ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের প্রচারণায় ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ


এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের প্রচারণায় ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ

দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সর্ববৃহৎ ক্রীড়া উৎসব ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’ আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। এই মেগা টুর্নামেন্টের প্রচারণা শুরু হয়েছে ক্যাম্পাসে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

জানা গেছে, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি), ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ) এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ) ক্যাম্পাসে এই প্রচারণা পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ক্যাম্পাসগুলোকে আনন্দমুখর মিলনমেলায় পরিণত করেছে।

ক্যাম্পাসগুলোতে শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করার জন্য আয়োজন করা হয়েছে আকর্ষণীয় গেম শো ‘হিট দ্য স্টাম্প’ এবং ‘ক্রসবার চ্যালেঞ্জ’। এই জমজমাট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ী শিক্ষার্থীরা প্রত্যেকে ৫ হাজার টাকা করে নগদ পুরস্কার অর্জন করেন।

আরও পড়ুন: গাজার শিশুদের চিকিৎসার জন্য হামজার ১ লাখ পাউন্ড সংগ্রহ

২৫ অক্টোবর থেকে এবিজি স্পোর্টস সিটিতে কৃত্রিম ফ্লাডলাইটের আলোয় এই মেগা আসর শুরু হবে। দেশের শীর্ষস্থানীয় ১০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেট ও ফুটবলের মোট ২০টি দল এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করবে।

টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য ১০ লাখ টাকা এবং রানার্স-আপ দলের জন্য ৫ লাখ টাকাসহ মোট ৩০ লাখ টাকার প্রাইজমানি ঘোষণা করা হয়েছে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ক্রীড়াঙ্গনে এত বড় প্রাইজমানির টুর্নামেন্ট এবারই প্রথম, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়তি উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতানিয়াহুকে কেন না করলেন সৌদি যুবরাজ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:০৯ পি.এম


হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতানিয়াহুকে কেন না করলেন সৌদি যুবরাজ?

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পূর্বে ইরানে সরাসরি হামলার সম্ভাবনা হ্রাস পাওয়ায় যুদ্ধের নতুন একটি ফ্রন্ট খোলার চেষ্টা করছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য রিয়াদকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন এই যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী। তবে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন অভিযানে ইসরাইলের অংশগ্রহণের প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে সৌদি আরবের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল তেল আবিব। কিন্তু সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছেন। যুবরাজের উদ্বেগ, এই মুহূর্তে ইয়েমেনে ইসরাইলের সামরিক অভিযান সৌদি জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরেকটি সূত্র হারেৎজকে জানিয়েছে, ইসরাইলের প্রত্যাশা ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের দুই মিত্র দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আঞ্চলিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ তৈরি করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সৌদি আরবকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে আসছেন। রিয়াদের অবস্থান হলো, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। যদিও, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোর বিরোধী নেতানিয়াহু।

ইয়েমেনে ইসরাইলের সামরিক অংশগ্রহণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদি আরবের প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তার অনুমতি ছাড়া ইয়েমেন যুদ্ধে ইসরাইলের অংশগ্রহণের সুযোগ কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে।

নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে কাজ করে আসছেন। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দুই দেশ এ বিষয়ে একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল। রিয়াদ-তেল আবিব চুক্তি নেতানিয়াহুর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর সে কারণেই ওই বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পূর্ববর্তী সপ্তাহগুলোতে গাজা সংঘাত বিস্তৃত হওয়া থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করেছিলেন নেতানিয়াহু।

ওয়াশিংটন পোস্টের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামাসের হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে নেতানিয়াহুকে প্রথম সতর্ক করেছিলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী সেই সতর্কবার্তা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীতে জাল টাকায় নেওয়া চেইন উদ্ধার, গ্রেফতার ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:২৫ পি.এম


রাজশাহীতে জাল টাকায় নেওয়া চেইন উদ্ধার, গ্রেফতার ২

 রাজশাহীর সাহেববাজারে জাল টাকার নোট দিয়ে স্বর্ণের চেইন আত্মসাতের ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঢাকার খিলক্ষেত থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় রাজশাহী ও বগুড়ার দুটি জুয়েলারি দোকান থেকে আত্মসাৎ করা স্বর্ণের চেইন উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার সকালে বোয়ালিয়া মডেল থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নগর পুলিশের মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার (সদর) মোঃ গাজিউর রহমান।
তিনি জানান, গত ২৪ সেপ্টেম্বর সাহেববাজারের আশা জুয়েলারি স্টোরে সেনাসদস্য পরিচয়ে গিয়ে স্বর্ণের গয়না কেনার কথা বলেন এক ব্যক্তি। পরে ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি দোকান থেকে আট আনা এক রতি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন নেন। চেইনটির দাম ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। মূল্য পরিশোধের জন্য তিনি এক হাজার টাকা মূল্যমানের ১১৫টি নোট দেন। দোকানমালিকের বাবা নোটগুলো যাচাই করে জাল বলে শনাক্ত করেন। এর আগেই চেইন নিয়ে পালিয়ে যান ওই ব্যক্তি।
ঘটনার তদন্তে নেমে গত ১৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার খিলক্ষেতের জামতলা মোড় থেকে মোঃ রিয়াজুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মা জুয়েলার্সের মালিক মোঃ রোমানকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে রাজশাহীর দোকান থেকে নেওয়া চেইনটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, একই কৌশলে গত ৬ অক্টোবর বগুড়ার নিউ মার্কেটের তামান্না জুয়েলার্স থেকে ১ লাখ ২২ হাজার টাকার জাল নোট দিয়ে একটি স্বর্ণের চেইন আত্মসাৎ করেন রিয়াজুল। ওই চেইনটিও উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর কাছ থেকে একটি মুঠোফোন ও নগদ ১৪ হাজার ৯৭২ টাকা জব্দ করা হয়। গ্রেফতার রিয়াজুলের বিরুদ্ধে বদরগঞ্জ ও ঢাকার খিলক্ষেত থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা রয়েছে। গ্রেফতার দুজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুরের আগে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।#

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঐতিহ্যবাহী আলফাডাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন সভাপতি শিক্ষানুরাগী আরাফাত হোসেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:২৭ পি.এম


ঐতিহ্যবাহী আলফাডাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন সভাপতি শিক্ষানুরাগী আরাফাত হোসেন

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আলফাডাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী আরাফাত হোসেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা নিয়ে তাঁর এ দায়িত্ব গ্রহণকে ঘিরে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

আরাফাত হোসেন উপজেলার কুসুমদী গ্রামের প্রয়াত চান মিয়ার ছেলে। তিনি ইতিপূর্বেও বিদ্যালয়ের জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিজস্ব অর্থায়নে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করেন। তাঁর এ উদ্যোগ বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

নতুন সভাপতি আরাফাত হোসেন বলেন, শিক্ষা একটি জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রধান ভিত্তি। একটি বিদ্যালয়কে প্রকৃত অর্থে আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষার্থীরা যেন আনন্দময় পরিবেশে পড়াশোনা করে নিজেদের যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে, সে লক্ষ্যে আমি আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করছি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেসমিন আরা সুলতানা বলেন,বিদ্যালয়ের জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন সভাপতি ইতিপূর্বেই নিজস্ব অর্থায়নে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করেছিলেন। তাঁর এই উদ্যোগ বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়নে সহায়ক হয়েছে। আমরা আশা করি, তাঁর সহযোগিতা ও উদ্যোগে বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নতুন সভাপতির উদ্যোগ, শিক্ষকদের নিষ্ঠা এবং অভিভাবকদের সহযোগিতায় ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন ও নৈতিক বিকাশে বিদ্যালয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাইকোর্টের আদেশ ও সরকারি পরিপত্র উপেক্ষা? মানিকগঞ্জের জয়মন্টপ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে বাণিজ্য মেলার তোড়জোড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদ

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:২৯ পি.এম


হাইকোর্টের আদেশ ও সরকারি পরিপত্র উপেক্ষা? মানিকগঞ্জের জয়মন্টপ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে বাণিজ্য মেলার তোড়জোড়

১৮ অক্টোবর উদ্বোধনের প্রস্তুতি, নিষেধাজ্ঞার নথি পাঠানোর পরও কার্যক্রম অব্যাহত; আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি মানবাধিকার সংগঠনের

 উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সুনির্দিষ্ট প্রজ্ঞাপনকে সরাসরি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ঐতিহ্যবাহী জয়মন্টপ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলার আয়োজনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রচ্ছন্ন আশ্রয়েই আগামী ১৮ অক্টোবর এই বেআইনি মেলার ঘটা করে উদ্বোধনের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারি আদেশ, পরিপত্র ও আইনি বাধ্যবাধকতার সুনির্দিষ্ট প্রমাণাদি উপস্থাপন করার পরও স্থানীয় শীর্ষ প্রশাসনের এমন বেপরোয়া ও রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন জাগছে—প্রশাসন কি আইনের ঊর্ধ্বে?

অনুসন্ধানে জানা যায়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের (রপ্তানি-৭ শাখা) ‘মেলা পরিপত্র, ২০২২’ (স্মারক নম্বর: ২৬.০০.০০০০.১০৬.৮৬.০৮৬.১৫.১১১; তারিখ: ২৯ জুন ২০২২ / ১৫ আষাঢ় ১৪২৯)-এর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের (চ) ধারায় পরিষ্কারভাবে উল্লেখ রয়েছে—"কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজন করা যাবে না।"

এর পাশাপাশি, বরিশাল ‘কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ প্রাঙ্গণে মেলা আয়োজনের বিরুদ্ধে মহামান্য হাই কোর্ট এক যুগান্তকারী ও স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন, যা সারা দেশের জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের জন্য সরকারি আইন ও নিয়ম অনুসরণের এক চূড়ান্ত আইনি বার্তা।

জয়মন্টপ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ: ঐতিহ্য, শিক্ষা ও ক্রীড়াচর্চার অবিচ্ছেদ্য অংশ

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, জয়মন্টপ খেলার মাঠটি মূলত ঐতিহ্যবাহী জয়মন্টপ উচ্চ বিদ্যালয়ের (Joymontop High School) নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক সম্পত্তি। এটি কোনো সাধারণ উন্মুক্ত বা পরিত্যক্ত চত্বর নয়; বরং সরাসরি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং তাদের শিক্ষাঙ্গনেরই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

মালিকানা ও ঐতিহ্য: বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের মূল কেন্দ্র হিসেবে এই মাঠ ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

দৈনন্দিন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহার: প্রতিটি কার্যদিবসে শিক্ষার্থীদের প্রাত্যহিক সমাবেশ (Assembly/PT), বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং টিফিনকালীন খেলাধুলার জন্য মাঠটি সম্পূর্ণ সংরক্ষিত থাকে।

এলাকাবাসীর ক্রীড়াচর্চা: স্কুলের সময়সূচির বাইরে (বিকেলে বা ছুটির দিনে) এটি স্থানীয় তরুণদের জন্য উন্মুক্ত থাকে, যেখানে ‘জয়মন্টপ প্রিমিয়ার লিগ’-সহ নানা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

এমন একটি প্রাণবন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠকে বাণিজ্য মেলার কোলাহল ও বাণিজ্যিক স্বার্থে লিজ বা অনুমতি দেওয়ায় চরম ক্ষুব্ধ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকার ক্রীড়ামোদি সমাজ।

প্রজ্ঞাপন ও তথ্য-প্রমাণ দেওয়ার পরও নীরব প্রশাসন: নেপথ্যে কিসের স্বার্থ?

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ রক্ষায় এবং আইনি প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়নে একটি মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক এবং সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-কে লিখিত নথিপত্র, ভূ-সংস্থান ও রাজস্ব দালিলিক প্রমাণ পাঠাল হলেও প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

এ নিয়ে সচেতন মহল প্রশ্ন তুলছে—আইনগত নিষেধাজ্ঞা এবং মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট প্রজ্ঞাপন জানা সত্ত্বেও কেন জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন এই বেআইনি মেলার অনুমোদন বজায় রাখছে? আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার মতো গুরুতর আইনি ঝুঁকির মুখোমুখি দাঁড়িয়েও কেন স্থানীয় প্রশাসন এই মেলার কাজ অব্যাহত রাখতে এত উদগ্রীব? তবে কি কোনো অদৃশ্য ক্ষমতার চাপ কিংবা নেপথ্যের কোনো সুবিধাপ্রাপ্তি ও আর্থিক রফাদফার দায় চেপেছে প্রশাসনের ওপর—যার কারণে শতবর্ষী ঐতিহ্য ও সরকারি পরিপত্রকেও তারা তোয়াক্কা করছেন না?

মানবাধিকার সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সম্পাদক মাছুদুর রহমান আসলাম কড়া হুশিয়ারি দিয়ে জানান, জেলা প্রশাসক ও ইউএনও-কে চূড়ান্ত বার্তা দিয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন অনতিবিলম্বে এই অবৈধ মেলার অনুমোদন বাতিল ও কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। তিনি বলেন, "আমরা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। প্রশাসন যদি আইন ও সরকারি আদেশ অমান্য করে আগামী ১৮ অক্টোবর মেলার শুভ উদ্বোধন ঘটায়, তবে সরকারি আদেশ অবমাননা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে আমরা অনতিবিলম্বে মহামান্য হাই কোর্টের শরণাপন্ন হব।"

হোয়াটসঅ্যাপে জেলা প্রশাসকের প্রাথমিক বক্তব্য, পরে আর জবাব মেলেনি

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগ করে মেলার আয়োজন সম্পর্কে অবহিত করা হয়। মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো বার্তার জবাবে জেলা প্রশাসক প্রাথমিকভাবে জানান, সংশ্লিষ্ট মাঠটি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ নয়। পরবর্তীতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে মাঠটির পরিচয়, সরকারি খতিয়ান ও অবস্থান-সম্পর্কিত শতভাগ দালিলিক তথ্য-প্রমাণ পাঠিয়ে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়।

সংগঠনটির দাবি, এসব সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাঠানোর পরও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পরবর্তী বার্তাগুলোর কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। ফলে মাঠটির প্রকৃত পরিচয় জানা সত্ত্বেও মেলার অনুমোদনের আইনগত ভিত্তি এবং সরকারি বিধিবিধান লঙ্ঘনের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং মেলার আয়োজকদের বক্তব্যও জানতে চেয়ে যোগাযোগের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%