প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি পরপর ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা এখনও ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
রাজধানী কারাকাসের ২৫ বছর বয়সি বাসিন্দা লুইস আলেহান্দ্রো রুইজ গার্সিয়া ভয়াবহতার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি তাঁর ভূমিকম্পের মুহূর্তের অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেন, ‘জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সময়গুলোর একটি পার করেছি।’
আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রুইজ গার্সিয়া জানান, প্রথম কম্পন অনুভূত হওয়ার মাত্র কয়েক সেকেন্ড আগে তিনি গুগলের ভূমিকম্প সতর্কবার্তা পান। এরপর প্রবল কাঁপুনি শুরু হয়।
তিনি বলেন, ‘চারপাশে জিনিসপত্র পড়ে যেতে শুরু করে। আমি আমার ঘরের একটি দেয়ালে ফাটল ধরতে দেখেছি। আমার মনে হয়, এটি ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মুহূর্তগুলোর একটি। এতটা ভয় আমি আগে কখনও পাইনি।’
ভূমিকম্পের সময়ের শব্দকে বিমানের টারবাইনের গর্জনের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, কম্পন শুরু হতেই তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ভবন থেকে বেরিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। তবে বাইরে বের হওয়ার পর তাদের সামনে আরও ভয়াবহ দৃশ্য উন্মোচিত হয়।
রুইজ গার্সিয়া বলেন, ‘আমি যখন আমার দাদিকে আনতে যাচ্ছিলাম, তখন রাস্তার ওপারের ভবনটি সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। দৃশ্যটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের ছবির মতো লাগছিল। দেয়াল ভেঙে পড়েছিল, লোহার গ্রিলগুলো ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল। আর ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ধাক্কাধাক্কির শব্দ ও মানুষের চিৎকার-আর্তনাদ শোনা যাচ্ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘ধীরে ধীরে ভিডিও ও বিভিন্ন তথ্য সামনে আসছে, আর প্রতিটি নতুন ছবি আগেরটির চেয়ে ভয়াবহ। সত্যি বলতে, আজকের দিনটি ভেনেজুয়েলার জন্য এক ভয়ঙ্কর ও অন্ধকার দিন। এমন কিছু মুহূর্ত থাকে, যা একজন মানুষের জীবনে চিরস্থায়ী ছাপ রেখে যায়। এটি ঠিক তেমনই একটি মুহূর্ত।’
ভূমিকম্পের সময় অনেক মানুষ নিজ নিজ বাসায় ছিলেন। কারণ, এদিন দেশটিতে সরকারি ছুটি ছিল। ১৮২১ সালে স্পেনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ বিজয়ের স্মরণে জাতীয় ছুটি পালন করা হচ্ছিল।
পশ্চিম কারাকাসের ৪১ বছর বয়সি বিজ্ঞাপনকর্মী অ্যাস্ট্রিড রামিরেজ বলেন, ‘কম্পন শুরু হলে আমি চারদিকে মানুষের চিৎকার শুনতে পাই। সবাই আতঙ্কে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছিল।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভবনগুলো দুলতে শুরু করলে তারা দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করেন। অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন।
পূর্ব কারাকাসের বাসিন্দা ৫৬ বছর বয়সি কোরো মার্টিনেজ বলেন, ‘হঠাৎ করেই খুব জোরে বিকট শব্দ হলো। ঘরের ভেতরের অনেক জিনিস পড়ে যায়। এমনকি ফ্রিজের ভেতরে থাকা জগগুলোও ছিটকে পড়ে। জীবনে এর আগে আমি এমন কিছু কখনও দেখিনি।’
বাসিন্দাদের বর্ণনায় উঠে এসেছে আতঙ্ক, চিৎকার আর প্রাণ বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা। পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠা কারাকাসে এখনও অনেক মানুষ ঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন। উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব চলতে থাকায় শহরজুড়ে শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ বিরাজ করছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি সহায়তা ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য আফটারশকের আশঙ্কায় জনগণকে সতর্ক থাকা আহ্বান জানানো হয়েছে।
৪২ বছরের দোকান মালিক হেইডি রোমেরো ভূমিকম্পের সময় একটি শপিং সেন্টারের সর্বোচ্চ তলায় ছিলেন। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি ছিল অবিশ্বাস্য। কম্পন কতক্ষণ স্থায়ী ছিল, সেটাও আমি বলতে পারব না।’
বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি জানান, ভবনটি কাঁপতে শুরু করলে সেখানে থাকা মানুষজনকে জরুরি সিঁড়ি ব্যবহার করে দ্রুত নিচে নামানো হয়। ‘আমরা জরুরি সিঁড়ি দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসি। এভাবেই আমাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল,’ বলেন তিনি।
অন্যদিকে ৬৯ বছর বয়সি কারমেন গুয়েদেজ ভূমিকম্পের সময় তাঁর শয্যাশায়ী বোনের সঙ্গে একই কক্ষে ছিলেন। তিনি জানান, ‘কম্পন শুরুতে হালকা মনে হলেও দ্রুত পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
‘কম্পন ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছিল,’ বলেন তিনি। ‘প্রথমে জানালাগুলো কাঁপতে দেখলাম, এরপর পুরো ঘর এবং চারপাশের সবকিছু কাঁপতে শুরু করল।’
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা থেকে স্পষ্ট, পরপর আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে কারাকাসের মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়েছিল। অনেকেই ভবন ছেড়ে খোলা স্থানে আশ্রয় নেন এবং দীর্ঘ সময় ঘরে ফিরতে সাহস পাননি।
ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক এই ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা এখনও ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং দেশজুড়ে শোক ও উদ্বেগের আবহ বিরাজ করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন