০৮:০০ এম
জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই সেনা নিহত হওয়ার পর মার্কিন বাহিনী দেশে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা শুরু করেছে।
রোববার (১৯ জুলাই) সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন হামলায় ইরানের কেশম দ্বীপের কাছে একটি স্থানকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। এই ঘটনায় কোনো বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, এবং আবাসিক বা বাণিজ্যিক অবকাঠামোরও কোনো ক্ষতি হয়নি।
ইরানি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী বন্দর আব্বাস এবং নিকটবর্তী কেশম দ্বীপে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
আরও পড়ুন: এমপি আব্দুল আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ক্ষোভ বৃদ্ধি
তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপের উপকণ্ঠের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ছয়টি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
এদিকে, শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, জর্ডানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন। আহত চার সেনাকে হাসপাতালে নেয়া হলেও পরে তারা দায়িত্বে ফিরে গেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনায় শোক জানিয়ে বলেছেন, এই মৃত্যু ‘অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা’।
এদিকে, লিখিত এক বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলি খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক চুক্তিভঙ্গ প্রমাণ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর সম্পূর্ণ মূল্যহীন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতারণাপূর্ণ, অবিশ্বস্ত ও অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেন। এছাড়া, তিনি মন্তব্য করেন যে, ইরানি জাতি ও প্রতিরোধ জোটের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অবিস্মরণীয় শিক্ষা অপেক্ষা করছে।
অন্যদিকে, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার উপদেষ্টা ও সাবেক রেভল্যুশনারি গার্ডস কমান্ডার মোহসেন রেজায়ী সতর্ক করে বলেন, মার্কিন হামলা আরও কিছুদিন চলতে থাকলে ইরান পূর্ণমাত্রার আক্রমণাত্মক অভিযানে যাবে এবং ভূখণ্ড দখলের যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করবে। তিনি আরও বলেন, 'আমি ঘোষণা করছি, সব শেষ। আলোচনা শেষ, যুদ্ধও শেষ। তবে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে যদি যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ চালিয়ে যায়, তাহলে আমরা পূর্ণমাত্রার আক্রমণ ও ধ্বংসযজ্ঞের পর্যায়ে প্রবেশ করব।' এছাড়া, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেন, গত এক সপ্তাহে সমঝোতা স্মারকের প্রতিটি শর্ত ভঙ্গ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢামেকে আনা হলো আনিসুল, পলক ও মামুন
এদিকে, শনিবারও ইরানের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন হামলা অব্যাহত ছিল। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হরমোজগান প্রদেশের সিরিকের আশপাশে অন্তত তিনটি বিমান হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ১১৬টি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বান্দার আব্বাস, হাজিয়াবাদসহ কয়েকটি এলাকায় মোবাইল, ইন্টারনেট ও ল্যান্ডলাইন সেবা ব্যাহত হয়েছে।
পাল্টা হামলাও অব্যাহত রেখেছে ইরান। কুয়েত ফায়ার ফোর্স জানিয়েছে, তেহরানের হামলায় সৃষ্ট দুটি বড় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে কিছু দমকলকর্মী আহত হয়েছেন। এছাড়া, আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আরও তিনটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যদিও সেখানে হতাহতের খবর নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন