প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট ওলান্তা হুমালার বিরুদ্ধে দেওয়া ১৫ বছরের কারাদণ্ড বাতিল করেছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। একই সঙ্গে আদালত তার বিরুদ্ধে চলা পুরো ফৌজদারি মামলার কার্যক্রমও বাতিল ঘোষণা করেছে।
আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর শুক্রবার রাতে রাজধানী লিমার বারবাদিয়ো কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
ওলান্তা হুমালা ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পেরুর প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ২০২৫ সালে একটি আদালত তাকে অর্থ পাচারের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়। অভিযোগ ছিল, ২০০৬ ও ২০১১ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের জন্য তিনি ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উগো চাভেজ এবং ব্রাজিলের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ওডেব্রেখটের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ নিয়েছিলেন।
রায় ঘোষণার পরই হুমালা জানিয়েছিলেন, তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। পরে বিষয়টি পেরুর সাংবিধানিক আদালতে যায়। আদালত মামলার শুনানি শেষে তার বিরুদ্ধে পরিচালিত পুরো ফৌজদারি কার্যক্রম বাতিল করে দেয়।
আদালতের সিদ্ধান্তের পর শুক্রবার রাতে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। এ সময় কারাগারের বাইরে তার অনেক সমর্থক জড়ো হন। মুক্তি পাওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে হুমালা দাবি করেন, তিনি এবং তার পরিবার রাজনৈতিক ও বিচারিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। রায়ের পর হুমালার আইনজীবী হুলিও এস্পিনোজা গোয়েনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, নির্বাচনী প্রচারের জন্য যে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল, আদালতের মতে তা অর্থ পাচারের অপরাধের মধ্যে পড়ে না। তিনি এই বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, এখন মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে খারিজ করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি আদালতের। এই মামলায় হুমালার স্ত্রী নাদিন এরেদিয়াকেও ২০২৫ সালে অর্থ পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। তাকেও ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে রায়ের পর তিনি ব্রাজিলের দূতাবাসে আশ্রয় চান এবং পরে নিরাপদে ব্রাজিলে যাওয়ার অনুমতি পান।
ওলান্তা হুমালা ছিলেন পেরুর চার সাবেক প্রেসিডেন্টের একজন, যাদের নাম ব্রাজিলের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ওডেব্রেখটের বহুল আলোচিত দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে উঠে আসে। অভিযোগ ছিল, হুমালা ও তার স্ত্রী মিলে গড়ে তোলা ন্যাশনালিস্ট পার্টির জন্য ওডেব্রেখটের কাছ থেকে ৩০ লাখ ডলার অবৈধ অর্থ নিয়েছিলেন। সেই অর্থ ২০১১ সালের নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া ২০০৬ সালের নির্বাচনী প্রচারের জন্য তারা ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উগো চাভেজের কাছ থেকে আরো দুই লাখ ডলার নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ ছিল। তবে শুরু থেকেই হুমালা ও তার স্ত্রী সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন। তাদের দাবি ছিল, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
ওডেব্রেখট কেলেঙ্কারির কারণে পেরুর আরো কয়েকজন সাবেক প্রেসিডেন্ট আইনি জটিলতায় পড়েন। উল্লেখ্য যে, ওডেব্রেখট কেলেঙ্কারি হলো বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ দুর্নীতি ও ঘুষ কেলেঙ্কারি, যা ব্রাজিলভিত্তিক নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ওডেব্রেখট-এর সঙ্গে জড়িত। এই প্রতিষ্ঠানটি ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে সরকারি ঠিকাদারির কাজ পাওয়ার জন্য সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের শত শত কোটি ডলার ঘুষ দেয়। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট থাকা আলেহান্দ্রো তোলেদোকে গত বছর ওডেব্রেখটের কাছ থেকে ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঘুষ নেওয়ার দায়ে ২০ বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ এবং ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত দুই দফায় প্রেসিডেন্ট থাকা আলান গার্সিয়া ২০১৯ সালে আত্মহত্যা করেন। তার বিরুদ্ধে ওডেব্রেখটের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তারের প্রস্তুতি চলছিল। যদিও তিনি জীবিত অবস্থায় সব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। এছাড়া ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট থাকা পেদ্রো পাবলো কুচিনস্কির বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার সময় তিনি ওডেব্রেখটের কাছ থেকে কয়েক মিলিয়ন ডলার পেয়েছিলেন। তবে কুচিনস্কিও দাবি করে আসছেন, ওই অর্থ নেওয়ার মধ্যে কোনো অবৈধতা ছিল না।
সাবেক সেনা কর্মকর্তা ওলান্তা হুমালা ২০০০ সালে জাতীয়ভাবে আলোচনায় আসেন। সে সময় তিনি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুহিমোরির বিরুদ্ধে স্বল্প সময়ের একটি সামরিক বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন। ২০০৬ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিলেও তিনি জিততে পারেননি। পরে ২০১১ সালের নির্বাচনে তুলনামূলক মধ্যপন্থী নীতি নিয়ে প্রচার চালিয়ে ডানপন্থী প্রার্থী কেইকো ফুহিমোরিকে পরাজিত করেন। কেইকো ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুহিমোরির বড় মেয়ে।
২০১৬ সালে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব শেষ হওয়ার কিছুদিন পরই তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। ওই সময় ওডেব্রেখট স্বীকার করে, ব্যবসায়িক সুবিধা পাওয়ার জন্য তারা লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক দলকে শত শত মিলিয়ন ডলার ঘুষ দিয়েছিল। এরপর হুমালা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা হয়। বিচার শুরুর আগে তাদের এক বছর আটক রাখা হয় এবং পরে ২০২৫ সালে আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করে। তবে সর্বশেষ সাংবিধানিক আদালতের রায়ে হুমালার সাজা বাতিল হওয়ায় তিনি মুক্তি পেলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন