব্যবধানে হেরে চতুর্থ স্থানে টুর্নামেন্ট শেষ করে।
সংক্ষেপে, পর্তুগালের বিশ্বকাপ ইতিহাস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারি চাকরিজীবীদের অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ২০১৫ সালে সরকার পেনশন ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার আনে।
পেনশন প্রাপ্তির জন্য ন্যূনতম চাকরিকাল কমানো, সর্বোচ্চ পেনশনের হার বৃদ্ধি, গ্র্যাচুইটির নতুন কাঠামো, পারিবারিক পেনশনে শর্ত শিথিল করার পাশাপাশি ছুটি নগদায়নের সুবিধা বাড়ানোর ফলে অবসরপ্রাপ্ত ও চাকরিজীবীদের জন্য বাড়তি স্বস্তির সৃষ্টি হয়েছে।
নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পেনশন পাওয়ার জন্য ন্যূনতম চাকরিকাল ১০ বছর থেকে কমিয়ে ৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ পেনশনের হার শেষ অর্জিত মূল বেতনের ৮০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা হয়। এর ফলে দীর্ঘদিন চাকরি করা কর্মচারীরা অবসরের পর তুলনামূলকভাবে বেশি আর্থিক সুবিধা প্রাপ্তির সুযোগ পাচ্ছেন।
প্রজ্ঞাপনে ৫ থেকে ২৫ বছর অথবা তার বেশি চাকরিকালের জন্য একাধিক ধাপে নতুন পেনশন হার নির্ধারণ করা হয়। এতে ৫ বছর চাকরিকালে ২১ শতাংশ থেকে শুরু করে ২৫ বছর বা তদূর্ধ্ব চাকরিতে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন পাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
তবে ৫ থেকে ২৪ বছর চাকরিকালের এই সুবিধা সাধারণত নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। যেমন— চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যু, মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক স্থায়ী অক্ষমতা অথবা পদ বিলুপ্তির কারণে চাকরি হারানো।
প্রজ্ঞাপনের আওতায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে অবসরপ্রাপ্তদের পেনশনও বৃদ্ধি করা হয়েছে। ৬৫ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ এবং ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সীদের জন্য ৫০ শতাংশ পেনশন বৃদ্ধি করা হয়। একই সঙ্গে মাসিক ন্যূনতম পেনশন ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চাকরিকাল কমানোর ফলে আনুতোষিক বা গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রেও নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। ৫ থেকে ৯ বছর চাকরিকালের ক্ষেত্রে প্রতি ১ টাকা পেনশনের বিপরীতে ২৬৫ টাকা আনুতোষিক নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া চাকরির মেয়াদ ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে কোনো কর্মচারী মৃত্যুবরণ অথবা স্থায়ী অক্ষম হয়ে গেলে তার পরিবারের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তার বিধান রাখা হয়েছে। প্রতিটি পূর্ণ বছরের জন্য শেষ তিন মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ এককালীন সহায়তা হিসেবে প্রদান করা হবে।
পারিবারিক পেনশন ব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিধবা স্ত্রীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়সের পর পুনর্বিবাহ না করার অঙ্গীকারনামার শর্ত শিথিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে মৃত নারী কর্মচারীর স্বামীও পারিবারিক পেনশন পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অবসর সুবিধার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের একটি হলো ছুটি নগদায়নের সুযোগ বৃদ্ধি। আগে যেখানে সর্বোচ্চ ১২ মাসের ছুটি নগদায়ন করা যেত, সেখানে তা বাড়িয়ে ১৮ মাস করা হয়েছে। ফলে অবসরের সময় কর্মচারীরা আরও বেশি আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
এখন এই প্রজ্ঞাপনটি ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর বলে ধরা হয়েছে এবং ওই সময় পিআরএলে থাকা কর্মচারীরাও নতুন সুবিধার আওতায় আসছেন।
উল্লেখ্য যে, গত ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের সময় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ