১০:২৯ পি.এম
দীর্ঘ সাত বছরের পর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজেদের জলসীমা আরও ১০ নটিক্যাল মাইল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জাপানের ওসাকা ও কোবে বন্দরের আদলে জলসীমা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এবার সীতাকুণ্ড হয়ে মীরসরাই ইকোনোমিক জোনের উপকূল পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত করে ৭২ নটিক্যাল মাইল জলসীমার প্রস্তাব নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
তবে সামনের দিকে জলসীমা বাড়ানোর এই কার্যক্রম অর্থনৈতিক সুবিধা বৃদ্ধি করলেও জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আরও পড়ুন: এ বছর পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি, ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হবে না: কৃষিমন্ত্রী
সবশেষ ২০১৯ সালে ৫০ নটিক্যাল মাইল বাড়িয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজেদের জলসীমা ৬২ নটিক্যাল মাইল করেছিল। এবার তা বাড়িয়ে সীতাকুণ্ড হয়ে মীরসরাই ইকোনোমিক জোনের উপকূল পর্যন্ত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এই সম্প্রসারণের ফলে সীতাকুণ্ড উপকূলের শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডও বন্দরের জলসীমার আওতায় আসবে।
মূলত নির্ধারিত জলসীমার মধ্যে অবস্থান করা নৌযান থেকে নির্দিষ্ট হারে শুল্ক আদায় করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রতিবছর এ খাত থেকে আয় হয় অন্তত এক হাজার কোটি টাকা। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (মেরিন অ্যান্ড হারবার) কমোডর আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ জানান, নদীর গভীরতা ও নাব্যতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই এ পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বন্দরের জলসীমা ৭২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
চারশ বছরের পুরানো এই বন্দরের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়ার সময় এর জলসীমা ছিল মাত্র ৬ নটিক্যাল মাইল। ২০১১ সালে তা আরও ৬ নটিক্যাল মাইল বাড়িয়ে আলফা-ব্রেভো ও চালিং অ্যাংকরেজে বিভক্ত করা হয়। এবার এই তিনটি অঞ্চলের সীমানায় পরিবর্তন এনে সন্দ্বীপের প্রথম অক্ষর ‘এস’ নামে নতুন একটি অ্যাংকরেজ তৈরি করা হবে।
একই সঙ্গে কর্ণফুলী নদীর মোহনা ও পতেঙ্গা এলাকায় অবস্থান করা লাইটারেজ জাহাজগুলোকে সন্দ্বীপ চ্যানেলের কাছাকাছি এলাকায় স্থানান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে।
আরও পড়ুন: গণরায় না মানলে জনগণ লালকার্ড দেখিয়ে দেবে: গোলাম পরওয়ার
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য মো. জাফর আলম বলেন, "শুধু বন্দরের সীমা বাড়ালেই হবে না, সেখানে প্রয়োজনীয় সেবাও নিশ্চিত করতে হবে।" তিনি আরও জানান, নিয়মিত ড্রেজিং, বয়া স্থাপন এবং নিরাপদ নৌচলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
এদিকে, পতেঙ্গা উপকূল ঘিরে বর্তমানে দেশের অন্যতম বৃহৎ মেগা প্রকল্প বে টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে বড় আকারের জাহাজ ভিড়বে। পাশাপাশি মীরসরাই ইকোনোমিক জোনে পণ্য পরিবহন সহজ করতে নতুন জলসীমা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে এর সঙ্গে কোস্টগার্ডের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।
কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মো. মিজানুর রহমান বলেন, "আরও দ্রুতগতির জলযান কোস্টগার্ডের বহরে যুক্ত করতে হবে।" তিনি জানান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।
বর্তমানে কনটেইনারবাহী জাহাজগুলো বন্দরের জিসিবি, সিসিটি ও এনসিটি টার্মিনালে ভিড়ে পণ্য খালাস করে। প্রতিবছর এ ধরনের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ ৩২ লাখেরও বেশি। অন্যদিকে চাল, গম, সিমেন্ট ক্লিংকার ও স্ক্র্যাপ লোহাবাহী মাদার ভেসেলগুলো বহির্নোঙরে অবস্থান করে লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে পণ্য খালাস করে। প্রতিবছর চট্টগ্রাম বন্দরে চার হাজারের বেশি পণ্যবাহী জাহাজ আসে।
আরও পড়ুন: মিশিগানের প্রথম বাংলাদেশি মেয়র হতে চলেছেন মুহিত মাহমুদ
বর্তমানে ৬২ নটিক্যাল মাইলের জলসীমা বাড়িয়ে ৭২ নটিক্যাল মাইল করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মীরসরাই থেকে কক্সবাজারের মাতারবাড়ি পর্যন্ত বন্দরের কার্যক্রম বিস্তৃত হবে। তবে, এহেন বড় সমুদ্রসীমায় জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রত্যাশিত সেবা প্রদান করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন