১১:৪০ এম
গাইবান্ধায় নির্মাণ হওয়ার দুই বছর অতিক্রম হলেও, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে আটকে রয়েছে দুটি সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ। সেতু দুটির জন্য ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ের বিপরীতে, স্থানীয় লোকজন ঝুঁকি নিয়ে পাশের সরু ও পুরাতন নষ্ট সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। এই অবস্থায় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে তারা। তবে সংশ্লিষ্টরা সমস্যা সমাধান করে সড়ক নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন।
জানা যায়, যানজট এবং জনসাধারণের ভোগান্তি কমাতে, গাইবান্ধা জেলা শহরের দুটি সড়কে ১৬৬ মিটার দীর্ঘ দুটি সেতু নির্মাণ করেছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। যদিও নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও, সেতু দুটির সুফল এখনও স্থানীয়রা পাননি। সংযোগ সড়ক অভাবে দীর্ঘ সময় ধরে সেতু দুটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অপরদিকে, পাশের সরু ও পুরাতন নষ্ট সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচল করছে, এ কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, গাইবান্ধা জেলা শহরের প্রবেশমুখে, ব্যস্ততম গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ সড়কের নতুন ব্রিজ এলাকায় ঘাঘট নদীর ওপর পুরাতন সেতুর পাশে ২০২২-২৩ অর্থবছরে, প্রায় ৭৬ মিটার দীর্ঘ ঘাঘট-২ নামের একটি নতুন সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এ কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর এবং শেষ হবে ২০২৪ সালের জুন মাসে।
আরও পড়ুন: নারায়ণ জেলার গার্মেন্টস সেক্টরে আন্দোলনের শিথিল রাখার অঙ্গীকার জেলা প্রশাসক
জেলা শহরের আরেক প্রবেশপথ, গাইবান্ধা-বালাশীঘাট সড়কের পুলবন্দি এলাকায়, পুরাতন সরু সেতু নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে এবং যানজট নিরসনে ২০২২ সালের ২ নভেম্বর শুরু হয়, প্রায় ৯০ মিটার দীর্ঘ আলাই সেতুর নির্মাণ কাজ। এই কাজও শেষ হবে ২০২৪ সালের জুন মাসে।
যদিও প্রায় দুই বছরের শ্রমসাধ্য কাজ শেষে সেতু দুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে, তবে সংযোগ সড়কের অভাবে সেতু দুটি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। জেলা শহরের দুটি প্রবেশপথেই পুরাতন সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল অব্যাহত রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব সেতুর কাজ শেষ হলেও সুফল না পাওয়ার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
নতুন ব্রিজ এলাকার বাসিন্দা মিঠুন মিয়া জানান, দীর্ঘ সময় ধরে সেতু দুটির কাজ সম্পন্ন হলেও, সেতু দুটি এখনও চালু হচ্ছে না। তিনি বলেন, রাত্রিকালে সেতু দুটি মাদক সেবীদের আস্তানায় পরিণত হচ্ছে।
পুলবন্দি এলাকার বাসিন্দা শাহরিয়ার রবিন জানিয়েছেন, সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করেছেন, কিন্তু তার সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। পরিত্যক্ত অবস্থায় সেতু দুটি নষ্ট হচ্ছে এবং এছাড়া, সরু সেতুতে মানুষের ভোগান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আরও পড়ুন: দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় তরুণদের নেতৃত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে: চসিক প্রশাসক
গাইবান্ধা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিয়াস কুমার সেন জানান, নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই সেতুগুলো চালু করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে সংযোগ সড়কের ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে এটি সম্ভব হচ্ছে না। ভূমি অধিগ্রহণসহ সকল কাজ দ্রুত শেষ করতে চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ দুটি সেতু, জরাজীর্ণ, অপ্রশস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিদ্যমান বেইলি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সেতু প্রতিস্থাপন প্রকল্পের আওতায়, ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেছে জেলা সড়ক ও জনপদ বিভাগ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন