প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রশাসন আহত দুই যুবকের পাশে দাঁড়িয়েছে, যারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশি সহিংসতার শিকার হয়েছিলেন। আন্দোলনের সময় গুলিতে আহত আমীর হোসেনকে একটি নতুন বসতঘরের চাবি প্রদান করা হয়েছে।
অন্যদিকে, চোখে স্প্লিন্টার প্রাপ্ত আজিজুল হককে জীবিকা নির্বাহের জন্য বিশেষ করে একটি অটোরিকশা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে উপজেলা মিলনায়তনে ‘জুলাই আন্দোলন’ স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভার পর তাদের এই সহায়তা প্রদান করা হয়। ‘জুলাই চেতনায় গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন উপজেলা প্রশাসন করেছে।
জানা গেছে, গুলির ঘটনা ঘটার সময় যুবক আমীর হোসেন ঢাকার রামপুরায় পুলিশি তাড়া খেয়ে প্রাণ বাঁচাতে একটি বহুতল ভবনের কার্নিশে ঝুলে ছিলেন। তখন পুলিশ তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং বুলেটটি তার পায়ে বিদ্ধ হয়। চিকিৎসার দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে পূর্ণ সুস্থতা না মেলায় শারীরিক অক্ষমতা দেখা দিয়েছে। গ্রামে ফিরে এসে তার দরিদ্র পরিবার মাথা গোঁজার মতো কোন নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাননি।
অন্যদিকে, আন্দোলনের সময় নরসিংদীতে পুলিশি ছররা গুলির স্প্লিন্টার চোখে লেগে আজিজুল হক সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি কয়েকদিন ধরে চরম দুশ্চিন্তায় ছিলেন। পরে তাদের দুর্ভোগের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে উঠে এলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রশাসন এটি নজরে আনেন।
আজিজুল হক অটোরিকশা পাওয়ার পর বলেন, ‘এত দিন কেউ খবর নেয়নি। অটোরিকশাটা পেয়ে খুব ভালো লাগছে, কিন্তু আমার চোখের চিকিৎসাও দরকার।’ আমীরের পরিবার উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে, কারণ তারা এখন মাথা গোঁজার জন্য একটি নিরাপদ ঠাঁই পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে, আজিজুল হকের হাতে অটোরিকশার চাবি ও কাগজপত্র তুলে দেওয়া হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান পলাশসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেত্রী ও গণসংহতি আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।
প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের রক্ত এবং আর্তনাদের ঋণে পুরো রাষ্ট্র আবদ্ধ। তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। ভবিষ্যতে জুলাইযোদ্ধাদের জন্য সরকারের আরো অনেক কল্যাণমুখী পরিকল্পনা রয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলনের আহতদের ত্যাগ জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে চায়। তিনি জানান, মানবিক এবং নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকেই উপজেলা প্রশাসন তাদের পুনর্বাসনে কাজ করে যাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন