ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চার পরিবহনের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ফুপাতো-মামাতো দুই ভাইয়ের


ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চার পরিবহনের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ফুপাতো-মামাতো দুই ভাইয়ের

ঢাকার ধামরাইয়ের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে একটি নষ্ট যাত্রীবাহী বাস দেখে থামতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে অন্তত চারটি পরিবহন একের পর এক। এ সময় দুর্ঘটনাকবলিত তৃতীয় পরিবহন মোটরসাইকেলে পেছনের অপর যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় দুইজন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন। এ ঘটনার ফলে আরও একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে মহাসড়কের ইসলামপুর এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, সকালে ইসলামপুর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মূল লেনে একটি বাস নষ্ট হয়ে রাস্তার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। বাসটির পেছনে থাকা একটি প্রাইভেটকার সেটি দেখে হঠাৎ ব্রেক করলে তার পেছনের একটি কাভার্ডভ্যানও ব্রেক করে। কাভার্ডভ্যানটির পেছনে ছিল দুটি মোটরসাইকেল। তখন স্বাধীনতা পরিবহনের একটি মিনিবাস দ্রুত গতিতে এসে মোটরসাইকেলদুটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল আরোহীরা সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু ঘটে।

নিহতদের কাছে থাকা পরিচয়পত্র থেকে জানা গেছে, এর মধ্যে একজন হলেন মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী আবাস সাহা। তিনি সাভারের আশুলিয়ার ডেন্ডাবর এলাকার জগন্নাথ সাহার ছেলে। অপর নিহত হলেন সুজয় সাহা, যিনি মানিকগঞ্জের শিবালয় থানা এলাকার আশুতোষ সাহার ছেলে। তিনি উচ্চমাধ্যমিকের (এইচএসসি) পরীক্ষার্থী ছিলেন। তারা দুজনেই একই পরিবারের ফুপাতো ও মামাতো ভাই।

আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে সাংবাদিক এম এ মোতালিবের ওপর হামলার ঘটনায় আটক ১

সাভার হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহাদাত হোসেন ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ধামরাই থানার এসআই তারেক জানিয়েছেন, আমরা সকাল ৯৯৯-এর মাধ্যমে সংবাদ পাই যে ইসলামপুরে মহাসড়কের মূল লেনে একটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে গিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে ঘটনার বর্ণনা জানার চেষ্টা করি। তবে আমরা এখনো হাসপাতালে যেতে পারিনি। বর্তমানে ঘটনাস্থলে কাভার্ডভ্যান, বাস এবং মোটরসাইকেল রয়েছে। এই বিষয়টি হাইওয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে। যেহেতু এটি হাইওয়ে পুলিশের অধিক্ষেত্র, তাই তারা এসে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তিনি আরও বলেন, সবগুলো গাড়ি ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। তবে মূল কারণ হচ্ছে, নষ্ট হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটি। বাসটি দাঁড়িয়ে থাকায় পেছনের প্রাইভেটকারটি শেষ মুহূর্তে সেটিকে দেখতে পেয়ে হঠাৎ ব্রেক করে। পেছনের গাড়িগুলোও একইভাবে হঠাৎ ব্রেক করতে বাধ্য হয়। এভাবেই দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে আমরা জানতে পেরেছি।

আরও পড়ুন: চিরিরবন্দরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মন্ট্রিয়াল মাস্টার্সে খেলছেন না সিনার ও জকোভিচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৪২ এম


মন্ট্রিয়াল মাস্টার্সে খেলছেন না সিনার ও জকোভিচ

ঢাকা, ২৫ জুলাই ২০২৬ : আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় এটিপি মন্ট্রিয়াল মাস্টার্স থেকে নাম প্রত্যাহার করেছেন ইয়ানিক সিনার এবং নোভাক জকোভিচ। আয়োজক টেনিস কানাডা এই বিষয়টি নিশ্চিত করে।

 

বিশ্ব টেনিসের ব্যস্ত সূচির মধ্যে, বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় ইয়ানিক সিনার এবং ২৪ গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী নোভাক জকোভিচ দুজনেই চলতি মাসের শুরুতে উইম্বলডনে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন। ইতালির সিনার এ বার পুরুষদের একক শিরোপা জিতেছেন, এবং সার্বিয়ার জকোভিচ সেমিফাইনালে পৌঁছেছেন।

 

এক বিবৃতিতে সিনার জানিয়েছেন, “আমার দল নিয়ে সব দিক সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করার পর আমরা কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে মন্ট্রিয়ল টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করব। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি টুর্নামেন্ট মিস করা কখনোই সহজ নয়। তবে আমাদের বিশ্বাস, স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত।”

 

আগামী ১ থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য মন্ট্রিয়ালের এই প্রতিযোগিতাটি এটিপি মাস্টার্স ১০০০ টুর্নামেন্ট এবং ইউএস ওপেনের আগে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক আসর।

 

একই সময়ে নারীদের ডব্লিউটিএ ১০০০ টুর্নামেন্টটি এবার টরন্টোতে অনুষ্ঠিত হবে। দুটি প্রতিযোগিতা প্রতিবছর পালাক্রমে মন্ট্রিয়ল ও টরন্টো শহরে আয়োজন করা হয়।

 

শেষ মুহূর্তে সিনার ও জোকোভিচের নাম প্রত্যাহারে হতাশা প্রকাশ করেছেন আয়োজকরা। তারা উল্লেখ করেছেন, গত বছর টরন্টোর আসর থেকেও এই দুই তারকা সরে দাঁড়িয়েছিলেন। টুর্নামেন্ট পরিচালক ভ্যালেরি তেত্রো এক বিবৃতিতে জানাচ্ছেন, “আমরা তাদের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই এবং বুঝতে পারি যে এত ব্যস্ত সূচির মধ্যে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত। তবে গত কয়েক বছরে এ ধরনের শেষ মুহূর্তের প্রত্যাহারের ঘটনা যেভাবে বেড়ে চলেছে, তা আমাদের টুর্নামেন্টের জন্য একটি বড় প্রশ্ন তৈরি করছে।

 

মাস্টার্স ১০০০ টুর্নামেন্টগুলো ট্যুরের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আসর। তাই সমর্থকদেরও প্রত্যাশা থাকে, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের এখানে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে দেখবেন।”

 

তেত্রো আরও জানান, এটিপির সঙ্গে তারা এমন কিছু সমন্বয় নিয়ে আলোচনা করছেন, যা অদূর ভবিষ্যতে প্রয়োজন, যাতে মাস্টার্স ১০০০ টুর্নামেন্টগুলোর মর্যাদা ও প্রতিযোগিতার মান অক্ষুণ্ণ থাকে, একই সঙ্গে খেলোয়াড়দের বাস্তব পরিস্থিতিও বিবেচনায় রাখা যায়।

 

এই অবস্থায় ফ্রেঞ্চ ওপেন চ্যাম্পিয়ন এবং উইম্বলডন রানার্স-আপ, বিশ্বের দুই নম্বর খেলোয়াড় আলেকজান্ডার জেভরেভ এখন মন্ট্রিয়াল টুর্নামেন্টের শীর্ষ বাছাই হওয়ার কথা। তার পরেই থাকবেন কুইবেকের স্থানীয় খেলোয়াড় ফেলিক্স অগার-আলিয়াসিম।

 

এর আগে বিশ্বের তিন নম্বর খেলোয়াড়, স্পেনের কার্লোস আলকারাজ কব্জির দীর্ঘস্থায়ী চোটের কারণে মন্ট্রিয়াল থেকে নাম প্রত্যাহার করেছেন। তিনি মন্ট্রিয়াল শেষ হওয়ার পরপরই সিনসিনাটি এটিপি মাস্টার্স ১০০০ টুর্নামেন্টে কোর্টে ফেরার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন।

 

বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম ইউএস ওপেন আগামী ৩০ আগস্ট নিউইয়র্কে শুরু হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

একইসঙ্গে এক যুবককে বিয়ে করলেন ৩ বোন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৪৩ এম


একইসঙ্গে এক যুবককে বিয়ে করলেন ৩ বোন

আপন তিন বোনের একই যুবককে বিয়ে করার একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

গত ১৭ জুলাই, ভারতের উত্তরপ্রদেশের অমরোহা জেলায়, স্থানীয় একটি মন্দিরে হিন্দু রীতি মেনে তিন বোন একসঙ্গে বিকাশ নামের ওই যুবকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা যায়, অমরোহার হাসানপুরের ধৌরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সরোজ, সাবিত্রী ও সন্তোষ দীর্ঘকাল ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিল ও ভিডিও তৈরি করতেন। বিকাশ সেই সময় তাদের ভিডিওর চিত্রগ্রাহক হিসেবে কাজ করতেন। এরপর, তিন বোনই তাকে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, শাড়ি ও ঘোমটা পরা তিন বোন বরের পাশে সারিবদ্ধভাবে বসে রয়েছেন। হিন্দু রীতি অনুযায়ী, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকাশ সবার সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেন এবং অগ্নিকে সাক্ষী রেখে সাত পাক ঘুরে বের হন। উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে পুরোহিত ছাড়া উভয়পক্ষের কোনো আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধু হাজির ছিলেন না।

তিন বোনের দাবি, তারা ছোটবেলা থেকে সবসময় একসঙ্গে বড় হয়েছেন। বিয়ের পর আলাদা হয়ে যাওয়ার চিন্তা তাদের মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল।

বড় বোন সরোজ জানান, একসময় তারা আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন। পরে তারা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, আলাদা না হয়ে একজনকেই সবাই বিয়ে করবেন।

তাদের দাবী হলো, তিনজনই প্রাপ্তবয়স্ক এবং সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অন্যদিকে, বিকাশ জানান, গত ছয় মাস ধরে তিনি তিন বোনের সঙ্গে কাজ করছেন। তাদের পারস্পরিক ভালোবাসা এবং একসঙ্গে থাকার ইচ্ছাকে সম্মান জানাতেই তিনি বিয়েতে রাজি হয়েছেন।

তিনি বলেন, 'ওরা বারবার বলছিল, বিয়ের পর আলাদা থাকতে চায় না। আমি ওদের আবেগকে সম্মান জানিয়েছি। আমাদের সিদ্ধান্ত পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতেই হয়েছে।'

যদিও এই বিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, তবে এর আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভারতের হিন্দু বিবাহ আইন, ১৯৫৫ অনুযায়ী, বিয়ের সময় কোনো পক্ষের জীবিত স্বামী বা স্ত্রী থাকলে নতুন করে বিয়ে বৈধ নয়। অর্থাৎ, ভিন্নভাবে বলা যায় যে, হিন্দুদের ক্ষেত্রে একাধিক স্ত্রী বা একাধিক স্বামী— দুই ধরনের বহুবিবাহই আইনত স্বীকৃত নয়। ফলে, এই বিয়ের আইনি মর্যাদা নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে সমালোচনার মুখে তিন বোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করে নিজেদের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, ইতিহাস এবং পৌরাণিক কাহিনিতে একাধিক জীবনসঙ্গীর নজির রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে রাজা দশরথের তিন রানির কথা উল্লেখ করে তারা প্রশ্ন তোলেন, 'তখন কি সেটা অপমানজনক ছিল?'

তবে অনেকেই পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন যে, পৌরাণিক কাহিনির সঙ্গে বর্তমান আইনের তুলনা করা যায় না। সূত্র: আনন্দবাজার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপের সবচেয়ে হতাশাজনক একাদশ প্রকাশ, রোনালদোও তালিকায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৪৬ এম


বিশ্বকাপের সবচেয়ে হতাশাজনক একাদশ প্রকাশ, রোনালদোও তালিকায়

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে, যেখানে অসংখ্য ফুটবলার অসাধারণ নৈপুণ্যে নজর কেড়েছেন, সেখানে বেশ কয়েকজন তারকা প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। টুর্নামেন্ট শেষে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ‘বিশ্বকাপ ফ্লপ একাদশ’ প্রকাশ করেছে জনপ্রিয় ক্রীড়া মিডিয়া ব্লিচার রিপোর্ট।

এই ফ্লপ একাদশের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে পর্তুগালের কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। এছাড়া দলে স্থান পেয়েছেন জার্মানির ম্যানুয়েল নয়্যার, উরুগুয়ের ফেদেরিকো ভালভার্দে, পর্তুগালের ভিতিনিয়া, জার্মানির লেরয় সানে, ইংল্যান্ডের রিস জেমস এবং ননি মাদুয়েকে, ব্রাজিলের গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, জার্মানির জোনাথন তাহ, ফ্রান্সের লুকাস দিগনে এবং আইভরি কোস্টের ইয়ান দিওমান্দে।

ব্লিচার রিপোর্টের মতে, প্রত্যাশার তুলনায় সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছেন ম্যানুয়েল নয়্যার। আন্তর্জাতিক ফুটবলে অবসর ভেঙে ফেরার পরও তিনি জার্মানির হয়ে তার সেরা ছন্দে দেখা যাননি। গ্রুপ পর্বের সময়ে একাধিক ভুলের পাশাপাশি নকআউট পর্বেও দলকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।

রক্ষণভাগে রিস জেমসকে রাখা হয়েছে, তার ইনজুরি সমস্যার কারণে। সম্ভাব্য ৭২০ মিনিটের মধ্যে মাত্র ৩১৮ মিনিট মাঠে নামতে পেরেছেন। অন্যদিকে, গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে অবস্থানগত ভুলের জন্য সমালোচিত হয়েছেন, বিশেষ করে নরওয়ের বিরুদ্ধে আর্লিং হলান্ডকে ফাঁকা হেডের সুযোগ করে দেওয়ার কারণে তিনি বড় ভুল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।

জোনাথন তাহও প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার জন্য রয়েছে এই নির্বাচনে। প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে টাইব্রেকারে তিনি প্রথম শট মিস করে জার্মানির বিদায় ত্বরান্বিত করেছিলেন। লুকাস দিগনের ভুলের কারণেই সেমিফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি পায় স্পেন।

মাঝমাঠে, উরুগুয়ের অধিনায়ক ফেদেরিকো ভালভার্দে পুরো টুর্নামেন্টে কোনো গোল অথবা অ্যাসিস্ট করতে পারেননি। একইভাবে, ক্লাব ফুটবলে এক উজ্জ্বল মৌসুম কাটিয়েও জাতীয় দলের হয়ে নিজের প্রতিভা তুলে ধরতে ব্যর্থ হন ভিতিনিয়া। প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই তাকে বদলি করা হয়েছিল, যা ব্লিচার রিপোর্টের মতে তার হতাশাজনক বিশ্বকাপের প্রতীক।

জার্মান উইঙ্গার লেরয় সানেও সহজ সুযোগ নষ্ট এবং সিদ্ধান্তহীনতা ও ছন্নছাড়া পারফরম্যান্সের জন্য এই একাদশে জায়গা পেয়েছেন।

ফ্লপ একাদশের কোচ হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে পর্তুগালের সাবেক কোচ রবার্তো মার্তিনেজকে। ব্লিচার রিপোর্টের দাবি, দলের সামগ্রিক কৌশলের চেয়ে রোনালদোকে কেন্দ্র করেই পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন তিনি। এর ফলে দলীয় ভারসাম্য নষ্ট হয়েছিল এবং শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল পর্তুগালকে। এরপর স্পেনের কাছে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করে তারা।

ব্লিচার রিপোর্টের ২০২৬ বিশ্বকাপ ফ্লপ একাদশ হল- গোলরক্ষক: ম্যানুয়েল নয়্যার, রক্ষণভাগ: রিস জেমস, গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, জোনাথন তাহ, লুকাস দিগনে, মাঝমাঠ: ফেদেরিকো ভালভার্দে, ভিতিনিয়া, লেরয় সানে, আক্রমণভাগ: ইয়ান দিওমান্দে, ননি মাদুয়েকে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, কোচ: রবার্তো মার্তিনেজ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই বিদায়, যে ১০ রাষ্ট্রপতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৪৭ এম


মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই বিদায়, যে ১০ রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশের ইতিহাসে বর্তমানে পর্যন্ত ১৮ জন পূর্ণাঙ্গ, ভারপ্রাপ্ত কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে ১০ জনের কার্যকাল আলাদা করে বলতে গেলে সমাপ্তি হয়েছে আকস্মিকভাবে। সবশেষ গতকাল শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন মো. শাহাবুদ্দিন।

স্বাধীনতার পর থেকে দেশে হত্যাকাণ্ড, সামরিক অভ্যুত্থান, সাংবিধানিক পরিবর্তন, আন্দোলন-সংগ্রাম ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় রাষ্ট্রপতির পদ বারবার সংকটে পড়েছে। এই পদে থাকাকালীন দুইজন নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।

রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আন্দোলনের কারণে আটজনকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হতে হয়েছে কিংবা বঙ্গভবন ছাড়তে হয়েছে। এবার মো. সাহাবুদ্দিন তার পদত্যাগের মাধ্যমে পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে না পারা রাষ্ট্রপতিদের তালিকায় যুক্ত হলেন।

দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যায় রাষ্ট্রপতির পদ উঠে আসে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের পর খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতি হন, যদিও ১৯৭৫ সালের নভেম্বরে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন।

পরে বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল সায়েম পদত্যাগ করার পর জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

১৯৮১ সালের ৩০ মে পর্যন্ত জিয়াউর রহমান দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি হন এবং ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে নিহত হন।

এরপর আবদুস সাত্তার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৮১ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন, কিন্তু ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে অভ্যুত্থান হলে রাষ্ট্রপতি সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।

এরশাদ পরে নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে ঘোষণা করেন এবং বিচারপতি আবুল ফজল মোহাম্মদ আহসানউদ্দিন চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি পদে বসান। আহসানউদ্দিন চৌধুরী ১৯৮২ সালের ২৭ মার্চ থেকে ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর এরশাদ নিজেই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৮৬ সালের অক্টোবরে তিনি পাঁচ বছরের মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন, কিন্তু পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

এরশাদের পদত্যাগের পর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে উপরাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হন এবং ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ছিলেন।

১৯৯১ সালে দেশে আবার সংসদীয় ব্যবস্থা ফিরে আসে। বিএনপি সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করার পর মন্ত্রিসভার সদস্য আবদুর রহমান বিশ্বাস রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

পরে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর সাহাবুদ্দীন আহমদকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হয়। ১৯৯৬ সালের ৯ অক্টোবর তিনি শপথ নেন এবং ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার মেয়াদ শেষ হয়।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং ২০০২ সালের ২১ জুন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপির সংসদীয় দল তাকে সরে দাঁড়ানোর কথা বলার পর তিনি পদত্যাগ করেন।

দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে তার কবরে শ্রদ্ধা না জানানোর কারণে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিএনপির ব্যাপক সমালোচনা হয়।

তার পদত্যাগের পর তৎকালীন স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিএনপির সমর্থনে ২০০২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ।

২০০৬ সালের শেষে ইয়াজউদ্দিন সংবিধান লঙ্ঘন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহণ করেন এবং এর ফলে দেশ এক গভীর রাজনৈতিক সংকটে ভুগতে থাকে।

অবশেষে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর তিনি প্রধান উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এর ফলে ২২ জানুয়ারি নির্ধারিত সংসদ নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। পরদিন তিনি ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে একটি নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করেন।

২০০৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ইয়াজউদ্দীনের রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হলেও, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি পদে বহাল থাকেন। ২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতা জিল্লুর রহমান রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

২০১৩ সালের ২০ মার্চ জিল্লুর রহমান মারা যান। রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালে তারই স্বাভাবিক মৃত্যুহার হয়।

তার মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগের আরেক নেতা ও তৎকালীন স্পিকার আবদুল হামিদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হন। তিনি ২০১৩ সালের ২০ মার্চ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পরে আওয়ামী লীগের সমর্থনে পরপর দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

২০২৩ সালের ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আবদুল হামিদ।

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন, যিনি ১৯৭৫ সালে পাবনা জেলা বাকশালের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই সাহাবুদ্দিনের রাষ্ট্রপতি পদ হুমকির সম্মুখীন হয়। বিভিন্ন সময় তার পদত্যাগ বা অপসারণের বিষয়ে গুজব ও জল্পনা-কল্পনা চলতে থাকে।

অবশেষে গতকাল শুক্রবার শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি জানিয়ে তিনি পদত্যাগ করলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%