মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:০০ এম
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশে ঘটেছে একটি মর্মান্তিক ঘটনা। সেখানে আল-আলম সামরিক ঘাঁটিতে নতুন তরুণ সেনাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ চলছিল। কিছু সেনা দৌড়াচ্ছিলেন, আবার কেউ ব্যস্ত ছিলেন শারীরিক কসরতে। ঠিক সেই মুহূর্তে আকাশ কাঁপিয়ে একের পর এক ভয়ংকর ক্ষেপণাস্ত্র এসে আঘাত হানে। মুহূর্তের মধ্যে আনন্দমুখর প্রশিক্ষণ মাঠটি পরিণত হয় এক শ্মশানে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের এই ঝটিকা হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫৩ জন সেনা।
প্রাথমিকভাবে খবর পাওয়া যায় যে, এই হামলায় ১৮ জন নিহত এবং ৩০ জনের মতো আহত হয়েছেন। তবে ধ্বংসস্তূপ সরানোর পর একের পর এক নিথর দেহ বের হয়ে আসতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করে, নিহতের সংখ্যা অন্তত ৫৩ জন। আহত হয়েছেন আরও প্রায় দুইশ মানুষ।
এই ঘটনার পর দেশের সরকার নড়েচড়ে বসেছে। ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হূথিরা এখন তরুণ ও অবুঝ রিক্রুটদের নিশানা বানাচ্ছে। তিনি এই হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
অন্যদিকে, হুথি বিদ্রোহীরাও প্রকাশ্যে দাবি করেছে যে, এই হামলার দায় সম্পূর্ণ তাদের। তাদের মুখপাত্র হুঙ্কার দিয়ে জানান, ইয়েমেনের মাটিতে সৌদি সমর্থিত কোনো সেনাক্যাম্প আর বাকি রাখা হবে না, সেটাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।
ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ ও হানাহানি যেন থামার নামই নিচ্ছে না। কিছুদিন আগে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি থাকলেও লোহিত সাগর নিয়ে নতুন করে দ্বন্দ্ব শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সরকারি বাহিনী হারানো এলাকা উদ্ধারে ‘ডন অব ইয়েমেন’ নামের অভিযান শুরু করায় চারদিকে এখন কেবলই রক্তের হোলি খেলা চলছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, আজ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীকে পদত্যাগ করানো হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলার অবনতির জন্য যিনি মূলত দায়ী, সেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কোনো ধরনের জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে না। তিনি বলেন, "দেশবাসী তাকিয়ে আছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কবে পদত্যাগ করবেন। কারণ তিনি সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। যেটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাজ, তিনি সেটা করছেন না। তিনি সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত আছেন।" সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুর্গাপূজা উপলক্ষে শ্রীশ্রী পূর্ব বাড্ডা নিমতলা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, ইশরাক হোসেন ফৌজদারি অপরাধ করেছেন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, "এর আগে মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন। তাকে এখনো গ্রেফতার করা হয়নি। এক ব্যক্তির ইচ্ছা, অনিচ্ছা, অনুরোধ বা নির্দেশনামতো দেশ চলছে। এটা কোনো গণতন্ত্রের উদাহরণ নয়, আইনের শাসনের উদাহরণ নয়।"
সংবিধান সংশোধন কমিটি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংশোধন কমিটির নামে সরকার এখনো নাটক করছে। এ কমিটিকে এ দেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। দলীয় সুশীল বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে কমিটি বৈঠক করছে। তাদের দিয়ে বিএনপি নিজেদের মেনে নেওয়া সংস্কারের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছে। এসব জনগণের সঙ্গে প্রহসন।’
পরিদর্শনের সময় এনসিপির মুখপাত্র এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মহান আল্লাহ মানুষের সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তার ইবাদতের উদ্দেশ্যে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ উল্লেখ করেছেন, ‘আর আমি সৃষ্টি করেছি জিন এবং মানুষকে এজন্যেই যে, তারা কেবল আমার ইবাদাত করবে।’ (সুরা জারিয়াত, আয়াত: ৫৬)
মহান আল্লাহ সবার আমল হিসাব করবেন। ছোট আমল হোক কিংবা বড়, একজন মুমিনের জন্য সবকিছুই আমলের খাতায় লেখা থাকবে। তাই কোনো আমলকে ছোট করে দেখা যাবে না। একাগ্রতার সঙ্গে ছোট ছোট আমলগুলোও করতে হবে। ছোট ছোট আমলগুলো একদিন মহৎ প্রাপ্তি হিসেবে কাজে আসবে।
বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর কাছে দুটি বাক্য খুবই প্রিয়। যদিও এগুলো জিহ্বায় উচ্চারণ করা হালকা, তবে পরকালের পাল্লায় তা অনেক ভারি হবে। বাক্য দুটি হলো,
سبحان الله وبحمده سبحان الله العظيم উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম। (বুখারি: ৬৪০৬)
এই দুটি বাক্যের তিনটি ফজিলত রয়েছে। প্রথমত, এটি আল্লাহর প্রিয় বাক্য। দ্বিতীয়ত, উচ্চারণে এটি খুবই সহজ। তৃতীয়ত, পরকালে এর সওয়াব অনেক বেশি। হাদিসে উল্লিখিত বাক্য দুটিতে মহান আল্লাহর প্রশংসা ও পবিত্রতার কথা বর্ণিত হয়েছে, যা মহান আল্লাহর জিকির তথা তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করার অন্তর্ভুক্ত। মহান আল্লাহ বলেছেন,
اَلَا بِذِکۡرِ اللّٰهِ تَطۡمَئِنُّ الۡقُلُوۡبُ অর্থ: আল্লাহর স্মরণে অন্তর প্রশান্ত হয়। (সুরা রাদ, আয়াত: ২৮)
কিয়ামতের দিন মানুষের কাজ পরিমাপের জন্য ‘মিজান’ তথা পরিমাপক স্থাপন করা হবে। কারও ভালো কাজ ভারি হবে এবং কারও মন্দ কাজ। তবে মুমিনের কিছু আমল আছে, যা হালকা মনে হলেও এর ওজন অনেক বেশি হবে। মহান আল্লাহ বলেছেন,
وَ نَضَعُ الۡمَوَازِیۡنَ الۡقِسۡطَ لِیَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ فَلَا تُظۡلَمُ نَفۡسٌ شَیۡئًا ؕ وَ اِنۡ کَانَ مِثۡقَالَ حَبَّۃٍ مِّنۡ خَرۡدَلٍ اَتَیۡنَا بِهَا ؕ وَ کَفٰی بِنَا حٰسِبِیۡنَ অর্থ: আমি কিয়ামতের দিন ন্যায়বিচারের মানদণ্ড স্থাপন করব। সুতরাং কারও প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। কোনো কাজ যদি তিল পরিমাণ ওজনের হয়, তবু আমি তা উপস্থিত করব। হিসাব গ্রহণকারী হিসেবে আমিই যথেষ্ট। (সুরা আম্বিয়া: ৪৭)
হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ‘সুবহানাল্লাহিল আজিম ওয়া বিহামদিহি’ পাঠ করে, তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুরগাছ রোপণ করা হয়। (তিরমিজি: ৩৪৬৪)
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামে যাদের অবদান রয়েছে, নারীরাই ঢাকা-২৩ সংরক্ষিত আসনে দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
রিজভী বলেন, ‘দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামে যাদের অবদান রয়েছে, তারাই সংরক্ষিত আসন-২৩ এ মনোনয়ন পাবেন। স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কমিটির সকল সদস্যের সম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে, কাকে দল মনোনীত করবে।’
তিনি আরও জানান, দুই একদিনের মধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
এর আগে সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বিগত সময়ে দলের প্রতি তাদের আন্দোলন, সংগ্রাম ও ত্যাগের কথা তুলে ধরেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে ৭০ জন নারী নেত্রী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। তাদের মধ্যে ৬৮ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
সাবেক সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের ফলে সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ শূন্য হয়ে যায়। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বর এ আসনে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম দাবি করেছেন যে, বিএনপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকলে সব ধর্মের মানুষ সমঅধিকার পায়।
তিনি সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে ফরিদপুরের সালথায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মণ্ডপ পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বিগত বছরগুলো এবং চলতি বছরের পূজা উদ্যাপনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বর্তমানে আমরা একটি গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে রয়েছি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। এই সরকার সব ধর্মের মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘গত ১৭ বছর মানুষ একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে পার করেছেন। তবে এবারের শারদীয় দুর্গাপূজায় সব ধর্মের মানুষ এক হয়ে, ভাই ভাই হিসেবে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে উৎসব পালন করছেন। এটাই বাংলাদেশের সৌন্দর্য ও মাধুর্য। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে সম্প্রীতির এই বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে।’
শামা ওবায়েদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা ১৮ কোটি মানুষকে আশ্বস্ত করতে চাই, তারা যে ধর্মের বা বর্ণেরই হোন না কেন, সবাই সমঅধিকার নিয়ে বাঁচবেন। আমরা সংখ্যালঘু শব্দে বিশ্বাস করি না। পূজামণ্ডপগুলোতে বিগত সরকারের সময়ের বরাদ্দের চেয়ে এবছর বর্তমান সরকার বরাদ্দও বেশি দিয়েছে।’
তিনি বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘নিজেদের মধ্যে কোনো ধরনের কোন্দল সৃষ্টি করা যাবে না। সবাইকে মিলেমিশে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজের মধ্য দিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ