বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৮:০৩ পি.এম
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি পরপর ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা এখনও ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
রাজধানী কারাকাসের ২৫ বছর বয়সি বাসিন্দা লুইস আলেহান্দ্রো রুইজ গার্সিয়া ভয়াবহতার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি তাঁর ভূমিকম্পের মুহূর্তের অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেন, ‘জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সময়গুলোর একটি পার করেছি।’
আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রুইজ গার্সিয়া জানান, প্রথম কম্পন অনুভূত হওয়ার মাত্র কয়েক সেকেন্ড আগে তিনি গুগলের ভূমিকম্প সতর্কবার্তা পান। এরপর প্রবল কাঁপুনি শুরু হয়।
তিনি বলেন, ‘চারপাশে জিনিসপত্র পড়ে যেতে শুরু করে। আমি আমার ঘরের একটি দেয়ালে ফাটল ধরতে দেখেছি। আমার মনে হয়, এটি ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মুহূর্তগুলোর একটি। এতটা ভয় আমি আগে কখনও পাইনি।’
ভূমিকম্পের সময়ের শব্দকে বিমানের টারবাইনের গর্জনের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, কম্পন শুরু হতেই তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ভবন থেকে বেরিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। তবে বাইরে বের হওয়ার পর তাদের সামনে আরও ভয়াবহ দৃশ্য উন্মোচিত হয়।
রুইজ গার্সিয়া বলেন, ‘আমি যখন আমার দাদিকে আনতে যাচ্ছিলাম, তখন রাস্তার ওপারের ভবনটি সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। দৃশ্যটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের ছবির মতো লাগছিল। দেয়াল ভেঙে পড়েছিল, লোহার গ্রিলগুলো ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল। আর ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ধাক্কাধাক্কির শব্দ ও মানুষের চিৎকার-আর্তনাদ শোনা যাচ্ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘ধীরে ধীরে ভিডিও ও বিভিন্ন তথ্য সামনে আসছে, আর প্রতিটি নতুন ছবি আগেরটির চেয়ে ভয়াবহ। সত্যি বলতে, আজকের দিনটি ভেনেজুয়েলার জন্য এক ভয়ঙ্কর ও অন্ধকার দিন। এমন কিছু মুহূর্ত থাকে, যা একজন মানুষের জীবনে চিরস্থায়ী ছাপ রেখে যায়। এটি ঠিক তেমনই একটি মুহূর্ত।’
ভূমিকম্পের সময় অনেক মানুষ নিজ নিজ বাসায় ছিলেন। কারণ, এদিন দেশটিতে সরকারি ছুটি ছিল। ১৮২১ সালে স্পেনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ বিজয়ের স্মরণে জাতীয় ছুটি পালন করা হচ্ছিল।
পশ্চিম কারাকাসের ৪১ বছর বয়সি বিজ্ঞাপনকর্মী অ্যাস্ট্রিড রামিরেজ বলেন, ‘কম্পন শুরু হলে আমি চারদিকে মানুষের চিৎকার শুনতে পাই। সবাই আতঙ্কে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছিল।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভবনগুলো দুলতে শুরু করলে তারা দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করেন। অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন।
পূর্ব কারাকাসের বাসিন্দা ৫৬ বছর বয়সি কোরো মার্টিনেজ বলেন, ‘হঠাৎ করেই খুব জোরে বিকট শব্দ হলো। ঘরের ভেতরের অনেক জিনিস পড়ে যায়। এমনকি ফ্রিজের ভেতরে থাকা জগগুলোও ছিটকে পড়ে। জীবনে এর আগে আমি এমন কিছু কখনও দেখিনি।’
বাসিন্দাদের বর্ণনায় উঠে এসেছে আতঙ্ক, চিৎকার আর প্রাণ বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা। পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠা কারাকাসে এখনও অনেক মানুষ ঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন। উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব চলতে থাকায় শহরজুড়ে শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ বিরাজ করছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি সহায়তা ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য আফটারশকের আশঙ্কায় জনগণকে সতর্ক থাকা আহ্বান জানানো হয়েছে।
৪২ বছরের দোকান মালিক হেইডি রোমেরো ভূমিকম্পের সময় একটি শপিং সেন্টারের সর্বোচ্চ তলায় ছিলেন। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি ছিল অবিশ্বাস্য। কম্পন কতক্ষণ স্থায়ী ছিল, সেটাও আমি বলতে পারব না।’
বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি জানান, ভবনটি কাঁপতে শুরু করলে সেখানে থাকা মানুষজনকে জরুরি সিঁড়ি ব্যবহার করে দ্রুত নিচে নামানো হয়। ‘আমরা জরুরি সিঁড়ি দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসি। এভাবেই আমাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল,’ বলেন তিনি।
অন্যদিকে ৬৯ বছর বয়সি কারমেন গুয়েদেজ ভূমিকম্পের সময় তাঁর শয্যাশায়ী বোনের সঙ্গে একই কক্ষে ছিলেন। তিনি জানান, ‘কম্পন শুরুতে হালকা মনে হলেও দ্রুত পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
‘কম্পন ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছিল,’ বলেন তিনি। ‘প্রথমে জানালাগুলো কাঁপতে দেখলাম, এরপর পুরো ঘর এবং চারপাশের সবকিছু কাঁপতে শুরু করল।’
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা থেকে স্পষ্ট, পরপর আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে কারাকাসের মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়েছিল। অনেকেই ভবন ছেড়ে খোলা স্থানে আশ্রয় নেন এবং দীর্ঘ সময় ঘরে ফিরতে সাহস পাননি।
ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক এই ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা এখনও ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং দেশজুড়ে শোক ও উদ্বেগের আবহ বিরাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকার পর, অবশেষে বাংলাদেশের জন্য আবার চালু হবে ভারতের পর্যটন ভিসা। আগামী ২৮ জুন থেকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভিসাকে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করবে। ঢাকায় নিযুক্ত নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে এবার ভিসা আবেদনের প্রক্রিয়ার মধ্যে বড় ধরনের কিছু নিয়ম পরিবর্তন করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে (আইভ্যাক) কাগজপত্র জমা দেওয়ার অন্তত এক দিন আগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুক করতে হবে। দেশের ৫টি কেন্দ্র—ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনায় এই পর্যটন ভিসার আবেদন করা যাবে।
আবেদন প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হলো অনলাইনে ফরম পূরণ করা। আবেদনকারীকে প্রথমে ভারতীয় ভিসার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে (https://indianvisa-bangladesh.nic.in/visa/Registration) প্রবেশ করে নিখুঁতভাবে নিবন্ধন ফরম পূরণ করতে হবে। ফরমটি সঠিকভাবে পূরণের পর সেটিকে পিডিএফ আকারে ডাউনলোড করে নিতে হবে। এরপর শুরু হবে নতুন নিয়মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা হলো অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুকিং।
পরবর্তী কার্যদিবসে কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য আগের কার্যদিবসেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুক করতে হবে। প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের মধ্যে আইভ্যাকের নির্ধারিত পোর্টালে (https://appointment.ivacbd.com) সাইন-আপ করতে হবে এবং ডাউনলোড করা মূল ভিসা আবেদনপত্রের পিডিএফ ফাইলটি আপলোড করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আপলোড করা ফাইলটি যেন ৩০ দিনের বেশি পুরোনো না হয় এবং কোনো ধরনের সম্পাদিত বা বিকৃত ফাইল আপলোড করলে আবেদন সরাসরি বাতিল হয়ে যাবে। বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের মধ্যে যারা সফলভাবে ফাইল আপলোড করবেন, কেবল তারাই অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
সাইন-আপ করার সময় ভিসার আবেদনপত্রে ব্যবহৃত ইমেইল ঠিকানা দিতে হবে। এর পর আবেদনকারীর মোবাইল ও ইমেইলে দুটি পৃথক ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) পাঠানো হবে। প্রথমে ইমেইলের ওটিপি এবং পরে মোবাইলের ওটিপি সাবমিট করে অ্যাকাউন্টটি ভেরিফাই করতে হবে। ভেরিফিকেশন শেষে ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে সাইন-আপ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
সাইন-আপ সম্পন্ন হলে মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে সিস্টেমে লগইন করতে হবে। লগইন করার পর মোবাইলে আবার একটি ওটিপি আসবে, যা দিয়ে মূল অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাতায় প্রবেশ করতে হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় নথিপত্র আপলোড করার পর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সন্ধ্যা ৬টায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট উন্মুক্ত হলে পুনরায় লগইন করতে হবে। তখন সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী দিনের জন্য একটি নির্দিষ্ট অ্যাপয়েন্টমেন্ট সময় দেখাবে। আবেদনকারী চাইলে সেই সময়টি একবার পরিবর্তন করার সুযোগ পাবেন। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত হওয়ার পর অনলাইনেই ১ হাজার ৫০০ টাকা ভিসা প্রসেসিং ফি পরিশোধ করতে হবে। পর্যটন ভিসার জন্য আলাদা কোনো ফি না থাকলেও আইভ্যাকের এই প্রক্রিয়াকরণ চার্জ বাধ্যতামূলক।
ভিসা আবেদন কেন্দ্রে যাওয়ার সময় বেশ কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। আবেদনকারীর মূল পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে এবং পাসপোর্টে অন্তত দুটি খালি পৃষ্ঠা থাকা আবশ্যক। পাসপোর্টের প্রথম ৪ পাতার কপির পাশাপাশি সব পুরোনো পাসপোর্টও সঙ্গে দিতে হবে, অন্যথায় আবেদনটি অসম্পূর্ণ বলে গণ্য হবে। এছাড়া ৩ মাসের মধ্যে তোলা ২×২ ইঞ্চি সাইজের রঙিন ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধনের কপি এবং আবাসন প্রমাণ হিসেবে ৬ মাসের কম পুরোনো ইউটিলিটি বিলের কপি জমা দিতে হবে।
পেশার প্রমাণ হিসেবে চাকরিজীবীদের জন্য এনওসি বা কর্মস্থলের চিঠি, শিক্ষার্থীদের জন্য আইডি কার্ড এবং ব্যবসায়ীদের জন্য ট্রেড লাইসেন্স লাগবে। আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে প্রতি আবেদনের সঙ্গে ১৫০ ডলার সমমূল্যের বিদেশি মুদ্রা এনডোর্স বা আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের কপি অথবা পর্যাপ্ত ব্যালেন্সসহ হালনাগাদ ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দিতে হবে। ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আবেদনকারীর মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়ে জানানো হবে এবং সেই অনুযায়ী আইভ্যাক থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চীনের সিনহুয়া নিউজ এজেন্সি ও চায়না মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) প্রধানদের সঙ্গে বাংলাদেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। বাংলাদেশের সরকার পক্ষে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এসব সমঝোতা স্মারকগুলোতে স্বাক্ষর করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের উপস্থিতিতে এসব সমঝোতা হয়।
স্বাক্ষর হওয়া সমঝোতা স্মারকগুলোর আওতায় বাংলাদেশ এবং চীনের মধ্যে সংবাদ ও তথ্য বিনিময়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, গণমাধ্যম খাতে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব, গ্লোবাল সাউথভুক্ত গণমাধ্যম বিষয়ে যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সম্প্রচার ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে বলে জানা গেছে।
এই সমঝোতা স্মারকগুলো দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং গণমাধ্যম ও তথ্য খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্ত হতে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) চীনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে প্রতিনিধিদলসহ দেশে ফিরবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ কলকাতার তারাতলায় নির্মাণাধীন একটি গুদামঘরের ছাদ ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে।
এ দুর্ঘটনা বুধবার (২৪ জুন) ঘটেছিল এবং স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে যে, আরও হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল থেকে দুর্ঘটনাস্থলে বৃহৎ আকারের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনী, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), দমকল বাহিনী, পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উদ্ধারকাজে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন কলকাতা পুলিশ। পুলিশ গুদামঘর নির্মাণকারী বেহারা গ্রুপের কর্ণধার শম্ভু বেহারাকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া গ্রেপ্তার করা হয়েছে সুপারভাইজার সৈয়দ মোহাম্মদ গুলজার, শ্রমিক সরবরাহকারী মোহাম্মদ আতাউল ও সুভাষ চৌধুরীকে। নির্মাণকাজের মূল ঠিকাদার মোহাম্মদ আসগরের ভূমিকা নিয়েও পুলিশ নিবিড়ভাবে তদন্ত করছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি সেখানে উদ্ধারকাজের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। রাজ্যের কয়েকজন মন্ত্রীও অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
বৃহস্পতিবার বিধানসভা অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে উদ্ধারকাজ শুরু হয়। প্রথমে পুলিশ, দমকল ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে অংশ নেন এবং পরে সেখানে দ্রুত এনডিআরএফ মোতায়েন হয়।
মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় বক্তব্যে দাবি করেন যে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে এই ভবনটির নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তিনি সাবেক তৃণমূল সরকারকে সরাসরি দায়ী করেন এবং বলেন, এ ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। নির্মাণ পরিকল্পনায় যাদের স্বাক্ষর রয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীসহ সবার বিরুদ্ধে তদন্তের ভিত্তিতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মৃতদের পরিবারকে ১০ লাখ রুপি এবং আহতদের ১ লাখ রুপি আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ রুপি এবং আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরের কৃষ্ণা চৌধুরী এবং জগদ্দলের পাপ্পু রজক রয়েছেন। নিহতদের স্বজনেরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুদ্ধ-পরবর্তী ইউক্রেনের পুনর্গঠন নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন বৃহস্পতিবার পোল্যান্ডে শুরু হচ্ছে। কিন্তু ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এতে অংশ নিচ্ছেন না, কারণ ওয়ারশর সঙ্গে তাদের কূটনৈতিক বিরোধ রয়েছে।
রাশিয়ার হামলার ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য ইউক্রেনের কয়েক শত কোটি ডলার প্রয়োজন। এই অর্থ সংগ্রহের জন্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের সমর্থন জোরদারের চেষ্টা করছে কিয়েভ।
পোল্যান্ডের গদানস্ক থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর দিয়েছে।
তবে সম্মেলনটি নিষ্ফল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, কারণ যুদ্ধ বন্ধের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পোলিশদের হত্যাযজ্ঞে জড়িত একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নামকরণের কারণে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।
গদানস্কে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে পোল্যান্ড, বুলগেরিয়া, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, রোমানিয়া এবং সুইডেনের নেতারা অংশ নেবেন। এর পাশাপাশি ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রধান আন্তোনিও কস্তাওও উপস্থিত থাকবেন।
যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইউক্রেনে বিনিয়োগের জন্য ব্যবসায়ী ও দেশগুলোকে উৎসাহিত করা সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।
গত কয়েক বছরে জেলেনস্কির নেতৃত্বে ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদল অংশ নিলেও এবার দেশটির প্রতিনিধিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সিভরদেঙ্কো।
ইউক্রেন, বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ-পরবর্তী ইউক্রেন পুনর্গঠনে ৫৮৮ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় কোনো অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। এর ফলে ইউক্রেন পুনর্গঠনে বিনিয়োগ সমর্থন পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে।
যদিও সিভরিদেঙ্কো বলেছেন, তার দেশ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই করার পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে, জ্বালানি খাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে।
-‘অপ্রয়োজনীয় রাজনীতিকরণ’-
এবার ইউক্রেনে জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো নিরাপত্তা সক্ষমতা নিয়েও আলোচনা হবে।
ডিসেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনের জন্য ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ অনুমোদন করেছে, যার অধিকাংশই প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত।
কিন্তু কিয়েভের সেন্টার ফর ইকোনমিক স্ট্র্যাটেজির পরিচালক গ্লিব ভিশলিনস্কি বলেন, ‘পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ছাড়া ইউক্রেনের পক্ষে দেশ রক্ষা করা অসম্ভব হবে।’ তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনের যারা কর দেন এবং সামরিক বাহিনীকে সমর্থন করেন, তাদের জন্য আমাদের গুরুত্বপূর্ণ সেবা ও আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।’
যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাশিয়ার আগ্রাসন মোকাবিলায় বিপুল ব্যয়ের মাধ্যমে দেশটি টিকে থাকতে বাইরের অর্থায়নের ওপর নির্ভর শীল।
জেলেনস্কির সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে পোল্যান্ডের জাতীয়তাবাদী প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোৎস্কির সঙ্গে বিরোধ। নাভরোৎস্কি ইউক্রেনীয় নেতার দেয়া একটি রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রত্যাহার করেছেন।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের সঙ্গে মতবিরোধে থাকা নাভরোকি, ইউক্রেনীয় বিদ্রোহী সেনাবাহিনী (ইউপিএ)'র নামকরণের কারণে জেলেনস্কির পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ হন।
১৯৪৩ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত ভলিনিয়া অঞ্চলে ইউপিএ কয়েক হাজার পোলিশ বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে এই অঞ্চলটি পোল্যান্ডের অংশ ছিল।
তবে ইউক্রেনের কিছু মানুষ ইউপিএকে শ্রদ্ধার চোখে দেখে, কারণ তাদের মতে এই সংগঠনটি ইউক্রেন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নাৎসি ও সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল।
ইউপিএর মর্যাদা এবং সংগঠনটির নেতাদের স্মৃতিস্তম্ভ নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরে দুই মিত্র ও প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের ওপর ছায়া ফেলেছে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জর্জি তিখি বুধবার বলেন, কিয়েভ আশা করছে এই বিরোধ সম্মেলনকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। তিনি বলেন, ‘এই আন্তর্জাতিক আয়োজনের অপ্রয়োজনীয় রাজনীতিকরণ এড়িয়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বাস্তবধর্মী ও কার্যকর সিদ্ধান্তের দিকে মনোযোগ দিতে চাইছে কিয়েভ।’
জাতীয়তাবাদী প্রেসিডেন্ট ও ডানপন্থী বিরোধীদের থেকে নিজেকে দূরে রেখে ইউরোপপন্থী প্রেসিডেন্ট টাস্ক বলেন, তিনি আশা করছেন সম্মেলনটি ‘এগিয়ে যাওয়ার একটি পদক্ষেপ বা আবেগপূর্ণ উত্তেজনা কমানোর একটি উপায়’ হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ