জামিরুল হক সুজন লালমনিরহাট প্রতিনিধি
১২:৫৮ এম
পাওনা টাকা পরিশোধ ও পারিশ্রমিক কমানোর অভিযোগে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর বাফার গোডাউনে শতাধিক শ্রমিক কর্মবিরতি পালন করছেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুর থেকে শ্রমিকরা সার ওঠানামার কাজ বন্ধ করে দিলে গোডাউনের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। এতে সার নিতে আসা ট্রাকচালক ও ডিলাররা ভোগান্তিতে পড়েন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের পাওনা টাকা পরিশোধ করা হয়নি। পাশাপাশি পারিশ্রমিক কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত দেড় বছরে বস্তাপ্রতি অতিরিক্ত ১ টাকা করে নিয়ে কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগও করেছেন তারা।
তবে শ্রমিকদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদার আব্দুল মজিদ মন্ডল। তিনি দাবি করেন, কয়েকজন শ্রমিক অন্যদের উসকানি দিয়ে কাজ বন্ধ করাচ্ছেন।
বিসিআইসির উপ-মহাব্যবস্থাপক আবু সাইদ রব্বানী জানান, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। সমাধান না হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
শ্রমিকরা দ্রুত পাওনা পরিশোধ, ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত ও অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ীর গােয়ালন্দে মাদক বিক্রির পাওনা টাকা নিয়ে বিরােধের জেরে শরিফুল ইসলাম (হিরা) (৪০) নামে এক যুবলীগ নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযােগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কামরুল ফকির (৩৬)কে হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে রাজবাড়ী জেলা গােয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও গােয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশ। শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে গােয়ালন্দ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তােরাইড় মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শরিফুল ইসলাম (হিরা) গােয়ালন্দ পৌর যুবলীগের প্রচার সম্পাদক ছিলেন। তিনি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন। তার গ্রামের বাড়ি গােয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাহাদুরপূর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত জাবেদ ভূইয়ার ছেলে। পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শরিফুল ইসলাম হিরা ও কামরুল ফকির ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। মাদক বিক্রির পাওনা ৬ হাজার টাকা নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোেধ চলছিল বলে পুলিশের ভাষ্য। এর মধ্যে সপ্তাহখানেক আগে শরিফুল ৩ হাজার টাকা পরিশােধ করেন। বাকি ৩ হাজার টাকা নিয়ে দুই দিন আগে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে গােয়ালন্দ বাজার থেকে কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফিরছিলেন শরিফুল। তিনি তারাইড় মােড় এলাকায় পৌঁছালে কামরুল ফকির তাঁর ওপর ছুরি দিয়ে হামলা করেন বলে জানা গেছে । এ সময় শরিফুলের বুকের পাঁজরে ছুরিকাঘাত করা হয়। হামলার পর কামরুল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। স্থানীয় লােকজন গুরুতর আহত অবস্থায় শরিফুলকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎ্সেক তাঁকে মৃততে ঘােষণা করেন ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত কামরুল ফকিরকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। পরে রাজবাড়ী জেলা গোেয়েন্দা শাখা ও গােয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে গ্রপ্তার করে । গ্রেপ্তার কামরুল ফকির গােয়ালন্দ পৌরসভায় চলাচলকারী ইজিবাইকের টোল আদায়ের কাজ করতেন। তিনি গােয়ালন্দ পৌরস- ভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুমড়াকান্দি গ্রামের মৃত সিদ্দিক ফকিরের ছেলে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম বলেন, সকালে ছুরিকাঘাতে শরিফুল ইসলাম নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত কামরুল ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, পাওনা টাকা না পাওয়াকে কেন্দ্র করে তিনি শরিফুলকে ছুরিকাঘাত করেন। তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানাে হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অল্প বয়সেই সাহিত্যচর্চায় নিজের প্রতিভার পরিচয় দিচ্ছেন হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের তরুণ লেখক ইয়াহিয়া আহমেদ। ভালোবাসা, প্রকৃতি, মানুষের আবেগ, না-পাওয়ার বেদনা ও জীবনের নানা অনুভূতিকে সহজ-সরল ভাষায় তুলে ধরে ইতোমধ্যে পাঠকদের নজর কেড়েছেন তিনি।
সম্প্রতি ইয়াহিয়া আহমেদের লেখা ‘লোভী’ কবিতাটি সামাজিক মাধ্যমে পাঠকদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা, না-পাওয়ার আক্ষেপ, আত্মঅনুশোচনা এবং মনের গভীর অনুভূতিকে আঞ্চলিক ভাষার আবহে তুলে ধরায় কবিতাটি পাঠকের কাছে আলাদা আবেদন তৈরি করেছে।
তবে ‘লোভী’ কবিতার সাফল্যের পেছনে রয়েছে ইয়াহিয়ার দীর্ঘদিনের নীরব সাহিত্যচর্চার গল্প।
ইয়াহিয়া আহমেদের সাহিত্যপ্রেমের শুরু ছোটবেলা থেকেই। নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি গল্পের বই পড়তে পছন্দ করতেন। গল্প পড়ার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই নিজের মতো করে লেখালেখিও করতেন তিনি। তবে সেই লেখাগুলো প্রকাশ করার সাহস ছিল না। নিজের লেখা কাউকে না দেখিয়ে ব্যক্তিগত ডায়েরির পাতায় লিখে রাখতেন।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে লেখালেখির আগ্রহও বাড়তে থাকে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের পরিচয়ে লেখার সাহস তখনো হয়ে ওঠেনি। লোকলজ্জা ও পরিচিতজনদের প্রতিক্রিয়ার ভয় থেকেই নিজের পরিচয় গোপন রাখতে একটি ফেক অ্যাকাউন্ট খুলে সেখানে লেখালেখি চালিয়ে যান তিনি।
অর্থাৎ, প্রকাশ্যে লেখক হিসেবে পরিচিত হওয়ার অনেক আগেই নীরবে একজন লেখক হয়ে ওঠার চেষ্টা করছিলেন ইয়াহিয়া।
সাহিত্য পড়ার ক্ষেত্রে ইয়াহিয়ার পছন্দের লেখকদের মধ্যে রয়েছেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আহমদ ছফা। বিশেষ করে তাঁর ‘অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী’ ইয়াহিয়াকে লেখালেখির প্রতি আরও গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।
বই পড়া, নিজের অনুভূতিকে ভাষায় প্রকাশ করার চেষ্টা এবং নিয়মিত লেখালেখি—সব মিলিয়ে ধীরে ধীরে সাহিত্য তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
দীর্ঘদিন নিজের পরিচয় গোপন রেখে লিখলেও তাঁর এই নীরব সাহিত্যচর্চার কথা জানতেন অল্প কয়েকজন। তাদের মধ্যে দুজন লেখকের অনুপ্রেরণা ইয়াহিয়ার সাহিত্যজীবনে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
তাদের একজন তাঁর বড় ভাইতুল্য লেখক S.H. সইকত। তাঁর লেখালেখি ও সাহিত্যচর্চা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ইয়াহিয়ার মধ্যেও লেখক হওয়ার স্বপ্ন আরও দৃঢ় হয়। তবে সেই স্বপ্নের কথা প্রকাশ্যে না এনে নিজের মতো করেই লিখে যেতে থাকেন তিনি।
অন্যদিকে, ইয়াহিয়ার মায়ের সমতুল্য আন্টি রাবেয়া পারভিন মুক্তা তাঁকে প্রকাশ্যে লেখালেখি করার জন্য উৎসাহ দেন। তাঁর অনুপ্রেরণা ইয়াহিয়ার জন্য ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ইয়াহিয়াকে বলেছিলেন—ভবিষ্যতে তিনি অনেক বড় লেখক হবেন।
এই উৎসাহই ইয়াহিয়ার দীর্ঘদিনের গোপন লেখালেখিকে ধীরে ধীরে প্রকাশ্যের পথে নিয়ে আসার অন্যতম শক্তি হয়ে দাঁড়ায়।
ইয়াহিয়া আহমেদ অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। এরপর প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা আর চালিয়ে যাননি। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
তবে ব্যবসার ব্যস্ততার মধ্যেও বই পড়া ও লেখালেখির অভ্যাস ছাড়েননি তিনি। সময় পেলেই বই পড়েন, নিজের অনুভূতিগুলোকে লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করেন এবং সাহিত্যচর্চা চালিয়ে যান।
প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা থেমে গেলেও বই ও সাহিত্য থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেননি ইয়াহিয়া। বরং নিজের আগ্রহ ও ভালোবাসা থেকেই সাহিত্যকে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ধরে রেখেছেন।
‘লোভী’ কবিতায় আঞ্চলিক ভাষার স্বতন্ত্র ব্যবহার
ইয়াহিয়ার ‘লোভী’ কবিতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—এতে প্রচলিত প্রমিত ভাষার পাশাপাশি স্বতন্ত্র কথ্য ও আঞ্চলিক শব্দের ব্যবহার দেখা যায়।
‘দূর থেইকা’, ‘ভালোবাসা জানাইতে গিয়া’, ‘লোভ করলাম তোমারে নিজের করার জন্য’—এ ধরনের শব্দ ও বাক্যরীতি কবিতাটিকে পাঠকের কাছে সহজ ও স্বাভাবিক করে তুলেছে।
প্রকৃতির বিভিন্ন উপমার মাধ্যমেও নিজের অনুভূতিকে প্রকাশ করেছেন ইয়াহিয়া। কখনো লজ্জাবতী গাছ, কখনো কাঞ্চনজঙ্ঘার বরফে সূর্যের আলো, আবার কখনো বাতাসে দোলা কৃষ্ণচূড়া ফুলের সঙ্গে মনের আবেগের তুলনা করেছেন তিনি। ফলে কবিতার অনুভূতিগুলো পাঠকের কল্পনায় আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে।
এর আগে ইয়াহিয়ার ‘চিত্তরঞ্জনের ঘাট’ ও ‘উল্কাপাত’ কবিতাও পাঠকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। ধারাবাহিকভাবে তাঁর লেখা বিভিন্ন কবিতা পাঠকের কাছে পৌঁছানোয় নবীন এই লেখককে ঘিরে সাহিত্যপ্রেমীদের আগ্রহও বাড়ছে।
সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি এবার গান লেখার ক্ষেত্রেও নিজের লেখা নিয়ে হাজির হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইয়াহিয়া আহমেদ।
তালাশ বিডির প্রতিনিধি তাঁর কাছে জানতে চাইলে সামনে নতুন কোনো গল্প, কবিতা বা সৃষ্টিশীল কাজ আসছে কি না, উত্তরে ইয়াহিয়া জানান, খুব শিগগিরই তাঁর লেখা একটি গান প্রকাশ হতে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে ইয়াহিয়া বলেন, “খুব শিগগির আমার লেখা একটি গান রিলিজ হবে। একজন নব্বইয়ের দশকের নামকরা শিল্পীর সঙ্গে আলোচনা চলছে। আশা করছি, দর্শক-শ্রোতাদের ভালো কিছু উপহার দিতে পারব।”
ইয়াহিয়া জানান, গানটির দুটি লাইন তিনি নিজের ব্যক্তিগত ব্লগে প্রকাশ করেছিলেন। এরপর ওই শিল্পীর একজন প্রতিনিধি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং গানটি নিয়ে চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরু করেন।
গানটির প্রকাশিত দুটি লাইন হলো—
“তুই তাকালে জোয়ার ভাটা,
চমকে উঠি আমি,
মহাকাশের চাঁদনী রে,
তুই আমি কি তুই হবি?”
গানটি নিয়ে ইয়াহিয়া আরও বলেন, এটি তাঁর জন্য নতুন একটি অভিজ্ঞতা। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি সংগীতের জগতেও নিজের লেখা পৌঁছে দিতে চান তিনি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে শ্রোতাদের জন্য ভালো কিছু উপহার দিতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই নবীন লেখক।
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ইয়াহিয়া আহমেদ। তাঁর পিতা মোহাম্মদ শওকত আকবর এবং মাতা শারমিন আক্তার শিরিন।
ছোটবেলা থেকে বই পড়া, ব্যক্তিগত ডায়েরিতে গোপনে লেখালেখি, পরিচয় গোপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখা প্রকাশ এবং পরবর্তীতে ধীরে ধীরে নিজের পরিচয়ে প্রকাশ্যে আসা—ইয়াহিয়ার সাহিত্যযাত্রা মূলত দীর্ঘদিনের নীরব সাধনার ফল।
প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা অষ্টম শ্রেণিতে থেমে গেলেও সাহিত্যচর্চা থামেনি। ব্যবসার পাশাপাশি বই পড়া, কবিতা লেখা এবং নতুন সৃষ্টিশীল কাজের মাধ্যমে নিজেকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।
তাঁর সাহিত্যচর্চার গল্পটি তাই শুধু একটি কবিতার জনপ্রিয়তার গল্প নয়; বরং একজন কিশোরের দীর্ঘদিনের লুকিয়ে রাখা স্বপ্ন ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসার গল্প।
নবীন এই লেখকের সাহিত্যচর্চা নিয়ে পাঠকদের প্রত্যাশা—সঠিক দিকনির্দেশনা, নিয়মিত পাঠাভ্যাস ও লেখালেখির মাধ্যমে ইয়াহিয়া ভবিষ্যতে আরও পরিণত ও মানসম্মত সাহিত্য সৃষ্টি করবেন।
‘লোভী’ কবিতার জনপ্রিয়তা যেন সেই দীর্ঘ নীরব সাহিত্যযাত্রারই একটি সুন্দর প্রকাশ্য সূচনা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরুতে টেকনিক্যাল কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। এ প্রকল্পে বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়া হচ্ছে। পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ জানান, অল্প কিছুদিনের মধ্যে মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে।
শনিবার দুপুরে কুড়িগ্রামের চিলমারী, উলিপুর, রৌমারী ও রাজীবপুরের নদীভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘তিস্তা একটি বড় প্রকল্প। একদিনে এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। আমাদের সরকারের বয়স মাত্র পাঁচ মাস। কিছুদিন সময় দিন। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করব।’
তিনি জানান, কুড়িগ্রামে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও নদীভাঙন রোধে দুটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার প্রায় ১০০টি ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে। নদীভাঙন রোধে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা করা হবে না।
এই পরিদর্শনের সময় কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজার রহমান, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব সালেহী, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি, জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান, সদস্যসচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিব ও শফিকুল ইসলাম বেবু এবং জেলা বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি, সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব:) জাহিদ ফারুক শামীমের ঘনিষ্ঠ অনুসারী ও চরকাউয়া ইউনিয়নের কর্নকাঠি এলাকার সাবেক মেম্বার আওয়ামী লীগ নেতা কালামের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে বন্দর থানা পুলিশ। তবে পুলিশের উপস্থিতির খবর টের পেয়ে গা-ঢাকা দেওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ই আগস্ট গভীর রাতে কালার মেম্বারকে গ্রেপ্তারে কর্নকাঠি এলাকায় তার নিজ বাসভবনে এ অভিযান পরিচালনা করে বন্দর থানা পুলিশ।
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে কর্নকাঠি এলাকায় ব্যাপক একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন কালাম মেম্বার। তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের জমি দখল, মাছের ঘের দখল, জোরপূর্বক ঠিকাদারি হারের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে ভূমি ভরাট এবং সালিশ-বিচারের নামে অপবিচারের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। তার ভয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ থানা বা পুলিশের কাছে অভিযোগ করার সাহস পর্যন্ত পেত না।
গত ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর কালাম মেম্বার কিছুদিন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে স্থানীয় বিএনপির কিছু প্রভাবশালী নেতাকে ম্যানেজ করে পুনরায় এলাকায় প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। আত্মগোপনে থাকা অবস্থাতেই তার সাথে পরিচয় হয় বরিশালের সাবেক র্যাবের ক্রসফায়ার তালিকার শীর্ষ সন্ত্রাসী 'নাক কাটা রুবেল'-এর। এর পর থেকে নাক কাটা রুবেল প্রায়শই কালাম মেম্বারের সাথে কর্নকাঠি এলাকায় যাতায়াত করত।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ১৭ই ডিসেম্বর রাতে, যখন বরিশাল নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ক্ষমতা দখলকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনার এক্সক্লুসিভ ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে তা সংবাদমাধ্যম 'তালাশ বিডি'-তে প্রকাশ করেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মাছুদুর রহমান আসলাম। সংবাদটি প্রকাশের সাথে সাথেই দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
পরবর্তীতে শীর্ষ সন্ত্রাসী নাক কাটা রুবেলের অতীত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে তালাশ বিডিতে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ শুরু করেন সাংবাদিক আসলাম। প্রতিবেদনগুলো প্রকাশের পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে নাক কাটা রুবেল ও তার গ্যাং।
এরই জেরে গত ২১শে জানুয়ারি সন্ধ্যায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের খেলার মাঠসংলগ্ন সড়কে সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলামের ওপর হামলার চেষ্টা চালানো হয়। তিনটি মোটরসাইকেলে করে নাক কাটা রুবেলের নেতৃত্বে কালাম মেম্বার ও গাঁজা রফিকসহ একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তাকে চারপাশ থেকে ঘেরাও করে। এ সময় তারা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে সাংবাদিক আসলামকে চরম গালিগালাজ করে এবং প্রকাশিত সব সংবাদ মুছে ফেলার হুমকি দেয়। সংবাদ প্রকাশ বন্ধ না করলে তাকে সরাসরি গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়ে সন্ত্রাসীরা স্থান ত্যাগ করে।
উক্ত ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক আসলাম ৩য় যুগ্ম বিচারক আদালতে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার নথি পর্যালোচনা করে বিচারক কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ঘটনাটি সরাসরি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রাজিব দাস সনেট দীর্ঘ তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা পেয়ে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের সময় আসামি কালাম মেম্বার অনুপস্থিত থাকায় এবং অপরাধের সাথে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) জারি করেন। সেই ওয়ারেন্টের ভিত্তিতেই বন্দর থানা পুলিশ তার বাড়িতে এই অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের বিষয়ে বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক চৌহালী জানান, "আদালতের পরোয়ানাভুক্ত আসামি সাবেক কালাম মেম্বারকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করতে আমাদের পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ