০১:১৯ পি.এম
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং সউদী আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার আশঙ্কা বাজারে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বুধবার (২১ অক্টোবর) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৩৪ ডলার বা ১ দশমিক ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ দশমিক ১০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ১৮ ডলার বা ১ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগের কার্যদিবসে দাম কিছুটা কমেছিল।
হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে একটি তেলবাহী সুপারট্যাংকারে আগুন লাগার খবর নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনীর দাবি, সমুদ্রের মাইনে আঘাত লাগার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজটি ইরানের নিয়ম লঙ্ঘন করছিল। তবে ঘটনার বিষয়ে ইরানি পক্ষের বক্তব্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: আসামে ১১০০ ঘরবাড়ি উচ্ছেদ, ১০ মসজিদ ধ্বংসের ঘটনায় ওলামা অ্যালায়েন্সের নিন্দা
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, দুই সপ্তাহে অন্তত ১৮টি জাহাজে হামলার খবর পাওয়া গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির বাইরেও ওমান উপসাগরে জাহাজ চলাচল ও তেল পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এসব নৌপথে বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ আরও সংকুচিত হতে পারে।
এদিকে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী সউদী আরবের আরামকো স্থাপনা, শায়বাহ তেলক্ষেত্র এবং রিয়াদ ও আবহা বিমানবন্দরে হামলার দাবি করেছে। এসব দাবির সবকটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তবে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও আঞ্চলিক নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তেলের বাজারে প্রভাব ফেলছে।
এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের বৈঠকে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হওয়ার পর বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংকট নিরসনের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত। ফলে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ কাটেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগও বিশ্বজুড়ে পরিশোধনাগারগুলোর সঙ্গে জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করছে। বিশেষ করে ডিজেলের সরবরাহসংকট ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত কমার আশঙ্কাও বাজারে দামের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন: তেহরানে ‘কারাবন্দি ট্রাম্প’, লেখা-এই দৃশ্য না দেখা অপরাধ
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। এই অঞ্চলে সংঘাত বাড়লে জাহাজ চলাচল, সরবরাহ ও পরিবহন ব্যয় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এবং জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে। তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন