কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
০৭:২৭ পি.এম
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আলফাডাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী আরাফাত হোসেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা নিয়ে তাঁর এ দায়িত্ব গ্রহণকে ঘিরে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
আরাফাত হোসেন উপজেলার কুসুমদী গ্রামের প্রয়াত চান মিয়ার ছেলে। তিনি ইতিপূর্বেও বিদ্যালয়ের জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিজস্ব অর্থায়নে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করেন। তাঁর এ উদ্যোগ বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
নতুন সভাপতি আরাফাত হোসেন বলেন, শিক্ষা একটি জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রধান ভিত্তি। একটি বিদ্যালয়কে প্রকৃত অর্থে আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষার্থীরা যেন আনন্দময় পরিবেশে পড়াশোনা করে নিজেদের যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে, সে লক্ষ্যে আমি আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করছি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেসমিন আরা সুলতানা বলেন,বিদ্যালয়ের জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন সভাপতি ইতিপূর্বেই নিজস্ব অর্থায়নে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করেছিলেন। তাঁর এই উদ্যোগ বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়নে সহায়ক হয়েছে। আমরা আশা করি, তাঁর সহযোগিতা ও উদ্যোগে বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নতুন সভাপতির উদ্যোগ, শিক্ষকদের নিষ্ঠা এবং অভিভাবকদের সহযোগিতায় ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন ও নৈতিক বিকাশে বিদ্যালয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
১৮ অক্টোবর উদ্বোধনের প্রস্তুতি, নিষেধাজ্ঞার নথি পাঠানোর পরও কার্যক্রম অব্যাহত; আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি মানবাধিকার সংগঠনের
উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সুনির্দিষ্ট প্রজ্ঞাপনকে সরাসরি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ঐতিহ্যবাহী জয়মন্টপ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলার আয়োজনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রচ্ছন্ন আশ্রয়েই আগামী ১৮ অক্টোবর এই বেআইনি মেলার ঘটা করে উদ্বোধনের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারি আদেশ, পরিপত্র ও আইনি বাধ্যবাধকতার সুনির্দিষ্ট প্রমাণাদি উপস্থাপন করার পরও স্থানীয় শীর্ষ প্রশাসনের এমন বেপরোয়া ও রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন জাগছে—প্রশাসন কি আইনের ঊর্ধ্বে?
অনুসন্ধানে জানা যায়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের (রপ্তানি-৭ শাখা) ‘মেলা পরিপত্র, ২০২২’ (স্মারক নম্বর: ২৬.০০.০০০০.১০৬.৮৬.০৮৬.১৫.১১১; তারিখ: ২৯ জুন ২০২২ / ১৫ আষাঢ় ১৪২৯)-এর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের (চ) ধারায় পরিষ্কারভাবে উল্লেখ রয়েছে—"কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজন করা যাবে না।"
এর পাশাপাশি, বরিশাল ‘কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ প্রাঙ্গণে মেলা আয়োজনের বিরুদ্ধে মহামান্য হাই কোর্ট এক যুগান্তকারী ও স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন, যা সারা দেশের জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের জন্য সরকারি আইন ও নিয়ম অনুসরণের এক চূড়ান্ত আইনি বার্তা।
জয়মন্টপ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ: ঐতিহ্য, শিক্ষা ও ক্রীড়াচর্চার অবিচ্ছেদ্য অংশ
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, জয়মন্টপ খেলার মাঠটি মূলত ঐতিহ্যবাহী জয়মন্টপ উচ্চ বিদ্যালয়ের (Joymontop High School) নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক সম্পত্তি। এটি কোনো সাধারণ উন্মুক্ত বা পরিত্যক্ত চত্বর নয়; বরং সরাসরি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং তাদের শিক্ষাঙ্গনেরই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
মালিকানা ও ঐতিহ্য: বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের মূল কেন্দ্র হিসেবে এই মাঠ ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
দৈনন্দিন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহার: প্রতিটি কার্যদিবসে শিক্ষার্থীদের প্রাত্যহিক সমাবেশ (Assembly/PT), বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং টিফিনকালীন খেলাধুলার জন্য মাঠটি সম্পূর্ণ সংরক্ষিত থাকে।
এলাকাবাসীর ক্রীড়াচর্চা: স্কুলের সময়সূচির বাইরে (বিকেলে বা ছুটির দিনে) এটি স্থানীয় তরুণদের জন্য উন্মুক্ত থাকে, যেখানে ‘জয়মন্টপ প্রিমিয়ার লিগ’-সহ নানা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
এমন একটি প্রাণবন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠকে বাণিজ্য মেলার কোলাহল ও বাণিজ্যিক স্বার্থে লিজ বা অনুমতি দেওয়ায় চরম ক্ষুব্ধ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকার ক্রীড়ামোদি সমাজ।
প্রজ্ঞাপন ও তথ্য-প্রমাণ দেওয়ার পরও নীরব প্রশাসন: নেপথ্যে কিসের স্বার্থ?
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ রক্ষায় এবং আইনি প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়নে একটি মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক এবং সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-কে লিখিত নথিপত্র, ভূ-সংস্থান ও রাজস্ব দালিলিক প্রমাণ পাঠাল হলেও প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
এ নিয়ে সচেতন মহল প্রশ্ন তুলছে—আইনগত নিষেধাজ্ঞা এবং মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট প্রজ্ঞাপন জানা সত্ত্বেও কেন জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন এই বেআইনি মেলার অনুমোদন বজায় রাখছে? আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার মতো গুরুতর আইনি ঝুঁকির মুখোমুখি দাঁড়িয়েও কেন স্থানীয় প্রশাসন এই মেলার কাজ অব্যাহত রাখতে এত উদগ্রীব? তবে কি কোনো অদৃশ্য ক্ষমতার চাপ কিংবা নেপথ্যের কোনো সুবিধাপ্রাপ্তি ও আর্থিক রফাদফার দায় চেপেছে প্রশাসনের ওপর—যার কারণে শতবর্ষী ঐতিহ্য ও সরকারি পরিপত্রকেও তারা তোয়াক্কা করছেন না?
মানবাধিকার সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সম্পাদক মাছুদুর রহমান আসলাম কড়া হুশিয়ারি দিয়ে জানান, জেলা প্রশাসক ও ইউএনও-কে চূড়ান্ত বার্তা দিয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন অনতিবিলম্বে এই অবৈধ মেলার অনুমোদন বাতিল ও কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। তিনি বলেন, "আমরা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। প্রশাসন যদি আইন ও সরকারি আদেশ অমান্য করে আগামী ১৮ অক্টোবর মেলার শুভ উদ্বোধন ঘটায়, তবে সরকারি আদেশ অবমাননা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে আমরা অনতিবিলম্বে মহামান্য হাই কোর্টের শরণাপন্ন হব।"
হোয়াটসঅ্যাপে জেলা প্রশাসকের প্রাথমিক বক্তব্য, পরে আর জবাব মেলেনি
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগ করে মেলার আয়োজন সম্পর্কে অবহিত করা হয়। মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো বার্তার জবাবে জেলা প্রশাসক প্রাথমিকভাবে জানান, সংশ্লিষ্ট মাঠটি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ নয়। পরবর্তীতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে মাঠটির পরিচয়, সরকারি খতিয়ান ও অবস্থান-সম্পর্কিত শতভাগ দালিলিক তথ্য-প্রমাণ পাঠিয়ে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়।
সংগঠনটির দাবি, এসব সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাঠানোর পরও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পরবর্তী বার্তাগুলোর কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। ফলে মাঠটির প্রকৃত পরিচয় জানা সত্ত্বেও মেলার অনুমোদনের আইনগত ভিত্তি এবং সরকারি বিধিবিধান লঙ্ঘনের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং মেলার আয়োজকদের বক্তব্যও জানতে চেয়ে যোগাযোগের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের নকশা অনুসরণ করে চীনা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে উন্নত মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারলে গোষ্ঠীটি সউদী আরবের গভীরে এবং ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লিখিত হয়েছে।
প্রতিবেদনটি অস্ত্রের উৎস ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা সংস্থা কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চের (সিএআর) অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হুতিরা এতদিন ইরান ও আঞ্চলিক মিত্রদের কাছ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের ওপর নির্ভরশীল ছিল, তবে বর্তমানে তারা নিজেদের উন্নত অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তৈরির চেষ্টা চলা ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরানের ‘খাইবার শেকান’ নামের নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আদলে তৈরি বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২২ সালে তেহরানে প্রথম এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে তৈরি হলে এর পাল্লা প্রায় ১২০০ মাইল বা ১৯৩০ কিলোমিটার হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সৌদি আরব ও ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু এই পাল্লার আওতায় আসবে।
সিএআরের অনুসন্ধানে গত বছর ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষের আটক করা দুটি চালানের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। এসব চালানে অন্যান্য পণ্যের আড়ালে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম পরিবহন করা হচ্ছিল বলে জানানো হয়েছে।
জব্দ করা সামগ্রীর মধ্যে ছিল ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন ও মূল কাঠামো তৈরির জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত ধাতব যন্ত্রাংশ, স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাখনা এবং কঠিন জ্বালানিচালিত রকেট মোটরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু উপাদান। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, খাইবার শেকান সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে এসব উপাদানের সম্পর্ক রয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন সরঞ্জাম, পরীক্ষার যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে এমন তাপসহনশীল উপাদানও ছিল, যা উড্ডয়নের সময় প্রচণ্ড তাপ থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের কিছু অংশকে সুরক্ষা দিতে ব্যবহৃত হয়।
তদন্তকারীরা চালানের নথিপত্র পরীক্ষা করে চীনের একটি নির্ভুল ধাতব যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচয় পেয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি মহাকাশ প্রযুক্তিতে ব্যবহারের উপযোগী বিশেষায়িত যন্ত্রাংশ তৈরির দক্ষতার কথা প্রচার করে। তবে প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির নাম প্রকাশ করা হয়নি।
সিএআরের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ফ্যাবিয়ান হিনজ ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেছেন, "এসব যন্ত্রাংশ আমদানি থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, হুতিরা হয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু করেছে, নয়তো সেই চেষ্টা করছে।"
ইরানের খাইবার শেকানকে দেশটির কিছু অন্য ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় বেশি সক্ষম বলে মনে করা হয়। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে উড্ডয়নের সময় গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। এর কিছু সংস্করণে উড্ডয়নের শেষ পর্যায়ে ওয়ারহেড বহনকারী অংশটি মূল ক্ষেপণাস্ত্র থেকে আলাদা হয়ে যেতে পারে। এরপর লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় ওই অংশ নিজের গতিপথ সমন্বয় করতে পারে।
প্রতিবেদনে উদ্ধৃত বিশ্লেষক ও কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটির গতি ঘণ্টায় প্রায় ৬০০০ মাইল বা ৯৬৫৬ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
প্রায় ১২০০ মাইল পাল্লার একটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হুতিদের জন্য সৌদি আরবের গভীরে আঘাত হানার পাশাপাশি ইসরাইলকে লক্ষ্যবস্তু করার সুযোগ তৈরি করতে পারে। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র কিছু ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের তুলনায় বেশি ওজনের বিস্ফোরক বহন করতেও সক্ষম হতে পারে।
অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহর কাছ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের ওপর নির্ভর করার পর হুতিরা ধীরে ধীরে নিজেদের অস্ত্র উৎপাদনব্যবস্থা সম্প্রসারণ করছে।
জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদন এবং অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, হুতিদের কাছে পাঠানোর সময় জব্দ করা পণ্যের একটি উল্লেখযোগ্য উৎস হিসেবে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম উঠে এসেছে। এসব উপাদানের কিছু বেসামরিক কাজে ব্যবহার করা যায়। তবে অন্য কিছু উপাদান বিশেষভাবে ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থায় ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি।
চীন বলেছে, ইয়েমেনের হুতিদের ওপর জাতিসংঘের আরোপ করা অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা তারা মেনে চলে। তবে চীনা উৎসের যন্ত্রাংশের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার এমন প্রশ্ন সামনে এনেছে যে, দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে পৌঁছানো ঠেকাতে বিদ্যমান নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা কতটা কার্যকর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন প্রজন্মের কাছে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং শিল্পকলা একাডেমিগুলোকে সক্রিয় করার জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন।
সচিবালয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সভায় এসব নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় লালন উৎসব ও নজরুলবর্ষকে কেন্দ্র করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচি ও পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। বিশেষ করে ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় শীতকালীন সাংস্কৃতিক উৎসব উপলক্ষে মন্ত্রণালয়ের গৃহীত ও প্রস্তাবিত কর্মসূচি সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করা হয়।
সভায় জানানো হয় যে, শীতকালীন সাংস্কৃতিক উৎসবে সার্কাস, গ্রামীণ সংস্কৃতি, নৌকাবাইচ, ঘুড়ি উৎসব, ঘোড়দৌড়, পাপেট শো এবং বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এ ছাড়া, জুলাই জাদুঘর, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলা একাডেমি, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা তাঁদের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী শিল্পকলা একাডেমিগুলোকে আরও সক্রিয় করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেন। নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির মাধ্যমে শিশুদের কাছে বই পৌঁছে দেওয়া যায় কি না, তা ভেবে দেখতে হবে।" তিনি পাঠচক্র, বই পড়ার প্রতিযোগিতা এবং এ ধরনের অন্যান্য উদ্যোগের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।
নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমাদের সংস্কৃতি হাজার বছরের। কিন্তু আমাদের তরুণ প্রজন্মের কাছে আমরা তা হয়তো যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারছি না। প্রযুক্তির কল্যাণে আমরা বিদেশি সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছি, নতুন নতুন বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে নিজেদের সংস্কৃতি ভুলে যাব। আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য কীভাবে আরও বেশি করে তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা যায়, তা নিয়ে ভাবতে হবে।"
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "উপস্থিত সবারই কোনো না কোনো যোগ্যতা রয়েছে। তাই প্রত্যেককে নিজেদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে কাজ করতে হবে।" তিনি আরও বলেন, "আমরা যদি আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিই, তাহলে আমরা সবাই মিলে যে ধরনের দেশ দেখতে চাই, অন্তত তার কিছুটা হলেও বাস্তবায়ন করতে পারব। দেশের জন্য কিছু করার সুযোগ আমাদের রয়েছে। আমরা যেন সেই সুযোগ কাজে লাগাই।"
সভায় সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্স নির্মাণের সরকারি উদ্যোগের কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পরিবেশবিদরা। শেকৃবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জমিটি কৃষি গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, আগারগাঁও এলাকায় নতুন সচিবালয় নির্মাণ হলে যানজট এবং পরিবেশের ওপর চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রশাসনিক জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা জমিটি কৃষি গবেষণার কাজে ব্যবহারের দাবি জানিয়ে আসছেন শেকৃবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। নতুন সচিবালয় নির্মাণের উদ্যোগ শুরু হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গবেষণার অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং এরশাদ আমলে জোরপূর্বক দখল করা জমি পুনরুদ্ধারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মানববন্ধনের ডাক দিয়েছেন। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে যাত্রা ও স্মারকলিপি দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। একই দিন সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবেন তারা।
এদিকে, জাতীয় সংসদ ভবনসংলগ্ন আগারগাঁওয়ের উন্মুক্ত ও পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকায় বড় প্রশাসনিক অবকাঠামো নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির এক যৌথ বিবৃতিতে সরকারের উদ্যোগটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সংসদ ভবন এলাকার স্থাপত্য ঐতিহ্য, উন্মুক্ত স্থানের সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি নগর ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো বিবেচনা না করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সমীচীন নয়। আগারগাঁও ও রোকেয়া সরণি এলাকায় ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চাপ রয়েছে। প্রধান প্রশাসনিক কার্যালয় স্থানান্তরিত হলে যানবাহন ও মানুষের চলাচল বৃদ্ধি পাবে। এতে সড়ক যোগাযোগ ও নগরজীবনে আরও চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
সচিবালয় নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদ অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীকে ধাপে ধাপে স্থানান্তরের সুপারিশ করে আসছেন তারা। আগারগাঁওয়ের মতো ব্যস্ত এলাকায় নতুন সচিবালয় নির্মাণের সুনির্দিষ্ট বা যৌক্তিক সুফল তিনি দেখছেন না।
তিনি আরো বলেন, এলাকাটিকে ‘নীরব এলাকা’ ঘোষণা করা হলেও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। সেখানে সচিবালয়ের মতো প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হলে পরিবেশের ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে।
অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বড় অবকাঠামো নির্মাণের আগে যথাযথ পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) করা জরুরি। এ প্রকল্পের ক্ষেত্রে এমন সমীক্ষা করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সমীক্ষা করা হয়ে থাকলে তা সাধারণ মানুষের জানার জন্য প্রকাশের আহ্বান জানান এই পরিবেশবিদ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ