ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এক মাস ধরে প্রশাসক নেই, চরম ভোগান্তিতে শমশেরনগরের মানুষ


এক মাস ধরে প্রশাসক নেই, চরম ভোগান্তিতে শমশেরনগরের মানুষ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা না থাকায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে নাগরিক সেবা কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্রসহ জরুরি সেবা না পেয়ে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৯ জুলাই থেকে ইউনিয়ন পরিষদে কার্যকর কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নেই। জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় রেজিস্টার আইডিও সচল না থাকায় নতুন ও সংশোধিত জন্ম নিবন্ধনসহ অধিকাংশ সেবা বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিদিন সেবাপ্রত্যাশীরা ইউনিয়ন পরিষদে এসে ফিরে যাচ্ছেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগের আইন-১ শাখার এক আদেশ অনুযায়ী জানা যায়, চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদ দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থাকায় ২০২৫ সালে উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তাকে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ত্যাগীদের মধ্য থেকে একজনকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি মোঃ ফারুক আলীর

কিন্তু চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদ হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে গত ২৭ এপ্রিল আদালত ওই আদেশ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। এরপর নতুন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ না হওয়ায় প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে।

চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদ জানান, আদালতের আদেশে তার চেয়ারম্যান পদ বহাল রয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের জন্য চিঠি পেলেও পরে তার স্বাক্ষর ছাড়া পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানতে পেরেছেন।

জনদুর্ভোগ নিরসনে তিনি দ্রুত আইনানুগ সমাধান চান।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। জন্ম নিবন্ধনসহ সব ধরনের নাগরিক সেবা দ্রুত চালুর চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে টাঙ্গুয়ার হাওরে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ ইস্যুতে সমঝোতার আভাস, তবে ট্রাম্পের জন্য সুখবর নয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:১৬ পি.এম


হরমুজ ইস্যুতে সমঝোতার আভাস, তবে ট্রাম্পের জন্য সুখবর নয়

হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনা নতুন মোড় নিয়ে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহেই একটি সমঝোতা হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও এখনও চূড়ান্ত চুক্তি অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে রয়েছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—হরমুজ প্রণালির ওপর কতটা নিয়ন্ত্রণ ইরান ধরে রাখতে সক্ষম হবে এবং সেই শর্ত যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা মেনে নেবে কি না।

ট্রাম্প মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, “সমঝোতা হতে পারে। আগামীকাল কিংবা তার পরের দিনই হতে পারে। অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তারা আমাকে ফোন করে বলেছে- চলুন, আলোচনা করি।” তবে তিনি একবারে একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে উল্লেখ করেন, সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

আলোচনার প্রকৃতি নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে। ইরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনও আলোচনা করছে না। তেহরানের ভাষ্য, কেবল ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে। অন্যদিকে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক জ্যেষ্ঠ উপসাগরীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুক্রবারের মধ্যে সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা ‘৫০-৫০’ হিসাব করা হচ্ছে। তার মতে, সবচেয়ে বড় জটিলতা হলো—ইরানের প্রতিনিধি দলে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কোনও প্রতিনিধি নেই। অথচ সম্ভাব্য চুক্তি কার্যকর করতে আইআরজিসির সম্মতি অপরিহার্য।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে সমঝোতা বিলম্বিত হওয়ার প্রধান কারণ যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামরিক হুমকি। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম এক অবগত সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে। আরেক আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজও একই ধরনের দাবি করেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তা এবং আঞ্চলিক কয়েকটি দেশ আলোচনায় ‘মিশ্র বার্তা’ দিচ্ছে, যা সমঝোতার পথে বাধা তৈরি করছে। ফার্সের দাবি, ইরান কেবল ওমানের সঙ্গেই আলোচনা করছে এবং সেই আলোচনার লক্ষ্য এমন একটি মধ্যবর্তী নৌপথ নির্ধারণ করা, যা একটি দিকে ইরানের অধিকার নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে ওমানের উদ্বেগও বিবেচনায় নেবে।

ইরানের আলোচক কমিটির সদস্য সাঈদ আজোরলু জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় প্রণালির নিরাপত্তা, মাইন অপসারণ এবং নৌসেবা পরিচালনায় ইরানের ভূমিকা বজায় রাখতে হবে। তিনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবিকে বলেন, ইরানের লক্ষ্য এক থেকে তিন মাসের জন্য এমন একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা চালু করা, যেখানে প্রণালিতে ইরানের প্রাধান্য থাকবে।

বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হলো ওমানের জলসীমা দিয়ে চলা দক্ষিণাঞ্চলীয় নৌপথ এবং ইরানের জলসীমার উত্তরাঞ্চলীয় নৌপথকে একীভূত করে উভয় দেশের স্বার্থ রক্ষাকারী একটি যৌথ করিডর তৈরি করা। তিনি বলেন, “আমরা এখন এমন একটি দ্বিমুখী করিডর নিয়ে আলোচনা করছি, যেখানে আলাদা দুই বা তিনটি নৌপথ থাকবে না।”

ইরানের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যুদ্ধের আগে যে ব্যবস্থায় কোনও রাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করত না, সেই অবস্থায় আর ফিরে যেতে তারা রাজি নয়। তাদের মতে, হরমুজে প্রভাব বজায় রাখা এখন ইরানের জন্য পারমাণবিক কর্মসূচিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারের মতোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে ওয়াশিংটনের অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বারবার বলেছেন, কোনও রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক জলপথের ওপর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। তার ভাষায়, “যদি আমরা এমন নজির তৈরি করি যে কোনও দেশ আন্তর্জাতিক জলপথ নিয়ন্ত্রণ করবে, টোল আদায় করবে এবং অর্থ না দিলে জাহাজে হামলা করবে, তাহলে তা বিশ্বের অন্য অঞ্চলেও বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াবে।” এই কারণে হরমুজে ইরানের দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও গ্রহণযোগ্য মনে করছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য সমঝোতার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে—আইআরজিসি কি হরমুজে তাদের নিয়ন্ত্রণ সীমিত করতে রাজি হবে? বিদেশি, বিশেষ করে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে কি না? জাহাজের পণ্য ও গন্তব্য সম্পর্কে কতটা তথ্য ইরান জানতে চাইবে? ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ শিথিল হবে কি না? ইরানের তেল রফতানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় কোনও ছাড় দেওয়া হবে কি না? গত জুনে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের স্থগিত অংশগুলো পুনরায় কার্যকর হবে কি না?

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফট-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পার্সি মনে করেন, ইরানের মূল লক্ষ্য কেবল হরমুজে টোল আদায় নয়। তার মতে, যুদ্ধের সময় অর্জিত কৌশলগত প্রভাবকে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই তেহরানের উদ্দেশ্য। একই ধরনের মূল্যায়ন করেছেন ইসরায়েলি নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচ। তার মতে, হরমুজকে যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে হলে হয় ইরানে সরকার পরিবর্তন, নয়তো দীর্ঘমেয়াদি সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন হবে—যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত ব্যয়বহুল হবে।

সমঝোতা বিলম্বিত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদক প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকো’র প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের জানিয়েছেন, আজই যদি হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলেও দেওয়া হয়, তথাপি বৈশ্বিক তেলের মজুত স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরতে প্রায় ১৮ মাস সময় লাগতে পারে। বিশ্লেষকদের হিসাবে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে পরিবাহিত হয়। ফলে সমঝোতা বিলম্বিত হওয়ার প্রতিটি দিন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারে নতুন চাপ সৃষ্টি করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

​বানারীপাড়া বন্দর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে 'গণ-অভ্যুত্থান দিবস' পালিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হুমায়ুন কবির, বানারীপাড়া (বরিশাল)

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:১৭ পি.এম


​বানারীপাড়া বন্দর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

বরিশালের বানারীপাড়ার ঐতিহ্যবাহী বন্দর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ আগস্ট 'গণ-অভ্যুত্থান দিবস' উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা, দোয়া-মোনাজাত, রচনা প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি অনুষ্ঠিত হয়েছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা অক্ষুণ্ণ রাখা এবং আত্মদানকারী শহীদদের বীরত্বগাথা ও তাৎপর্য কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা ঘটে।

বিদ্যালয়ের নব গঠিত ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদুর রহমান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, "ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান ও অগণিত শহীদের মহান আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে আজকের নতুন বাংলাদেশ। শহীদদের এই অসামান্য ত্যাগ ও গণ-অভ্যুত্থানের প্রকৃত তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের সৎ, দেশপ্রেমিক ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমেই শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব।"

বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক জাহিদ হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ মৃধা। বক্তব্যে রিয়াজ মৃধা বলেন, আমরা আর ৫ই আগস্ট চাইনা। শিশু শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫ আগষ্টের তাৎপর্য তুলে ধরতে অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি আহবান জানান।

অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তৃতা করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাজনীন নাহার, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মঞ্জুর খান, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য সাইদুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রিয়াজ আহমেদ, পৌর যুবদলের সদস্য সচিব জাহিন খালাসী। সভায় বক্তারা জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের রক্তস্নাত ইতিহাস ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে তাঁদের অসামান্য অবদান গভীরভাবে স্মরণ করেন। আলোচনা শেষে গণ-অভ্যুত্থানে বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরবর্তীতে দিবসের তাৎপর্য ফুটিয়ে তুলতে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ রচনা প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বানারীপাড়া পৌর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইলিয়াস শেখ, সাধারণ সম্পাদক শুভ মোঘল, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুজ্জামান পলাশ, উপজেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শফিক, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক তথা রাজ্জাকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রনি খান, সদস্য মাসুদ হাওলাদার, আল-আমিন স্বপনসহ স্থানীয় সুধীবৃন্দ ও অভিভাবকগণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই আন্দোলনে আহতদের পাশে উপজেলা প্রশাসন, দেওয়া হলো ঘর-অটোরিকশা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:১৮ পি.এম


জুলাই আন্দোলনে আহতদের পাশে উপজেলা প্রশাসন, দেওয়া হলো ঘর-অটোরিকশা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রশাসন আহত দুই যুবকের পাশে দাঁড়িয়েছে, যারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশি সহিংসতার শিকার হয়েছিলেন। আন্দোলনের সময় গুলিতে আহত আমীর হোসেনকে একটি নতুন বসতঘরের চাবি প্রদান করা হয়েছে।

অন্যদিকে, চোখে স্প্লিন্টার প্রাপ্ত আজিজুল হককে জীবিকা নির্বাহের জন্য বিশেষ করে একটি অটোরিকশা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে উপজেলা মিলনায়তনে ‘জুলাই আন্দোলন’ স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভার পর তাদের এই সহায়তা প্রদান করা হয়। ‘জুলাই চেতনায় গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন উপজেলা প্রশাসন করেছে।

জানা গেছে, গুলির ঘটনা ঘটার সময় যুবক আমীর হোসেন ঢাকার রামপুরায় পুলিশি তাড়া খেয়ে প্রাণ বাঁচাতে একটি বহুতল ভবনের কার্নিশে ঝুলে ছিলেন। তখন পুলিশ তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং বুলেটটি তার পায়ে বিদ্ধ হয়। চিকিৎসার দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে পূর্ণ সুস্থতা না মেলায় শারীরিক অক্ষমতা দেখা দিয়েছে। গ্রামে ফিরে এসে তার দরিদ্র পরিবার মাথা গোঁজার মতো কোন নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাননি।

অন্যদিকে, আন্দোলনের সময় নরসিংদীতে পুলিশি ছররা গুলির স্প্লিন্টার চোখে লেগে আজিজুল হক সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি কয়েকদিন ধরে চরম দুশ্চিন্তায় ছিলেন। পরে তাদের দুর্ভোগের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে উঠে এলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রশাসন এটি নজরে আনেন।

আজিজুল হক অটোরিকশা পাওয়ার পর বলেন, ‘এত দিন কেউ খবর নেয়নি। অটোরিকশাটা পেয়ে খুব ভালো লাগছে, কিন্তু আমার চোখের চিকিৎসাও দরকার।’ আমীরের পরিবার উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে, কারণ তারা এখন মাথা গোঁজার জন্য একটি নিরাপদ ঠাঁই পেয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে, আজিজুল হকের হাতে অটোরিকশার চাবি ও কাগজপত্র তুলে দেওয়া হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান পলাশসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেত্রী ও গণসংহতি আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।

প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের রক্ত এবং আর্তনাদের ঋণে পুরো রাষ্ট্র আবদ্ধ। তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। ভবিষ্যতে জুলাইযোদ্ধাদের জন্য সরকারের আরো অনেক কল্যাণমুখী পরিকল্পনা রয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলনের আহতদের ত্যাগ জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে চায়। তিনি জানান, মানবিক এবং নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকেই উপজেলা প্রশাসন তাদের পুনর্বাসনে কাজ করে যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১০ মামলার পলাতক আসামি শিমুল গ্রেপ্তার, ৩২ পিস ইয়াবা উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‎ ‎মোঃ সোহেল রানা, রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:১৯ পি.এম


১০ মামলার পলাতক আসামি শিমুল গ্রেপ্তার, ৩২ পিস ইয়াবা উদ্ধার

রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানার বিশেষ অভিযানে ১০ মামলার পলাতক আসামি শিমুল চৌধুরী (৩৪), যিনি পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত, গ্রেপ্তার হয়েছেন। পুলিশ জানায়, এ সময় তার কাছ থেকে ৩২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬), রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএমের নির্দেশনায় কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জসীম উদ্দীনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি আভিযানিক দল পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে শিমুল চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার করা শিমুল চৌধুরী চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার দক্ষিণ সারতা (নব সওদাগরের বাড়ি) এলাকার কানু চৌধুরীর ছেলে। বর্তমানে তিনি রাঙামাটি সদর উপজেলার ভেদভেদী পাড়া (কালিমন্দির সংলগ্ন) এলাকায় বসবাস করছিলেন।

পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, শিমুল চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১০টি মামলা রয়েছে, এবং তিনি পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পরোয়ানাভুক্ত আসামি। বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ৩২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পর বিধি মোতাবেক তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%