১১:৫৪ পি.এম
কাতার, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ বন্ধে একটি নতুন খসড়া প্রস্তাব পেশ করেছে। তবে, প্রস্তাবটি সম্পর্কে তেহরান ও মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রোববার ইরানের কাছে নতুন শান্তি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে এবং সপ্তাহের শেষ নাগাদ তেহরানের প্রতিক্রিয়া পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। তবে, ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন যে, কাতার কেবল কিছু ‘অগ্রহণযোগ্য ধারণা’ প্রদান করেছে, যা কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তার মতে, কাতারের খসড়ায় দুই পক্ষের উদ্বেগ মোকাবিলার জন্য সাত দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিদিনের জন্য আস্থা তৈরির পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহের শুরুতে এই প্রক্রিয়া কার্যকর হতে পারে। চুক্তি বাস্তবায়নে কয়েকটি দেশ গ্যারান্টর হিসেবে কাজ করবে বলেও তিনি জানান।
তবে, ইরান পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা শুরুর পর্যায় থেকেই ইরানের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হোক। অন্যদিকে, তেহরানের দাবি, মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং দেশটির তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মতো শর্ত আগে পূরণ করতে হবে। ইরান বরাবরই তাদের পরমাণু কর্মসূচি সামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হওয়ার পশ্চিমা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
এদিকে, যুদ্ধ নতুন করে তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবার হামলার হুমকি দিয়েছেন। একই সময়ে, ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফের হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রতলের যোগাযোগকে লক্ষ্য করে আক্রমণের বিস্তারিত পরিকল্পনা করেছে তেহরান।
সোমবার সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তারা উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার কাতার বলেছে, মধ্যস্থতার উদ্যোগ সফল করতে ইরানকে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর প্রতি হুমকি বন্ধ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে।
এই সংঘাতের প্রভাব পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। যুদ্ধের পূর্ববর্তী পর্যায়ে উপসাগরীয় দেশগুলো ধারাবাহিক হামলার শিকার হয়েছিল। একই সঙ্গে, ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে লড়াইও নতুন করে শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধটি ট্রাম্পের জনসমর্থনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
আরও পড়ুন: ক্ষমতা হারালেই কি গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন