মোঃ শাহিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
১১:৫৩ এম
গুরুতর অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের ঈশ্বরপুরগঞ্জ পশ্চিম পাড়ার মো: মিঠুন (পিতা: মোঃ হবি)। তিনি বাম হাঁটুর তীব্র সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন। ‘ঈশ্বরপুরগঞ্জ তরুণ সংঘ’-এর সক্রিয় এই সদস্যের হাঁটুর এমআরআই (MRI) রিপোর্টে ধরা পড়েছে এক মারাত্মক পরিস্থিতি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মিঠুনের বাম হাঁটুর এসিএল (ACL) সম্পূর্ণ ছিঁড়ে গেছে এবং প্যাটেলার টেন্ডনও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত (Grade-4 Tear) হয়েছে। বর্তমানে মিঠুনের জন্য স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে অপারেশনের পরামর্শ দিয়েছেন।
ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) এই অপারেশনের জন্য আনুমানিক ৮০,০০০ (আশি হাজার) টাকা খরচ হবে বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু মিঠুনের অসচ্ছল ও দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই বিপুল অর্থ জোগাড় করা কোনোভাবেই সম্ভব হয়নি। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনদের সহায়তায় সর্বোচ্চ ৩০,০০০ টাকা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়ে থাকলেও, অপারেশন সম্পন্ন করার জন্য এখনও প্রায় ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা প্রয়োজন। টাকার অভাবে মিঠুনের চিকিৎসা থেমে আছে।
এই সংকটাপন্ন পরিস্থিতির মধ্যে মিঠুনকে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সমাজের সকল হৃদয়বান, বিত্তবান ও প্রবাসীদের কাছে আর্থিক সাহায্যের আকুল আবেদন জানিয়েছে ‘ঈশ্বরপুরগঞ্জ তরুণ সংঘ’। আপনার সামান্য সহানুভূতি ও আর্থিক অবদান একজন সম্ভাবনাময় তরুণকে পঙ্গুত্বের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে এবং দিতে পারে নতুন করে পথ চলার শক্তি।
সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা ও যোগাযোগ: বিকাশ / নগদ (পার্সোনাল): ০১৭৩৫১৫৪০২২ (মোস্তাফিজুর)
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানী ঢাকা শহরে একটি ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা দুই স্কুল শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। আজ বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল সোয়া ৭টার দিকে কামরাঙ্গীরচরের বেড়িবাঁধ এলাকার মাহাতাব পাম্পের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
আহত দুই শিক্ষার্থী হলো মো. তাহসিন (১০) ও মো. ওয়াজিদ (১১)। আহতদের চাচা মো. সাগর জানান, তিনি সকাল বেলা মোটরসাইকেলে করে তাহসিন ও তার চাচাতো ভাই ওয়াজিদকে আজিমপুরে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এই সময় কামরাঙ্গীরচরের বেড়িবাঁধ এলাকার মাহাতাব পাম্পের সামনে একটি ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এই ঘটনায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে তিনজনই আহত হন। পরে স্থানীয় মানুষের সহায়তায় দুই শিশুকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মোহাম্মদ ফারুক বলেন, কামরাঙ্গীরচরের বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে ট্রাকের ধাক্কায় আহত দুই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দুজনের অবস্থাই গুরুতর। তিনি আরও জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানোর পর পুলিশ দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটিকে জব্দ করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে গভীর রাতে ডাকাতের হামলায় রিগান আক্তার মিম নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ সময় একই পরিবারের আরেক গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার (২৪) আহত হয়েছেন।
এই ঘটনা বুধবার (১৫ জুলাই) ভোর রাতে শাহরাস্তি পৌরসভার বাত্তলা গ্রামের বেপারী বাড়িতে ঘটে। নিহত রিগান আক্তার মিম (২৬) ওই গ্রামের মৃত সেলিম বেপারীর পুত্রবধূ হিসেবে পরিচিত। তাঁর দুটি সন্তান রয়েছে; আড়াই বছর বয়সী কন্যা সাইফা ও চার মাস বয়সী ছেলে সিরাজ। তাঁর স্বামী রনি ঢাকায় চাকরি করেন। ফ্ল্যাটের ঘটনার সময় বাড়িতে অন্তত দুই গৃহবধূ, পরিবারের প্রবীণ সদস্য নুরুল ইসলাম এবং তিনটি শিশু ছিল।
আহত গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার জানান, রাত ১২টার পর তিনি তিন মাস বয়সী সন্তান নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। গভীর রাতে দালানের জানালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দুই ব্যক্তি মুখ বাঁধা অবস্থায় তাকে ও তার শিশুকে ছুরির মুখে জিম্মি করে ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র দিতে বলে। তিনি আলমারিতে থাকা জিনিসপত্র নিয়ে যেতে বললে ডাকাতরা তার ওড়না দিয়ে হাত বেঁধে ফেলে। এরপরেই হাতুড়ি দিয়ে তার মাথায় দুই দফা আঘাত করে। পরে ডাকাতরা তার কানের দুল, আলমিরা থেকে আরেক জোড়া দুল ও একটি আংটি নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে তারা পাশের কক্ষে প্রবেশ করতে শুরু করে।
তিনি আরো জানিয়েছেন, পাশের কক্ষ থেকে বড় জায়ের কান্নার শব্দ শুনতে পেলেও বাঁধা অবস্থায় তাকে সাহায্য করতে পারেননি। পরিবারের প্রবীণ সদস্য নুরুল ইসলাম জানান, তিনি রাতে বাড়ির লোহার গেটে তালা লাগিয়ে চাবি টেবিলের ওপর রেখে ঘুমিয়ে পড়েন। চিৎকার শুনে জেগে উঠে গেট খুলতে গিয়ে দেখেন গেটটি ভেতর থেকে আটকানো থাকলেও তালাটি নেই। পরে বাড়ির বাইরে অক্ষত অবস্থায় তালাটি পাওয়া যায়।
প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, মিমের ঘর থেকে আর্তচিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ঘরের ভেতর ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে জানালায় ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাননি। ডাকাতির সন্দেহ হলে তিনি কয়েকজন প্রতিবেশীকে খবর দেন। পরে মসজিদের মাইকে ডাকাত পড়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। স্থানীয়রা বাড়িটি ঘিরে পূর্ব পাশের একটি জানালার কপাট খোলা দেখতে পান। ভেতরে তাকিয়ে মিমকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। চেয়ারম্যান (দাদা শ্বশুর) গেট খুলে দিলে তারা ঘরে প্রবেশ করেন এবং ছোট গৃহবধূকে বাঁধা অবস্থায় কান্নারত দেখতে পান। পরে অপর কক্ষে গিয়ে মিমকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার গলায় ওড়না পেঁচানো ছিল। স্থানীয়রা ওড়না খুলে তাকে জাগানোর চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া মেলেনি। খবর পেয়ে চিকিৎসক এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে খবর পেয়ে নিহতের বাবা-মা এবং অন্যান্য স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হন। দুই শিশু সন্তানকে বুকে জড়িয়ে তাদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
ডাকাতি এবং হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এই প্রক্রিয়ায় পুলিশ আলামত সংগ্রহ ও মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, 'ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।'
পুলিশের সংশ্লিষ্ট সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল হাই চৌধুরী বলেন, 'ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের পর আইনের আওতায় নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত ব্যাহত হওয়ার পর এবার ইরান লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালিকেও কৌশলগত চাপের অংশ হিসেবে ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছে। তেহরান থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, প্রয়োজন হলে ইয়েমেনের মিত্র হুতি গোষ্ঠীর মাধ্যমে এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথেও জাহাজ চলাচল ব্যাহত করা হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নতুন করে বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ে যাবে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনাও অনেক বেশি তীব্র হতে পারে। পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে সামরিক অভিযানের মাত্রা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধেও হামলার সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে। এর পাল্টা জবাব হিসেবে সংঘাতের পরিধি বিস্তৃত করার কৌশল গ্রহণ করেছে তেহরান।
বিশ্লেষকরা বলেন, ইরান শুধু পার্সি উপসাগর নয়, বরং লোহিত সাগরকেও সংঘাতের আওতায় এনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করতে চায় ওয়াশিংটনের উপর। ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের প্রভাব দেখানোর পর, বাব আল-মান্দেবকে দ্বিতীয় চাপের কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। লোহিত সাগর একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, যা এডেন উপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত। এই মাধ্যমে সৌদি আরব বৃহৎ পরিমাণে তেল রপ্তানি করে এবং বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাতে জানা যায়, সোমবার ইয়েমেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সতর্কবাণী দেন যে, যদি সৌদি আরব ইয়েমেনে হামলা অব্যাহত রাখে, তবে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করতে বাধ্য হবে। তার মতে, এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছেন হুতি আন্দোলন আনসারুল্লাহর রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ইয়েমেনে সামরিক অভিযান চালাতে সৌদি আরবকে উৎসাহিত করছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে হরমুজ এবং বাব আল-মান্দেব—দুই প্রণালিতেই সমন্বিত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তারও দাবি, এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষক ফাওয়াজ গেরগেস রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যদি প্রয়োজন হয় তবে ইরান সর্বোচ্চ পর্যায়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। তার মতে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝাতে চায় যে, বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সামুদ্রিক পথকেই একই সাথে ঝুঁকির মুখে ফেলতে তারা সক্ষম। এমন পরিস্থিতিতে সংঘাত শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
বিশ্লেষকরা অভিমত প্রকাশ করেন যে, এখনই সবচেয়ে বড় আশঙ্কা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ নয়; বরং এমন একটি পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করছে, যেখানে সরাসরি যুদ্ধ ছাড়া পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের মাধ্যমে সংঘাত ক্রমাগত বিস্তৃত হতে থাকবে। যদি উপসাগর থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, তবে তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা আরও বাড়াবে। বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি তেল পরিবহন পথ দীর্ঘ সময় ঝুঁকির মধ্যে থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। এমন প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন ও তেহরানের উপর আবারও আলোচনায় ফেরার আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচক ডেনিস রস বলেন, ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য হল ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরানো। তার মতে, শুধু আলোচনা শুরু করাই নয়, বরং উভয় পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য একটি সমঝোতায় পৌঁছানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
লন্ডনের কিংস কলেজের নিরাপত্তা গবেষণা বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ জানান, বাব আল-মান্দেব নিয়ে হুতিদের সাম্প্রতিক হুমকি ইরানের একটি চূড়ান্ত কৌশলের অংশ হতে পারে। তিনি বলেন, যদি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী মনে করে পূর্ণমাত্রার সংঘাত এড়ানো সম্ভব নয়, তবে তারা এ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। একই সাথে তিনি সতর্ক করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা বাড়ায়, তবে তেহরান হুতি মিত্রদের ব্যবহার করে বাব আল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার চেষ্টা করতে পারে।
সৌদি আরবভিত্তিক গালফ রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ সাগের বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো মনে করছে, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সুযোগ ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। কিন্তু তারা এটা বুঝছেও যে, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ পুরো অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল হবে। তার ভাষ্য, ইরান জিতুক বা হারুক—উভয় পরিস্থিতিতেই মধ্যপ্রাচ্যকে বড় মূল্য দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, বাব আল-মান্দেবে বড় ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টির সক্ষমতা হুতিদের থাকলেও, তেহরানের সরাসরি নির্দেশনা ছাড়া তারা এমন পদক্ষেপ নেবে বলে মনে হয় না। যদি তারা আবার আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে বড় হুমকি তৈরি করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা আরও বড় সামরিক অভিযান চালাতে পারে।
এছাড়া, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর হুতি গোষ্ঠী লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে দেখিয়েছে, তারা বাব আল-মান্দেব প্রণালির মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে সক্ষম। ওই সময় হামলার কারণে বিশ্বের শীর্ষ জাহাজ পরিবহন কোম্পানিগুলোকে লোহিত সাগরের পরিবর্তে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে চলাচল করতে হয়, ফলে পরিবহন ব্যয় ও সময়—দুটিই বেড়ে যায়। পরে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য হুতিদের অবস্থানে বিমান হামলা চালায় এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তায় বহুজাতিক নৌ অভিযান শুরু করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের প্রতিযোগিতা এবার কেবল ফুটবলের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। দর্শকদের জন্য প্রথমবারের মতো সুপার বোলের অনুসরণে বিশেষ বিরতির সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রাখা হয়েছে। এর ফলে স্বাভাবিক ১৫ মিনিটের বিরতির পরিবর্তে ফাইনালের বিরতি ২০ থেকে ২৫ মিনিটের মধ্যে হতে পারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালের বিরতির সময়ে প্রায় ১১ মিনিটের একটি বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশগ্রহণ করবেন বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পী ম্যাডোনা, শাকিরা, জাস্টিন বিবার, বার্না বয় এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিখ্যাত ব্যান্ড বিটিএস। পাশাপাশি, অর্কেস্ট্রা পরিচালক গুস্তাভো দুদামেল ও পিএস-২২ কোরাসও অনুষ্ঠানে তাদের পরিবেশন করবেন।
বিশেষ অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিকল্পনা করছেন বিশ্ববিখ্যাত ব্যান্ড কোল্ডপ্লের প্রধান গায়ক ক্রিস মার্টিন।
ফিফার সূত্র থেকে জানা যায়, হাফটাইম বিরতির সময় প্রায় ২০ মিনিট হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিকল্প হিসেবে ১৫ মিনিটের স্বাভাবিক বিরতির পর অতিরিক্ত ১১ মিনিটের অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হয়েছে।
এদিকে ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচের বিরতি সাধারণত ১৫ মিনিটের বেশি হওয়ার কথা নয়। এর জন্য ফিফার পরিকল্পনা ইতোমধ্যে ফুটবল অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, এমন আয়োজন একেবারেই নতুন নয়। গত বছরের ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউ জার্সিতে বিরতির সময় বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য খেলা শুরু হতে ২৪ মিনিট সময় লেগেছিল।
ফাইনাল ম্যাচ শুরুর পূর্বে, বর্ণাঢ্য সমাপনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন টম ক্রুজ, রবি উইলিয়ামস, লরা পাওসিনি, নিকোল শেরজিঙ্গার এবং জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতা আইশোস্পিড। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করবেন জেনিফার হাডসন।
স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় শুরু হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল। বাংলাদেশ সময় ম্যাচটি রাত ১টায় শুরু হবে। এর আগে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় শুরু হবে জমকালো সমাপনী অনুষ্ঠান।
এদিকে, প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্পেন। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড অথবা আর্জেন্টিনা। বুধবার দিবাগত রাতে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে দল দুটি মুখোমুখি হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ