ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় পাটের গোডাউন অফিসে আগুন


মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় পাটের গোডাউন অফিসে আগুন

মাদারীপুরে পাটের গোডাউনের ভিতরে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে একটি কার্যালয়ে (অফিস) আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে স্থানীয় বাসিন্দা লস্কর মোশতাক আহমেদের পাট ব্যবসায়ের গোডাউনে। আগুনের পর অফিসের আসবাবপত্র, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এবং কম্পিউটারসহ অন্যান্য মালামাল পুড়ে গেছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী দাবি করছেন, এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

রোববার (৭ জুন) মধ্যরাতে এই ঘটনা ঘটে মাদারীপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চরমুগরিয়া বন্দরে। পুলিশ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে লস্কর মোশতাক আহমেদ ওই পাটের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু কিছু বখাটে যুবক বেশ কিছুদিন ধরে পাটের গোডাউনের ভিতরে প্রবেশ করে মাদক সেবন করে আসছিল। বাধা দেওয়ার ফলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে গেছেন।

এই ঘটনায় রোববার মধ্যরাতে দুর্বৃত্তরা পাটের গোডাউনের অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনটি দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ফায়ার সার্ভিসে খবর জানান। খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই অফিসের ভিতরে অবস্থিত সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

আরও পড়ুন: মধুপুরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় এসআরবি-১৪-এর প্রেস ব্রিফিং

ভুক্তভোগী পাট ব্যবসায়ী লস্কর মোশতাক আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে মাদকসেবনকারীরা পরিকল্পিতভাবে আমার পাটের গোডাউনের অফিসে আগুন দিয়েছে। আগুনে আমার ব্যবসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও কম্পিউটারসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। আমি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।'

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, 'আগুনের খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কণ্ঠশিল্পী ঐশীর একক লাইভ কনসার্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১৪ পি.এম


মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কণ্ঠশিল্পী ঐশীর একক লাইভ কনসার্ট

মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক জমকালো সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন নিয়ে হাজির হচ্ছে ‘এক্সট্রিম ৫ প্রোডাকশনস এসডিএন বিএইচডি’।

আগামী রোববার (২৮ জুন) কুয়ালালামপুরের ঐতিহ্যবাহী ‘এইচজিএইচ কনভেনশন সেন্টারে’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ঐশীর একক লাইভ কনসার্ট। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হতে যাওয়া এই বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠানটি নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রবাসী শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে।

সোমবার (৮ জুন) আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কনসার্টের মোট ছয়টি ক্যাটাগরির টিকিটের মধ্যে ভিভিআইপি (ডায়মন্ড জোন), ভিআইপি (প্ল্যাটিনাম জোন), ভিআইপি (গোল্ড জোন) এবং রক জোনের সব টিকিট ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ বিক্রি হয়ে গেছে।

বর্তমানে সাধারণ দর্শকদের জন্য কেবল সিলভার ও ব্রোঞ্জ জোনের টিকিট সীমিত আকারে অবশিষ্ট রয়েছে। এর মধ্যে সিলভার জোনের সাধারণ মূল্য ১২০ রিঙ্গিত (আর্লি বার্ড ৭২ রিঙ্গিত) এবং ব্রোঞ্জ জোনের টিকিট ৯০ রিঙ্গিত (আর্লি বার্ড ৫৪ রিঙ্গিত)।

প্রবাসীদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিতে এই আয়োজনে টিকিটের ওপর বিশেষ আকর্ষণীয় ক্যাশ পুরস্কারের ঘোষণাও করেছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ।

কনসার্টের টিকিট কেটে র‍্যাফেল ড্র-এর মাধ্যমে প্রথম পুরস্কার হিসেবে ২ হাজার রিঙ্গিত, দ্বিতীয় পুরস্কার ১৫০০ রিঙ্গিত এবং তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে ১ হাজার রিঙ্গিত জেতার সুবর্ণ সুযোগ থাকছে।

অনুষ্ঠানটির টিকিট সরাসরি সংগ্রহের জন্য কুয়ালালামপুরের বুকিত বিনতাং-এ অবস্থিত ‘পিঠা ঘর রেস্টুরেন্ট’-কে টিকিট পার্টনার করা হয়েছে, যেখানে প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত টিকিট পাওয়া যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাজিরপুরে ধান সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়ম, প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১৬ পি.এম


নাজিরপুরে ধান সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়ম, প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী খাদ্যগুদামের (এলএসডি) কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বোরো ধান সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। চাষীরা অভিযোগ করছেন, প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান না কিনে, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ কারণে স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকেরা সরকার নির্ধারিত ন্যায্য মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

কৃষকদের দাবির মধ্যে রয়েছে, কষ্টার্জিত ভালো মানের ধান নিয়ে গুদামে গেলে, আর্দ্রতা বা অন্যান্য নানা অজুহাতে তাদের ধান ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ফড়িয়া, চাতাল ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের দেওয়া নিম্নমানের এবং অঙ্কুরিত ধান গুদামে অনায়াসে ঢুকছে। খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা ও লেবার সর্দারদের সহযোগিতায় এই সিন্ডিকেট চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি, সরকারি গুদামে ধান বিক্রির সুযোগ না পেয়ে, বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা নাজিরপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত করেছেন।

সরেজমিনে শ্রীরামকাঠী খাদ্যগুদামে গেলে দেখা যায়, গুদামের বাইরে হাজার হাজার বস্তা ধান স্তূপ করে রাখা হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, অন্যান্য সাধারণ চাষীরা যাতে ধান সরবরাহ করতে না পারেন, তাই পরিকল্পিতভাবে গুদামের সামনে এই জটলা তৈরি করা হয়েছে। এমনকি, কৃষকদের কৃষি কার্ড বিভিন্ন কৌশলে সংগ্রহ করে, সিন্ডিকেট চক্র ধান সরবরাহ করছে।

উপজেলার শ্রীরামকাঠী এলাকার কৃষক পরিতোষ হালদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, '৬ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। ধানের ফলন ভালো হয়েছে। এখন এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করতে ২০-২২ হাজার টাকা খরচ হয়। অথচ বাজারে বিক্রি করতে গেলে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকার বেশি দাম পাওয়া যায় না। আমরা কষ্ট করে ধান নিয়ে গোডাউনে গেলে ভিজা, চিটা, নানা অজুহাত দেখিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তবে প্রভাবশালী ও দলীয় লোক যারা ঘুষ দিতে পারেন, তাদের নিম্নমানের ধান ঠিকই গুদামজাত করা হচ্ছে। এ নিয়ে বেশি কথা বলতে গেলে এলাকায় হুমকির মুখে পড়তে হয়।'

একই উপজেলার দীর্ঘা ইউনিয়নের কৃষক শরিফুল বেপারী বলেন, 'আমি ২৫ মণ ধান নিয়ে গোডাউনে গিয়েছিলাম। কিন্তু ১০২ নম্বর সিরিয়াল বলে আমাকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। গোডাউনের সামনে ক্ষমতাশালীদের হাজার হাজার বস্তা ধান স্তূপ করে রাখা। সেই কারণে আমাদের ধান ভেতরে ঢুকাতে লম্বা সিরিয়াল দেখানো হয়। সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রি করতে না পেরে, আমরা কম দামে বাইরে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। দালালরা অফিসের লোকদের সাথে হাত মিলিয়ে কৃষকদের কার্ড দিয়ে এই বাণিজ্য করছে।'

চলতি বোরো মৌসুমে, নাজিরপুর উপজেলায় সরকার মণ প্রতি ১ হাজার ৪৪০ টাকা (কেজি প্রতি ৩৬ টাকা) মূল্যে ধান ক্রয় করছে। এ বছর উপজেলাটিতে সর্বমোট ১ হাজার ৩০৬ টন বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে, শ্রীরামকাঠী এলএসডি’র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিমা আক্তার সব ধরনের অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, 'সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করেই কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। কেউ ধান নিয়ে আসলে কাউকেই ফেরত দেওয়া হয়নি। বর্তমানে কিছু চটের বস্তার সংকট থাকায় সাময়িক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।'

গুদামের বাইরের স্তূপ ও কৃষি কার্ড জালিয়াতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'গোডাউনের বাইরে কী হয়, কে কীভাবে ধান কেনে বা বিক্রি করে তা আমার জানার কথা নয়। এখানে নিয়ম অনুযায়ী কৃষি কার্ড নিয়ে যে আসে, তাঁর ধানই আমরা রাখি। তিনি কার কার্ড বা কার ধান নিয়ে এসেছেন, সেটা যাচাই করা আমাদের কাজ নয়.'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঘন ঘন ভূমিকম্প কি কিয়ামতের আলামত?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১৯ পি.এম


ঘন ঘন ভূমিকম্প কি কিয়ামতের আলামত?

ভুটানে পরপর তিন দফা ভূমিকম্প হয়েছে, যার ফলে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা কেঁপে ওঠেছে। রোববার (৭ জুন) রাত ১১টা ৩৭ মিনিটে প্রথম কম্পন অনুভূত হয়, এবং তার প্রভাব উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকাসহ দেশের মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

জমিনের অভ্যন্তরে সাধারণত যে কম্পন-তরঙ্গ থেকে শক্তির সৃষ্টি হয়, সেটিকে ভূমিকম্প বলা হয়। ভূ-গর্ভের কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে এই তরঙ্গ উৎপন্ন হয়, এবং ক্রমে উৎসস্থল থেকে তা চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি ভয় দেখানোর জন্যই (তাদের কাছে আজাবের) নিদর্শনসমূহ পাঠাই।’ (সুরা: ইসরা ৫৯)

হজরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সা. বলেছেন,

‘কিয়ামত কায়েম হবে না, যে পর্যন্ত না ইলম ওঠিয়ে নেয়া হবে, অধিক পরিমাণে ভূমিকম্প হবে, সময় সংকুচিত হয়ে আসবে, ফিতনা প্রকাশ পাবে, হারজ বৃদ্ধি পাবে। (হারজ অর্থ খুনখারাবী) তোমাদের সম্পদ এত বৃদ্ধি পাবে যে, উপচে পড়বে।’ (বুখারি, হাদিস ৯৭৯)

কারণ, পৃথিবীতে যখন ব্যাপক হারে অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, অন্যায়-অবিচার ও বাদ্যযন্ত্রের প্রকাশ ঘটবে, তখন এই জাতি ভূমিকম্পের মুখোমুখি হবে। একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘এ উম্মত ভূমিকম্প, বিকৃতি এবং পাথরবর্ষণের মুখোমুখি হবে। একজন সাহাবি জিজ্ঞাসা করলেন, কখন এটা হবে হে আল্লাহ রাসুল সা.। তিনি বললেন, যখন গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্রের প্রকাশ ঘটবে, মদপানের সয়লাব হবে।’ (তিরমিজি, হাদিস ২২১২)

আর ভূমিকম্পের বিভীষিকা কত মারাত্মক, কোরআনের এক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মানব সকল, তোমরা ভয় করো তোমাদের রবকে। নিশ্চয়ই কিয়ামত দিবসের ভূকম্পন হবে একটা মারাত্মক ব্যাপার। যে দিন তোমরা তা প্রত্যক্ষ করবে, স্তন্যদায়ী মা তার দুগ্ধপোষ্য সন্তানের কথা ভুলে যাবে আর সব গর্ভবতীর গর্ভপাত হয়ে যাবে। দৃশ্যত মানুষকে মাতালের মতো দেখাবে, আসলে তারা নেশাগ্রস্ত হবে না। বস্তুত আল্লাহর শাস্তি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।’ (সুরা: হজ, আয়াত ১-২)

রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘যখন অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জিত হবে, কাউকে বিশ্বাস করে সম্পদ গচ্ছিত রাখা হবে কিন্তু তার খেয়ানত করা হবে, জাকাতকে দেখা হবে জরিমানা হিসেবে, ধর্মীয় শিক্ষা ছাড়া বিদ্যা অর্জন করা হবে, পুরুষ তার স্ত্রীর আনুগত্য করবে কিন্তু মায়ের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করবে, বন্ধুকে কাছে টেনে নিয়ে পিতাকে দূরে সরিয়ে দেবে, মসজিদে উচ্চস্বরে শোরগোল হবে, জাতির সবচেয়ে দুর্বল ব্যক্তিটি সমাজের শাসকরূপে আবির্ভূত হবে, সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি হবে নেতা, একজন মানুষ যে খারাপ কাজ করে খ্যাতি অর্জন করবে, তাকে তার খারাপ কাজের ভয়ে সম্মান প্রদর্শন করা হবে, বাদ্যযন্ত্র ও নারী শিল্পীর ব্যাপক প্রচলন হবে, মদ পান করা হবে, লোকজন তাদের পূর্ববর্তী মানুষগুলোকে অভিশাপ দেবে, এমন সময় তীব্র বাতাস প্রবাহিত হবে, এমন একটি ভূমিকম্প হবে যা সেই ভূমিকে তলিয়ে দেবে।’ (তিরমিজি, হাদিস ১৪৪৭)।

রাসুল সা. বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এ দোয়াটি তিনবার পড়বে সে ভূমি ও আকাশের দুর্যোগ থেকে হেফাজতে থাকবে। এছাড়া যে কোনো দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে পড়তে পারেন- لَا إِلَـٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ। অর্থ: তুমি ব্যতীত সত্য কোনো উপাস্য নেই, তুমি পবিত্র, নিশ্চয় আমি জালিমদের দলভুক্ত।’

রাসুল সা. তার উম্মতকে যেকোনো দুর্যোগের সময়, বিপদে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে বলেছেন। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি এ দোয়া তিনবার পড়বে সে ভূমি ও আকাশের দুর্যোগ থেকে হেফাজতে থাকবে।’

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ، فِي الْأَرْضِ، وَلَا فِي السَّمَاءِ، وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ। অর্থ: আল্লাহর নামে, যার নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো বস্তুই ক্ষতি করতে পারে না, তিনি সর্বশ্রোতা ও মহাজ্ঞানী।

এ ছাড়া দুর্যোগের সময় আরও যে দোয়া পড়তে পারেন- أَنتَ وَلِيُّنا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَاۖ وَأَنتَ خَيْرُ الْغَافِرِينَ। অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি যে আমাদের রক্ষক-সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন, আমাদের উপর করুনা করুন। তাছাড়া আপনি-ই তো সর্বাধিক ক্ষমাকারী। (সুরা আরাফ আয়াত ১৫৫)

ষাঁড় যখন শিং নাড়া দেয়, তখন পৃথিবীতে ভূমিকম্প হয়? গ্রামবাংলায় একটি কথা প্রচলিত রয়েছে। পুরো পৃথিবী একটি ষাঁড়ের শিংয়ের উপর রয়েছে। ষাঁড় যখন শিং নাড়া দেয় তখন পৃথিবীতে ভূমিকম্প হয়। কিন্তু ইসলামে এটার কোনো ভিত্তি কি আছে? এটি কি কোনো হাদিস? ইসলামে এমন কোনো বিষয়ের কোনো ভিত্তি নেই। এমন কথা কোনও হাদিসেও নেই। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আল্লামা ইবনুল কাইয়েম রহ. আবু হাইয়ান রহ. একে ভিত্তিহীন ও জাল বলেছেন। (আলমানারুল মুনিফ পৃষ্ঠা ৭৮, আলইসরাঈলিয়্যাত ওয়ালমাওযুআত ৩০৫)

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভ্যাপসা গরমে পুড়ছে বরিশাল, ৩৯ ডিগ্রিতে উঠতে পারে তাপমাত্রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:২২ পি.এম


ভ্যাপসা গরমে পুড়ছে বরিশাল, ৩৯ ডিগ্রিতে উঠতে পারে তাপমাত্রা

মৃদু তাপপ্রবাহে পুড়ছে বরিশাল। চলমান তাপদাহে থমকে গেছে দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান নগরীর স্বাভাবিক জনজীবন। আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে, এ মাসে তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে ঠেকতে পারে।

রোববার (৮ জুন) পূর্বাভাসে আরও এই তথ্য জানা গেছে।

এদিকে, দিন দিন তাপমাত্রার পারদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ভোগান্তির কারণে হাসপাতালে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডায়রিয়া, ডিহাইড্রেশনসহ গরমজনিত বিভিন্ন রোগের আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ উঁচুতে থাকবে। এই মাসে তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে ঠেকতে পারে বলেই জানা গেছে।

তবে পরিবেশ ও নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, প্রকৃতির এই বিরূপ আচরণের পেছনে শুধু জলবায়ু পরিবর্তন নয়, বরং অপরিকল্পিত নগরায়ন ও যন্ত্রের অবাধ ব্যবহারই সবচেয়ে বেশি দায়ী।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নগরীর প্রায় ২৫ হাজার ভবনে গড় হিসেবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) সংখ্যা প্রায় পৌনে দুই লাখ। এসব এসি থেকে প্রতিদিন নির্গত কোটি কোটি কিউবিক ফুট গরম বাতাস পুরো শহরকে যেন একটি জ্বলন্ত ওভেনে পরিণত করেছে।

নগরীর চকবাজার এলাকায় কথা হয় রিকশাচালক কালাম মিয়ার সঙ্গে; তিনি জানান, ‘রাস্তায় নামলে মনে হয় ওপর থেকে আগুন পড়ছে। আবার বড় বড় বিল্ডিংয়ের পাশ দিয়ে যখন যাই, মনে হয় গরম বাতাস গায়ে আইসা লাগে। রিকশা চালানোই এহন সবচেয়ে বেশি কষ্টের।’

একই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী লামিয়া আক্তার। তিনি বলেন, ‘আগে বরিশালে এত গরম লাগত না। এখন রাস্তায় বের হলে দম বন্ধ হয়ে আসে। চারদিকে শুধু ইট-পাথর আর এসি। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জীবন এখন ওষ্ঠাগত।’

নগরীর কৃত্রিম উত্তাপ ও অপরিকল্পিত বহুতল ভবন নির্মাণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন নগরপরিকল্পনাবিদ স্থপতি নূরুল হাসান সাক্ষর। তিনি বলেন, ‘আমাদের নগর পরিকল্পনায় মারাত্মক ত্রুটি রয়েছে। শহরে দিন দিন গাছপালা কমছে, আর তার জায়গা দখল করছে কাঁচ ঘেরা বহুতল ভবন। এই কাঁচের ভবনগুলো প্রচুর তাপ শোষণ করে। আবার ভেতরের কক্ষগুলো শীতল রাখতে মানুষ অবাধে এসি ব্যবহার করছে, যা বাইরের পরিবেশকে একটা জ্বলন্ত চুল্লিতে রূপান্তর করছে। আমাদের গ্রিন আর্কিটেকচার বা পরিবেশবান্ধব ভবনের দিকে দ্রুত নজর দেওয়া উচিত।’

এই সংকটের গভীরতা তুলে ধরে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর সমন্বয়ক লিঙ্কন বায়েন জানান, ‘প্রকৃতির ওপর মানুষের এই অত্যাচারই এখন আমাদের দিকে তেড়ে আসছে। এসিগুলো থেকে নির্গত ক্লোরোফ্লোরো কার্বন পরিবেশের ওজোন স্তরের মারাত্মক ক্ষতি করছে, একইসঙ্গে এই উত্তপ্ত বাতাস ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আটকে থেকে তৈরি করছে ‘হিট আইল্যান্ড’। এ কারণে বাতাসে আর্দ্রতা ও গরমের অনুভূতি দুটোই তীব্র হচ্ছে।’

আবহাওয়া অধিদফতর বরিশাল অফিসের উচ্চপর্যবেক্ষক আনিসুর রহমান জানান, ‘চলতি মাসে মৃদু তাপদাহ বইছে এবং মাসজুড়েই তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার আশঙ্কা রয়েছে।’

এদিকে আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যমতে, কৃত্রিম উত্তাপে প্রতি বছর বরিশালে গড় তাপমাত্রা বাড়ছে দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%