বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৮:১৪ পি.এম
বরিশালের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী স্কুল ফিডিং রুটির মধ্যে ধারালো একটি ব্লেড পাওয়া গেছে।
এই ঘটনাটি বুধবার (২২ জুলাই) বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটেছে।
স্কুলের প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রী আলমতাজ নামের একজন, স্কুল ফিডিংয়ের দেওয়া রুটি খাওয়ার সময় ব্লেডটি দেখতে পান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুন নাহারকে জানানো হয়।
রুটিটি খাওয়ার আগেই ব্লেডটি দেখতে পাওয়ায় শিক্ষার্থীর কোনো শারীরিক ক্ষতি হয়নি। বৃহস্পতিবার সকালে ওই বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী আলমতাজের সঙ্গে কথা বলে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এদিকে, ঘটনার তদন্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একটি চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। গৌরনদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেকান্দর শেখকে আহ্বায়ক ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম নুরুল আলম মৃধাকে সদস্যসচিব করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্য হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসের ড সৌভিক সরকার এবং উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর সংকর কুমার দাস রয়েছেন।
গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম বলেন, বিষয়টি জানার পর বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলটি পরিদর্শন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সায়ফুন নাহারও তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. নুরুল ইসলাম মৃধাকে জানানো হয়েছে।
রুটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আইল্যান্ড ট্রেডিং করপোরেশনের প্রতিনিধি আরিফ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে এখনই কিছু বলতে পারব না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে তরুণদের একটি নতুন প্লাটফর্ম ককরোচ (তেলাপোকা) জনতা পার্টি তীব্র আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার তদন্ত ও বিচারের পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে, যা সহিংস রূপ ধারণ করেছে।
এ আন্দোলনে যোগ দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল। তারা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবন ও পার্লামেন্টের সামনে বিক্ষোভ করে, তার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন।
কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী এমন দাবি করেছেন যে, পুলিশ সদস্যরা যখন তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তখন তার কানে কানে সরকার পতনের আহ্বান জানান।
রাহুল গান্ধীর এই সব কর্মকাণ্ডের জন্য আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্বদাতা সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমো তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে যারা দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন করছে, তাদের বিষয়টি নিয়ে রাহুল গান্ধীর আকস্মিক বিক্ষোভ কর্মসূচী নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গীতাঞ্জলি রাহুল গান্ধীর সমালোচনা করে বলেন, "২১ জুলাইয়ের এই আন্দোলন ছিল কেবল অসৎ ও রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা।" তিনি আরও বলেন, রাজনীতিকরণ না করে যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের পাশে এসে সরাসরি দাঁড়ানো উচিত ছিল কংগ্রেস নেতাদের।
গীতাঞ্জলি অ্যাংমো বলেন, রাজনীতিবিদরা এখন ওয়াংচুক ও তার সুনামকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। কিন্তু সাধারণ জনগণ ও তরুণ সমাজকে আর বোকা বানানো যাবে না।
গত সপ্তাহে যন্তর মন্তর থেকে ওয়াংচুককে পুলিশ সরিয়ে নেওয়ার পর তিনি হাসপাতালেও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। বুধবার তার অনশন ২৬ তম দিনে গড়িয়েছে।
সামাজিক উদ্যোক্তা ও শিক্ষাবিদ গীতাঞ্জলি অ্যাংমো বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভের আন্তরিকতার অভাব ছিল। তিনি বলেন, "জনতাকে আর বোকা বানানো সম্ভব নয়। এটি এক সচেতন ভারত।" যাদের আন্তরিকতাহীন আচরণ থাকবে, তরুণ প্রজন্ম তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার পুলিশ শিক্ষার্থীদের সংসদ ভবনমুখী পদযাত্রায় হামলা চালানোর প্রতিবাদে মঙ্গলবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনের সামনে নজিরবিহীন ধর্মঘট পালন করেন রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতারা। সেখান থেকে রাহুলকে জোরপূর্বক আটক করার সময় ধস্তাধস্তিতে তার নাক দিয়ে রক্ত পড়ে। পুলিশি এই পদক্ষেপকে প্রশাসনিক ব্যর্থতা থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে জবাবদিহিতার আন্দোলন হিসেবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে কংগ্রেস।
কিন্তু ওয়াংচুকের স্ত্রী অ্যাংলামো জোর দিয়েছেন যে, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) নেতৃত্বে চলমান আন্দোলন রাজনৈতিক শ্রেণিকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, কেবল লোক দেখানো প্রতীকী পদক্ষেপ বা রাজনীতিতে আর কাজ হবে না।
অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির এই শেভনিং স্কলার বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই। আহবান করেন, "আমাদের কাছে কোনো সরকারি বা বিরোধী দল নেই, আমাদের কাছে সংসদই সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। আমরা চাই সংসদ যেন শিক্ষাকে মৌলিক বিষয় হিসেবে গণ্য করে।"
কিন্তু তিনি মন্তব্য করেছেন যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছাড়া যে কেউ সাধারণ মানুষ হিসেবে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে যুক্ত হতে পারে।
সোনম ওয়াংচুকের নতুন দাবি নিয়ে গত ১৮ জুলাই যন্তর মন্তর থেকে পুলিশ সরিয়ে নেওয়ার পর থেকে সোনম ওয়াংচুকের পাশে রয়েছেন তার স্ত্রী। আদালতের অনুমতির পর ওয়াংচুককে দিল্লির সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
অনশন ভাঙার শর্ত হিসেবে ওয়াংচুক সরকার ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে নিশ্চয়তা চেয়েছেন যে, ২০ জুলাইয়ের পদযাত্রায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রশাসন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে না। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের প্রাথমিক দাবিটি তার সাম্প্রতিক দাবির তালিকায় অনুপস্থিত রয়েছে, ফলে ধারণা করা হচ্ছে, ওয়াংচুক আন্দোলনে নিজের অবস্থান কিছুটা শিথিল করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে তাকে আলোচনায় বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শুক্রবার দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি), কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার প্রেক্ষিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনে ‘পুলিশি বর্বরতার’ প্রতিবাদে।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি বার্তায়, দলটি তাদের সমর্থক, ছাত্রসংসদ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদেরকে প্রতি শহরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের আয়োজনের জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
সিজেপি বিক্ষোভের আয়োজকদের উদ্দেশে বলেছে, ‘পুরো সমাবেশের সামনে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো উচ্চস্বরে পড়ে শোনান। অনুমতি ও আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোর জন্য ছাত্রসংগঠন ও অন্য সংগঠনগুলোকে পারস্পরিক সহযোগিতা ও একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
অন্যদিকে, দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার আলোচনা জন্য চারবার সিজেপির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি মন্তব্য করেছেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করতে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনা দরজা সব সময় খোলা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চারবার তাদের সঙ্গে কথা বলার উদ্যোগ নিয়েছি, কিন্তু কোনো উত্তর পাইনি। আন্দোলনকারীরা চাইলে আলোচনা করার জন্য জে পি নাড্ডার বাসভবন কিংবা কার্যালয়ে আসতে পারেন।’
দেশের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে উল্লেখ করেছে, দিল্লিতে সিজেপির ‘চলো সংসদ’ মার্চের সময় সংঘর্ষ এবং বিভিন্ন রাজ্যে পুলিশি হামলার প্রতিবাদ হিসাবে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এসব ঘটনা আন্দোলন ছড়িয়ে দেয়ার সংকল্পকে আরো দৃঢ় করেছে।
যদিও বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে, দিল্লি পুলিশ দাবি করেছে যে মার্চ চলাকালীন বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে ওঠে এবং তারা পুলিশ সদস্যদের উপর আক্রমণ করে এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করে। দেশব্যাপী এই ক্যাম্পেইনের অংশ হিসাবে সংগঠনটি স্থানীয় আয়োজকদের জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি), প্রচারসামগ্রী এবং স্মারকলিপির একটি টেমপ্লেট প্রকাশ করেছে।
নির্দেশিকার মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিক্ষোভকারীদের নির্দিষ্ট স্থানে জমায়েত হয়ে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো জনসমক্ষে পাঠ করতে হবে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় তথাকথিত পুলিশি বর্বরতার শিকার ব্যক্তিদের প্রতি সংহতি জানাতে হবে এবং জেলা কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে হবে।
প্রসঙ্গত, গত ২০ জুন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার জবাবদিহির দাবিতে দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ শুরু হয়।
এছাড়া আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমর্থনে অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুক বিক্ষোভে যোগ দিয়ে আমরণ অনশন শুরু করার পর এই আন্দোলন আরো গতিশীল হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় প্রবর শ্রী-শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব আগামীকাল শুক্রবার উল্টো রথ টানার মাধ্যমে শেষ হবে। এর আগে গত ১৬ জুলাই ৯ দিনব্যাপী রথযাত্রা উৎসব শুরু হয়।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে রয়েছে বিশ্বাস যে, জগন্নাথ দেব হলেন জগতের নাথ বা অধীশ্বর। এখানে, জগত বলতে বোঝানো হচ্ছে বিশ্বকে এবং নাথ বলতে বোঝানো হচ্ছে ঈশ্বরকে। তাই বলাই যায়, জগন্নাথ হলেন জগতের ঈশ্বর। তার অনুগ্রহ লাভের মাধ্যমে মানুষের মুক্তিলাভ হয় এবং জীব রূপে তাকে আর জন্ম নিতে হয় না। এই বিশ্বাস থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা রথের ওপর জগন্নাথ দেবের প্রতিমা রেখে রথযাত্রার আয়োজন করেন।
উল্টো রথযাত্রার অনুষ্ঠানের উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন এবং মন্দিরে বিভিন্ন মাঙ্গলিক আয়োজন করা হয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার সকালে মাঙ্গলিক আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এ অনুষ্ঠানে অন্তর্ভুক্ত থাকবে হরিনাম সংকীর্তন, বিশ্ব শান্তি ও মঙ্গল কামনায় অগ্নিহোত্রী যজ্ঞ, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আলোচনা সভা, ভাগবত কথা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শ্রীমদ্ভাগবত গীতা পাঠ।
রাজধানী ঢাকায় আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) উল্টো রথযাত্রার উপলক্ষে আগামীকাল শুক্রবার বিকেলে বিশাল এক শোভাযাত্রা বের করবে। উল্টো রথযাত্রার উদ্বোধনী উপলক্ষ্যে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের মেলা প্রাঙ্গণে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। আলোচনা সভা শেষে উল্টো রথযাত্রার উদ্বোধন করবেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন স্বামীবাগ আশ্রমের অধ্যক্ষ ও ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নিতাই স্বামী মহারাজ।
বর্ণাঢ্য সাজে তিনটি বিশাল রথে জগন্নাথ দেব, শুভদ্রা ও বলরামের প্রতিকৃতিসহ শোভাযাত্রা বের করা হবে। শোভাযাত্রা যাবে পলাশীমোড়, জগন্নাথ হল, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট, জাতীয় প্রেসক্লাব, মতিঝিল, শাপলা চত্বর, ইত্তেফাক মোড়, টিকাটুলি, রাজধানী সুপার মার্কেট ও জয়কালী মন্দির হয়ে স্বামীবাগের ইসকন মন্দিরে গিয়ে শেষ হবে।
একটি সনাতনী রীতি অনুসারে, প্রতি বছর চন্দ্র আষাঢ়ের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে শুরু হয়ে থাকে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা। এটি পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দির থেকে শুরু হয়। বাংলাদেশেও এই রথযাত্রা হিন্দুদের একটি পবিত্র উৎসব হিসেবে পরিচিত। সাভারের ধামরাইয়ে এটি পরিচিত যশোমাধবের রথযাত্রা নামে। ভারতের ঊড়িষ্যা রাজ্যের যশোমাধবের রথযাত্রা ও মহেশের জগন্নাথ দেবের রথযাত্রাও উপমহাদেশে বিখ্যাত। ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে রথযাত্রার ব্যাপক প্রচলন রয়েছে।
বাংলাদেশের পুরান ঢাকার তাঁতীবাজারের জগন্নাথ জিউ ঠাকুর মন্দির, জয়কালী রোডের রামসীতা মন্দির এবং শাঁখারীবাজার কমিটিসহ রাজধানীর বিভিন্ন মন্দির ও দেশের অন্যান্য মন্দিরে উল্টো রথ টানার উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিল্লির যন্তর-মন্তরে চলমান ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে, এবারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতায় কর্মসূচি পালনের ঘোষণা প্রদান করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। চিকিৎসা শিক্ষায় ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে কলকাতার রাজপথে মিছিল ও সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সংগঠনটি।
কর্মসূচি পালন করার জন্য ইতিমধ্যে কলকাতা পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু, পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অনুমতি প্রদান করা হয়নি বলে দলটির সূত্র নিশ্চিত করেছে।
কলকাতা পুলিশের সদর ও অপরাধ দমন শাখার সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে যে, গত ১৯ ও ২১ জুলাই যৌথ কমিশনারদের কাছে ই-মেইলের মাধ্যমে অনুমতি চেয়ে আবেদন পাঠিয়েছেন সংগঠনের সদস্য দেদীপ্য গঙ্গোপাধ্যায়। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শুক্রবার বিকেল চারটায় শহরের ঐতিহ্যবাহী কলেজ স্কোয়ার থেকে শুরু করে রানি রাসমণি সড়ক পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রায় দেড় হাজার তরুণ ও শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।
কলকাতা পুলিশ আবেদন গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। তবে শহরের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে যথেষ্ট পুলিশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সংগঠনের সদস্য দেদীপ্য গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পুলিশের সঙ্গে অনুমতির বিষয়ে আলোচনা চলছে। যদি অনুমতি না মেলে, তবে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে তারা বৈঠক করবেন। একই সঙ্গে দুর্নীতিমুক্ত ভাবমূর্তির সাধারণ শিক্ষার্থী ও তরুণদের এই মিছিলে যোগ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষায় অনিয়মের জেরে রাজধানী দিল্লিতে শুরু হওয়া এই যুব অসন্তোষ ইতিমধ্যে দেশটির অন্যান্য বড় শহরে ছড়িয়ে পড়ছে। দিল্লির সংসদ ভবনমুখী মিছিলে সংঘর্ষ ও সহিংসতার পর, মুম্বাই ও চেন্নাইয়ে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমেছেন। এবার কলকাতার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি এবং শিক্ষাঙ্গনে নতুন উত্তাপ দেখা দিচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ