ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
০১:৫৬ পি.এম
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসান। সভার চলাকালে উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, সড়ক নিরাপত্তা, বাজার তদারকি, বল্য বিবাহ, জননিরাপত্তা এবং বিভিন্ন সরকারি সেবার মানোন্নয়ন সহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উজ্জ্বল হালদার, ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইব্রাহিম মোল্লা, ২নম্বর নদমূলা-শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবা উদ্দিন আরিফ, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান হাওলাদার, ৭ নম্বর গৌরীপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আঃ রহমান, শাহাবুদ্দিন সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম, সাংবাদিক শাহজাহান হোসেন, তরিকুল ইসলাম সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
সভায় বক্তারা উপজেলার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অপরাধ দমন, মাদক নির্মূল এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে সরকারি শিশু পরিবারে সুহানি আক্তার নামে এক এতিম কন্যার বিয়ের আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন ও সমাজ সেবা অধিদপ্তর।
গতকাল রোববার রাতে পিরোজপুর সরকারি শিশু পরিবার ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশে এই বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় কনের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কনে সুহানি আক্তারকে বরের হাতে তুলে দেন এবং নবদম্পতির সুখী, সুন্দর ও সমৃদ্ধ দাম্পত্য জীবনের জন্য শুভকামনা জানান।
সরকারি শিশু পরিবার সূত্রে জানা যায়, পিতৃমাতৃহীন সুহানি আক্তার ২০১৫ সালে সরকারি শিশু পরিবারে আশ্রয় পান। সেখানেই বেড়ে ওঠেন এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর পিরোজপুর সদর উপজেলার জুজখোলা গ্রামের রাকিব শেখের সঙ্গে এক লাখ এক টাকা দেনমোহরে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান, সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত, সমাজসেবা অধিদপ্তর পিরোজপুরের উপপরিচালক মো. ইকবাল করিম, সরকারি শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক শাবানা খানমসহ জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা।
এ বিয়েকে কেন্দ্র করে সরকারি শিশু পরিবারে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সেখানে বসবাসরত এতিম ও দুস্থ শিশুরা তাদের সহপাঠীর নতুন জীবনের সূচনাকে ঘিরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে। হাসি, শুভেচ্ছা ও আবেগে মুখর হয়ে ওঠে পুরো শিশু পরিবার ক্যাম্পাস।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অভিভাবকহীন শিশুদের পাশে দাঁড়ানো সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব। এ সময় তারা ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগের জন্য জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরকে ধন্যবাদ জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুদানের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত মোহাম্মদ হামদান দাগালো (হেমেত্তি) এবং তার দুই ভাইসহ ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। যা রবিবার আদালতে মনোনীত কাউকে উপস্থিত না রেখে করা হয়।
আদালত মূলত এক আঞ্চলিক গভর্নরকে হত্যার পাশাপাশি যুদ্ধকালীন সময়ে সংঘটিত নৃশংসতার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই রায় প্রদান করে। এই রায় পশ্চিম দারফুরের রাজধানী এল জেনেইনায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা দায়ের করার পর দেওয়া হয়।
২০২৩ সালের জুনে, আরএসএফ যোদ্ধারা পশ্চিম দারফুরের গভর্নর খামিস আবাকারকে আটক করে তাদের স্থানীয় সদর দপ্তরে নিয়ে গিয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে যে, আঞ্চলিক কমান্ডার আবদুল রহমান জুমা বারকাল্লাহর উপস্থিতিতে তাকে সেখানে হত্যা করা হয়।
এই হত্যার পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায় যে, তার মরদেহ বিকৃত করা হচ্ছে। পোর্ট সুদানের আদালতের বিচারক এক বিবৃতিতে জানান, মোহাম্মদ হামদান দাগালো (হেমেত্তি), তার ভাই আবদেলরহিম দাগালো ও আল-কনি হামদান দাগালোসহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে রয়েছে আঞ্চলিক কমান্ডার আবদুল রহমান জুমা বারকাল্লাহ, সাবেক ডেপুটি গভর্নর এল-তিজানি আল-তাহির কারশুম, আরএসএফের বর্তমান রাজ্য কমান্ডার ইদ্রিস হাসান হারুন, কিছু আরব গোত্রপ্রধান এবং আরএসএফ-সমর্থক এক কর্মী। আদালত ১৬ জন আসামিকে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা, ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস এবং নিষিদ্ধ যুদ্ধকৌশল ব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে।
এছাড়া, আদালত আরএসএফের সব সম্পদ সুদানের সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। এতে করে দণ্ডপ্রাপ্তদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ প্রদানের কথা জানানো হয়।
বিচারক মন্তব্য করেন যে, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার মতো আন্তর্জাতিক অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো সময়সীমা প্রযোজ্য নয়। পাশাপাশি সুদানের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার কারণে এসব অপরাধ রাজনৈতিক ক্ষমার আওতায়ও এসে না। আদালতে একটি রায়ে উল্লেখ করা হয় যে, পরিকল্পিতভাবে সম্পত্তি ধ্বংস ও লুটপাট এবং বেসামরিক মানুষ, আবাসিক এলাকা, স্কুল ও উপাসনালয়ের ওপর হামলার জন্য আরএসএফ প্রধান হেমেত্তি আইনগতভাবে দায়ী।
অন্যদিকে, আবদেলরহিম দাগালোকেও এল জেনেইনা শহর অবরোধ পরিকল্পনা, বাসিন্দাদের ওপর কঠিন পরিস্থিতি চাপিয়ে দেওয়া, বেসামরিক লোকজনকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার এবং মাসালিত জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহত্যায় অংশগ্রহণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালত আল-কোনি দাগালোকে এল জেনেইনায় হামলায় সহায়তা প্রদান করার কারণে দোষী সাব্যস্ত করেছে। বিচারকের মতে, তিনি জানতেন যে, আরএসএফ বাহিনী সেখানে নৃশংসতা চালাচ্ছে, তবুও হামলায় সহযোগিতা করেছিলেন। আবদুল রহমান জুমা বারকাল্লাহকে মাসালিত অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে পরিকল্পিত হামলার সময় আরএসএফ ও তাদের মিত্র মিলিশিয়াদের নেতৃত্ব দেবার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এসব হামলায় হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল।
২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সহিংসতা বেড়ে গেলে মাসালিত সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ এল জেনেইনা ও পশ্চিম দারফুরের অন্যান্য অঞ্চল ছাড়তে বাধ্য হয়ে পূর্ব চাদের সীমান্তে আশ্রয় নিতে গিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ও রাজনীতিবিদ হেমা মালিনী বলেছেন, যে দিন তার জীবন নিয়ে বায়োপিক নির্মাণ হবে, তখন দীপিকা পাড়ুকোন তাঁর চরিত্রে অভিনয়ের জন্য একটি উপযুক্ত পছন্দ হতে পারেন।
চলচ্চিত্রে নিজের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
হেমা মালিনী জানিয়েছেন, ‘যদি তিনি চান, তবে অবশ্যই এই চরিত্রে অভিনয় করতে পারেন। যে কেউ করতে পারে। দীপিকা হচ্ছে একজন সুন্দরী ও প্রতিভাবান অভিনেত্রী।’
হেমা মালিনী এবং দীপিকা পাড়ুকোনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশেষ যোগসূত্র রয়েছে। ২০১৫ সালে রাম কমল মুখার্জির লেখা হেমা মালিনীর জীবনীগ্রন্থ ‘হেমা মালিনী : বিয়ন্ড দ্য ড্রিম গার্ল’-এর মোড়ক উন্মোচন করেছিলেন দীপিকা।
এছাড়া দীপিকার অভিষেক চলচ্চিত্র ‘ওম শান্তি ওম’-এ তিনি ‘শান্তিপ্রিয়া’ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। হেমা মালিনী দীর্ঘকাল ধরেই বলিউডের ‘ড্রিম গার্ল’ নামে পরিচিত। এই দুজনের মিলকেও তাদের বিশেষ সংযোগের একটি দিক হিসেবে দেখা হয়।
চলচ্চিত্রে ৬০ বছর পূর্তির সম্মানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে, হেমা মালিনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের প্রতি ভালোবাসা এবং সম্মান প্রদর্শনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
হেমা মালিনী ১৯৬৮ সালে ‘স্বপ্নো কা সৌদাগর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক করেছিলেন। তারপরে ‘শোলে’, ‘সীতা অউর গীতা’, ‘ড্রিম গার্ল’, ‘সত্তে পে সত্তা’ ও ‘বাগবান’-সহ বহু জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করার ফলে তিনি বলিউডের অন্যতম কিংবদন্তি অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত বাঁশখালী উপজেলার অসহায় মানবের পাশে দাঁড়াতে গাউছিয়া ট্রেডার্স ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করেছে।
গাউছিয়া ট্রেডার্সের পরিচালক মোঃ শরীফ উদ্দিনের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটের গাউছিয়া ট্রেডার্সের কার্যালয় থেকে ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ করে বন্যাদুর্গত এলাকার উদ্দেশ্যে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গাউছিয়া ট্রেডার্সের পরিচালক মোঃ শরীফ উদ্দিন। তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করেন, "মানুষের দুঃসময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা চাই এই ত্রাণসামগ্রী দ্রুত বন্যাকবলিত মানুষের হাতে পৌঁছে যাক। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদেরও এভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।"
ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে শুকনো খাবারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা বাঁশখালীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হবে।
মানুষ মানুষের জন্য—এই মানবিক বার্তা নিয়ে গাউছিয়া ট্রেডার্সের এই উদ্যোগ এগিয়ে চলেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ