০৪:২৫ পি.এম
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ি গ্রাম সংলগ্ন একটি খালের ওপর নির্মিত হয়েছে একটি সেতু। এই সেতুটির জন্য প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তবে, সেতুতে ওঠার জন্য কোনো সংযোগ সড়ক নেই, ফলে এটি স্থানীয়দের কোনো কাজে আসছে না। বর্ষা মৌসুমে সেতুর দুই দিক কাদায় পরিণত হওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ৯৬ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুটি নির্মাণ করেছে। কাজটি পায় জামালপুরের এমইএম এন্টারপ্রাইজ, যার স্বত্বাধিকারী মো. সামসুদ্দিন দিলিপ। প্রকল্পটির ব্যয় ছিল প্রায় ১১ কোটি টাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর মূল নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলেও সংযোগ সড়কে প্রয়োজনীয় মাটি ভরাট করা হয়নি। পাশাপাশি সেতুর দুই প্রান্তে রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণ না করেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ দেখিয়ে চলে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানিতে সংযোগ সড়ক ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: নওগাঁয়ে ঘরে মাটির নিচে ২৪৫ কেজির কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার, আটক ১
স্থানীয় বাসিন্দা মো. এমদাদ হোসেন বলেন, ‘সেতুর কাজ শেষ হলেও সড়কের কাজ বাকি রয়েছে। বৃষ্টির পানি সড়ক ভেঙে দেওয়ায় কোন যানবাহন চলতে পারছে না। পথচারীরা জীবন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। দ্রুত মাটি ভরাটের কাজ শেষ হলে আমাদের সমস্যা সমাধান হবে।’
একইভাবে আরেক বাসিন্দা রাশিদুল ইসলাম মন্তব্য করেন, ‘প্রায় ১১ কোটি টাকা খরচ করে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি সেটি ব্যবহার করতে পারি না, তাহলে এত টাকা খরচের লাভ কী? গত সপ্তাহে এক বৃদ্ধ গর্তে পড়ে পা ও কোমরে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।’
এ বিষয়ে রৌমারী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘জমির মালিকদের সঙ্গে জটিলতার কারণে সেতুর দুই পাশে রিটার্নিং ওয়ালের কাজ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’ রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেছেন, ‘সমস্যার বিষয়টি জেনেছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
আরও পড়ুন: দিনাজপুর বোর্ডের ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন