১২:১৪ পি.এম
রাজাপুরে বিকাশ ব্যবসায়ীর ৭ লাখ টাকা ডাকাতি, আফজাল-লিটনসহ গ্রেপ্তার ৫
ঝালকাঠির রাজাপুরে বিকাশ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ৭ লাখ টাকা ও মোবাইল ফোন ডাকাতির ঘটনায় ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ডাকাত সরদারসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৮, সিপিএসসি, বরিশাল। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. আফজাল হোসেন, লিটন হাওলাদার, আবুল কালাম, চান মিয়া ও মামুন হাওলাদার। অভিযানে তাঁদের কাছ থেকে নগদ ১ লাখ ৯ হাজার ৫৫১ টাকা ও চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ১৭ অক্টোবর ২০২৬ রাত আনুমানিক ৯টা ৪৫ মিনিটে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বারাকপুর এলাকায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিকাশ ব্যবসায়ী মো. সুমন হোসেন রাজাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৯টা ৪৫ মিনিটে বারাকপুর এলাকায় পৌঁছালে বিকাশ ব্যবসায়ী মো. সুমন হোসেনের পথরোধ করে দেশীয় অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা। এ সময় ধারালো রামদা ও লোহার রড দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়। পরে তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে বিকাশ ব্যবসার নগদ ৭ লাখ টাকা ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার অধিযাচনের পর এসআরবি-৮, সিপিএসসি, বরিশালের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২০ অক্টোবর রাতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, মো. আফজাল হোসেন (৫০), পিতা মো. গণী শরীফ; লিটন হাওলাদার (৩০), পিতা মনজুরুল আলম মুন্না; আবুল কালাম (৩৮), পিতা মৃত ওয়াজেদ আলী হাওলাদার; চান মিয়া (২৯), পিতা আবুল খায়ের মৃধা; এবং মামুন হাওলাদার (২৪), পিতা মজিবর হাওলাদার।
এসআরবি-৮-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে গ্রেপ্তার পাঁচজনের কাছ থেকে নগদ ১ লাখ ৯ হাজার ৫৫১ টাকা ও চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর কাছ থেকে লুট হওয়া মোট ৭ লাখ টাকার তুলনায় উদ্ধার করা নগদ অর্থের পরিমাণ কম। হিসাব অনুযায়ী, লুট হওয়া অর্থের মধ্যে ৫ লাখ ৯০ হাজার ৪৪৯ টাকা এখনো উদ্ধারের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে উদ্ধার করা ১ লাখ ৯ হাজার ৫৫১ টাকা সরাসরি বিকাশ ব্যবসায়ী সুমন হোসেনের কাছ থেকে লুট হওয়া অর্থ কি না, তা সরবরাহ করা তথ্যে নিশ্চিত করা হয়নি। একইভাবে, উদ্ধার করা চারটি মোবাইল ফোনের মধ্যে ভুক্তভোগীর লুট হওয়া ফোনটি রয়েছে কি না, সে বিষয়েও নির্দিষ্ট তথ্য উল্লেখ নেই। তাই উদ্ধার করা অর্থ ও মোবাইল ফোনের সঙ্গে ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া মালামালের সম্পর্ক তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: নওগাঁয় ভাড়া বাসায় জাল টাকার কারবার, ডিবির হাতে গ্রেপ্তার জব্বার
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিটন হাওলাদারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্য অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
গ্রেপ্তার পাঁচজনকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঝালকাঠির রাজাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ডাকাতির ঘটনায় তাঁদের সংশ্লিষ্টতা, লুট হওয়া অবশিষ্ট অর্থ এবং ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন উদ্ধারের বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে পরবর্তী তথ্য জানা যাবে।
আরও পড়ুন: মাগুরায় বিএনপি নেতা হত্যা মামলায় সাবেক ওসি ও এসআইকে কারাগারে পাঠাল আদালত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন