ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট কারাগার থেকে মুক্ত


পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট কারাগার থেকে মুক্ত

পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট ওলান্তা হুমালার বিরুদ্ধে দেওয়া ১৫ বছরের কারাদণ্ড বাতিল করেছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। একই সঙ্গে আদালত তার বিরুদ্ধে চলা পুরো ফৌজদারি মামলার কার্যক্রমও বাতিল ঘোষণা করেছে।

আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর শুক্রবার রাতে রাজধানী লিমার বারবাদিয়ো কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

ওলান্তা হুমালা ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পেরুর প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ২০২৫ সালে একটি আদালত তাকে অর্থ পাচারের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়। অভিযোগ ছিল, ২০০৬ ও ২০১১ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের জন্য তিনি ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উগো চাভেজ এবং ব্রাজিলের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ওডেব্রেখটের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ নিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: নাইজেরিয়ায় প্রথম ইবোলা আক্রান্তের ভাইরাসের কেনিয়ার ভাইরাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মিল

রায় ঘোষণার পরই হুমালা জানিয়েছিলেন, তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। পরে বিষয়টি পেরুর সাংবিধানিক আদালতে যায়। আদালত মামলার শুনানি শেষে তার বিরুদ্ধে পরিচালিত পুরো ফৌজদারি কার্যক্রম বাতিল করে দেয়।

আদালতের সিদ্ধান্তের পর শুক্রবার রাতে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। এ সময় কারাগারের বাইরে তার অনেক সমর্থক জড়ো হন। মুক্তি পাওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে হুমালা দাবি করেন, তিনি এবং তার পরিবার রাজনৈতিক ও বিচারিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। রায়ের পর হুমালার আইনজীবী হুলিও এস্পিনোজা গোয়েনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, নির্বাচনী প্রচারের জন্য যে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল, আদালতের মতে তা অর্থ পাচারের অপরাধের মধ্যে পড়ে না। তিনি এই বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, এখন মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে খারিজ করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি আদালতের। এই মামলায় হুমালার স্ত্রী নাদিন এরেদিয়াকেও ২০২৫ সালে অর্থ পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। তাকেও ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে রায়ের পর তিনি ব্রাজিলের দূতাবাসে আশ্রয় চান এবং পরে নিরাপদে ব্রাজিলে যাওয়ার অনুমতি পান।

ওলান্তা হুমালা ছিলেন পেরুর চার সাবেক প্রেসিডেন্টের একজন, যাদের নাম ব্রাজিলের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ওডেব্রেখটের বহুল আলোচিত দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে উঠে আসে। অভিযোগ ছিল, হুমালা ও তার স্ত্রী মিলে গড়ে তোলা ন্যাশনালিস্ট পার্টির জন্য ওডেব্রেখটের কাছ থেকে ৩০ লাখ ডলার অবৈধ অর্থ নিয়েছিলেন। সেই অর্থ ২০১১ সালের নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া ২০০৬ সালের নির্বাচনী প্রচারের জন্য তারা ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উগো চাভেজের কাছ থেকে আরো দুই লাখ ডলার নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ ছিল। তবে শুরু থেকেই হুমালা ও তার স্ত্রী সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন। তাদের দাবি ছিল, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

ওডেব্রেখট কেলেঙ্কারির কারণে পেরুর আরো কয়েকজন সাবেক প্রেসিডেন্ট আইনি জটিলতায় পড়েন। উল্লেখ্য যে, ওডেব্রেখট কেলেঙ্কারি হলো বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ দুর্নীতি ও ঘুষ কেলেঙ্কারি, যা ব্রাজিলভিত্তিক নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ওডেব্রেখট-এর সঙ্গে জড়িত। এই প্রতিষ্ঠানটি ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে সরকারি ঠিকাদারির কাজ পাওয়ার জন্য সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের শত শত কোটি ডলার ঘুষ দেয়। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট থাকা আলেহান্দ্রো তোলেদোকে গত বছর ওডেব্রেখটের কাছ থেকে ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঘুষ নেওয়ার দায়ে ২০ বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: ভেনেজুয়েলার তেল পরিশোধনে রিলায়েন্সের সঙ্গে কাজ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ এবং ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত দুই দফায় প্রেসিডেন্ট থাকা আলান গার্সিয়া ২০১৯ সালে আত্মহত্যা করেন। তার বিরুদ্ধে ওডেব্রেখটের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তারের প্রস্তুতি চলছিল। যদিও তিনি জীবিত অবস্থায় সব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। এছাড়া ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট থাকা পেদ্রো পাবলো কুচিনস্কির বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার সময় তিনি ওডেব্রেখটের কাছ থেকে কয়েক মিলিয়ন ডলার পেয়েছিলেন। তবে কুচিনস্কিও দাবি করে আসছেন, ওই অর্থ নেওয়ার মধ্যে কোনো অবৈধতা ছিল না।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা ওলান্তা হুমালা ২০০০ সালে জাতীয়ভাবে আলোচনায় আসেন। সে সময় তিনি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুহিমোরির বিরুদ্ধে স্বল্প সময়ের একটি সামরিক বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন। ২০০৬ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিলেও তিনি জিততে পারেননি। পরে ২০১১ সালের নির্বাচনে তুলনামূলক মধ্যপন্থী নীতি নিয়ে প্রচার চালিয়ে ডানপন্থী প্রার্থী কেইকো ফুহিমোরিকে পরাজিত করেন। কেইকো ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুহিমোরির বড় মেয়ে।

২০১৬ সালে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব শেষ হওয়ার কিছুদিন পরই তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। ওই সময় ওডেব্রেখট স্বীকার করে, ব্যবসায়িক সুবিধা পাওয়ার জন্য তারা লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক দলকে শত শত মিলিয়ন ডলার ঘুষ দিয়েছিল। এরপর হুমালা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা হয়। বিচার শুরুর আগে তাদের এক বছর আটক রাখা হয় এবং পরে ২০২৫ সালে আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করে। তবে সর্বশেষ সাংবিধানিক আদালতের রায়ে হুমালার সাজা বাতিল হওয়ায় তিনি মুক্তি পেলেন।

আরও পড়ুন: সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক শুরু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাজ্যে তুর্কি নাগরিক গ্রেপ্তার, হামাসকে অর্থ ও রসদ দেওয়ার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:২০ এম


যুক্তরাজ্যে তুর্কি নাগরিক গ্রেপ্তার, হামাসকে অর্থ ও রসদ দেওয়ার অভিযোগ

যুক্তরাজ্যে শুক্রবার তুরস্কের একজন নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো, তিনি একটি ভুয়া আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পরিচয়ে হামাসকে অর্থ, খাদ্য ও অন্যান্য রসদ সরবরাহের ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন।

গ্রেপ্তার হওয়া এই ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ ইউসুফ হাসনা এবং তিনি ৪৫ বছর বয়সী। ইস্তাম্বুলের বাসিন্দা হাসনাকে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে আটক রাখা হবে। পরে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নেওয়া হবে। মার্কিন অ্যাটর্নি জেমি ম্যাকডোনাল্ড বলেছেন, মানবিক সহায়তার আড়ালে হাসনা হামাসের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে সংগঠনটিকে অর্থ, খাদ্য ও অন্যান্য রসদ সরবরাহ করে আসছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র হামাসকে একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। হাসনার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে কে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন, তা এখনো জানা যায়নি। তার বিরুদ্ধে হামাসকে বস্তুগত সহায়তা দেওয়ার ষড়যন্ত্র, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের ষড়যন্ত্র এবং সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এই প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। মার্কিন সরকারের অভিযোগ অনুযায়ী, অন্তত ২০২৩ সাল থেকে হাসনা হামাসের শীর্ষ নেতা ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্য গাজী হামাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের ৪ জন নিহত, ১৫ জন আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:২৪ এম


রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের ৪ জন নিহত, ১৫ জন আহত

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার স্থানীয় কর্মকর্তারা এই তথ্য জানিয়েছেন। হামলার পূর্বে কিয়েভের মেয়র শহরটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা জারি করেছিলেন।

এ হামলার ঘটনা ঘটে যখন জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ২০২২ সালের এপ্রিল মাসের পর চলতি বছরের জুন মাসটি ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কারণ, মস্কো ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর ও জনবসতিতে দূরপাল্লার হামলা বৃদ্ধি করেছে।

খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। শহরের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, আহত ১৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে রয়েছে ১৩ ও ১৭ বছর বয়সী দুই কিশোরও।

হামলার শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় মেয়র ক্লিচকো উল্লেখ করেন, ‘শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। কিয়েভে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। সবাই নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করুন।’

এএফপির সাংবাদিকরাও কিয়েভে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে ১০টিরও বেশি বিস্ফোরণ ঘটে এবং বিস্ফোরণের তীব্রতায় শহরের বিভিন্ন স্থানে গাড়ির অ্যালার্ম বাজতে শুরু করে।

অন্যদিকে, প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার ভেতরে পাল্টা দূরপাল্লার হামলা বৃদ্ধি করেছে। কিয়েভের দাবি, এসব হামলার মাধ্যমে তারা মস্কোকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে চায়।

এদিকে, রাশিয়ার একটি বড় অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজ শুক্রবার জানায়, রাতের হামলায় ভলগোগ্রাদে তাদের একটি লজিস্টিকস কেন্দ্র আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার ধারাবাহিকতায় এটি সর্বশেষ ঘটনা।

ইউক্রেনের অভিযোগ, ওয়াইল্ডবেরিজ তাদের স্থাপনায় ড্রোনের যন্ত্রাংশ সংরক্ষণ করে এবং রুশ সেনাবাহিনীকে সহায়তা দিয়ে আসছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

এদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের সময় উভয় পক্ষ একে অপরের ভূখণ্ডে দূরপাল্লার হামলা অব্যাহত রাখে।

বৈঠক শেষে জেলেনস্কি দাবি করেন, ট্রাম্প ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন। তবে, ট্রাম্প এই বিষয়ে সংক্ষেপে মন্তব্য করে বলেন, ‘অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে’ এবং ‘বৈঠকটি খুবই ভালো হয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের ‘যেকোনো উন্মত্ততার’ জবাবে ব্যাপক পরিকল্পনা ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:২৬ এম


যুক্তরাষ্ট্রের ‘যেকোনো উন্মত্ততার’ জবাবে ব্যাপক পরিকল্পনা ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অবকাঠামোয় হামলা চালায়, তবে তার জবাব দিতে তেহরান একটি ব্যাপক পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে বলেই জানিয়েছেন দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা।

ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজকে ওই কর্মকর্তা জানান, মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলা ইরান ‘উন্মত্ততা’ মনে করছে। তবে, এমন হামলা হলে তার জবাব দেওয়ার জন্য ইরান সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত রয়েছে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইরানের পাল্টা পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবকাঠামোকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তিনি জানান, ৪০ দিনের যুদ্ধ এবং পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের সক্ষমতা ও পাল্টা জবাব দেওয়ার দৃঢ়তা ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে।

ইরানের এই বক্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক একাধিক হুমকির প্রেক্ষাপটে এসেছে। ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, তেহরান পরমাণু ইস্যুতে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় নিচ্ছে। এ কারণে তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতুসহ বিভিন্ন অবকাঠামোয় নতুন করে হামলার নির্দেশ দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন।

এর আগে, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ৪০ দিনের মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সময়ও ইরানের অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। যদি তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে না নেয়, তবে এসব হামলা চালানো হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল।

তাসনিমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওই সময়ের হামলায় ইরানের বিভিন্ন স্থাপনা এবং বেসামরিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরে একটি স্কুলে হামলার ফলে ১৬০ জনের বেশি ছাত্রী নিহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। এছাড়া, তেহরানে হাসপাতাল, আবাসিক এলাকা ও একটি সিনাগগেও হামলার অভিযোগ উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানে তুষারধস, ৩ পর্বতারোহীর মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:২৮ এম


পাকিস্তানে তুষারধস, ৩ পর্বতারোহীর মরদেহ উদ্ধার

পাকিস্তানের কারাকোরাম পর্বতমালার ব্রড পিকে ভয়াবহ তুষারধসে তিনজন পর্বতারোহী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার উদ্ধারকারীরা তিনটি মরদেহ উদ্ধার করেন, যাদের মধ্যে নেপালি, ওমানি এবং মার্কিন পর্বতারোহী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ অন্যদের জন্য তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শনিবার গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রড পিকের চূড়ায় ওঠার সময় একটি আন্তর্জাতিক পর্বতারোহী দলের ওপর তুষারধস আঘাত হানে, ফলে পর্বতারোহীরা বেস ক্যাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন।

উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন—নেপালি পর্বতারোহী পুর বাহাদুর গুরুং, ওমানি পর্বতারোহী নাথিরা আহমেদ এবং মার্কিন পর্বতারোহী ম্যালোরি গাইস। তাদের মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এর আগে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন যে, অনুসন্ধানকারী দল চারজন পর্বতারোহীর দেহাবশেষের সন্ধান পেয়েছে, তবে চতুর্থ ব্যক্তির পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

তীব্র তুষারঝড় ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে খারাপ আবহাওয়ার কারণে হেলিকপ্টার চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে।

গিলগিট-বালতিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী আমজাদ হুসেন জানিয়েছেন, উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তল্লাশি চালানোর পর শনিবার আবারও অভিযান শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারও অংশ নিয়েছে।

পাকিস্তান আলপাইন ক্লাবের সহসভাপতি কারার হায়দরি জানান, ব্রড পিকের চূড়ায় ওঠার চেষ্টা করার সময় তুষারধসের কবলে পড়ার পর পর্বতারোহীরা তাদের বেস ক্যাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলেন।

দুর্ঘটনাকবলিত দলে বিভিন্ন দেশের পর্বতারোহীরা ছিলেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন নেপালি, একজন ওমানি, একজন মার্কিন, একজন পাকিস্তানি, একজন চীনা এবং আরও একজন বিদেশি পর্বতারোহী ছিলেন।

নিখোঁজদের মধ্যে কোনো চীনা নাগরিক রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বেইজিং। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং জানিয়েছেন, চীনা নাগরিকদের সহায়তা এবং পাকিস্তানের উদ্ধার তৎপরতায় সহযোগিতা করতে চীন প্রস্তুত।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮ হাজার ৪৭ মিটার (২৬ হাজার ৪০১ ফুট) উচ্চতার ব্রড পিক বিশ্বের দ্বাদশ সর্বোচ্চ পর্বত। পাকিস্তানের কারাকোরাম পর্বতমালায় অবস্থিত এই পর্বত প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্বতারোহীদের আকর্ষণ করে। তবে ব্রড পিকসহ কারাকোরাম অঞ্চলের পর্বতগুলোতে তুষারধস, তীব্র ঠান্ডা এবং দ্রুত আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%