প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় দুই ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এসব হামলায় আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ। শুক্রবার (৩১ জুলাই) গাজার বিভিন্ন স্থানে এসব হামলা করা হয়।
আনাদোলু এজেন্সি রিপোর্ট করেছে, মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় আবু আরিফ সড়কে ইসরায়েলি হামলায় ৩৩ বছর বয়সী মাহমুদ মোহাম্মদ ফাতায়ী নিহত হয়েছেন। শুহাদা আল-আকসা হাসপাতালের চিকিৎসা সূত্র জানাচ্ছে, একই এলাকায় সালাহ আল-দিন সড়কে ইসরায়েলি হামলায় ৩৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ আবদেল নাসের আল-খাতিবও প্রাণ হারিয়েছেন।
চিকিৎসা সূত্রের বরাতে আনাদোলু জানায়, আবু আরিফ সড়কে থাকা জনতার একদলকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুজন আহত হন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
এদিকে, মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের পূর্ব দিকে অবস্থিত একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১০ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। আল-আওদা হাসপাতালের চিকিৎসা সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের মতে, ইসরায়েলি গোয়েন্দারা ফোনের মাধ্যমে বাসিন্দাদের ওই এলাকা ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়ার পর, আল-হাওয়াজরি পরিবারের একটি বহুতল ভবনে বিমান হামলা চালিয়ে সেটি ধ্বংস করা হয়।
দেইর আল-বালাহর দক্ষিণে অন্য একটি পরিবারের বাড়িতেও ইসরায়েলি হামলা ঘটেছে। এতে বাড়িটি ধ্বংস হয়েছে এবং সেখানে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমে আল-মাসলাহ এলাকায় বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আরও কিছু ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া আল-আলাম ও আবু হামিদ গোলচত্বরের কাছে, ইসরায়েলি সামরিক যান থেকে গুলি চালালে দুজন মাঝারি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন বলে চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে।
উত্তর গাজা সিটির আল-সাফতাউই এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় আরও চার ফিলিস্তিনি আহত হন। শুক্রবার ভোরে গাজা সিটির উত্তর-পশ্চিমাংশে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে করা ড্রোন হামলায় একজন নারী এবং একজন শিশু আহত হয়। জাবালিয়া ও গাজা সিটিতে আল-ইসরায়েলি কোয়াডকপ্টারের গুলিতেও পৃথকভাবে দুজন আহত হয়েছেন।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও হামলা অব্যাহত রয়েছে।
আনাদোলুর প্রতিবেদনে পরিস্কার করা হয়েছে, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত চুক্তির ফলে গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ ঘটানো এবং এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে প্রত্যাহার হবে। তবে সাংবাদিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা চলছেই।
আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ২০৯ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩ হাজার ৯৪৩ জন আহত হয়েছেন। নিহতের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। হামলায় গাজায় বিপুল ধ্বংসযজ্ঞও হয়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন বলেও দাবী করা হয়েছে। এই সময়ে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন