১০:৫৬ এম
ঢাকার দক্ষিণখান থানাধীন ফায়দাবাদ এলাকার জামতলা গলিতে থেকে দূর্বৃত্তরা এক নারী চিকিৎসককে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকালে পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার মির্জা তারেক আহমেদ বেগ জানিয়েছেন, গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে ওই নারীকে হত্যা করা হয়। তিনি যোগ করেছেন যে, খুন হওয়ার পাশাপাশি ঘরের জিনিসপত্রও লুট হয়েছে।
নিহত সারা রোকসানা পিনু কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের শিক্ষক মজিবুল হক বাচ্চুর মেয়ে। তার দুটি স্কুল পড়ুয়া ছেলে এবং একটি মেয়ে রয়েছে। তবে ঘটনা ঘটার সময় পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারী নিজেই বাসায় ছিলেন।
আরও পড়ুন: অরুণাচল সীমান্তে চীনের নিয়ন্ত্রণে ভারতের 'অসহায়ত্ব', মোদি সরকার ব্যাকফুটে
পরিবারের সদস্যদের দাবি, দুর্বৃত্তরা গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে সারা রোকসানাকে হত্যা করে। পরে বাসায় থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
নিহতের ছেলে জানিয়েছেন, সে বাসায় ছিল না। পরে এসে দেখে তার আম্মুকে গেস্ট রুমে হত্যা করা হয়েছে। গ্রিল কেটে খুনি বাসায় ঢুকেছে এবং বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। তার মা যতো স্বর্ণ ও টাকা ছিল, সব নিয়ে গেছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, দুর্বৃত্তরা স্বর্ণালংকারের জন্য বাসায় ঢুকেছে বলে তাদের ধারণা। তবে বাসার কিছু জিনিসপত্র ও প্যাকেট এখনো পড়ে রয়েছে। পুলিশ আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত শেষ করার পর সেগুলোতে হাত দেওয়ার কথা ভাবছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় সারা রোকসানা বাসায় একাই ছিলেন এবং তার স্বামী প্রতিদিনের মতো অফিসে ছিলেন। স্বামী তার মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: মাদরাসা শিক্ষকদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে আহমাদুল্লাহর সমালোচনা ও সতর্কতা
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বেগ বলেন, বিকেল ৩টার পর গ্রিল কেটে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। একই সঙ্গে ঘরের বিভিন্ন মালামালও লুট করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেছেন, ভুক্তভোগী নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে এবং ঘরের জিনিসপত্র লুট হওয়ার ঘটনারও সত্যতা রয়েছে।
দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিব উল্লেখ করেছেন, সাধারণত স্কুল ছুটির পর নিহত নারী তার মেয়েকে স্কুল থেকে নিয়ে আসতেন। কিন্তু ওই দিন তিনি স্কুলে না যাওয়ায় তার মেয়ে কিছুক্ষণের জন্য অপেক্ষা করে নিজে বাসায় ফিরে আসে। পরে পরিস্থিতি দেখে আবার স্কুলে ফিরে শিক্ষকের কাছে বিষয়টি জানায়। তার শিক্ষকই পরে তার বাবাকে খবর দেন।
এসআই হাবিব জানিয়েছেন, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দেখতে পায়। সেই সময় নিহতের স্বামী ও ছোট মেয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ঘটনার ব্যাপারে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হয়। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের গ্রিল কাটা অবস্থায় মিলেছে এবং বাসার আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় ছিল। তবে কীভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, কী কী মালামাল খোয়া গেছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
আরও পড়ুন: দক্ষিণ কোরিয়া সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন