বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৮:১০ পি.এম
সম্প্রতি উচ্চশিক্ষায় এক দশক পূর্তি উপলক্ষে ইউকে ম্যানেজমেন্ট কলেজ (UKMC) ম্যানচেস্টারের হিটন পার্কে বর্ণাঢ্য সামারফেস্ট ২০২৬ আয়োজন করেছে। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, একাডেমিক অংশীদার, বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং কমিউনিটির সদস্যরা অংশ নেন।
দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সঙ্গীত, খাবারের স্টল, খেলাধুলা ও বিনোদনের নানা আয়োজন। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনায় উৎসবটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে Health Sciences University (HSU)-এর সঙ্গে ইউকেএমসির নতুন একাডেমিক অংশীদারত্বের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। এই অংশীদারত্বের আওতায় HSU-স্বীকৃত BSc (Hons) Psychology with Foundation Year কোর্স পরিচালিত হবে, যা মনোবিজ্ঞান, মানসিক স্বাস্থ্য এবং কমিউনিটি সাপোর্ট বিষয়ে উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
এ সময় ‘UKMC 10 Years of Excellence Anniversary Magazine’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। স্মারক প্রকাশনাটিতে ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইউকেএমসির এক দশকের অগ্রযাত্রা, সম্প্রসারণ এবং অর্জনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ম্যানচেস্টারের লর্ড মেয়র, রচডেলের মেয়র, হাই শেরিফসহ বিভিন্ন একাডেমিক ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাউল এ এস এম শফি মন্ডল, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, বাউল ডলি মন্ডল, ড. জাহিদুল কবির, জহরা হোসেন জেমি, সর্দার হীরক রাজা, আমির হাশমি, GAMTA, প্রীতম আহমেদ এবং ডাইনামিকসহ বিভিন্ন শিল্পী পরিবেশনা করেন।
ইউকেএমসির ১০ বছরের এই যাত্রার পেছনে নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) মো. জাহিদুল ইসলাম। তাঁর নেতৃত্বে ইউকেএমসি যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একাডেমিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মমুখী ও সহজলভ্য উচ্চশিক্ষার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিকশিত হয়েছে। শিক্ষা খাতে তাঁর এই উদ্যোগ যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার পরিসর সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।
ইউকেএমসির এক মুখপাত্র বলেন, “সামারফেস্ট ২০২৬ শুধু ১০ বছর পূর্তির উদযাপন নয়; এটি আমাদের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অংশীদার এবং কমিউনিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি উপলক্ষ। এই আয়োজন ইউকেএমসির বৈচিত্র্য, ঐক্য ও অগ্রগতির প্রতিফলন।”
২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউকে ম্যানেজমেন্ট কলেজ বর্তমানে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে কর্মমুখী ও সহজলভ্য উচ্চশিক্ষা প্রদান করছে। আগামী দিনেও শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের সাফল্য, আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতা এবং উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন, বলেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।
আইএসপিআর জানায়, নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম পূর্বতন নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসস্থ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিদায়ি নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে ভাইস অ্যাডমিরাল র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান। নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এবং নৌবাহিনীকে আরো আধুনিক, সক্ষম ও সময়োপযোগী বাহিনী হিসেবে এগিয়ে নিতে তার মূল্যবান পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা কামনা করেন।
র্যাংক ব্যাজ পরানোর সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, বিমান বাহিনী প্রধান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা।
আইএসপিআর আরও জানায়, পরবর্তী সময়ে দুপুরের পরে নৌবাহিনী সদর দপ্তরে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার হস্তান্তর ও গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। দায়িত্বভার গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম নৌবাহিনী প্রধানের কার্যালয়ে কমান্ড হস্তান্তর/গ্রহণ বইতে স্বাক্ষর করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমান্ড গ্রহণ করেন।
এ সময় নৌবাহিনী সদর দপ্তরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসাররাসহ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। দেশে-বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা ও সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি তিনি মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
প্রায় চার দশকের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও প্রশিক্ষণমূলক দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারির সঙ্গে পালন করেছেন। তিনি কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল, কমান্ডার সাবমেরিন এবং কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়া নৌ সদর দপ্তরে পরিচালক নৌ অপারেশনস এবং পরিচালক নৌ পরিকল্পনা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ও নৌঘাঁটির অধিনায়কত্ব করেন।
এ জন্য ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ ও ওমানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
প্রায় ৪০ বছরের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নৌবাহিনী পদক (এনবিপি), নৌ-পারদর্শিতা পদক (এনপিপি), জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারসহ বিভিন্ন পদক ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী স্কুল ফিডিং রুটির মধ্যে ধারালো একটি ব্লেড পাওয়া গেছে।
এই ঘটনাটি বুধবার (২২ জুলাই) বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটেছে।
স্কুলের প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রী আলমতাজ নামের একজন, স্কুল ফিডিংয়ের দেওয়া রুটি খাওয়ার সময় ব্লেডটি দেখতে পান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুন নাহারকে জানানো হয়।
রুটিটি খাওয়ার আগেই ব্লেডটি দেখতে পাওয়ায় শিক্ষার্থীর কোনো শারীরিক ক্ষতি হয়নি। বৃহস্পতিবার সকালে ওই বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী আলমতাজের সঙ্গে কথা বলে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এদিকে, ঘটনার তদন্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একটি চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। গৌরনদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেকান্দর শেখকে আহ্বায়ক ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম নুরুল আলম মৃধাকে সদস্যসচিব করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্য হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসের ড সৌভিক সরকার এবং উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর সংকর কুমার দাস রয়েছেন।
গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম বলেন, বিষয়টি জানার পর বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলটি পরিদর্শন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সায়ফুন নাহারও তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. নুরুল ইসলাম মৃধাকে জানানো হয়েছে।
রুটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আইল্যান্ড ট্রেডিং করপোরেশনের প্রতিনিধি আরিফ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে এখনই কিছু বলতে পারব না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে তরুণদের একটি নতুন প্লাটফর্ম ককরোচ (তেলাপোকা) জনতা পার্টি তীব্র আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার তদন্ত ও বিচারের পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে, যা সহিংস রূপ ধারণ করেছে।
এ আন্দোলনে যোগ দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল। তারা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবন ও পার্লামেন্টের সামনে বিক্ষোভ করে, তার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন।
কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী এমন দাবি করেছেন যে, পুলিশ সদস্যরা যখন তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তখন তার কানে কানে সরকার পতনের আহ্বান জানান।
রাহুল গান্ধীর এই সব কর্মকাণ্ডের জন্য আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্বদাতা সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমো তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে যারা দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন করছে, তাদের বিষয়টি নিয়ে রাহুল গান্ধীর আকস্মিক বিক্ষোভ কর্মসূচী নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গীতাঞ্জলি রাহুল গান্ধীর সমালোচনা করে বলেন, "২১ জুলাইয়ের এই আন্দোলন ছিল কেবল অসৎ ও রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা।" তিনি আরও বলেন, রাজনীতিকরণ না করে যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের পাশে এসে সরাসরি দাঁড়ানো উচিত ছিল কংগ্রেস নেতাদের।
গীতাঞ্জলি অ্যাংমো বলেন, রাজনীতিবিদরা এখন ওয়াংচুক ও তার সুনামকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। কিন্তু সাধারণ জনগণ ও তরুণ সমাজকে আর বোকা বানানো যাবে না।
গত সপ্তাহে যন্তর মন্তর থেকে ওয়াংচুককে পুলিশ সরিয়ে নেওয়ার পর তিনি হাসপাতালেও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। বুধবার তার অনশন ২৬ তম দিনে গড়িয়েছে।
সামাজিক উদ্যোক্তা ও শিক্ষাবিদ গীতাঞ্জলি অ্যাংমো বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভের আন্তরিকতার অভাব ছিল। তিনি বলেন, "জনতাকে আর বোকা বানানো সম্ভব নয়। এটি এক সচেতন ভারত।" যাদের আন্তরিকতাহীন আচরণ থাকবে, তরুণ প্রজন্ম তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার পুলিশ শিক্ষার্থীদের সংসদ ভবনমুখী পদযাত্রায় হামলা চালানোর প্রতিবাদে মঙ্গলবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনের সামনে নজিরবিহীন ধর্মঘট পালন করেন রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতারা। সেখান থেকে রাহুলকে জোরপূর্বক আটক করার সময় ধস্তাধস্তিতে তার নাক দিয়ে রক্ত পড়ে। পুলিশি এই পদক্ষেপকে প্রশাসনিক ব্যর্থতা থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে জবাবদিহিতার আন্দোলন হিসেবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে কংগ্রেস।
কিন্তু ওয়াংচুকের স্ত্রী অ্যাংলামো জোর দিয়েছেন যে, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) নেতৃত্বে চলমান আন্দোলন রাজনৈতিক শ্রেণিকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, কেবল লোক দেখানো প্রতীকী পদক্ষেপ বা রাজনীতিতে আর কাজ হবে না।
অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির এই শেভনিং স্কলার বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই। আহবান করেন, "আমাদের কাছে কোনো সরকারি বা বিরোধী দল নেই, আমাদের কাছে সংসদই সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। আমরা চাই সংসদ যেন শিক্ষাকে মৌলিক বিষয় হিসেবে গণ্য করে।"
কিন্তু তিনি মন্তব্য করেছেন যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছাড়া যে কেউ সাধারণ মানুষ হিসেবে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে যুক্ত হতে পারে।
সোনম ওয়াংচুকের নতুন দাবি নিয়ে গত ১৮ জুলাই যন্তর মন্তর থেকে পুলিশ সরিয়ে নেওয়ার পর থেকে সোনম ওয়াংচুকের পাশে রয়েছেন তার স্ত্রী। আদালতের অনুমতির পর ওয়াংচুককে দিল্লির সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
অনশন ভাঙার শর্ত হিসেবে ওয়াংচুক সরকার ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে নিশ্চয়তা চেয়েছেন যে, ২০ জুলাইয়ের পদযাত্রায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রশাসন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে না। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের প্রাথমিক দাবিটি তার সাম্প্রতিক দাবির তালিকায় অনুপস্থিত রয়েছে, ফলে ধারণা করা হচ্ছে, ওয়াংচুক আন্দোলনে নিজের অবস্থান কিছুটা শিথিল করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে তাকে আলোচনায় বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শুক্রবার দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি), কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার প্রেক্ষিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনে ‘পুলিশি বর্বরতার’ প্রতিবাদে।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি বার্তায়, দলটি তাদের সমর্থক, ছাত্রসংসদ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদেরকে প্রতি শহরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের আয়োজনের জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
সিজেপি বিক্ষোভের আয়োজকদের উদ্দেশে বলেছে, ‘পুরো সমাবেশের সামনে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো উচ্চস্বরে পড়ে শোনান। অনুমতি ও আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোর জন্য ছাত্রসংগঠন ও অন্য সংগঠনগুলোকে পারস্পরিক সহযোগিতা ও একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
অন্যদিকে, দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার আলোচনা জন্য চারবার সিজেপির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি মন্তব্য করেছেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করতে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনা দরজা সব সময় খোলা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চারবার তাদের সঙ্গে কথা বলার উদ্যোগ নিয়েছি, কিন্তু কোনো উত্তর পাইনি। আন্দোলনকারীরা চাইলে আলোচনা করার জন্য জে পি নাড্ডার বাসভবন কিংবা কার্যালয়ে আসতে পারেন।’
দেশের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে উল্লেখ করেছে, দিল্লিতে সিজেপির ‘চলো সংসদ’ মার্চের সময় সংঘর্ষ এবং বিভিন্ন রাজ্যে পুলিশি হামলার প্রতিবাদ হিসাবে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এসব ঘটনা আন্দোলন ছড়িয়ে দেয়ার সংকল্পকে আরো দৃঢ় করেছে।
যদিও বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে, দিল্লি পুলিশ দাবি করেছে যে মার্চ চলাকালীন বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে ওঠে এবং তারা পুলিশ সদস্যদের উপর আক্রমণ করে এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করে। দেশব্যাপী এই ক্যাম্পেইনের অংশ হিসাবে সংগঠনটি স্থানীয় আয়োজকদের জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি), প্রচারসামগ্রী এবং স্মারকলিপির একটি টেমপ্লেট প্রকাশ করেছে।
নির্দেশিকার মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিক্ষোভকারীদের নির্দিষ্ট স্থানে জমায়েত হয়ে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো জনসমক্ষে পাঠ করতে হবে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় তথাকথিত পুলিশি বর্বরতার শিকার ব্যক্তিদের প্রতি সংহতি জানাতে হবে এবং জেলা কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে হবে।
প্রসঙ্গত, গত ২০ জুন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার জবাবদিহির দাবিতে দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ শুরু হয়।
এছাড়া আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমর্থনে অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুক বিক্ষোভে যোগ দিয়ে আমরণ অনশন শুরু করার পর এই আন্দোলন আরো গতিশীল হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ