ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাজধানীতে বাসায় ঢুকে নারী চিকিৎসককে হত্যা


রাজধানীতে বাসায় ঢুকে নারী চিকিৎসককে হত্যা

ঢাকার দক্ষিণখান থানাধীন ফায়দাবাদ এলাকার জামতলা গলিতে থেকে দূর্বৃত্তরা এক নারী চিকিৎসককে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকালে পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার মির্জা তারেক আহমেদ বেগ জানিয়েছেন, গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে ওই নারীকে হত্যা করা হয়। তিনি যোগ করেছেন যে, খুন হওয়ার পাশাপাশি ঘরের জিনিসপত্রও লুট হয়েছে।

নিহত সারা রোকসানা পিনু কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের শিক্ষক মজিবুল হক বাচ্চুর মেয়ে। তার দুটি স্কুল পড়ুয়া ছেলে এবং একটি মেয়ে রয়েছে। তবে ঘটনা ঘটার সময় পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারী নিজেই বাসায় ছিলেন।

আরও পড়ুন: অরুণাচল সীমান্তে চীনের নিয়ন্ত্রণে ভারতের 'অসহায়ত্ব', মোদি সরকার ব্যাকফুটে

পরিবারের সদস্যদের দাবি, দুর্বৃত্তরা গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে সারা রোকসানাকে হত্যা করে। পরে বাসায় থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

নিহতের ছেলে জানিয়েছেন, সে বাসায় ছিল না। পরে এসে দেখে তার আম্মুকে গেস্ট রুমে হত্যা করা হয়েছে। গ্রিল কেটে খুনি বাসায় ঢুকেছে এবং বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। তার মা যতো স্বর্ণ ও টাকা ছিল, সব নিয়ে গেছে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, দুর্বৃত্তরা স্বর্ণালংকারের জন্য বাসায় ঢুকেছে বলে তাদের ধারণা। তবে বাসার কিছু জিনিসপত্র ও প্যাকেট এখনো পড়ে রয়েছে। পুলিশ আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত শেষ করার পর সেগুলোতে হাত দেওয়ার কথা ভাবছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় সারা রোকসানা বাসায় একাই ছিলেন এবং তার স্বামী প্রতিদিনের মতো অফিসে ছিলেন। স্বামী তার মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: মাদরাসা শিক্ষকদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে আহমাদুল্লাহর সমালোচনা ও সতর্কতা

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বেগ বলেন, বিকেল ৩টার পর গ্রিল কেটে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। একই সঙ্গে ঘরের বিভিন্ন মালামালও লুট করা হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেছেন, ভুক্তভোগী নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে এবং ঘরের জিনিসপত্র লুট হওয়ার ঘটনারও সত্যতা রয়েছে।

দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিব উল্লেখ করেছেন, সাধারণত স্কুল ছুটির পর নিহত নারী তার মেয়েকে স্কুল থেকে নিয়ে আসতেন। কিন্তু ওই দিন তিনি স্কুলে না যাওয়ায় তার মেয়ে কিছুক্ষণের জন্য অপেক্ষা করে নিজে বাসায় ফিরে আসে। পরে পরিস্থিতি দেখে আবার স্কুলে ফিরে শিক্ষকের কাছে বিষয়টি জানায়। তার শিক্ষকই পরে তার বাবাকে খবর দেন।

এসআই হাবিব জানিয়েছেন, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দেখতে পায়। সেই সময় নিহতের স্বামী ও ছোট মেয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ঘটনার ব্যাপারে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হয়। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের গ্রিল কাটা অবস্থায় মিলেছে এবং বাসার আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় ছিল। তবে কীভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, কী কী মালামাল খোয়া গেছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন: দক্ষিণ কোরিয়া সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ২ ফিলিস্তিনি নিহত, আহত কয়েক ডজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:০১ এম


গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ২ ফিলিস্তিনি নিহত, আহত কয়েক ডজন

গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় দুই ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এসব হামলায় আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ। শুক্রবার (৩১ জুলাই) গাজার বিভিন্ন স্থানে এসব হামলা করা হয়।

আনাদোলু এজেন্সি রিপোর্ট করেছে, মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় আবু আরিফ সড়কে ইসরায়েলি হামলায় ৩৩ বছর বয়সী মাহমুদ মোহাম্মদ ফাতায়ী নিহত হয়েছেন। শুহাদা আল-আকসা হাসপাতালের চিকিৎসা সূত্র জানাচ্ছে, একই এলাকায় সালাহ আল-দিন সড়কে ইসরায়েলি হামলায় ৩৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ আবদেল নাসের আল-খাতিবও প্রাণ হারিয়েছেন।

চিকিৎসা সূত্রের বরাতে আনাদোলু জানায়, আবু আরিফ সড়কে থাকা জনতার একদলকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুজন আহত হন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।

এদিকে, মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের পূর্ব দিকে অবস্থিত একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১০ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। আল-আওদা হাসপাতালের চিকিৎসা সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের মতে, ইসরায়েলি গোয়েন্দারা ফোনের মাধ্যমে বাসিন্দাদের ওই এলাকা ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়ার পর, আল-হাওয়াজরি পরিবারের একটি বহুতল ভবনে বিমান হামলা চালিয়ে সেটি ধ্বংস করা হয়।

দেইর আল-বালাহর দক্ষিণে অন্য একটি পরিবারের বাড়িতেও ইসরায়েলি হামলা ঘটেছে। এতে বাড়িটি ধ্বংস হয়েছে এবং সেখানে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে।

দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমে আল-মাসলাহ এলাকায় বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আরও কিছু ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া আল-আলাম ও আবু হামিদ গোলচত্বরের কাছে, ইসরায়েলি সামরিক যান থেকে গুলি চালালে দুজন মাঝারি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন বলে চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে।

উত্তর গাজা সিটির আল-সাফতাউই এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় আরও চার ফিলিস্তিনি আহত হন। শুক্রবার ভোরে গাজা সিটির উত্তর-পশ্চিমাংশে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে করা ড্রোন হামলায় একজন নারী এবং একজন শিশু আহত হয়। জাবালিয়া ও গাজা সিটিতে আল-ইসরায়েলি কোয়াডকপ্টারের গুলিতেও পৃথকভাবে দুজন আহত হয়েছেন।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও হামলা অব্যাহত রয়েছে।

আনাদোলুর প্রতিবেদনে পরিস্কার করা হয়েছে, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত চুক্তির ফলে গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ ঘটানো এবং এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে প্রত্যাহার হবে। তবে সাংবাদিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা চলছেই।

আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ২০৯ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩ হাজার ৯৪৩ জন আহত হয়েছেন। নিহতের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। হামলায় গাজায় বিপুল ধ্বংসযজ্ঞও হয়েছে।

এর আগে ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন বলেও দাবী করা হয়েছে। এই সময়ে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে উটের সঙ্গে সেনাবাহিনীর গাড়ির সংঘর্ষে মেজর নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:০৭ এম


ভারতে উটের সঙ্গে সেনাবাহিনীর গাড়ির সংঘর্ষে মেজর নিহত

ভারতে উটের সঙ্গে সেনাবাহিনীর একটি গাড়ির সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গাড়ির চালক হিসেবে দায়িত্ব পালনরত মেজর নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়ে দুই সেনা কর্মকর্তা বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

পুলিশ জানায়, মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা এবং ২৬ বছর বয়সী মেজর হামজা আরিফ ছিল গাড়ির চালক। হঠাৎ করে একটি উট সড়কে উঠে এলে গাড়িটি সেটিকে ধাক্কা দেয় এবং সংঘর্ষের পর গাড়িটি চার থেকে পাঁচবার উল্টে যায়, শেষে প্রায় ১০০ মিটার দূরে গিয়ে থামে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পরে তিন সেনা কর্মকর্তাকে দ্রুত সেনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা মেজর হামজা আরিফকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ আরও জানায়, নিহত হামজা আরিফের মাত্র এক মাস আগে বিয়ে হয়েছিল। দুর্ঘটনায় আহত দুই সেনা কর্মকর্তা হলেন লেফটেন্যান্ট আয়ুষ্মান এবং লেফটেন্যান্ট অভিনব রাঠোর, যারা বর্তমানে সেনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের তিন নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:১১ এম


নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের তিন নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

নোয়াখালী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের তিন নেতার বহিষ্কারাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রদল প্রত্যাহার করেছে।

বহিষ্কারের পর ৯১ দিন গত হওয়ার পর শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সংবাদ নিশ্চিত করে।

জানা গেছে, চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কলেজ শাখা ছাত্রদলের এই তিন নেতাকে বহিষ্কার এবং সভাপতির পদ স্থগিত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। পরে যদিও সভাপতির পদ পুনবহাল করা হয়, কিন্তু এ তিন নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়নি। সেই সময় তাদেরকে দলীয় সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সবশেষ, ৯১ দিন পর গতকাল শুক্রবার রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নোয়াখালী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহ-সভাপতি আখতারুজ্জামান বিশাল ও সহ-সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন শাওনের বিরুদ্ধে থাকা বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর সাংগঠনিক সকল কার্যক্রম পরিচালনায় তাদের জন্য আর কোন বাধা রইলো না। এখন থেকে তারা দলীয় সকল কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট কারাগার থেকে মুক্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:১৬ এম


পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট কারাগার থেকে মুক্ত

পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট ওলান্তা হুমালার বিরুদ্ধে দেওয়া ১৫ বছরের কারাদণ্ড বাতিল করেছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। একই সঙ্গে আদালত তার বিরুদ্ধে চলা পুরো ফৌজদারি মামলার কার্যক্রমও বাতিল ঘোষণা করেছে।

আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর শুক্রবার রাতে রাজধানী লিমার বারবাদিয়ো কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

ওলান্তা হুমালা ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পেরুর প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ২০২৫ সালে একটি আদালত তাকে অর্থ পাচারের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়। অভিযোগ ছিল, ২০০৬ ও ২০১১ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের জন্য তিনি ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উগো চাভেজ এবং ব্রাজিলের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ওডেব্রেখটের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ নিয়েছিলেন।

রায় ঘোষণার পরই হুমালা জানিয়েছিলেন, তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। পরে বিষয়টি পেরুর সাংবিধানিক আদালতে যায়। আদালত মামলার শুনানি শেষে তার বিরুদ্ধে পরিচালিত পুরো ফৌজদারি কার্যক্রম বাতিল করে দেয়।

আদালতের সিদ্ধান্তের পর শুক্রবার রাতে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। এ সময় কারাগারের বাইরে তার অনেক সমর্থক জড়ো হন। মুক্তি পাওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে হুমালা দাবি করেন, তিনি এবং তার পরিবার রাজনৈতিক ও বিচারিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। রায়ের পর হুমালার আইনজীবী হুলিও এস্পিনোজা গোয়েনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, নির্বাচনী প্রচারের জন্য যে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল, আদালতের মতে তা অর্থ পাচারের অপরাধের মধ্যে পড়ে না। তিনি এই বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, এখন মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে খারিজ করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি আদালতের। এই মামলায় হুমালার স্ত্রী নাদিন এরেদিয়াকেও ২০২৫ সালে অর্থ পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। তাকেও ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে রায়ের পর তিনি ব্রাজিলের দূতাবাসে আশ্রয় চান এবং পরে নিরাপদে ব্রাজিলে যাওয়ার অনুমতি পান।

ওলান্তা হুমালা ছিলেন পেরুর চার সাবেক প্রেসিডেন্টের একজন, যাদের নাম ব্রাজিলের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ওডেব্রেখটের বহুল আলোচিত দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে উঠে আসে। অভিযোগ ছিল, হুমালা ও তার স্ত্রী মিলে গড়ে তোলা ন্যাশনালিস্ট পার্টির জন্য ওডেব্রেখটের কাছ থেকে ৩০ লাখ ডলার অবৈধ অর্থ নিয়েছিলেন। সেই অর্থ ২০১১ সালের নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া ২০০৬ সালের নির্বাচনী প্রচারের জন্য তারা ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উগো চাভেজের কাছ থেকে আরো দুই লাখ ডলার নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ ছিল। তবে শুরু থেকেই হুমালা ও তার স্ত্রী সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন। তাদের দাবি ছিল, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

ওডেব্রেখট কেলেঙ্কারির কারণে পেরুর আরো কয়েকজন সাবেক প্রেসিডেন্ট আইনি জটিলতায় পড়েন। উল্লেখ্য যে, ওডেব্রেখট কেলেঙ্কারি হলো বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ দুর্নীতি ও ঘুষ কেলেঙ্কারি, যা ব্রাজিলভিত্তিক নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ওডেব্রেখট-এর সঙ্গে জড়িত। এই প্রতিষ্ঠানটি ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে সরকারি ঠিকাদারির কাজ পাওয়ার জন্য সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের শত শত কোটি ডলার ঘুষ দেয়। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট থাকা আলেহান্দ্রো তোলেদোকে গত বছর ওডেব্রেখটের কাছ থেকে ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঘুষ নেওয়ার দায়ে ২০ বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ এবং ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত দুই দফায় প্রেসিডেন্ট থাকা আলান গার্সিয়া ২০১৯ সালে আত্মহত্যা করেন। তার বিরুদ্ধে ওডেব্রেখটের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তারের প্রস্তুতি চলছিল। যদিও তিনি জীবিত অবস্থায় সব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। এছাড়া ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট থাকা পেদ্রো পাবলো কুচিনস্কির বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার সময় তিনি ওডেব্রেখটের কাছ থেকে কয়েক মিলিয়ন ডলার পেয়েছিলেন। তবে কুচিনস্কিও দাবি করে আসছেন, ওই অর্থ নেওয়ার মধ্যে কোনো অবৈধতা ছিল না।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা ওলান্তা হুমালা ২০০০ সালে জাতীয়ভাবে আলোচনায় আসেন। সে সময় তিনি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুহিমোরির বিরুদ্ধে স্বল্প সময়ের একটি সামরিক বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন। ২০০৬ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিলেও তিনি জিততে পারেননি। পরে ২০১১ সালের নির্বাচনে তুলনামূলক মধ্যপন্থী নীতি নিয়ে প্রচার চালিয়ে ডানপন্থী প্রার্থী কেইকো ফুহিমোরিকে পরাজিত করেন। কেইকো ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুহিমোরির বড় মেয়ে।

২০১৬ সালে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব শেষ হওয়ার কিছুদিন পরই তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। ওই সময় ওডেব্রেখট স্বীকার করে, ব্যবসায়িক সুবিধা পাওয়ার জন্য তারা লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক দলকে শত শত মিলিয়ন ডলার ঘুষ দিয়েছিল। এরপর হুমালা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা হয়। বিচার শুরুর আগে তাদের এক বছর আটক রাখা হয় এবং পরে ২০২৫ সালে আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করে। তবে সর্বশেষ সাংবিধানিক আদালতের রায়ে হুমালার সাজা বাতিল হওয়ায় তিনি মুক্তি পেলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%