জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি
০৫:৫৭ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতে সাজাভোগ শেষে ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে গোয়াইনঘাট উপজেলার তামাবিল ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয় তাদের। এসময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) উপস্থিত ছিল।
ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ফেরত আসা বাংলাদেশি নাগরিকরা চাঁপাইনবয়াবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জ নামক সীমান্ত ও সিলেটের গুচ্ছগ্রাম নামক সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন।
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এবং ভারতীয় পুলিশ তাদের আটক করে আদালতে সোপর্দ করে। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করে। ভারতীয় তোবা কারাগারে দীর্ঘ সময় সাজাভোগের পর বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের ফেরত পাঠায় ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।
ফেরত আসা বাংলাদেশিদের মধ্যে রয়েছেন: নেত্রকোনার বিজয়পুর এলকার রেজাউল ইসলাম (২৮), বাওয়াইপাড়া গ্রামের জাহিদুল ইসলাম (২৪), কাজিমুদ্দিন (২৪)। রাজশাহীর বোরগাছি এলাকার বশির আহমেদ (২০), ডিয়ার মানিক চর এলাকার মোঃ আহসান হাবীব (১৯), চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোটাপাড়া এলকার বাদশাহ মিয়া (২৯), ফেলুপাড়া এলাকার মোঃ সাজাদ (২১), মোঃ রুবেল মিয়া (৩৫), মোঃ আল মামুন (২৮), শেরপুরের ঘুগুরাকান্দি এলকার মোঃ মনিরুল ইসলাম (২২)।
তামাবিল ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ (এসআই) মো. বজলুর রশিদ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিজিবি, বিএসএফ ও উভয় দেশের পুলিশের উপস্থিতিতে ১০ বাংলাদেশিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে থানা পুলিশের মাধ্যমে তাদের পরিবার ও আত্মীয়দের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম আলহাজ্ব মির্জা শরফউদ্দীন বেগ (রহ.)-এর রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আলোচনা ও দোয়া পরিচালনা করেন আমীরে হিযবুল্লাহ, আমীরে শরীয়ত ও তরীকত ছারছীনা দরবার শরীফের পীর ছাহেব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতী শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা.জি.আ.)।
প্রধান অতিথি মাহফিলে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে তিনি ইসলামী জীবনব্যবস্থা, তাকওয়া, নৈতিকতা, মানবকল্যাণ এবং দ্বীনের খেদমতে আত্মনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য প্রদান করেন।
৬ জুলাই সোমবার বরিশাল সদর উপজেলার ষ্টীমার ঘাট জামে মসজিদে বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহ্, যুব হিযবুল্লাহ ও ছাত্র হিযবুল্লাহ, বরিশাল মহানগরের উদ্যোগে আয়োজিত ঈছালে ছাওয়াব মাহফিলে হযরত পীর ছাহেব কেবলা একথা বলেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও আলোচনা করেন- বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর নায়েবে আমীর ও বরিশাল চকবাজারস্থ ঐতিহ্যবাহী জামে এবাদুল্লাহ মসজিদের খতিব আলহাজ্ব মাওলানা মির্জা নূরুর রহমান বেগ ও পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের মেজ ছেলে মির্জা মাসুদ বেগ প্রমূখ।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে আলেম-ওলামা, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহ্, যুব হিযবুল্লাহ ও ছাত্র হিযবুল্লাহ, বরিশাল মহানগর ও জেলার নেতৃবৃন্দ, কর্মী-সমর্থক এবং বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। পরিশেষে হযরত পীর ছাহেব কেবলা মরহুম আলহাজ্ব মির্জা শরফউদ্দীন বেগ (রহ.)-এর রূহের মাগফিরাত কামনাসহ দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীন ডাক অধিদপ্তরের আওতায় পিরোজপুর-ঝালকাঠি ও বরিশাল অঞ্চলে পোস্ট অফিস ভবন নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে অনৈতিক দাবি, ঠিকাদারকে হয়রানি এবং নিজেই প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের চেষ্টা করার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। ফলে চার থেকে পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ কাজ এখনো অসমাপ্ত অবস্থায় রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ সেবাগ্রহীতারা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২১ ও ২০২২ সালে ডাক অধিদপ্তর বরিশাল, পিরোজপুর -ঝালকাঠি অঞ্চলের পোস্ট অফিস ভবন নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য দুটি পৃথক প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রকল্প দুটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান শামীমুর রাজি। টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পান পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ঠিকাদার জালাল উদ্দিন। প্রকল্প অনুযায়ী নয় মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও চার থেকে পাঁচ বছর অতিবাহিত হলেও অধিকাংশ কাজ অসমাপ্ত রয়েছে।
ঠিকাদার সূত্রে জানা যায়, দুটি প্যাকেজে মোট ১২টি পোস্ট অফিসের নতুন ভবন নির্মাণ, নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণ এবং পুরোনো ভবন সংস্কারের কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল। পিরোজপুর প্যাকেজে কাউখালী, মঠবাড়িয়া ও কাঠালিয়ায় নতুন ভবন নির্মাণ এবং নলছিটি পোস্ট অফিসসহ অন্যান্য সংস্কার কাজ রয়েছে। বরিশাল প্যাকেজে বানারীপাড়া ও মেহেন্দিগঞ্জে নতুন ভবন নির্মাণ এবং কাজলাকাঠি, কলসকাঠি, বাবুগঞ্জ, দামুরা, দাকুরহাট ও উজিরপুরে সংস্কার কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় ডাক অধিদপ্তর।
ঠিকাদার জালাল উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, কার্যাদেশ পাওয়ার পর থেকেই প্রকল্প পরিচালক শামীমুর রাজি বিভিন্ন শর্ত আরোপ করেন। তিনি দাবি করেন, প্রকল্প পরিচালকের চাহিদা পূরণ করতে হলে তাকে নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থের ব্যবস্থা করতে হতো। ওই দাবি মানতে অস্বীকৃতি জানালে নানা অজুহাতে কাজে বাধা সৃষ্টি করা হয় এবং বিভিন্ন ত্রুটি দেখিয়ে তাকে হয়রানি করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে প্রকল্প পরিচালক তাকে প্রস্তাব দেন যে, কাজগুলো ঠিকাদারকে করতে হবে না; তিনি নিজেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবেন এবং ঠিকাদারকে লাভের একটি অংশ দেওয়া হবে। এ প্রস্তাবে রাজি না হয়ে তিনি নিজেই কাজ শুরু করলে প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।
ঠিকাদারের দাবি, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দায় এড়াতে ১২টি কাজের মধ্যে দুটি বাতিল করা হয়। চারটি কাজ ইতিমধ্যে শেষ হলেও বাকি ছয়টি কাজ এখনো অসমাপ্ত রয়েছে। এর মধ্যে কাউখালীর একটি কাজ ঠিকাদার নিজে শুরু করলেও অন্য কয়েকটি কাজ প্রকল্প পরিচালক নিজ উদ্যোগে বাস্তবায়ন করেছেন বলে জানান ঠিকাদার। ঠিকাদারের কথা যাচাই করার জন্য বানারীপাড়া পোস্টমাস্টার নুরুল ইসলাম এর বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ঠিকাদারকে আমরা কাজ করতে দেখিনি। প্রকল্প পরিচালক নিজেই অর্থ ব্যয় করে কাজ করিয়েছেন। কিন্তু এখনো কাজ শেষ না হওয়ায় আমরা সমস্যার মধ্যে আছি।”
কাউখালী উপজেলা পোস্টমাস্টার জানান, ২০১৭ সাল থেকে ভাড়া বাড়িতে পোস্ট অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের আগেই নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি ও অর্থ নিরাপদে সংরক্ষণ এবং সেবা পরিচালনা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বরিশাল ডাক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় অনেক পোস্ট অফিস এখনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অথবা ভাড়া বাড়িতে কার্যক্রম চালাতে বাধ্য হচ্ছে। এতে একদিকে ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে সেবার মানও ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে বরিশালের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মনজুরুল আলম বলেন, “দুটি প্রকল্পের আওতায় ঠিকাদার ১২টি কাজ পেয়েছিলেন। কী কারণে কাজগুলো শেষ হয়নি, তা আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি আমরা একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ভবনগুলো সম্পন্ন না হওয়ায় অতিরিক্ত ব্যয় ও ঝুঁকি নিয়ে ডাকসেবা পরিচালনা করতে হচ্ছে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক শামীমুর রাজি বলেন, “দ্রুত কাজ শেষ করা হবে।” তবে ঠিকাদারের অভিযোগ এবং নিজে কাজ বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না। আপনার মাধ্যমে অভিযোগগুলো শুনলাম। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার গজারিয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের দিনমজুর বাবা মো. মোজাম্মেল ও মা জরিনা বেগমের একমাত্র ছেলে ২৫ বছর বয়সী মো. জাকির হোসেন জীবিকার তাগিদে তিন বছর আগে ধারদেনা করে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। তার আশা ছিল কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে পরিবারে হাসি ফোটাতে পারবেন, বাবার নেওয়া ঋণ শোধ করতে সক্ষম হবেন এবং সংসারের অভাব পূরণ করবেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই আশা আর পূরণ হলো না। তিনি দেশে ফিরলেন মৃত অবস্থায়।
মৃত্যুর আগে জাকির প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। পরে স্ট্রোক হওয়ার পর গত ২৪ জুন মালয়েশিয়ায় তার মৃত্যু ঘটে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সোমবার (৬ জুলাই) রাতে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোরে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। উঠানের মাঝখানে একমাত্র সন্তানের কফিন জড়িয়ে ধরার পর বাবা মো. মোজাম্মেল কান্নায় ভেঙে পড়েন। মা জরিনা বেগম এবং বোন শোকে নির্বাক হয়ে যান। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো গ্রাম যেন স্তব্ধ হয়ে যায়।
কম বেতনের চাকরির কারণে জাকির বাবার নেওয়া ঋণের পুরো টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। বর্তমানে তার প্রায় ৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা ঋণ বাকি রয়েছে। একদিকে একমাত্র সন্তান হারানোর শোক, অন্যদিকে ঋণের বোঝা— সব মিলিয়ে পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জানাজা শেষে জাকিরের মরদেহ বাড়ির পাশের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ