ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নারায়ণগঞ্জে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে যৌথবাহিনী


নারায়ণগঞ্জে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে যৌথবাহিনী

কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, নাশকতা ও অপতৎপরতা রোধে নারায়ণগঞ্জে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে জেলা পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সোমবার (২২ জুন) মধ্যরাত থেকেই জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে সেনাবাহিনীর টহল।

একই সঙ্গে যেকোনো অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কঠোর নজরদারি ও টহল দিচ্ছে পুলিশ, র‍্যাব এবং বিজিবি।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. রায়হান কবির সময় সংবাদকে জানিয়েছেন, একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ৬টি ইউনিটে ভাগ হয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকাসহ সবকটি উপজেলায় মধ্যরাত থেকে টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

আরও পড়ুন: রাজশাহী নগরীতে চোরাই ল্যাপটপ ও একডজন মোবাইল ফোন সহ গ্রেফতার ২

জেলা প্রশাসক আরও জানান, জেলাজুড়ে এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি এবং সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। যেকোনো ধরনের উস্কানি বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুরো জেলায় গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৃষ্টি ও উজানের ঢলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নদ-নদীর পানি বেড়েছে, বন্যার সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:১৬ এম


বৃষ্টি ও উজানের ঢলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নদ-নদীর পানি বেড়েছে, বন্যার সম্ভাবনা

টানা বৃষ্টি এবং উজান থেকে প্রবাহিত পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকার নদনদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছু এলাকায় নদীভাঙন ঘটে গেছে, আবার কিছু জায়গায় জলাবদ্ধতাও দেখা দিয়েছে। সুনামগঞ্জ, গাইবান্ধা এবং কক্সবাজারের টেকনাফে এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে জনজীবনে।

উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রবাহ চলতে থাকায় সুনামগঞ্জের নদী ও হাওরের পানির স্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে গত রোববারের সঙ্গে তুলনা করলে ঢলের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়ক থেকেও পানি নেমে গেছে।

সোমবার (২২ জুন) পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর উচ্চতা ছিল ৭ দশমিক ১৮ মিটার, যা বিপৎসীমার ৬২ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছে। কিন্তু ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেতে পারে, এটি জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার মন্তব্য করেন, আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টি হলে নদী ও হাওরে পানি বাড়বে। কিছু কিছু জায়গায় পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে, তবে বড় ধরনের বন্যার শঙ্কা ফেলছেন না তিনি।

অন্যদিকে, তাহিরপুরের বড়দল পুরানহাটি এলাকায় পাহাড়ি ঢলের ফলে খালের পাড় ভেঙে পড়ে রুবেল মিয়া (৩০) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনা ঘটে গতকাল সকাল ৯টার দিকে।

স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, খালের তীব্র স্রোতে পাড় ভেঙে পাশের একটি ঘর ধসে পড়ে। পরিবারের অন্য সদস্যরা বের হতে পারলেও ঘরের ভেতরে আটকা থাকা রুবেল মিয়া বের হতে পারেননি। প্রায় সাত ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর বিকেলে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছেন।

টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীতে ভয়াবহ ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। গত এক সপ্তাহে উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভোরের পাখি চর এলাকায় দেড় শতাধিক বসতভিটা এবং চার শতাধিক একর ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে, বলছেন স্থানীয় জনপ্রতिनिधিরা। স্থানীয়দের দাবি, ভাঙন ঠেকাতে ফেলা জিও ব্যাগগুলো তিস্তার তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে। ভাঙনের মুখোমুখি থাকা পরিবারগুলো ঘরবাড়ি সরাতে হিমশিম খাচ্ছে। কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম জানান, সরকারি উদ্যোগে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলা হলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। স্থায়ী সমাধান চেয়েছেন চরবাসী।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের তথ্য মতে, তিস্তার চরাঞ্চল বর্তমানে কৃষির সম্ভাবনাময় এলাকা হলেও প্রতিবছর ভাঙনে শত শত হেক্টর কৃষিজমি নদীতে হারিয়ে যাচ্ছে। এতে কৃষকদের উৎপাদন এবং জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম জানান, ভাঙনপ্রবণ এলাকায় জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলার কাজ চলছে। তবে নদী খনন, ড্রেজিং ও নদীশাসন ছাড়া তিস্তার ভাঙন স্থায়ীভাবে রোধ করা সম্ভব নয়।

এদিকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চলের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়ে পড়ায় নৌকাই এখন মানুষের একমাত্র ভরসা।

কক্সবাজারের টেকনাফে দুই-তিন দিন ধরে টানা ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করছে।

স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের তথ্য অনুযায়ী, হ্নীলা, সদর ইউনিয়ন, বাহারছড়া, হোয়াইক্যং, শাহপরীর দ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ফসলি জমি এবং চিংড়ি ঘেরেরও ক্ষতি হয়েছে।

গত সোমবার সকালে মাছ শিকার শেষে ফেরার পথে উত্তাল সাগরে শাহপরীর দ্বীপের দক্ষিণপাড়ার একটি ফিশিং ট্রলার ডুবে গেছে। তবে ট্রলারের মাঝিমাল্লারা সাঁতরে নিরাপদে তীরে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন। এই ঘটনায় মোট ২০ লাখ টাকার মাছ ও জালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।

টেকনাফ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুর রশিদ আহমেদ বলেন, টানা বর্ষণের ফলে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে আহ্বান করা হচ্ছে।

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিহাদ জানান, ভারী বর্ষণের ফলে একটি নির্মাণাধীন সেতুর অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইসঙ্গে পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি পানিবন্দি হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষ দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে।

আবহাওয়া ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উজানে বৃষ্টি এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে আগামী কয়েক দিনে নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে যেহেতু এখনও বড় ধরনের বন্যার কোনও শঙ্কা নেই, তাই স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন এবং পাহাড়ধসের ঝুঁকি অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিয়ানমারে চারটি বড় গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:১৯ এম


মিয়ানমারে চারটি বড় গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান

মিয়ানমারের সমুদ্র অঞ্চলে চারটি নতুন অফশোর গ্যাস ক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। দেশটির সামরিক সরকার জানিয়েছে যে, এই আবিষ্কার দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সংকট কাটিয়ে উঠতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নতুন গ্যাস ক্ষেত্রগুলো আয়েয়ারওয়াদি ও তানিনথারই অঞ্চলের অফশোর রিজার্ভ এলাকায় অবস্থিত। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, চারটি ক্ষেত্র মিলিয়ে মোট প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত প্রায় ১০৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) হতে পারে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বড় গ্যাস ক্ষেত্রটি তানিনথারইয়ের গভীর সমুদ্র এলাকায় অবস্থিত। সেখানে প্রায় ৯৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যার সম্ভাব্যতা প্রায় ৯০ শতাংশ বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, আয়েয়ারওয়াদি অঞ্চলে আবিষ্কৃত গ্যাস ক্ষেত্রে প্রায় ১৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুত থাকতে পারে এবং এর সম্ভাব্যতা প্রায় শতভাগ বলে দাবি করা হয়েছে।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন ঘোষিত গ্যাস ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে তানিনথারই অঞ্চলের একটি ব্লকও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যেখানে পূর্ববর্তী এক প্রতিবেদনে প্রায় ৯৪ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুতের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

আন্দামান সাগরের দক্ষিণ তানিনথারই উপকূলে কাদান দ্বীপের কাছে অবস্থিত এই ব্লকটির আয়তন প্রায় ১৩ হাজার বর্গকিলোমিটার। ২০১৫ সালে সিঙ্গাপুরভিত্তিক কানাডিয়ান ফরসাইট গ্রুপ মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস প্রতিষ্ঠান এমওজিইয়ের সঙ্গে এ ব্লকের জন্য প্রোডাকশন-শেয়ারিং চুক্তি স্বাক্ষর করে।

২০১৭ সালের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মিয়ানমারের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত এ খাত থেকে আসতে পারে। সে সময় গ্যাস মজুদের সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ২৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হিসেবে অনুমান করা হয়েছিল।

মিয়ানমার সরকার জানিয়েছে যে, নতুন গ্যাস ক্ষেত্রগুলোর সম্পদ বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার শিল্প এবং অন্যান্য শিল্প খাতে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস সংস্থা এমওজিই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকায় প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ বাস্তবায়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে।

জ্বালানি খাতে এই বড় আবিষ্কার মিয়ানমারের অর্থনীতির জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: দ্য ইরাবতী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেউলিয়া থেকে শীর্ষস্থানে: স্যামসাংকে টপকে বাজিমাত এসকে হাইনিক্সের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:২৩ এম


দেউলিয়া থেকে শীর্ষস্থানে: স্যামসাংকে টপকে বাজিমাত এসকে হাইনিক্সের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) কাজে লাগিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট এসকে হাইনিক্স স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের ২৬ বছরের শীর্ষ অবস্থান দখল করে নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায়, বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ১.৩৫ ট্রিলিয়ন ডলারে। ফলে, দুই দশক আগে দেউলিয়া হতে বসা কোম্পানিটি এখন দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পৌঁছে গেছে।

এসকে হাইনিক্স দেশে একটি শীর্ষ টেক জায়ান্ট কোম্পানি; এক সময় ঋণের ভারে দেউলিয়া হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে ব্যবহৃত এইচবিএম (হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি) চিপের বাজারে নেতৃত্ব দিচ্ছে। সোমবার (২২ জুন) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে স্যামসাংকে টপকে শীর্ষস্থান দখল করে এসকে হাইনিক্স।

৫ দশমিক ৭ শতাংশ শেয়ারের দাম বৃদ্ধির পর কোম্পানিটির বাজার মূলধন দাঁড়ায় ১.৩৫ ট্রিলিয়ন ডলার। একই দিনে ০.৪ শতাংশ শেয়ারদর বাড়লেও শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারেনি স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স।

বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এনভিডিয়া ও গুগলের মতো কোম্পানির এআই সিস্টেমে ব্যবহৃত হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি চিপের প্রধান সরবরাহকারী এখন এসকে হাইনিক্স। এআই প্রযুক্তির প্রসারের ফলে চলতি বছরেই কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ৩৪০ শতাংশেরও বেশি, যেখানে স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের শেয়ার বেড়েছে প্রায় ২০০ শতাংশ।

স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স মেমোরি চিপের পাশাপাশি স্মার্টফোন ও টেলিভিশন উৎপাদনে মনোযোগী হলেও, হাইনিক্স দীর্ঘদিন ধরে শুধুমাত্র মেমোরি চিপ প্রযুক্তিতেই বিশেষায়িত ছিল। এই কৌশলগত ফোকাসই তাদের বর্তমান সাফল্যের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

১৯৮৩ সালে হুন্দাই ইলেকট্রনিক্স নামে কোম্পানিটির যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালে এসকে গ্রুপের শেয়ার অধিগ্রহণের পর এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় এসকে হাইনিক্স।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতের সঙ্গে দ্রুত কৌশলগত আলোচনা শুরু করতে চীনের আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:২৬ এম


ভারতের সঙ্গে দ্রুত কৌশলগত আলোচনা শুরু করতে চীনের আহ্বান

চীন ও ভারতের মধ্যে স্থগিত থাকা বিভিন্ন কৌশলগত আলোচনা দ্রুত চালুর আহ্বান জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য ওয়াং ই।

তিনি বলেছেন, এই দুই দেশের বাণিজ্য, অর্থনীতি, আইন প্রয়োগ, গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরো বাড়ানো উচিত। সোমবার নয়াদিল্লিতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠককালে এ কথা বলেন ওয়াং ই।

মঙ্গলবার ভোরে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়। বৈঠকে ওয়াং ই বলেন, চীন ও ভারতের উচিত একে অপরকে সম্মান করা এবং সংবেদনশীল বিষয়গুলো সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করা। তিনি বলেন, সীমান্ত বিরোধকে এমনভাবে সামাল দিতে হবে, যাতে তা দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত না করে।

দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা বেশিরভাগ কৌশলগত আলোচনার অচলাবস্থায় চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন মন্তব্য এসেছে। এর আগে চলতি মাসে ভারতে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত জু ফেইহংও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। বেঙ্গালুরুতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, চীন ও ভারতের মধ্যে সরকার পর্যায়ে প্রায় ৫০টি কৌশলগত আলোচনা রয়েছে। কিন্তু এর বেশিরভাগই এখনো বন্ধ অবস্থায় আছে।

সোমবার নয়াদিল্লিতে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকের ফাঁকে ওয়াং ই ও অজিত ডোভালের মধ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভারতের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলা হয়, দুই নেতা সাম্প্রতিক সময়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পথে এগোচ্ছে বলেও মত দেন তারা। তবে বাস্তবে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া এখনো ধীরগতির। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালুর মতো বিষয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।

অনেক গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত আলোচনা এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। এদিকে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের পরবর্তী বৈঠকের জন্য অজিত ডোভালের বেইজিং সফরের প্রস্তুতিও চলছে। এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, এই সফরের মাধ্যমে আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ভারত সফর করবেন কি না, সে বিষয়েও কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে ওয়াং ই উল্লেখ করেন যে, চীন ও ভারত বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুটি দেশ এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শক্তি। তিনি বলেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ধীরে ধীরে কঠিন সময় পার করে উন্নয়নের পথে ফিরছে। ওয়াং ইর ভাষায়, চীন ও ভারত প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার। এটি দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল কৌশলগত সমঝোতা। তিনি বলেন, বিশ্বের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দুই দেশের উচিত দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়া এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে সহযোগিতা বাড়ানো।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগাযোগ আবার শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতিও মোটামুটি শান্ত ও স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি বলেন, এই অগ্রগতি সহজে আসেনি। তাই দুই দেশের উচিত এই অর্জনগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সম্পর্ক উন্নয়নে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। ওয়াং ইর মতে, দুই দেশ একে অপরের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে সহযোগিতা করতে পারে। পাশাপাশি গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নেও একসঙ্গে ভূমিকা রাখতে পারে।

বৈঠকে ওয়াং ই বাণিজ্য, অর্থনীতি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা এবং গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন খাতে কৌশলগত আলোচনা ও যোগাযোগ দ্রুত চালুর ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা গড়ে তুলতে হবে এবং পারস্পরিক আস্থা বাড়াতে সামাজিক ও জনসমর্থনের ভিত্তি আরো শক্তিশালী করতে হবে। ব্রিকস প্রসঙ্গে ওয়াং ই বলেন, চীন, ভারত এবং অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর উচিত একসঙ্গে কাজ করে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরো ন্যায়সঙ্গত ও ভারসাম্যপূর্ণ করার চেষ্টা করা।

চীনের বিবৃতিতে অজিত ডোভালের বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে। ডোভাল বলেন, ভারত ও চীন প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার। একটি স্থিতিশীল ও গঠনমূলক ভারত-চীন সম্পর্ক দুই দেশেরই স্বার্থ রক্ষা করে। তিনি বলেন, ভারত কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয় এবং দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়নে কাজ করতে চায়। ডোভাল আরো বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও সেগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা উচিত এবং এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে দুই দেশই লাভবান হতে পারে। চীনের বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ডোভাল ওয়াং ইকে বলেছেন যে, নতুন চীনকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর একটি ছিল ভারত। পাশাপাশি তাইওয়ান প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

সাম্প্রতিক এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টায় নতুন গতি আনতে পারে। তবে সীমান্ত ইস্যুসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো পুরোপুরি সমাধান না হওয়ায় সম্পর্কের উন্নতি কতটা দ্রুত হবে, তা সময়ই বলে দেবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%