প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষিণ কলকাতার তারাতলায় নির্মাণাধীন একটি গুদামঘরের ছাদ ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে।
এ দুর্ঘটনা বুধবার (২৪ জুন) ঘটেছিল এবং স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে যে, আরও হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল থেকে দুর্ঘটনাস্থলে বৃহৎ আকারের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনী, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), দমকল বাহিনী, পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উদ্ধারকাজে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন কলকাতা পুলিশ। পুলিশ গুদামঘর নির্মাণকারী বেহারা গ্রুপের কর্ণধার শম্ভু বেহারাকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া গ্রেপ্তার করা হয়েছে সুপারভাইজার সৈয়দ মোহাম্মদ গুলজার, শ্রমিক সরবরাহকারী মোহাম্মদ আতাউল ও সুভাষ চৌধুরীকে। নির্মাণকাজের মূল ঠিকাদার মোহাম্মদ আসগরের ভূমিকা নিয়েও পুলিশ নিবিড়ভাবে তদন্ত করছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি সেখানে উদ্ধারকাজের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। রাজ্যের কয়েকজন মন্ত্রীও অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
বৃহস্পতিবার বিধানসভা অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে উদ্ধারকাজ শুরু হয়। প্রথমে পুলিশ, দমকল ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে অংশ নেন এবং পরে সেখানে দ্রুত এনডিআরএফ মোতায়েন হয়।
মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় বক্তব্যে দাবি করেন যে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে এই ভবনটির নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তিনি সাবেক তৃণমূল সরকারকে সরাসরি দায়ী করেন এবং বলেন, এ ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। নির্মাণ পরিকল্পনায় যাদের স্বাক্ষর রয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীসহ সবার বিরুদ্ধে তদন্তের ভিত্তিতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মৃতদের পরিবারকে ১০ লাখ রুপি এবং আহতদের ১ লাখ রুপি আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ রুপি এবং আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরের কৃষ্ণা চৌধুরী এবং জগদ্দলের পাপ্পু রজক রয়েছেন। নিহতদের স্বজনেরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন