০৭:৩৯ পি.এম
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্স নির্মাণের সরকারি উদ্যোগের কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পরিবেশবিদরা। শেকৃবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জমিটি কৃষি গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, আগারগাঁও এলাকায় নতুন সচিবালয় নির্মাণ হলে যানজট এবং পরিবেশের ওপর চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রশাসনিক জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা জমিটি কৃষি গবেষণার কাজে ব্যবহারের দাবি জানিয়ে আসছেন শেকৃবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। নতুন সচিবালয় নির্মাণের উদ্যোগ শুরু হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গবেষণার অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং এরশাদ আমলে জোরপূর্বক দখল করা জমি পুনরুদ্ধারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মানববন্ধনের ডাক দিয়েছেন। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে যাত্রা ও স্মারকলিপি দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। একই দিন সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবেন তারা।
আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম
এদিকে, জাতীয় সংসদ ভবনসংলগ্ন আগারগাঁওয়ের উন্মুক্ত ও পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকায় বড় প্রশাসনিক অবকাঠামো নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির এক যৌথ বিবৃতিতে সরকারের উদ্যোগটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সংসদ ভবন এলাকার স্থাপত্য ঐতিহ্য, উন্মুক্ত স্থানের সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি নগর ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো বিবেচনা না করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সমীচীন নয়। আগারগাঁও ও রোকেয়া সরণি এলাকায় ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চাপ রয়েছে। প্রধান প্রশাসনিক কার্যালয় স্থানান্তরিত হলে যানবাহন ও মানুষের চলাচল বৃদ্ধি পাবে। এতে সড়ক যোগাযোগ ও নগরজীবনে আরও চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
সচিবালয় নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদ অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীকে ধাপে ধাপে স্থানান্তরের সুপারিশ করে আসছেন তারা। আগারগাঁওয়ের মতো ব্যস্ত এলাকায় নতুন সচিবালয় নির্মাণের সুনির্দিষ্ট বা যৌক্তিক সুফল তিনি দেখছেন না।
তিনি আরো বলেন, এলাকাটিকে ‘নীরব এলাকা’ ঘোষণা করা হলেও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। সেখানে সচিবালয়ের মতো প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হলে পরিবেশের ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন সময়সীমা ১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়াল ইসি
অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বড় অবকাঠামো নির্মাণের আগে যথাযথ পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) করা জরুরি। এ প্রকল্পের ক্ষেত্রে এমন সমীক্ষা করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সমীক্ষা করা হয়ে থাকলে তা সাধারণ মানুষের জানার জন্য প্রকাশের আহ্বান জানান এই পরিবেশবিদ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন